ব্রেকিং:
মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বেওয়া-২ পঞ্চায়েতের নিশিন্দ্রা গ্রামে ভোটার তালিকা ভুয়ো ভোটার। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার উদ্যোগে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা সভা। ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট এমকে ফাইজির গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সামশেরগঞ্জে পথসভা SDPI এর ফের সামশেরগঞ্জের হাউস নগর ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে পথদুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা গাড়িচালকের জামাইবাবুর হাতে ধর্ষিতা নাবালিকা

সোমবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৩ ১৪৩২   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

সর্বশেষ:
জামাইবাবুর হাতে ধর্ষিতা নাবালিকা

সাগরদিঘীতে শাসক শিবিরে ফাটল

AIMIM কি মুসলিম রাজনীতির নতুন ‘গেমচেঞ্জার’?

আনারুল হক

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০ ০৮ ৫২   আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০ ০৮ ৫২

সাগরদিঘীতে শাসক শিবিরে ফাটল: AIMIM কি মুসলিম রাজনীতির নতুন ‘গেমচেঞ্জার’?

মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘী বিধানসভা কেন্দ্র ধীরে ধীরে শাসক দলের জন্য ‘অস্বস্তির কেন্দ্র’ হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে প্রায় একচেটিয়াভাবে ধরে রাখা তৃণমূল কংগ্রেসের সেই ভিতে এখন স্পষ্ট ফাটল। আর সেই ফাটলের মধ্য দিয়েই সংগঠন গড়তে শুরু করেছে আসাউদ্দিন ওয়েসির নেতৃত্বাধীন AIMIM।

এতদিন পর্যন্ত সাগরদিঘীর রাজনীতিতে তৃণমূল বনাম বিরোধী—এই দ্বিমুখী লড়াইয়ের ধারণাই চালু ছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, সেই সমীকরণ ভেঙে পড়ছে। হুমায়ুন কবীর, নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফ বা ছোট ছোট আঞ্চলিক শক্তির বাইরে এবার সরাসরি মুসলিম ভোটের কেন্দ্রে আঘাত হানছে AIMIM। প্রশ্ন উঠছে—এটা কি নিছক ভোট কাটার রাজনীতি, না কি তৃণমূল-বিরোধী ক্ষোভের সংগঠিত রূপ?

‘উন্নয়ন ক্লান্তি’ থেকে রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা

তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো সামনে আসছে—কাটমানি, পরিষেবায় বঞ্চনা, স্থানীয় নেতাদের দাদাগিরি, পরিযায়ী শ্রমিক নির্যাতনের বিচারহীনতা—এগুলো নতুন নয়। নতুন হল এই অভিযোগগুলো আর চাপা থাকছে না। দীর্ঘদিন ধরে ‘উন্নয়নের বদলে উপকারভোগী রাজনীতি’ চললেও, এখন সেই ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা ভাঙতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম সমাজের একাংশ এখন তৃণমূলকে আর ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে দেখছে না। বরং মনে করছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটব্যাঙ্ক হওয়ার পরেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তারা প্রান্তিকই রয়ে গিয়েছে। এই বঞ্চনার মনস্তত্ত্বই AIMIM-এর পক্ষে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পুঁজি হয়ে উঠছে।

AIMIM: প্রতিবাদ না বিভাজন?

AIMIM নিজেদের বিকল্প মুসলিম কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। তাদের রাজনীতি আবেগনির্ভর, পরিচয়কেন্দ্রিক এবং সরাসরি ক্ষমতার প্রশ্নে আক্রমণাত্মক। সাগরদিঘীতে ধারাবাহিক যোগদান প্রমাণ করছে, এই ভাষা একাংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে।

তবে এখানেই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপদ। AIMIM যত শক্তিশালী হবে, মুসলিম ভোট তত বেশি ভাগ হবে—যার সরাসরি লাভ যেতে পারে তৃতীয় শক্তি বা শাসক-বিরোধী বৃহত্তর শক্তির দিকে। অর্থাৎ AIMIM নিজে সরকার গড়ার জায়গায় না পৌঁছালেও, তারা ‘কিংমেকার’ বা ‘ভোটকাটার’ হয়ে উঠতে পারে।

তৃণমূলের অস্বস্তি কেন বাড়ছে

সাগরদিঘীর ঘটনা শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্রের নয়। এটি গোটা মুর্শিদাবাদ জুড়েই এক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্বের উপর মানুষের ক্ষোভ জমেছে, কিন্তু তার নির্গমনপথ নেই—এই শূন্যস্থান পূরণ করছে AIMIM।

সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হল, এই ভাঙন নিচুতলার সংগঠনে হচ্ছে। কর্মী, সমর্থক, উপভোক্তা স্তর থেকেই দলবদল—যা নির্বাচনের সময় বুথ ম্যানেজমেন্টে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

মুসলিম ভোট কি এবার চার ভাগে?

এক সময় মুর্শিদাবাদে মুসলিম ভোট ছিল প্রায় একমুখী। এখন সেই ভোট ভাগ হচ্ছে—

১) তৃণমূল

২) আইএসএফ/আঞ্চলিক শক্তি

৩) বাম-কংগ্রেস জোট

৪) AIMIM

এই চতুর্মুখী বিভাজন কারও জন্যই স্বস্তির নয়। বিশেষ করে মুসলিম সমাজের রাজনৈতিক দরকষাকষির ক্ষমতা এতে দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

শেষ প্রশ্নটা থেকেই যায়

সাগরদিঘীতে AIMIM-এর উত্থান কি শাসক দলের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ, নাকি দীর্ঘদিনের অবহেলার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া?

আর এই ভোটবিভাজনের রাজনীতির শেষ পরিণতি কি মুসলিম সমাজের শক্তি বাড়াবে, না কি আরও প্রান্তিক করে তুলবে?

বিধানসভা নির্বাচন যত এগোবে, সাগরদিঘী ততই হয়ে উঠবে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম রাজনীতির পরীক্ষাগার। এখানকার ফলাফলই বলে দেবে—ক্ষমতার কেন্দ্রে সত্যিই বদল আসছে, না কি শুধুই ভোটের অঙ্ক বদলাচ্ছে।

Puspaprovat Patrika
এই বিভাগের আরো খবর