ব্রেকিং:
মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বেওয়া-২ পঞ্চায়েতের নিশিন্দ্রা গ্রামে ভোটার তালিকা ভুয়ো ভোটার। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার উদ্যোগে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা সভা। ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট এমকে ফাইজির গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সামশেরগঞ্জে পথসভা SDPI এর ফের সামশেরগঞ্জের হাউস নগর ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে পথদুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা গাড়িচালকের জামাইবাবুর হাতে ধর্ষিতা নাবালিকা

সোমবার   ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৯ ১৪৩২   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

সর্বশেষ:
জামাইবাবুর হাতে ধর্ষিতা নাবালিকা

জন্মের এক বছর পর ভারত ছেড়ে পালিয়েছিল ইংরেজ, সেই বৃদ্ধও হেয়ারিংয়ের হয়রানির শিকার

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬ ০৪ ০১   আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬ ০৪ ০১

সফিকুল ইসলাম,সামশেরগঞ্জ: ভোটের সময় বৃদ্ধদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করলেও, হেয়ারিংয়ে আসতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন প্রবীণরা। শামশেরগঞ্জের বিডিও অফিস চত্বরে বিগত হেয়ারিংয়ের দিনগুলির মতোই বৃহস্পতিবারও দেখা গেল একই ছবি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী পঞ্চায়েত স্তরে হেয়ারিং হওয়ার কথা থাকলেও, শামশেরগঞ্জের দোগাছি ও ভাসাপাইকর এলাকার মানুষজনকে বাধ্য হয়েই আসতে হচ্ছে বিডিও অফিসে।

৮০ বছর বয়সি বৃদ্ধ মোহাম্মদ মনজুর আলী ছেলের কাঁধে ভর করে হেয়ারিংয়ে উপস্থিত হন। বয়সের ভারে তাঁর কোমর নুয়ে পড়েছে, অসুস্থতার কারণে বাড়ি ছাড়া তেমন কোথাও যেতে পারেন না। অভিযোগ, তাঁর মতো অসুস্থ বৃদ্ধদের জন্য হেয়ারিংয়ে কোনও বিশেষ ব্যবস্থা নেই। ভোটের সময় নেতারা গাড়ি করে ভোট দিতে নিয়ে গেলেও, এই করুণ পরিস্থিতিতে কোনও নেতা বা প্রশাসনের সহযোগিতা মিলছে না বলেই দাবি করেন তিনি।

মনজুর আলীর ছেলে জানান, দোগাছি থেকে বিডিও অফিসে এসে তাঁদের চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। সামান্য নামের গরমিল—যে ভুল তাঁদের নয়—তার মাসুল দিতে হচ্ছে তাঁদেরই। তাঁর পিতার জন্ম সাল ১৯৪৬, তবে তার আগেও জন্ম হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। উপযুক্ত বয়স হওয়ার পর থেকেই একটানা ভোট দিয়ে আসছেন তাঁর বাবা। তবুও তাঁকে হেয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে। অবিলম্বে পঞ্চায়েত স্তরে হেয়ারিং হওয়া উচিত ছিল বলে দাবি করেন তিনি। নেতাদের গাফিলতি ও নির্বাচন কমিশনের অপরিকল্পিত চিন্তাভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পুটিমারির বাসিন্দা আনজারুল শেখ জানান, তাঁরাও চরমভাবে হয়রানির শিকার। তিনি টোটো চালিয়ে সংসার চালান। এসআইআর হেয়ারিং শুরু হওয়ার পর কখনও বাবা, কখনও মা, কখনও স্ত্রী—এই নিয়ে দিনের পর দিন দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে। ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি। ভোটের সময় নেতারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করলেও, এখন এই সমস্যার সময় তাঁদের পাশে কাউকে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। শাসক দল ও বিরোধী দল—দু’পক্ষকেই দায়ী করেছেন তিনি। পঞ্চায়েতে হেয়ারিং না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শামশেরগঞ্জের বিধায়কের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন পঞ্চায়েত স্তরে হেয়ারিং ও অসুস্থ বৃদ্ধদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।

রতনপুরের বাসিন্দা রাজেশ রায় হেয়ারিংয়ে এসে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কোথায় তাঁর হেয়ারিং হচ্ছে, তা খুঁজে বেড়ালেও কারও কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছেন না। কীভাবে ও কোথায় নথি জমা দেবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম উঠবে কি না, সেই আতঙ্কও গ্রাস করেছে তাঁকে। তাঁর দাবি, স্থানীয় এলাকায় হেয়ারিং হলে এতটা হয়রানি হতো না। আগেও তিনি বিএলও-কে নথি জমা দিয়েছিলেন, সেভাবেই আবার নেওয়া যেত। অথচ ঝাড়খণ্ডে কাজ করে সেখান থেকে ছুটি নিয়ে এখানে ছুটে আসতে হচ্ছে তাঁকে।

 

সব মিলিয়ে, হেয়ারিংয়ে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শামশেরগঞ্জের সাধারণ মানুষ। অসুস্থ বৃদ্ধদের জন্য নেই কোনও বিশেষ সহযোগিতা। পঞ্চায়েত স্তরে হেয়ারিং হলে কিছুটা হলেও সুরাহা মিলত বলে মত সাধারণ মানুষের। এই পরিস্থিতিতে হেয়ারিং পর্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকায় কার নাম থাকবে আর কার থাকবে না—তা নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শামশেরগঞ্জের আমজনতা।

Puspaprovat Patrika
এই বিভাগের আরো খবর