ব্রেকিং:
মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বেওয়া-২ পঞ্চায়েতের নিশিন্দ্রা গ্রামে ভোটার তালিকা ভুয়ো ভোটার। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার উদ্যোগে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা সভা। ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট এমকে ফাইজির গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সামশেরগঞ্জে পথসভা SDPI এর ফের সামশেরগঞ্জের হাউস নগর ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে পথদুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা গাড়িচালকের জামাইবাবুর হাতে ধর্ষিতা নাবালিকা

সোমবার   ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৯ ১৪৩২   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

সর্বশেষ:
জামাইবাবুর হাতে ধর্ষিতা নাবালিকা

SDPI বেলডাঙ্গায় বৈষম্য বিরোধী সভা

শিক্ষা–কর্মসংস্থান ইস্যুতে রাজ্য সরকারের সমালোচনা

আনারুল হক

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩ ০১ ৫৫   আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩ ০১ ৫৫

আনারুল হক | বেলডাঙ্গা, ২৮ জানুয়ারি:

সমাজের সকল প্রকার বৈষম্য দূর করার একমাত্র পথ এসডিপিআই—এমনই মন্তব্য করলেন সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া (SDPI)-র রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার বেলডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত বৈষম্য বিরোধী সমাবেশ থেকে রাজ্য ও কেন্দ্র—দু’পক্ষের সরকারের বিরুদ্ধেই তীব্র আক্রমণ শানান দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

 

গত এক মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিকভাবে “বৈষম্য বিরোধী সমাবেশ” কর্মসূচি পালন করছে SDPI। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৭ জানুয়ারি, মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ বেলডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন থেকে একটি মিছিল শুরু হয়, যা বড়ুয়া যুব সংঘ ময়দানে এসে সমাবেশে পরিণত হয়।

 

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন SDPI-এর জাতীয় সম্পাদক তায়েদুল ইসলাম, রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, রাজ্য সম্পাদক মাসাদুল ইসলাম, জাতীয় কমিটির সদস্য রুনা লাইলা, রাজ্য সম্পাদিকা সবনাম মুস্তারী, সদস্য মোঃ আসাদুল্লাহ, দক্ষিণ জেলা সভাপতি আব্দুল করিম মণ্ডল, বেলডাঙ্গা বিধানসভা সভাপতি মাসাদুল হাসান-সহ জেলা ও বিধানসভা স্তরের একাধিক নেতৃত্ব।

 

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার হিন্দুত্বের প্রতিযোগিতায় নেমে সরকারি অর্থ ব্যয় করে একের পর এক মন্দির নির্মাণে ব্যস্ত, অথচ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক বিষয় উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। অর্থের অভাবে হাজার হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভাবতা কলেজ আজও বাস্তবায়িত না হওয়াকে তিনি চরম বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বেলডাঙ্গা চিনিকলের কারণে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হিসেবে তিনি SDPI-কে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান।

 

তিনি আরও বলেন, দেশজুড়ে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক, দলিত ও নিরীহ মানুষের উপর লাগাতার হামলা প্রমাণ করে কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। পাশাপাশি SIR ইস্যুতে সাধারণ মানুষের হয়রানির জন্য রাজ্য সরকারকেও দায়ী করেন তিনি।

 

দক্ষিণ জেলা সভাপতি আব্দুল করিম মণ্ডল বলেন, বেলডাঙ্গায় SDPI-এর বিধায়ক নির্বাচিত হলে ভাবতা কলেজের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করা হবে। একই সঙ্গে একজন বৈধ ভোটারও যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে SDPI সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

 

জাতীয় সম্পাদক তায়েদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সংবিধানে OBC সম্প্রদায়ের জন্য যে অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, তা আজও কার্যকর হয়নি। সাচার কমিটির রিপোর্ট বাস্তবায়নে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং নতুন OBC আইনের ফলে মুসলমানরা সংরক্ষণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

 

রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম বলেন, গোদি মিডিয়া পরিকল্পিতভাবে মুর্শিদাবাদকে বদনাম করার চেষ্টা করছে। তবে জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের ভূমিকার প্রশংসাও করেন তিনি।

 

এদিকে, একই দিনে সাগরদিঘীতে ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূল কংগ্রেসের ভয়ংকর গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। SIR–এ হয়রানি ও পরিযায়ী শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদ সভা কার্যত রূপ নেয় তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের মঞ্চে। সভামঞ্চ থেকেই বিধায়ক প্রতিনিধি প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তৃণমূলের কোর কমিটি সদস্য কিসমত আলি। তিনি দাবি করেন, “সাগরদিঘীতে কখনও বিধায়কের প্রতিনিধি ছিল না। বিধায়ক প্রতিনিধি বলে কিছু হয় না—এমপির প্রতিনিধি হয়।”

 

এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ঝড় ওঠে। পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন প্রাক্তন ব্লক সভাপতি ও তৃণমূলের জেলা জেনারেল সেক্রেটারি নূরে মেহেবুব আলম। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমার কাছে বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার লিখিত প্রমাণপত্র রয়েছে।” এখানেই থামেননি তিনি। সরাসরি বিধায়ককে নিশানা করে অভিযোগ করেন, “বালি, মাটি, মেলা ও তোলাবাজ মাফিয়াদের নিয়ে সাগরদিঘীতে দল চালানো হচ্ছে।”

 

নূরে মেহেবুব আলমের দাবি, তাঁর ব্লক সভাপতির পদ চলে যাওয়ার পর থেকেই সাগরদিঘীকে অশান্ত করে তোলা হয়েছে। কিসমত আলির মন্তব্যকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আগে যেভাবে লুটেপুটে খেয়েছে, এখন সেই সুযোগ না পাওয়াতেই এইসব মন্তব্য।” পাশাপাশি জেলা নেতৃত্বকেও কাঠগড়ায় তুলে তিনি অভিযোগ করেন, জেলা সভাপতি তথা সাংসদ খলিলুর রহমান নিজের স্বার্থে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখছেন এবং জেলা বডিতে থেকেও তাঁকে কোনও বৈঠকে ডাকা হচ্ছে না।

 

সব মিলিয়ে, বেলডাঙ্গায় SDPI-এর সমাবেশ ও সাগরদিঘীতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব—দুই ঘটনাই জেলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

Puspaprovat Patrika
এই বিভাগের আরো খবর