অনুষ্ঠিত হলো মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল
অনুষ্ঠিত হলো মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
ধুলিয়ান: আজ ২৮ শে জুন, ২০২৬ বিকেল ৩ ঘটিকায় কলকাতার কবিতা কার্নিভাল ও স্বপ্নের ভেলা সাহিত্য পত্রিকা যৌথ আয়োজনে ধুলিয়ানের জগন্নাথ লজে অনুষ্ঠিত হলো মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক কাজী আমিনুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কবি অধ্যাপক বিশ্বনাথ সাহা ও সাহিত্যিক মজিবুর রহমান, সভাপতি ও সহ-সভাপতি হিসেবে যথাক্রমে সাহিতিক আনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী ও কবি আবদুস সালাম। উপস্থিত ছিলেন কবি
দুলাল প্রামানিক, মোঃ দাউদ হোসেন, শুভ্র মুখোপাধ্যায়, মিরাজুল সেখ, সৈয়দ হুমায়ুন রাণা, মোঃ আব্দুল রহমান, মাহমুদ হোসেন, মাহাতাব হোসেন, ইমতিয়াজ কবির, মোহাঃ আলিউল হক, মোঃ জালালউদ্দিন রেজা, উমার ফারুক, স্বাগতা সান্যাল, মোঃ ওমার আলী, সব্যসাচী দাস, আনন্দ দাস, এদ্দাদুল ইসলাম, মোঃ রাজু, মইদুল ইসলাম, এস এম এ সাদেক আলী, ওয়াসিম আক্রম, ইমদাদুল ইসলাম, রাফিকুজ্জামান খান, মোঃ মুরসালিন হক, মোফাক হোসেন, মোহাঃ তোহা সেখ, মৈত্রী ভাস্কর, সুমন পাল, এ১ নিউজের কর্নধার সাহেব আলি, স্বপ্নের ভেলা সাহিত্য পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মোঃ ইজাজ আহামেদ প্রমুখ।
কলকাতার কবিতা কার্নিভাল সম্পাদকমণ্ডলীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি সৌমিত বসু, ইন্দ্রজিৎ ভট্টাচার্য্য ও অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন কবি সব্যসাচী দাস ও কবি তথা ডি নিউজের কর্নধার মোঃ দাউদ হোসেন। উপস্থিত কবিদের কবিতা পাঠ ও বক্তব্যে মুখরিত হয়ে উঠে অনুষ্ঠানটি।
০৯:১১ পিএম, ২৮ জুন ২০২৬ রোববার
অনুগল্প: বিস্ময়
অনুগল্প: বিস্ময়
সালেক উদ্দিন
ঢাকা শহরের ভিড় বাসে এক উঠতি বয়সী মেয়ে নিজের আসন ছেড়ে দিল লাঠি ভর করা এক বৃদ্ধকে। বৃদ্ধ ধীরে ধীরে বসে পড়লেন। মনে হলো, ক্লান্ত শরীরের চেয়ে বেশি বিশ্রাম পেল মানুষের প্রতি তার আস্থা। কৃতজ্ঞ চোখে তিনি মেয়েটির দিকে তাকালেন। তার নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ল।
বাস চলতে লাগল। ভেতরে মানুষ বাড়ল, বাইরে রাস্তা কমল। কাঁধে কাঁধে, শ্বাসে শ্বাসে, অপরিচিতরা একে অন্যের অনিবার্য নৈকট্যে ঠেলে যেতে লাগল। মেয়েটির পাশে দাঁড়ানো লোকটি বাসের প্রতিটি ঝাঁকুনিকে নিজের সুবিধায় ব্যবহার করতে লাগল।
মেয়েটি একবার সরে যাওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু সরে যাবে কোথায়?
তার চোখ এক মুহূর্তের জন্য চলে গেল ছেড়ে দেওয়া আসনটির দিকে। বৃদ্ধ জানালার বাইরে তাকিয়ে আছেন। মুখে এক ধরনের শান্তি। যেন এই সামান্য মানবিকতাই তাকে বিশ্বাস করিয়েছে—পৃথিবী এখনও অনেকটা আগের মত আছে।
ঠিক তখনই লোকটির হাত এসে থামল এমন এক জায়গায়, যেখানে অনুমতিহীন কোনো স্পর্শ আর শুধু স্পর্শ থাকে না।
মেয়েটি লোকটির মুখের দিকে তাকিয়ে তার গোঁফের নিচে অস্পষ্ট এক হাসি লক্ষ করল।
বাস ছুটে চলছে।
বৃদ্ধ ভাবলেন, পৃথিবী এখনও টিকে আছে ভালো মানুষের কারণে।
মেয়েটি ভাবল, পৃথিবী এখনও টিকে আছে—এটাই বিস্ময়।
লেখক পরিচিতি: সালেক উদ্দিন। জন্ম ২৬ মে ১৯৬০। বাংলাদেশের একজন কথা সাহিত্যিক। তিনি একাধারে গল্পকার নাট্যকার, কবি, গীতিকবি,সামাজিক- রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি নৈতিক রাষ্ট্রচিন্তা কে জনপরিসরে আলোচনায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসে সক্রিয়। বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সমকালীন রাজনীতি নীতি বিশ্লেষণ ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে লেখালেখি করেন তিনি। আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে তিনি গল্প প্রবন্ধ লিখে থাকেন।বাংলা একাডেমীর জীবন সদস্য এই লেখকের পূর্ব প্রকাশিত গ্রন্থ সমূহ পাঠক মহলে সমাদৃত।
১২:০৭ পিএম, ২৪ জুন ২০২৬ বুধবার
১৯৪৬, পাঁঠাবাদ, লাহিড়ীবাদ, মনুষ্যবাদ ও আমরা
১৯৪৬,পাঁঠাবাদ, লাহিড়ীবাদ, মনুষ্যবাদ ও আমরা
খগেন্দ্রনাথ অধিকারী
_____________________
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ আমাদের দেশের বুকে তার শাসন দীর্ঘায়িত করার জন্য নানাভাবে বরাবর চেষ্টা করেছে।মুখে না বললেও, মনের গভীর হতে ,১৭৫৭ সালের ২৩শে জুনের পলাশীর প্রান্তর থেকে মীরজাফর,ইয়ার লতিফ,রাজা রায় দুর্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখ চক্রান্তকারীদের সঙ্গে প্রাক-পলাশী -যুদ্ধ পর্বে যড়যন্ত্রের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তারা ভেবেছিল যে এই দেশের মানুষরা মানেই
সবাই হোল বেইমান, বিশ্বাস ঘাতক, কুলাঙ্গার। কিন্তু সবাই তা যে নয়, এদেশেও দেশপ্রেমিক মানুষদের অস্তিত্ব আছে, অসাম্প্রদায়িক মানুষদের অস্তিত্ব আছে, সেটা তারা বুঝে ছিল পলাশীর মাটিকে রক্তে ভিজতে দেখতে। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে তারা
দেখে ছিল যে একজন মুসলিম শাসক নবাব, সিরাজউদ্দৌলার ,প্রধান সেনাপতি মীরজাফর মুসলিম হয়েও যেখানে কাঠের পুতুল হয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে ক্লাইভ বাহিনীর সশস্ত্র আক্রমনের মুখে, সেখানে তখন নিশ্চিত
মৃত্যু জেনেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মীর মদন, মোহনলালের মত গুটিকয়েক বীর সৈনিক অকুতোভয়ে লড়ে গেছে ও শহীদের মৃত্যু বরণ করেছে
নবাবের হয়ে ঐ আম্র কুঞ্জে।
সেদিন ই তারা বুঝেছিল যে এই "বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি"এবং এই মাটির সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শক্তির উৎস হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকল মানুষের ভ্রাতৃত্ববোধ।
তাই তারা গোড়া থেকেই হিন্দু মুসলিম ঐক্য সম্পর্কে খুব সতর্ক ছিল। তবুও হাজার হোক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তো ছিল একটা বেনিয়াদের আখড়া।তারা তো এদেশকে শাসন করবে বলে এখানে আসতে চায়নি,আসতে চেয়েছিল ব্যবসা করতে। কিন্তু পরিস্থিতির চক্রে "বণিকের মানদণ্ড দেখা দিল
রাজদণ্ড"রূপে।চলল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন একশ বছর ধরে,১৭৫৭-১৮৫৭সাল অবধি। এই সময় কালে এদেশে বড়ো বড়ো ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ঢেউ উত্তাল হয়ে উঠেছে।যথা ফারাজী আন্দোলন,ওয়াহাবী আন্দোলন, ইত্যাদি। এইসব আন্দোলনের মূল শক্তি ছিল হিন্দু মুসলিম ঐক্য। হিন্দু মৌলবাদী ঐতিহাসিকরা তাদের গৈরিক দৃষ্টিকোণে এইসব আন্দোলনকে মুসলিম পুনর্জীবন বাদী আন্দোলন বলে তাচ্ছিল্য করেছেন। অন্যদিকে মুসলিম মৌলবাদীরা এইসব আন্দোলনকে "কাফেরদের দেশে শরিয়ত সুরক্ষা"করার প্রয়াস বলে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। তাঁরা তিতুমীরকে এদেশের মাটিতে
একজন শরিয়ত সুরক্ষার সেনাপতি হিসাবে অভিহিত করেছেন।
কিন্তু অধ্যাপক বীরেন মুখার্জী, সুপ্রকাশ রায়, নরহরি কবিরাজ প্রমুখ ঐতিহাসিকরা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের আলোকে দেখিয়েছেন যে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার অনিবার্য কারণে এই সব আন্দোলন সঙ্গে ধর্মীয় প্রশ্ন জড়িয়ে গেছে বটে, কিন্তু সেগুলি গৌণ প্রসঙ্গ।মুখ্য বিষয় হলো যে এই সব সংগ্রামের মুল সুর ছিল সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জিহাদ। তিতুমীর ঘটনাচক্রে মুসলিম ছিলেন,আর অত্যাচারী জমিদার কৃষ্ণ দেবরায় হিন্দু ছিলেন। কিন্তু অত্যাচারিত
কৃষকরা হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সবাই তিতুমীরের আহ্বানে ঐ জমিদারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সৈনিক ছিলেন। বাঁশেরকেল্লা করে বীরের মতো তিতুমীর ও তাঁর সহযোগীরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী ও জমিদারদের যৌথ বাহিনীর অভিযানের বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে শহীদ হয়েছিলেন। একাধিক কৃষককে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে ঐ যৌথ বর্বর বাহিনী প্রকাশ্যে গাছের ডালে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে ছিল। সুতরাং তিতুমীর যে বীর স্বাধীনতা যোদ্ধা ছিলেন এবং এইসব আন্দোলনের মূল সুর যে ছিল একাধারে সামন্ততন্ত্র ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতা, তাতে কোন সন্দেহই নেই।
কিন্তু শাসক বণিক গোষ্ঠীর
অর্থাৎ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এতে কানে কোন জল ঢোকেনি। বেনিয়া দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের লক্ষ্য ছিল বাংলা সহ গোটা ভারতকে তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থে কাঁচা মাল সরবরাহের কেন্দ্র হিসাবে ও পাকা মাল বিক্রি করার বাজার হিসাবে ব্যবহার করা। তারা কমদামে এদেশের থেকে কাঁচামাল আমদানি করত,আর বেশী দামে তাদের তৈরি শিল্পজাত পণ্য এদেশের মানুষের কাছে বিক্রি করত। অর্থাৎ দুই দিক দিয়েই এদেশের মানুষ শোষিত হতো তাদের হাতে।
এই শোষণের বিরুদ্ধে মহাবিস্ফোরণ হোল১৮৫৭সালে যাকে কার্ল মার্কস ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলে অভিহিত করেছেন। এই স্বাধীনতা যুদ্ধ সসাগরা ভারতবর্ষের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত্তিকে টলিয়ে দেয়।এর আগে ইংরেজ শাসনের একশ বছরে ছোট বড়ো অনেক অনেক লড়াই হয়েছে মুক্তির জন্য। আত্মত্যাগের মহিমায় তারা ছিল সন্দেহাতীতভাবে উদ্ভাসিত। তবু তাদের কোন সর্বভারতীয় চেহারা ছিল না। তারা ছিল স্বরূপতঃ আঞ্চলিক সংগ্রাম।১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে ভারতের সব অংশের মানুষ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে অংশগ্রহণ করে এবং অভূতপূর্ব ভাবে হিন্দু মুসলিম ঐক্য আত্মপ্রকাশ করে।মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে নেতা হিসাবে
মেনে ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মীবাঈ, তাঁতিয়া তোপী প্রমুখ হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সবাই ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ময়দানে নামেন।এই বাংলার ব্যারাকপুরের মাটিতে মঙ্গল পাণ্ডে হন প্রথম শহীদ।
এই মহাবিদ্রোহের রুদ্র মূর্তি দেখে তথা এর মধ্যে প্রতিফলিত হিন্দু মুসলিম ঐক্য দেখে, ইংরেজদের টনক নড়ে। বেনিয়াদেরকে দিয়ে অর্থাৎ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দিয়ে আর যে ভারতকে শাসন করা যাবে না, শাসন করলে ভারত অচিরেই লন্ডনের হাত ছাড়া হয়ে যাবে, এই বোধোদয় তাদের হয়।
ফলে ১৮৫৮সালে ইংরেজরা ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের শাসন চালু করে। এই পর্বে ব্রিটিশ শাসকদের ভারত শাসনের মূল মন্ত্র হয়ে দাঁড়ায় "divide and rule". অর্থাৎ ভারতীয় জনতার প্রধান যে দুই গোষ্ঠী হোল হিন্দু ও মুসলিম এবং যাদের মধ্যে অশোক আকবর দারাশিকো থেকে শুরু করে বিবেকানন্দ রবীন্দ্রনাথ নজরুল গান্ধীজী প্রমুখদের আমল পর্যন্ত সম্প্রীতির ফল্গধারা প্রবাহমান, সেই ধারার গতিপথকে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির মরুভূমির মাধ্যমে রুদ্ধ করে দেওয়া। এই লক্ষ্যে তারা সুকৌশলে আলাদা আলাদা ভাবে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের "এলিট"বা অভিজাত গোষ্ঠীর
মানুষদের মগজ ধোলাই শুরু করে। মুসলিমদের কে তারা বোঝায় যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এদেশে সংখ্যা গরিষ্ঠ। কাজেই ভারত ছেড়ে তারা অর্থাৎ ইংরেজরা চলে গেলে, মুসলিমরা হিন্দুদের পদানত থাকতে বাধ্য হবে। সুতরাং সম্মান নিয়ে মুসলিমদের বাঁচতে হলে তাদেরকে ভারত ভাগ করে পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনা করতে হবে।এই মগজধোলাই এর ফসল হিসেবে জিন্না, ইকবালদের আবির্ভাব। উল্লেখ্য যে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, সীমান্ত গান্ধী খান আব্দুল গফুর খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বারে বারে বলেছেন যে হিন্দু -মুসলীম সম্প্রীতি ভারত ইতিহাসের আত্মা। ইংরেজদের মদতে একথা প্রচার করা হয় যে এই কথা নিছক ধাপ্পাবাজি। এদেশের মাটিতে কোন দিন ও হিন্দু মুসলিম ঐক্য ছিল না। আশ্চর্যের কথা যে বাবা সাহেব আম্বেদকর ও এই সুরে সুর মিলিয়ে বলেন যে ভারতের ইতিহাসে হিন্দু মুসলিম ঐক্যের তত্ত্ব সোনার পাথর বাটির মতোই অবাস্তব।
অন্যদিকে ইংরেজরা হিন্দুদেরকে এই বলে মগজধোলাই করে যে তারা এদেশের মানুষের সিংহভাগ হয়েও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তারা সংখ্যালঘু মুসলিমদের পদানত থাকতে বাধ্য হয়েছে, ইংরেজদের শাসনকালেই তারা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। কিন্তু তারা অর্থাৎ ইংরেজরা এদেশ ছেড়ে চলে গেলে তো আবার তারা সেই সংখ্যা লঘু মুসলিমদের পদানত থাকতে বাধ্য হবে। সুতরাং তাদেরকে ভেবে দেখতে হবে।
এই মগজধোলাই এর ফসল হলো হিন্দু মৌলবাদীরা।
যাই হোক, ইংরেজদের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পরিণতিতে ১৯০৬সালে ঢাকা শহরে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯২৫ সালে নাগপুরে আর এস এস প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দুই সংগঠনের মাধ্যমে ইংরেজরা অবিভক্ত বাংলা তথা ভারতের চারিদিকে হিন্দু মুসলিম বিভাজনের বিষ ছড়িয়ে দিতে থাকে। কিন্তু জাতীয় কংগ্রেসের তথা কমিউনিস্টদের আপোষহীন প্রচার,লীগ -আর এস এস-হিন্দু্ মহাসভার ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতিকেই শুধু নয়, জ্যোতি রাও ফুলে -সাবিত্রী ভাই ফুলে-ফতেমা শেখ দের মানবতাবাদী অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে বাবা সাহেব আম্বেদকর যে জাতিপাতবাদী রাজনীতির খেলা শুরু করে ছিলেন, তাতেও জল ঢেলে যায়।সবকিছুই যখন ভেস্তে যেতে বসেছে, তখন মরীয়া হয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর ছক কষলো উপায়হীন ভাবে। হাতে তাদের সময় নেই বেশি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসানে আমেরিকা পশ্চিমী দুনিয়ার নেতা হয়েছে, সোভিয়েত ইউনিয়ন হয়েছে সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ার নেতা। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ফ্যাসিস্ট ও নাৎসীদের পরাজয়ে সোভিয়েত লাল ফৌজ তথা কমরেড স্টালিনের অবদানের জন্য সদ্য প্রতিষ্ঠিত সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ভিতরে ও বাইরে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব দারুন বেড়ে যায়। সোভিয়েত প্রধান কমরেড যোসেফ স্টালিন প্রস্তাব করেন যে পরাধীন থাকলেও ভারতকে জাতি পুঞ্জের সভ্য করা হোক।মন থেকে সায় না থাকলেও , আমেরিকা, ব্রিটেন,ফ্রান্স সহ পশ্চিমী দুনিয়ার সাহস ছিল না এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করার।১৯৪৫সালেই,এর ফলে, ভারত জাতিপূঞ্জের সভ্য হয়ে যায়।
এরপর ধারাবাহিক ভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দেশও ব্রিটেনের উপর চাপ বাড়াতে থাকে ভারতকে অবিলম্বে স্বাধীনতা দেবার জন্য।অন্যদিকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির বোঝায় ব্রিটেনের মেরুদন্ডটি ভেঙ্গে যায়। তার পক্ষেও আর সম্ভবপর হচ্ছিলো না ভারত শাসন করা। সসম্মানে যতখানি সম্ভব নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থকে রক্ষা করে,শান্তিপুর্ন অবস্থায় ব্রিটেন দ্রুত ভারত ছেড়ে চলে আসতে চাইছিল।তাই মরীয়া হয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ এদেশে মরণকামড় হিসাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর ছক তৈরি করে গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিলকে দিয়ে যার সভ্য (শ্রমমন্ত্রী) ছিলেন বি আর আম্বেদকর।আর এই ছক রূপায়ণ করার দায়িত্ব অবিভক্ত বাংলায় পড়ে তার প্রধানমন্ত্রী হুসেন সুরাবর্দির উপর।১৯৪৬এরGreat Calcutta Killing সেই ঘৃণ্য সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের পরিণাম। অসংখ্য সাধারণ মানুষ হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে খুন হয়েছেন এই দাঙ্গায়।সবার উপরে ছিল গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিল যার মধ্যে ছিলেন আম্বেদকর। মাঝখানে ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হুসেন সুরাবর্দি।সবার নীচে দাঙ্গাবাজ মৌলবাদী রাজনীতির হিন্দু মুসলিম খুনীরা। রক্তের বন্যায় ভেসে গেছে কোলকাতার রাজপথ। কাউন্সিল সদস্য আম্বেদকর নীরব। মনে পড়ে যায় যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ জালিয়ানাওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নাইট
উপাধি ত্যাগ করেছিলেন। আম্বেদকর এই পরিকল্পিত দাঙ্গার প্রতিবাদে কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ তো দূরের কথা, টু শব্দটি করননি।আর বাংলার প্রধানমন্ত্রী হুসেন সুরাবর্দি তো কসাইখানা বানিয়ে ফেলেছিলেন কোলকাতার রাজপথকে যেখানে অসহায় মানুষেরা হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের লোক জবাই/বলি হচ্ছিলেন অগুনতি হারে। জনৈক গোপাল পাঁঠা (ওরফে মুখার্জি)এই দাঙ্গায় হিন্দু দের রক্ষার নামে নির্বিচারে মুসলিম হত্যায় মেতে ওঠে।আর কমিউনিস্ট নেতা কমরেড সোমনাথ লাহিড়ী ও কমরেড আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে কোলকাতা শহরের ট্রাম শ্রমিকরা গোটা শহরে
দাঙ্গা রুখতে রাজপথে নেমে আসেন এবং হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষদের জীবন রক্ষায় অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন।১৯৪৬এর দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে যদি কোলকাতার কোন সুসন্তানের নামে কোলকাতার কোন রাজপথে র নাম রাখতে হয়, তাহলে সেটা করতে হবে যিনি বা যাঁরা মানুষকে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে বাঁচিয়েছেন বা বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, তাঁর বা তাঁদের কারও নামে। এই দাঙ্গায় যারা মানুষকে খুন করেছে, তাদের কারোর নামে রাস্তার নামকরণ করা কুরুচিকর। উল্লিখিত গোপাল পাঁঠা ওরফে মুখার্জির নামে বর্তমান সরকার একটি রাস্তার নামকরণের সুপারিশ করেছেন কোলকাতা পৌরসভার কাছে।১৯৪৬এর দাঙ্গায় অগণিত নিরপরাধ হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষকে ঠাণ্ডা মাথায়খুন করিয়ে ছিলেন নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হূসেন সুরাবর্দি।আর পাঁঠার মাংস বিক্রি করা কসাই গোপাল পাঁঠা কসাই এর আর এক ভূমিকায় নেমে নিজে ও তার দলবল অজস্র মুসলিমকে নারী শিশু যুবক যুবতী নির্বিশেষে টুকরো টুকরো করে বউবাজার সহ কোলকাতার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিয়েছে। এই বর্বরতাকে মহিমান্বিত করে গেরুয়া শিবির তথা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্তাব্যক্তিরা সাফাই গাইছেন যে গোপাল পাঁঠা সেদিন এই ভাবে বহু হিন্দু মানুষের রক্ষাকর্তা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল।তাই তার স্বীকৃতি হিসাবে তার নামে এতবছর বাদে কোল কাতার একটি রাস্তা উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এবারে বলি, মানুষ মানুষই। হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান পরিচয় তার গৌণ। তাকে তার জাতি ধর্ম লিঙ্গ গায়ের
রঙ, জন্ম স্থান না দেখে যে ব্যক্তি বা যারা বাঁচাতে এগিয়ে আসে সে বা তারাই প্রণম্য।আর যে বা যারা জাতি ধর্ম বর্ণ দেখে একজন বা একদল মানুষের রক্তে পাঞ্জা ভিজিয়ে আর একজন
বা আর একদল মানুষকে রক্ষা করে সে আদৌ প্রণম্য নয়,সে অতীব ঘৃণ্য।গোপাল পাঁঠা ওরফে গোপাল মুখার্জি
এই দ্বিতীয় পর্যায়ে পড়ে।
যাঁরা মানবতার প্রতীক, তাঁরা বিপন্ন মানুষকে বাঁচাতে এসে তার জাত ধর্ম, লিঙ্গ, গায়ের রং, জন্মস্থান, এসব বিচার করেন না। তাকে বাঁচিয়ে তোলাই তাঁর বা তাঁদের মূল উদ্দেশ্য থাকে। কোলকাতা শহরের অকুতোভয় বীর হিন্দু -মুসলিম ট্রাম শ্রমিকরা তাঁদের প্রিয় নেতা কমরেড সোমনাথ লাহিড়ী ও কমরেড আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে প্রতিটি ট্রাম ডিপো থেকে দলবেঁধে এলাকায় এলাকায় টহল দিয়েছেন দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে।না হলে ঐ সাংবিধানিক জহ্লাদ প্রধানমন্ত্রী সুরাবর্দি ও বউবাজারের পাঁঠা কাটা কসাই গোপাল পাঁঠার অঙ্গুলি হেলনে আরও বহু নিরপরাধ হিন্দু মুসলিম ভাই বোনদের লাশে কলকাতার রাজপথ ভরে যেত।
তাই ঐ সর্বনাশা দাঙ্গার সূত্র ধরে যদি কেউ কোন নামকরণ কোন রাস্তার বা এলাকার বা ভবনের করতে চান তাহলে কমরেড সোমনাথ লাহিড়ী ও কমরেড আব্দুল হালিমের নামে করুন,আর একটি স্মৃতিস্তম্ভ ট্রাম শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তৈরী করুন। তাহলে ইতিহাসের প্রতি সুবিচার হবে। এই সুবিচারের স্বার্থে গণহত্যার সাংবিধানিক খলনায়ক হুসেন সুরাবর্দির নামে যেমন সঠিকভাবেই কোলকাতায় কোনো স্মৃতিচিহ্ন নেই, তেমনি সংবিধান বহির্ভূত গণহত্যার এক খলনায়ক চরিত্র গোপাল পাঁঠার নামেও কোন স্মৃতিচিহ্ন বিবেকানন্দ -রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থান ও মৌলানা আবুল কালাম আজাদের শৈশব বিজড়িত কোলকাতার বুকে থাকতে পারে না।এটা আমাদের লজ্জা, আমাদের কলঙ্ক।এর
হাত থেকে আমাদের মুক্তি পেতেই হবে। সেই সঙ্গে বলি, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে আরও
দায়িত্বশীল হতে হবে। কোন্ হবু চন্দ্র তাঁকে বুঝিয়েছে যে হাসান সুরাবর্দি ছিলেন ১৯৪৬ সালের ঐ দাঙ্গার নায়ক? উনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তাঁর নামে উৎসর্গীকৃত রাস্তার নাম পাল্টে দিয়ে ঐ গণহত্যার সংবিধান বহির্ভূত
খলনায়ক গোপাল পাঁঠার নামে করলেন? মূখ্যমন্ত্রী পদের মর্যাদার সঙ্গে এটা বেমানান। এই ভুল শুধরে গোপাল পাঁঠার নামে কোন স্মৃতিচিহ্ন না করে শিক্ষাবিদ হাসান সূরাবর্দির নামেই পূর্বতন রাস্তাটির নাম বহাল রাখুন। এতে পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণ হবে, দেশবাসীর কাছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের কাছে একটা সুন্দর বার্তা যাবে। সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ ও শান্তিকামী সাধারণ মানুষেরা এটাই প্রত্যাশা করে। হাসান ও হুসেনের প্রভেদটা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বুঝুন এবং উল্লিখিত গোপাল পাঁঠা ও হুসেন সুরাবর্দি সম্পর্কে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে একাসনে বসানোর সিদ্ধান্ত নিন ও অবিভক্ত বাংলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হাসান সূরাবর্দির মর্যাদা রক্ষা করুন, এটাই সময়ের দাবি।
০৬:৫৮ পিএম, ২৩ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
কবিতা - জীবনরাগ
জীবনরাগ
অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়
মানুষ আসে একা, কোন কিছু না নিয়েই।
পৃথিবীতে আসে সব গুছিয়ে রেখে দিয়ে যায়
পরবর্তী জীবনের জন্য।
সে চলে যায় কোন কিছু না নিয়ই।
তার হাতের মুঠো খোলাই থাকে।যেমন যখন এসেছিল। যা কিছু সঞ্চয় তা উপুড় করে দিয়ে আকাশের দিকে খোলা হাত রেখে চলে যায়।
তার গোটা জীবনটাই ভাত কাপড়ের যোগাড় করতে করতে কেটে যায়।যেন যুদ্ধ, শুধু বেঁচে থাকা, পরবর্তী জীবনকে আরও নিশ্চিন্ত জীবন দিয়ে যাওয়া।
অথচ জীবন সময় তো নির্ধারিত।
মানুষের ভাবতে ভাবতে কেটে যায় জীবন।
যেমন করে একটা বছর আসে আবার বুঝে উঠতে উঠতেই আরও একটা নতুন বছর এসে যায়।
এর ভেতরে সব সাজাতে চায় জীবন সঙ্গীতসন্ধ্যার মতো। যেন শুধু বিরহী রাগ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়...
০৬:৩২ পিএম, ২৩ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
মদন বাউরি
মদন বাউরি
সৌমিত বসু
সাত বছরে সমুদ্র অনেক কিছু ফেরায়
মদন বাউরিকে ফেরায় না। আজও মাঝরাতে উঠোনে পা ছড়িয়ে
তার মা বসে থাকে, মুখে জ্বলন্ত বিড়ি
বুকে টিমটিম আগুন ,
আরো সাত বছর তার বাঁচতে ইচ্ছে করে
যদি ছেলে ফেরে ।
বিড়ির আগুন নেভে আবার জ্বলে, নেভে ।
কখন যেন পুবের আকাশ ফর্সা হয়ে ওঠে।
সাত সাত বছরেও নোনা জল
মদন বাউরিকে ফেরায় না।
০৬:২৪ পিএম, ২৩ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
কবিতা - শান্ত নদীর জল
শান্ত নদীর জল
আলী সোহারব
শান্ত এখন নদীর জল
ছিল অতি চঞ্চল,
বহু আগে থেমে গেছে
ভাসায় না অঞ্চল ।
তার বুকে স্বচ্ছ পানি
নেই তো স্রোতাম্বিনী ,
সবাই বলে সে কেন
হলো কলঙ্কিনী।
জোয়ার ভাটা খেলা তার
থেমে গেছে আগে,
কার সাথে গোসসা ছিল
হয়তো সেই রাগে।
তার জলে করে এখন
চুনো পুটি খেলা,
সেই নদীর পাশে দাঁড়াই
দেখি পড়ন্ত বেলা।
০৭:৩৬ এএম, ২১ জুন ২০২৬ রোববার
পশ্চিমবঙ্গ দিবস, গৌরব, গ্লানি ও আমরা
পশ্চিমবঙ্গ দিবস, গৌরব, গ্লানি ও আমরা
খগেন্দ্রনাথ অধিকারী
_____________________
গ্লানির না গৌরবের,সে নিয়ে কোন মন্তব্য করবো না। মন্তব্য করবেন, সিদ্ধান্ত কোরবেন দেশবাসী, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যবাসী। ঢাকঢোল বাজিয়ে, একটি মহল থেকে ২০শে জুন "পশ্চিমবঙ্গ দিবস "পালনের আয়োজন চলছে এবং সেই সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর নাম জড়িয়ে তাঁর গুনগান চলছে
যুক্তিহীন ভাবে, অনৈতিহাসিকভাব।
দেখা যাক বাস্তবটা কি। পরাধীনতার যুগে অবিভক্ত বাংলার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের দৃঢ়তা দেখে মুগ্ধ
গোখলে বলেছিলেন "What Bengal thinks today, India thinks tomorrow."তাঁর এই বক্তব্যের সারবত্তা ছিল এই যে বাংলা আজ যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের দৃঢ়তা দেখাচ্ছে, কাল তার অনুপ্রেরণায় গোটা ভারত সেই পথে এগিয়ে যাবে।
দূরদর্শী গোখলের এই কথাটার তাৎপর্য ব্রিটিশ শাসকরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিল এখানে সংগঠিত ধারাবাহিকভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের উত্তাপে।ফারাজী আন্দোলন, ওয়াহাবী আন্দোলন থেকে শুরু করে ছৌ বিদ্রোহ, সাঁওতাল বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, স্বদেশী আন্দোলন, বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন (ঐতিহাসিক অমলেশ ত্রিপাঠীর ভাষায় Extremist Challenge) সবকিছুরই সূত্রপাত এই বাংলার মাটিতে। কাজেই, ব্রিটিশরাজের আয়ুষ্কাল বাড়ানোর জন্য ইংরেজ শাসকরা বাংলার এই সংগ্রামী মেজাজের যে উৎস, তার অনুসন্ধান করে এবং সেটা করে তারা উপলব্ধি করে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন হোল বাংলার মানুষের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের দৃঢ়তার মূল উৎস।তাই তারা বাংলার মাটিতে, সিরাজদ্দৌলা, মীর মদন, মোহনলাল, তিতুমীর, বিবেকানন্দ,বিপিন চন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,এস ওয়াজেদ আলী,
কাজী নজরুল ইসলামের জন্মভুমি বাংলার মাটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেরুদন্ডকে ভেঙ্গে দেবার পরিকল্পনা নেয়। এই উদ্দেশ্যে তারা সাম্প্রদায়িকতার দৃষ্টিকোণে ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের আমলে হিন্দু প্রাধান্যাধীন অবিভক্ত বাংলার পশ্চিম দিকের জেলাগুলিকে নিয়ে, কোলকাতাকে রাজধানী করে পশ্চিম বাংলা এবং মুসলিম অধ্যুষিত পূর্বদিকের
জেলা গুলিকে নিয়ে, ঢাকাকে রাজধানী করে পূর্ব বাংলা গঠন করে। এই হোল
আমাদের দেশের মাটিতে আধুনিক কালে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টির প্রথম অপপ্রয়াস।
এরপর ইংরেজদের চক্রান্তে চরমপন্থী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম পীঠস্থান মহারাষ্ট্রের নাগপুরে ১৯২৫ সালে হিন্দু মৌলবাদী সংগঠন আর এস এস প্রতিষ্ঠিত হয়। ইংরেজদের মদতে অবিভক্ত বাংলা ও অবিভক্ত ভারতের সর্বত্র মুসলিম লীগ ও আর এস এস এর শাখা প্রশাখা প্রসারিত হয়।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ শুধু মাত্র ধর্মগত বিভাজন সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত হয়নি।তারা বর্ণগত বিভাজনের পথ ও গ্রহণ করে। আমাদের দেশের শতশত বছরের যে সামাজিক ঐক্য,তাতে ফাটল ধরাতে তারা কিছু লোককে আসরে নামায় ।ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে কেবল জাতিগত ভিত্তিতে সকল তথাকথিত অনুন্নত সম্প্রদায়ের মানুষদের বিশেষ সংরক্ষণের
দাবি তুলে এবং তথাকথিত উচ্চ বর্ণের মানুষেরকে এর থেকে বঞ্চিত করার দাবি জানান দিয়ে। উল্লেখ্য যে জ্যোতি রাও ফুলে, সাবিত্রী বাই ফুলে,ফতেমা শেখেরা বর্ণগত শোষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সাথে সাথে সবার জন্য যে সমতার দাবি করেন, আম্বেদকর -যোগেন মণ্ডলেরা তার বিরুদ্ধে যান। কংগ্রেসের গান্ধীজি,আজাদ, রাধাকৃষ্ণান,এবং কমিউনিস্ট নেতা পি সি যোশী, সোমনাথ লাহিড়ীরা আম্বেদকরের জাতপাত বাদী সংরক্ষণ,ও জিন্নার ধর্ম ভিত্তিক সংরক্ষণ ,
উভয়কেই সর্বনাশা এবং জাতীয় ঐক্যের বিরোধী বলে অভিহিত করেন। গান্ধীজি বলেন সবার কল্যাণ বা সর্বোদয়ের কথা। কমিউনিস্টরা বলেন অর্থনৈতিক ভিত্তিক সংরক্ষণের কথা । এই দুই দলের প্রচার জিন্না ও আম্বেদকরের রাজনীতিকে কোণঠাসা করে ফেলে। অবিভক্ত বাংলায় জাতপাত বাদী যোগেন মণ্ডলের অবস্থাও সঙ্গীন হয়ে ওঠে। দিশেহারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ মরীয়া হয়ে উঠে সুপরিকল্পিত ভাবে ১৯৪৬সালে Great Calcutta Killing ঘটায় এইটা প্রমাণ করতে যে অবিভক্ত ভারতে বা অবিভক্ত বাংলায় হিন্দু মুসলিম সহ অবস্থান সম্ভব নয়,দেশ ভাগ এবং বাংলা ভাগ অনিবার্য।
বলা বাহুল্য যে এই দাঙ্গা মোকাবেলা করতে কমিউনিস্ট নেতা সোমনাথ লাহিড়ী ও কমরেড আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে কোলকাতার ট্রাম শ্রমিকরা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। গান্ধীজি বেলেঘাটা, বরিশাল, নোয়াখালী, সর্বত্র শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ছোটেন।
প্রকাশ থাকে যে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসানের পরবর্তী পরিস্থিতিতে ব্রিটেন তার বেহাল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপে ভারত ছেড়ে চলে যেতে উদগ্রীব হয়ে ওঠে। তবু তার শেষ চেষ্টা থাকে ছেড়ে চলে যাবার আগে যতখানি সম্ভব তার সাম্রাজ্যবাদী আখের গুছিয়ে নেওয়া যায়। তার লক্ষ্য ছিল যে কোন মূল্যে ভারত ভাগ, বাংলা ভাগ। তাহলে এদেশ ছেড়ে চলে গেলেও তার বাণিজ্যিক স্বার্থ অক্ষুণ্ন থাকবে।
তার গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সে বুঝে ছিল যে কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের কে এবং জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে গান্ধীজি, আজাদ, গিরি, রাধাকৃষ্ণান, জাকির হোসেন প্রমুখ কিছু নেতাকে দেশভাগের বিষয়ে রাজী করানো যাবে না।তাই সর্বভারতীয় স্তরে তারা কংগ্রেসের মধ্যে হিন্দু ঘেঁষা এবং আর অযথা কালক্ষেপ না করে নির্বিবাদে ক্ষমতায় যেতে ও ক্ষমতা ভাগাভাগির পক্ষপাতী কিছু নেতাকে মগজধোলাই করে যে দেশ ভাগ হলে মুষ্টিমেয় কিছু মুসলিম লোক পাকিস্তান নিয়ে তুষ্ট থাকবে,আর অবশিষ্ট ভারতকে তারা
শান্তিতে শাসন করবে। বাংলার ক্ষেত্রে তারা অনুরূপ কৌশল অবলম্বন করে। এখানে বসে রাখি, রাজনীতির হিসেব গণিতে হয়না, সেটা হয় রসায়ন মেনে।১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার বিধান সভায় কমিউনিস্টদের বিধায়ক ছিলেন মাত্র তিন জন।কমরেড জ্যোতি বসু রতনলাল ব্রাহ্মণ ও রূপনারায়ণ রায়।আর হিন্দু মহাসভার মাত্র একজন বিধায়ক। তিনি ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। শ্যামাপ্রসাদের লক্ষ্য ছিল বাংলা ভাগ হোক। তাঁর কাছে বড়ো ছিল মানবতা অপেক্ষাHindu Elite দের স্বার্থের প্রশ্ন, কারণ তিনি ছিলেন এই গোষ্ঠীর ই একজন। তিনি মুন্সী প্রেম চাঁদের দুঃখী, কিম্বা বঙ্কিমচন্দ্রের রামধন পোদ,রামাকৈবর্ত্য, অথবা তারাশঙ্করের অগ্রদানী পূণ্য চক্রবর্তী দের মতো হিন্দুদের প্রতিনিধি ছিলেন না।আর বঙ্কিমচন্দ্রের হাসিম শেখ, কিম্বা শরৎ চন্দ্রের গফুর মিঞা,আমিনাদের প্রতিনিধি তো নন ই।
কাজেই অবিভক্ত বাংলার হিন্দু এলিটদের স্বার্থে তিনি তো বাংলা বিভাগ চাইবেন ই। কারণ পশ্চিমবঙ্গ তৈরী হলে সেখানে Muslim Elite দের প্রতিযোগিতা থাকবে না। সাধারণ গরীব হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান নির্বিশেষে খেটে খাওয়া মানুষদের উপায় কি হবে,সে নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন তিনি অনূভব করেননি।
অন্যদিকে অবিভক্ত বাংলার মুসলিম এলিটরাও চাইছিলেন বাংলা ভাগ, কারণ তাহলে হিন্দু এলিটদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার ঝক্কি পোহাতে হয় না।
আর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ তো চাইছিলোই বঙ্গবিভাগ তথা ভারত বিভাগ। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই সুযোগটাই নিয়ে ছিলেন হিন্দু সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণে। তাঁর সঙ্গী ছিলেন হিন্দু মহাসভার আর এক সর্বভারতীয় স্তরের
বাঙালি নেতা নির্মল চন্দ্র চ্যাটার্জি (ভারতের লোকসভার প্রাক্তন স্পীকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এর বাবা)। তবে সেই সময় ১৯৪৬ সালে হিন্দু মহাসভার একমাত্র বিধায়ক ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ এবং সেই সুবাদে সেই পদটিকে ব্যবহার করে হিন্দু মৌলবাদী দৃষ্টিকোণে তিনি বঙ্গবিভাজন ও ভারত বিভাজনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। একদিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের আশীর্বাদ ছিল ই তাঁর মাথার উপরে, অন্যদিকে জাতীয় কংগ্রেসের অনেক বিধায়ককে তিনি মুসলিম মৌলবাদীদের কার্যক্রমের রসায়নে প্রভাবিত করেছিলেন বঙ্গবিভাজন প্রস্তাব পাশের ক্ষেত্রে।
এই বিভাজনের ফলে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কোন উপকার ই হয়নি। সর্বনাশ হয়েছে তাদের। উপকার হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এলিট হিন্দুদের (কারণ মুসলিম এলিটরা দেশভাগের জন্য সংখ্যায় কমে যাওয়ায় তাদের প্রতিযোগীর সংখ্যা কমেছে)। ঠিক একই ভাবে ও একই কারণে পূর্ব বাংলার(অধুনা বাংলাদেশের) মুসলিম এলিটরা উপকৃত হয়েছে ও হচ্ছে।কি পশ্চিমবঙ্গের কি অধুনা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের,কি হিন্দু,কি মুসলিমের, কারোর কোন উপকার হয়নি।তাই তথাকথিত পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের কর্মসূচিকে ঘিরে তাদের কোন উল্লাস নেই, আছে বাস্তহারা হওয়ার গ্লানি ও যন্ত্রণা।
এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি আমাদের পেতেই হবে।১৯৪৭সালে যখন ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি হয়, তখন সীমান্ত গান্ধী খান আব্দুল গফুর খান ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান কমরেড যোসেফ স্টালিন বলেছিলেন যে এশিয়ার এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য উক্ত দেশ দুটিকে নিয়ে একটি Confederation বা ঢিলেঢালা আধা যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হোক।আজ এই উপমহাদেশে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ,এই তিনটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র রয়েছে। সবাইকে নিয়ে, সবার সার্বভৌম সত্তাকে সম্মান জানিয়ে একটি Confederation গঠনের আন্দোলনের প্রস্তুতি ও প্রয়াস হোক,এই উপমহাদেশের মানুষদের আর্থ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কল্যাণের জন্য এই টাই সময়ের দাবি।
*লেখকের নিজস্ব মতামত*
০৭:২২ এএম, ২১ জুন ২০২৬ রোববার
বহিষ্কৃত ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করা নিয়ে হাই কোর্টের প্রশ্ন, রায় বৃহস্পতিবার
০৮:৪০ এএম, ১৮ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার
জনকল্যাণ শিবিরে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া, পরিদর্শনে ফরাক্কার পরিচিত মুখ তথা বিজেপি নেতা সুনীল চৌধুরী।।
০৩:৪৭ পিএম, ১৫ জুন ২০২৬ সোমবার
সঞ্জীবের জন্মদিনে প্রতিকৃতি এঁকে নজির গড়ল নদিয়ার ক্ষুদে শিল্পী অঙ্কুশী
০৩:১৩ পিএম, ৬ জুন ২০২৬ শনিবার
কবিতা - গুমোট আবহাওয়া
গুমোট আবহাওয়া
মোঃ ইজাজ আহামেদ
সূর্যের ডানায় এসেছে সকাল,
আদিগন্তে বৃষ্টির আকাল,
গুমোট মুখ করে আছে আকাশ,
নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে বাতাস,
উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গাছেরা,
নৃত্য করা বন্ধ করে দিয়েছে পাতারা।
মেঘের ওড়নায় সুর্য মুখ ঢেকেছে,
ঘামের নদীতে মানুষ স্নান করছে।
ছটপট করছে প্রাণী,
শীতল নীড় খুঁজছে পাখি,
বৃদ্ধা হয়ে গেছে স্রোতস্বিনী,
ধূসর হয়ে আছে বায়ুমন্ডলের আঁখি।
০১:৪৩ পিএম, ৫ জুন ২০২৬ শুক্রবার
শিশুদের কেন্দ্রেই সংসার! ১২ বছর পর পুলিশের অভিযানে খালি হল অঙ্গনওয়াড়ি
১১:২৪ এএম, ৫ জুন ২০২৬ শুক্রবার
- অনুষ্ঠিত হলো মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল
- আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ধুলিয়ানের তৃণমূল কাউন্সিলর
- অনুগল্প: বিস্ময়
- কালিয়াচক কলেজে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি স্মারক বক্তৃতা
- নৌকা থেকে নামার মুহূর্তেই বিপর্যয়, বজ্রাঘাতে মৃত ৪, আহত ১৫
- ১৯৪৬, পাঁঠাবাদ, লাহিড়ীবাদ, মনুষ্যবাদ ও আমরা
- কবিতা - জীবনরাগ
- মদন বাউরি
- কালিয়াচক কলেজে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস
- কালিয়াচক কলেজে পালিত হলো পশ্চিমবঙ্গ দিবস
- কবিতা - শান্ত নদীর জল
- পশ্চিমবঙ্গ দিবস, গৌরব, গ্লানি ও আমরা
- পঞ্চায়েত ঘেরাও করে ১০ দফা দাবি পেশ, ভাসাইপাইকড়ে সিপিআইএমের
- বহিষ্কৃত ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করা নিয়ে হাই কোর্টের প্রশ্ন, রায় বৃহস্পতিবার
- জনকল্যাণ শিবিরে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া, পরিদর্শনে ফরাক্কার পরিচিত মুখ তথা বিজেপি নেতা সুনীল চৌধুরী।।
- অভিষেকের পর কুণালও সিআইডির তলবে
- জঙ্গিপুর থেকে মমতা প্রার্থী হলে ইস্তফা দেব: খলিলুর রহমান
- অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি, ঘটনাস্থলে মমতা
- হাফপ্যান্টে জাহাঙ্গির, ফলতায় ঘোরাল পুলিশ
- বাইকে সমস্যা, পেট্রোলে জল মেশানোর অভিযোগ! সামশেরগঞ্জে চাঞ্চল্য
- সঞ্জীবের জন্মদিনে প্রতিকৃতি এঁকে নজির গড়ল নদিয়ার ক্ষুদে শিল্পী অঙ্কুশী
- কবিতা - গুমোট আবহাওয়া
- শিশুদের কেন্দ্রেই সংসার! ১২ বছর পর পুলিশের অভিযানে খালি হল অঙ্গনওয়াড়ি
- রঘুনাথগঞ্জে অবৈধ নির্মাণে বুলডোজার,
- বিয়ের প্রলোভন, তারপর লখনউ যাত্রা—CCTV ভেস্তে গেল পরিকল্পনা
- ভুয়ো পরিচয়পত্রে ভারতীয় সেজে বসবাস! শামশেরগঞ্জে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি
- কবিতা - উনুনে জ্বাল দিচ্ছে গ্রীষ্মের সূর্য
- কবিতা - ছন্দ
- কবিতা - মুগ্ধময় বসন্ত
- কবিতা - মুগ্ধময় বর্ষা
- কালিয়াচক কলেজে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি স্মারক বক্তৃতা
- মদন বাউরি
- কবিতা - জীবনরাগ
- অনুষ্ঠিত হলো মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল
- কালিয়াচক কলেজে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস
- ১৯৪৬, পাঁঠাবাদ, লাহিড়ীবাদ, মনুষ্যবাদ ও আমরা
- অনুগল্প: বিস্ময়
- কালিয়াচক কলেজে পালিত হলো পশ্চিমবঙ্গ দিবস
- নৌকা থেকে নামার মুহূর্তেই বিপর্যয়, বজ্রাঘাতে মৃত ৪, আহত ১৫
- আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ধুলিয়ানের তৃণমূল কাউন্সিলর
























