ঘৃণার আগুন নিভিয়ে দাও মৈত্রীর প্রদীপ জ্বেলে দাও
০৭:৩০ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার
অনুষ্ঠিত হলো নিখিলবঙ্গ মেধা অন্বেষণ উৎকর্ষ অভিযান ২০২৬
০২:৪৩ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০২৬ রোববার
অনুষ্ঠিত হল আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি মুর্শিদাবাদ সেন্টারে বিবিএ-তে ভর্তি সংক্রান্ত আলোচনাসভা
অনুষ্ঠিত হল আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি মুর্শিদাবাদ সেন্টারে বিবিএ-তে ভর্তি সংক্রান্ত আলোচনাসভা
মোঃ ইজাজ আহামেদ
অরাঙ্গাবাদ: একান্ত আপন লজে আজ ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি (AMU), মুর্শিদাবাদ সেন্টারে BBA-তে ভর্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একটি ইন্টেলেকচুয়াল মিট-এর আয়োজন হল। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর ড. মাহবুবুর রহমান, বিজনেস ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. আতিফ জিলানী, ডিপার্টমেন্টে অফ ল - এর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রৌফ, অরাঙ্গাবাদ এঞ্জেলস একাডেমির কর্নধার গুলজার হোসেন, নিমতিতা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম, শিক্ষক তথা কবি মোঃ ইজাজ আহামেদ, শিক্ষক তথা কবি গোলাম কাদের, গ্লোবাল স্টাডি পয়েন্টের কর্ণধার ওবাইদুর রহমান, আল ইকরা একাডেমীর কর্ণধার উমর ফারুক, বাসুদেবপুর পাবলিক স্কুল ও ব্রাইট পাবলিক স্কুলের কর্ণধারগণ, শিক্ষক শাহাদাত হোসেন, শিক্ষক বাদিরুদ্দিন, সাংবাদিক সাহেব আলি, হাবিবুর রহমান প্রমুখ ব্যক্তিগণ।
সরাসরি ভর্তি হওয়া যাবে বিবিএ-তে। ভর্তির জন্য কোনো পরীক্ষা দিতে হবে না। উচ্চমাধ্যমিকে অন্তত ৫০% নম্বর থাকতে হবে। বয়স ১লা জুলাই পর্যন্ত ২৪ বছরের ঊর্ধ্বে নয়। আবেদনের শেষ তারিখ ১০.১০. ২০২৬।
যোগাযোগ নম্বর ৮২৮৭১৯০০৭৩/৭০০১১৮৮০১২
https://www.amucontrollerexams.com
০৮:০২ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার
পালিত হল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম জয়ন্তী
পালিত হল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম জয়ন্তী
মোঃ ইজাজ আহামেদ
অরঙ্গাবাদ, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: আজকে অরঙ্গাবাদ ২ অঞ্চল ক্রীড়া কমিটি ও ইচলী পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষাবিদ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর- এর জন্ম জয়ন্তী পালন ও শিক্ষক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হল। উল্লেখ্য এসবিআই লাইফ ইন্স্যুরেন্স স্পনসর করে অনুষ্ঠানটিতে। উপস্থিত সকল শিক্ষক, ব্যাঙ্কের স্টাফ ও সাংবাদিকদেরকে উত্তরীয়, ব্যাচ, মেমেন্টো দিয়ে সম্মানিত করা হয়। এদিন উপস্থিত ছিলেন কনভেনার তথা প্রধান শিক্ষক ও আয়োজক সব্যসাচী দাস, এসবিআই লাইফ ইন্স্যুরেন্স- এর স্টাফ অভিষেক চৌধুরী, বাসিরুল ইসলাম ও সুব্রত সাহা, এস আই অফিসের স্টাফ পার্থ সারথী কর্মকার, বিমান দাস, মনোজিত মুখার্জি, স্বপন কুমার এবং শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন সুদেব হালদার, সামিউল সেখ, শাহ রসিদ, আলামত, অভিজিত দাস, তাপস দাস, সৌমেন দাস, আনন্দ কুমার দাস, মিঠুন দাস, দেলাফৌজ খাতুন, সাকিলা বানু খাতুন, নাজির হোসেন, নিতিন পাল, বিশ্বজিত রজক, চন্দন কুমার ঘোষ, আজিজুর রহমান, ডলি খাতুন, রেসমা খাতুন, মোঃ ইজাজ আহামেদ, আসিফ ইকবাল, বাসীর মোমিন, মুজাফফর হাবিব বিশ্বাস, বলরাম বিশ্বাস, সাংবাদিক সাহেব আলি, হাবিবুর রহমান, কিসানু প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইচলীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সব্যসাচী দাস। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও বক্তব্যে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানটি।
১০:২৭ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
১৯৪৬, পাঁঠাবাদ, লাহিড়ীবাদ, মনুষ্যবাদ ও আমরা
১৯৪৬,পাঁঠাবাদ, লাহিড়ীবাদ, মনুষ্যবাদ ও আমরা
খগেন্দ্রনাথ অধিকারী
_____________________
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ আমাদের দেশের বুকে তার শাসন দীর্ঘায়িত করার জন্য নানাভাবে বরাবর চেষ্টা করেছে।মুখে না বললেও, মনের গভীর হতে ,১৭৫৭ সালের ২৩শে জুনের পলাশীর প্রান্তর থেকে মীরজাফর,ইয়ার লতিফ,রাজা রায় দুর্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখ চক্রান্তকারীদের সঙ্গে প্রাক-পলাশী -যুদ্ধ পর্বে যড়যন্ত্রের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তারা ভেবেছিল যে এই দেশের মানুষরা মানেই
সবাই হোল বেইমান, বিশ্বাস ঘাতক, কুলাঙ্গার। কিন্তু সবাই তা যে নয়, এদেশেও দেশপ্রেমিক মানুষদের অস্তিত্ব আছে, অসাম্প্রদায়িক মানুষদের অস্তিত্ব আছে, সেটা তারা বুঝে ছিল পলাশীর মাটিকে রক্তে ভিজতে দেখতে। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে তারা
দেখে ছিল যে একজন মুসলিম শাসক নবাব, সিরাজউদ্দৌলার ,প্রধান সেনাপতি মীরজাফর মুসলিম হয়েও যেখানে কাঠের পুতুল হয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে ক্লাইভ বাহিনীর সশস্ত্র আক্রমনের মুখে, সেখানে তখন নিশ্চিত
মৃত্যু জেনেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মীর মদন, মোহনলালের মত গুটিকয়েক বীর সৈনিক অকুতোভয়ে লড়ে গেছে ও শহীদের মৃত্যু বরণ করেছে
নবাবের হয়ে ঐ আম্র কুঞ্জে।
সেদিন ই তারা বুঝেছিল যে এই "বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি"এবং এই মাটির সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শক্তির উৎস হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকল মানুষের ভ্রাতৃত্ববোধ।
তাই তারা গোড়া থেকেই হিন্দু মুসলিম ঐক্য সম্পর্কে খুব সতর্ক ছিল। তবুও হাজার হোক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তো ছিল একটা বেনিয়াদের আখড়া।তারা তো এদেশকে শাসন করবে বলে এখানে আসতে চায়নি,আসতে চেয়েছিল ব্যবসা করতে। কিন্তু পরিস্থিতির চক্রে "বণিকের মানদণ্ড দেখা দিল
রাজদণ্ড"রূপে।চলল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন একশ বছর ধরে,১৭৫৭-১৮৫৭সাল অবধি। এই সময় কালে এদেশে বড়ো বড়ো ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ঢেউ উত্তাল হয়ে উঠেছে।যথা ফারাজী আন্দোলন,ওয়াহাবী আন্দোলন, ইত্যাদি। এইসব আন্দোলনের মূল শক্তি ছিল হিন্দু মুসলিম ঐক্য। হিন্দু মৌলবাদী ঐতিহাসিকরা তাদের গৈরিক দৃষ্টিকোণে এইসব আন্দোলনকে মুসলিম পুনর্জীবন বাদী আন্দোলন বলে তাচ্ছিল্য করেছেন। অন্যদিকে মুসলিম মৌলবাদীরা এইসব আন্দোলনকে "কাফেরদের দেশে শরিয়ত সুরক্ষা"করার প্রয়াস বলে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। তাঁরা তিতুমীরকে এদেশের মাটিতে
একজন শরিয়ত সুরক্ষার সেনাপতি হিসাবে অভিহিত করেছেন।
কিন্তু অধ্যাপক বীরেন মুখার্জী, সুপ্রকাশ রায়, নরহরি কবিরাজ প্রমুখ ঐতিহাসিকরা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের আলোকে দেখিয়েছেন যে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার অনিবার্য কারণে এই সব আন্দোলন সঙ্গে ধর্মীয় প্রশ্ন জড়িয়ে গেছে বটে, কিন্তু সেগুলি গৌণ প্রসঙ্গ।মুখ্য বিষয় হলো যে এই সব সংগ্রামের মুল সুর ছিল সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জিহাদ। তিতুমীর ঘটনাচক্রে মুসলিম ছিলেন,আর অত্যাচারী জমিদার কৃষ্ণ দেবরায় হিন্দু ছিলেন। কিন্তু অত্যাচারিত
কৃষকরা হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সবাই তিতুমীরের আহ্বানে ঐ জমিদারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সৈনিক ছিলেন। বাঁশেরকেল্লা করে বীরের মতো তিতুমীর ও তাঁর সহযোগীরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী ও জমিদারদের যৌথ বাহিনীর অভিযানের বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে শহীদ হয়েছিলেন। একাধিক কৃষককে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে ঐ যৌথ বর্বর বাহিনী প্রকাশ্যে গাছের ডালে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে ছিল। সুতরাং তিতুমীর যে বীর স্বাধীনতা যোদ্ধা ছিলেন এবং এইসব আন্দোলনের মূল সুর যে ছিল একাধারে সামন্ততন্ত্র ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতা, তাতে কোন সন্দেহই নেই।
কিন্তু শাসক বণিক গোষ্ঠীর
অর্থাৎ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এতে কানে কোন জল ঢোকেনি। বেনিয়া দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের লক্ষ্য ছিল বাংলা সহ গোটা ভারতকে তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থে কাঁচা মাল সরবরাহের কেন্দ্র হিসাবে ও পাকা মাল বিক্রি করার বাজার হিসাবে ব্যবহার করা। তারা কমদামে এদেশের থেকে কাঁচামাল আমদানি করত,আর বেশী দামে তাদের তৈরি শিল্পজাত পণ্য এদেশের মানুষের কাছে বিক্রি করত। অর্থাৎ দুই দিক দিয়েই এদেশের মানুষ শোষিত হতো তাদের হাতে।
এই শোষণের বিরুদ্ধে মহাবিস্ফোরণ হোল১৮৫৭সালে যাকে কার্ল মার্কস ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলে অভিহিত করেছেন। এই স্বাধীনতা যুদ্ধ সসাগরা ভারতবর্ষের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত্তিকে টলিয়ে দেয়।এর আগে ইংরেজ শাসনের একশ বছরে ছোট বড়ো অনেক অনেক লড়াই হয়েছে মুক্তির জন্য। আত্মত্যাগের মহিমায় তারা ছিল সন্দেহাতীতভাবে উদ্ভাসিত। তবু তাদের কোন সর্বভারতীয় চেহারা ছিল না। তারা ছিল স্বরূপতঃ আঞ্চলিক সংগ্রাম।১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে ভারতের সব অংশের মানুষ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে অংশগ্রহণ করে এবং অভূতপূর্ব ভাবে হিন্দু মুসলিম ঐক্য আত্মপ্রকাশ করে।মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে নেতা হিসাবে
মেনে ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মীবাঈ, তাঁতিয়া তোপী প্রমুখ হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সবাই ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ময়দানে নামেন।এই বাংলার ব্যারাকপুরের মাটিতে মঙ্গল পাণ্ডে হন প্রথম শহীদ।
এই মহাবিদ্রোহের রুদ্র মূর্তি দেখে তথা এর মধ্যে প্রতিফলিত হিন্দু মুসলিম ঐক্য দেখে, ইংরেজদের টনক নড়ে। বেনিয়াদেরকে দিয়ে অর্থাৎ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দিয়ে আর যে ভারতকে শাসন করা যাবে না, শাসন করলে ভারত অচিরেই লন্ডনের হাত ছাড়া হয়ে যাবে, এই বোধোদয় তাদের হয়।
ফলে ১৮৫৮সালে ইংরেজরা ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের শাসন চালু করে। এই পর্বে ব্রিটিশ শাসকদের ভারত শাসনের মূল মন্ত্র হয়ে দাঁড়ায় "divide and rule". অর্থাৎ ভারতীয় জনতার প্রধান যে দুই গোষ্ঠী হোল হিন্দু ও মুসলিম এবং যাদের মধ্যে অশোক আকবর দারাশিকো থেকে শুরু করে বিবেকানন্দ রবীন্দ্রনাথ নজরুল গান্ধীজী প্রমুখদের আমল পর্যন্ত সম্প্রীতির ফল্গধারা প্রবাহমান, সেই ধারার গতিপথকে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির মরুভূমির মাধ্যমে রুদ্ধ করে দেওয়া। এই লক্ষ্যে তারা সুকৌশলে আলাদা আলাদা ভাবে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের "এলিট"বা অভিজাত গোষ্ঠীর
মানুষদের মগজ ধোলাই শুরু করে। মুসলিমদের কে তারা বোঝায় যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এদেশে সংখ্যা গরিষ্ঠ। কাজেই ভারত ছেড়ে তারা অর্থাৎ ইংরেজরা চলে গেলে, মুসলিমরা হিন্দুদের পদানত থাকতে বাধ্য হবে। সুতরাং সম্মান নিয়ে মুসলিমদের বাঁচতে হলে তাদেরকে ভারত ভাগ করে পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনা করতে হবে।এই মগজধোলাই এর ফসল হিসেবে জিন্না, ইকবালদের আবির্ভাব। উল্লেখ্য যে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, সীমান্ত গান্ধী খান আব্দুল গফুর খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বারে বারে বলেছেন যে হিন্দু -মুসলীম সম্প্রীতি ভারত ইতিহাসের আত্মা। ইংরেজদের মদতে একথা প্রচার করা হয় যে এই কথা নিছক ধাপ্পাবাজি। এদেশের মাটিতে কোন দিন ও হিন্দু মুসলিম ঐক্য ছিল না। আশ্চর্যের কথা যে বাবা সাহেব আম্বেদকর ও এই সুরে সুর মিলিয়ে বলেন যে ভারতের ইতিহাসে হিন্দু মুসলিম ঐক্যের তত্ত্ব সোনার পাথর বাটির মতোই অবাস্তব।
অন্যদিকে ইংরেজরা হিন্দুদেরকে এই বলে মগজধোলাই করে যে তারা এদেশের মানুষের সিংহভাগ হয়েও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তারা সংখ্যালঘু মুসলিমদের পদানত থাকতে বাধ্য হয়েছে, ইংরেজদের শাসনকালেই তারা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। কিন্তু তারা অর্থাৎ ইংরেজরা এদেশ ছেড়ে চলে গেলে তো আবার তারা সেই সংখ্যা লঘু মুসলিমদের পদানত থাকতে বাধ্য হবে। সুতরাং তাদেরকে ভেবে দেখতে হবে।
এই মগজধোলাই এর ফসল হলো হিন্দু মৌলবাদীরা।
যাই হোক, ইংরেজদের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পরিণতিতে ১৯০৬সালে ঢাকা শহরে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯২৫ সালে নাগপুরে আর এস এস প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দুই সংগঠনের মাধ্যমে ইংরেজরা অবিভক্ত বাংলা তথা ভারতের চারিদিকে হিন্দু মুসলিম বিভাজনের বিষ ছড়িয়ে দিতে থাকে। কিন্তু জাতীয় কংগ্রেসের তথা কমিউনিস্টদের আপোষহীন প্রচার,লীগ -আর এস এস-হিন্দু্ মহাসভার ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতিকেই শুধু নয়, জ্যোতি রাও ফুলে -সাবিত্রী ভাই ফুলে-ফতেমা শেখ দের মানবতাবাদী অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে বাবা সাহেব আম্বেদকর যে জাতিপাতবাদী রাজনীতির খেলা শুরু করে ছিলেন, তাতেও জল ঢেলে যায়।সবকিছুই যখন ভেস্তে যেতে বসেছে, তখন মরীয়া হয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর ছক কষলো উপায়হীন ভাবে। হাতে তাদের সময় নেই বেশি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসানে আমেরিকা পশ্চিমী দুনিয়ার নেতা হয়েছে, সোভিয়েত ইউনিয়ন হয়েছে সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ার নেতা। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ফ্যাসিস্ট ও নাৎসীদের পরাজয়ে সোভিয়েত লাল ফৌজ তথা কমরেড স্টালিনের অবদানের জন্য সদ্য প্রতিষ্ঠিত সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ভিতরে ও বাইরে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব দারুন বেড়ে যায়। সোভিয়েত প্রধান কমরেড যোসেফ স্টালিন প্রস্তাব করেন যে পরাধীন থাকলেও ভারতকে জাতি পুঞ্জের সভ্য করা হোক।মন থেকে সায় না থাকলেও , আমেরিকা, ব্রিটেন,ফ্রান্স সহ পশ্চিমী দুনিয়ার সাহস ছিল না এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করার।১৯৪৫সালেই,এর ফলে, ভারত জাতিপূঞ্জের সভ্য হয়ে যায়।
এরপর ধারাবাহিক ভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দেশও ব্রিটেনের উপর চাপ বাড়াতে থাকে ভারতকে অবিলম্বে স্বাধীনতা দেবার জন্য।অন্যদিকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির বোঝায় ব্রিটেনের মেরুদন্ডটি ভেঙ্গে যায়। তার পক্ষেও আর সম্ভবপর হচ্ছিলো না ভারত শাসন করা। সসম্মানে যতখানি সম্ভব নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থকে রক্ষা করে,শান্তিপুর্ন অবস্থায় ব্রিটেন দ্রুত ভারত ছেড়ে চলে আসতে চাইছিল।তাই মরীয়া হয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ এদেশে মরণকামড় হিসাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর ছক তৈরি করে গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিলকে দিয়ে যার সভ্য (শ্রমমন্ত্রী) ছিলেন বি আর আম্বেদকর।আর এই ছক রূপায়ণ করার দায়িত্ব অবিভক্ত বাংলায় পড়ে তার প্রধানমন্ত্রী হুসেন সুরাবর্দির উপর।১৯৪৬এরGreat Calcutta Killing সেই ঘৃণ্য সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের পরিণাম। অসংখ্য সাধারণ মানুষ হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে খুন হয়েছেন এই দাঙ্গায়।সবার উপরে ছিল গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিল যার মধ্যে ছিলেন আম্বেদকর। মাঝখানে ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হুসেন সুরাবর্দি।সবার নীচে দাঙ্গাবাজ মৌলবাদী রাজনীতির হিন্দু মুসলিম খুনীরা। রক্তের বন্যায় ভেসে গেছে কোলকাতার রাজপথ। কাউন্সিল সদস্য আম্বেদকর নীরব। মনে পড়ে যায় যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ জালিয়ানাওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নাইট
উপাধি ত্যাগ করেছিলেন। আম্বেদকর এই পরিকল্পিত দাঙ্গার প্রতিবাদে কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ তো দূরের কথা, টু শব্দটি করননি।আর বাংলার প্রধানমন্ত্রী হুসেন সুরাবর্দি তো কসাইখানা বানিয়ে ফেলেছিলেন কোলকাতার রাজপথকে যেখানে অসহায় মানুষেরা হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের লোক জবাই/বলি হচ্ছিলেন অগুনতি হারে। জনৈক গোপাল পাঁঠা (ওরফে মুখার্জি)এই দাঙ্গায় হিন্দু দের রক্ষার নামে নির্বিচারে মুসলিম হত্যায় মেতে ওঠে।আর কমিউনিস্ট নেতা কমরেড সোমনাথ লাহিড়ী ও কমরেড আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে কোলকাতা শহরের ট্রাম শ্রমিকরা গোটা শহরে
দাঙ্গা রুখতে রাজপথে নেমে আসেন এবং হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষদের জীবন রক্ষায় অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন।১৯৪৬এর দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে যদি কোলকাতার কোন সুসন্তানের নামে কোলকাতার কোন রাজপথে র নাম রাখতে হয়, তাহলে সেটা করতে হবে যিনি বা যাঁরা মানুষকে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে বাঁচিয়েছেন বা বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, তাঁর বা তাঁদের কারও নামে। এই দাঙ্গায় যারা মানুষকে খুন করেছে, তাদের কারোর নামে রাস্তার নামকরণ করা কুরুচিকর। উল্লিখিত গোপাল পাঁঠা ওরফে মুখার্জির নামে বর্তমান সরকার একটি রাস্তার নামকরণের সুপারিশ করেছেন কোলকাতা পৌরসভার কাছে।১৯৪৬এর দাঙ্গায় অগণিত নিরপরাধ হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষকে ঠাণ্ডা মাথায়খুন করিয়ে ছিলেন নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হূসেন সুরাবর্দি।আর পাঁঠার মাংস বিক্রি করা কসাই গোপাল পাঁঠা কসাই এর আর এক ভূমিকায় নেমে নিজে ও তার দলবল অজস্র মুসলিমকে নারী শিশু যুবক যুবতী নির্বিশেষে টুকরো টুকরো করে বউবাজার সহ কোলকাতার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিয়েছে। এই বর্বরতাকে মহিমান্বিত করে গেরুয়া শিবির তথা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্তাব্যক্তিরা সাফাই গাইছেন যে গোপাল পাঁঠা সেদিন এই ভাবে বহু হিন্দু মানুষের রক্ষাকর্তা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল।তাই তার স্বীকৃতি হিসাবে তার নামে এতবছর বাদে কোল কাতার একটি রাস্তা উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এবারে বলি, মানুষ মানুষই। হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান পরিচয় তার গৌণ। তাকে তার জাতি ধর্ম লিঙ্গ গায়ের
রঙ, জন্ম স্থান না দেখে যে ব্যক্তি বা যারা বাঁচাতে এগিয়ে আসে সে বা তারাই প্রণম্য।আর যে বা যারা জাতি ধর্ম বর্ণ দেখে একজন বা একদল মানুষের রক্তে পাঞ্জা ভিজিয়ে আর একজন
বা আর একদল মানুষকে রক্ষা করে সে আদৌ প্রণম্য নয়,সে অতীব ঘৃণ্য।গোপাল পাঁঠা ওরফে গোপাল মুখার্জি
এই দ্বিতীয় পর্যায়ে পড়ে।
যাঁরা মানবতার প্রতীক, তাঁরা বিপন্ন মানুষকে বাঁচাতে এসে তার জাত ধর্ম, লিঙ্গ, গায়ের রং, জন্মস্থান, এসব বিচার করেন না। তাকে বাঁচিয়ে তোলাই তাঁর বা তাঁদের মূল উদ্দেশ্য থাকে। কোলকাতা শহরের অকুতোভয় বীর হিন্দু -মুসলিম ট্রাম শ্রমিকরা তাঁদের প্রিয় নেতা কমরেড সোমনাথ লাহিড়ী ও কমরেড আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে প্রতিটি ট্রাম ডিপো থেকে দলবেঁধে এলাকায় এলাকায় টহল দিয়েছেন দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে।না হলে ঐ সাংবিধানিক জহ্লাদ প্রধানমন্ত্রী সুরাবর্দি ও বউবাজারের পাঁঠা কাটা কসাই গোপাল পাঁঠার অঙ্গুলি হেলনে আরও বহু নিরপরাধ হিন্দু মুসলিম ভাই বোনদের লাশে কলকাতার রাজপথ ভরে যেত।
তাই ঐ সর্বনাশা দাঙ্গার সূত্র ধরে যদি কেউ কোন নামকরণ কোন রাস্তার বা এলাকার বা ভবনের করতে চান তাহলে কমরেড সোমনাথ লাহিড়ী ও কমরেড আব্দুল হালিমের নামে করুন,আর একটি স্মৃতিস্তম্ভ ট্রাম শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তৈরী করুন। তাহলে ইতিহাসের প্রতি সুবিচার হবে। এই সুবিচারের স্বার্থে গণহত্যার সাংবিধানিক খলনায়ক হুসেন সুরাবর্দির নামে যেমন সঠিকভাবেই কোলকাতায় কোনো স্মৃতিচিহ্ন নেই, তেমনি সংবিধান বহির্ভূত গণহত্যার এক খলনায়ক চরিত্র গোপাল পাঁঠার নামেও কোন স্মৃতিচিহ্ন বিবেকানন্দ -রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থান ও মৌলানা আবুল কালাম আজাদের শৈশব বিজড়িত কোলকাতার বুকে থাকতে পারে না।এটা আমাদের লজ্জা, আমাদের কলঙ্ক।এর
হাত থেকে আমাদের মুক্তি পেতেই হবে। সেই সঙ্গে বলি, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে আরও
দায়িত্বশীল হতে হবে। কোন্ হবু চন্দ্র তাঁকে বুঝিয়েছে যে হাসান সুরাবর্দি ছিলেন ১৯৪৬ সালের ঐ দাঙ্গার নায়ক? উনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তাঁর নামে উৎসর্গীকৃত রাস্তার নাম পাল্টে দিয়ে ঐ গণহত্যার সংবিধান বহির্ভূত
খলনায়ক গোপাল পাঁঠার নামে করলেন? মূখ্যমন্ত্রী পদের মর্যাদার সঙ্গে এটা বেমানান। এই ভুল শুধরে গোপাল পাঁঠার নামে কোন স্মৃতিচিহ্ন না করে শিক্ষাবিদ হাসান সূরাবর্দির নামেই পূর্বতন রাস্তাটির নাম বহাল রাখুন। এতে পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণ হবে, দেশবাসীর কাছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের কাছে একটা সুন্দর বার্তা যাবে। সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ ও শান্তিকামী সাধারণ মানুষেরা এটাই প্রত্যাশা করে। হাসান ও হুসেনের প্রভেদটা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বুঝুন এবং উল্লিখিত গোপাল পাঁঠা ও হুসেন সুরাবর্দি সম্পর্কে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে একাসনে বসানোর সিদ্ধান্ত নিন ও অবিভক্ত বাংলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হাসান সূরাবর্দির মর্যাদা রক্ষা করুন, এটাই সময়ের দাবি।
০৬:৫৮ পিএম, ২৩ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
পশ্চিমবঙ্গ দিবস, গৌরব, গ্লানি ও আমরা
পশ্চিমবঙ্গ দিবস, গৌরব, গ্লানি ও আমরা
খগেন্দ্রনাথ অধিকারী
_____________________
গ্লানির না গৌরবের,সে নিয়ে কোন মন্তব্য করবো না। মন্তব্য করবেন, সিদ্ধান্ত কোরবেন দেশবাসী, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যবাসী। ঢাকঢোল বাজিয়ে, একটি মহল থেকে ২০শে জুন "পশ্চিমবঙ্গ দিবস "পালনের আয়োজন চলছে এবং সেই সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর নাম জড়িয়ে তাঁর গুনগান চলছে
যুক্তিহীন ভাবে, অনৈতিহাসিকভাব।
দেখা যাক বাস্তবটা কি। পরাধীনতার যুগে অবিভক্ত বাংলার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের দৃঢ়তা দেখে মুগ্ধ
গোখলে বলেছিলেন "What Bengal thinks today, India thinks tomorrow."তাঁর এই বক্তব্যের সারবত্তা ছিল এই যে বাংলা আজ যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের দৃঢ়তা দেখাচ্ছে, কাল তার অনুপ্রেরণায় গোটা ভারত সেই পথে এগিয়ে যাবে।
দূরদর্শী গোখলের এই কথাটার তাৎপর্য ব্রিটিশ শাসকরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিল এখানে সংগঠিত ধারাবাহিকভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের উত্তাপে।ফারাজী আন্দোলন, ওয়াহাবী আন্দোলন থেকে শুরু করে ছৌ বিদ্রোহ, সাঁওতাল বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, স্বদেশী আন্দোলন, বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন (ঐতিহাসিক অমলেশ ত্রিপাঠীর ভাষায় Extremist Challenge) সবকিছুরই সূত্রপাত এই বাংলার মাটিতে। কাজেই, ব্রিটিশরাজের আয়ুষ্কাল বাড়ানোর জন্য ইংরেজ শাসকরা বাংলার এই সংগ্রামী মেজাজের যে উৎস, তার অনুসন্ধান করে এবং সেটা করে তারা উপলব্ধি করে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন হোল বাংলার মানুষের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের দৃঢ়তার মূল উৎস।তাই তারা বাংলার মাটিতে, সিরাজদ্দৌলা, মীর মদন, মোহনলাল, তিতুমীর, বিবেকানন্দ,বিপিন চন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,এস ওয়াজেদ আলী,
কাজী নজরুল ইসলামের জন্মভুমি বাংলার মাটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেরুদন্ডকে ভেঙ্গে দেবার পরিকল্পনা নেয়। এই উদ্দেশ্যে তারা সাম্প্রদায়িকতার দৃষ্টিকোণে ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের আমলে হিন্দু প্রাধান্যাধীন অবিভক্ত বাংলার পশ্চিম দিকের জেলাগুলিকে নিয়ে, কোলকাতাকে রাজধানী করে পশ্চিম বাংলা এবং মুসলিম অধ্যুষিত পূর্বদিকের
জেলা গুলিকে নিয়ে, ঢাকাকে রাজধানী করে পূর্ব বাংলা গঠন করে। এই হোল
আমাদের দেশের মাটিতে আধুনিক কালে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টির প্রথম অপপ্রয়াস।
এরপর ইংরেজদের চক্রান্তে চরমপন্থী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম পীঠস্থান মহারাষ্ট্রের নাগপুরে ১৯২৫ সালে হিন্দু মৌলবাদী সংগঠন আর এস এস প্রতিষ্ঠিত হয়। ইংরেজদের মদতে অবিভক্ত বাংলা ও অবিভক্ত ভারতের সর্বত্র মুসলিম লীগ ও আর এস এস এর শাখা প্রশাখা প্রসারিত হয়।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ শুধু মাত্র ধর্মগত বিভাজন সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত হয়নি।তারা বর্ণগত বিভাজনের পথ ও গ্রহণ করে। আমাদের দেশের শতশত বছরের যে সামাজিক ঐক্য,তাতে ফাটল ধরাতে তারা কিছু লোককে আসরে নামায় ।ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে কেবল জাতিগত ভিত্তিতে সকল তথাকথিত অনুন্নত সম্প্রদায়ের মানুষদের বিশেষ সংরক্ষণের
দাবি তুলে এবং তথাকথিত উচ্চ বর্ণের মানুষেরকে এর থেকে বঞ্চিত করার দাবি জানান দিয়ে। উল্লেখ্য যে জ্যোতি রাও ফুলে, সাবিত্রী বাই ফুলে,ফতেমা শেখেরা বর্ণগত শোষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সাথে সাথে সবার জন্য যে সমতার দাবি করেন, আম্বেদকর -যোগেন মণ্ডলেরা তার বিরুদ্ধে যান। কংগ্রেসের গান্ধীজি,আজাদ, রাধাকৃষ্ণান,এবং কমিউনিস্ট নেতা পি সি যোশী, সোমনাথ লাহিড়ীরা আম্বেদকরের জাতপাত বাদী সংরক্ষণ,ও জিন্নার ধর্ম ভিত্তিক সংরক্ষণ ,
উভয়কেই সর্বনাশা এবং জাতীয় ঐক্যের বিরোধী বলে অভিহিত করেন। গান্ধীজি বলেন সবার কল্যাণ বা সর্বোদয়ের কথা। কমিউনিস্টরা বলেন অর্থনৈতিক ভিত্তিক সংরক্ষণের কথা । এই দুই দলের প্রচার জিন্না ও আম্বেদকরের রাজনীতিকে কোণঠাসা করে ফেলে। অবিভক্ত বাংলায় জাতপাত বাদী যোগেন মণ্ডলের অবস্থাও সঙ্গীন হয়ে ওঠে। দিশেহারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ মরীয়া হয়ে উঠে সুপরিকল্পিত ভাবে ১৯৪৬সালে Great Calcutta Killing ঘটায় এইটা প্রমাণ করতে যে অবিভক্ত ভারতে বা অবিভক্ত বাংলায় হিন্দু মুসলিম সহ অবস্থান সম্ভব নয়,দেশ ভাগ এবং বাংলা ভাগ অনিবার্য।
বলা বাহুল্য যে এই দাঙ্গা মোকাবেলা করতে কমিউনিস্ট নেতা সোমনাথ লাহিড়ী ও কমরেড আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে কোলকাতার ট্রাম শ্রমিকরা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। গান্ধীজি বেলেঘাটা, বরিশাল, নোয়াখালী, সর্বত্র শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ছোটেন।
প্রকাশ থাকে যে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসানের পরবর্তী পরিস্থিতিতে ব্রিটেন তার বেহাল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপে ভারত ছেড়ে চলে যেতে উদগ্রীব হয়ে ওঠে। তবু তার শেষ চেষ্টা থাকে ছেড়ে চলে যাবার আগে যতখানি সম্ভব তার সাম্রাজ্যবাদী আখের গুছিয়ে নেওয়া যায়। তার লক্ষ্য ছিল যে কোন মূল্যে ভারত ভাগ, বাংলা ভাগ। তাহলে এদেশ ছেড়ে চলে গেলেও তার বাণিজ্যিক স্বার্থ অক্ষুণ্ন থাকবে।
তার গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সে বুঝে ছিল যে কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের কে এবং জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে গান্ধীজি, আজাদ, গিরি, রাধাকৃষ্ণান, জাকির হোসেন প্রমুখ কিছু নেতাকে দেশভাগের বিষয়ে রাজী করানো যাবে না।তাই সর্বভারতীয় স্তরে তারা কংগ্রেসের মধ্যে হিন্দু ঘেঁষা এবং আর অযথা কালক্ষেপ না করে নির্বিবাদে ক্ষমতায় যেতে ও ক্ষমতা ভাগাভাগির পক্ষপাতী কিছু নেতাকে মগজধোলাই করে যে দেশ ভাগ হলে মুষ্টিমেয় কিছু মুসলিম লোক পাকিস্তান নিয়ে তুষ্ট থাকবে,আর অবশিষ্ট ভারতকে তারা
শান্তিতে শাসন করবে। বাংলার ক্ষেত্রে তারা অনুরূপ কৌশল অবলম্বন করে। এখানে বসে রাখি, রাজনীতির হিসেব গণিতে হয়না, সেটা হয় রসায়ন মেনে।১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার বিধান সভায় কমিউনিস্টদের বিধায়ক ছিলেন মাত্র তিন জন।কমরেড জ্যোতি বসু রতনলাল ব্রাহ্মণ ও রূপনারায়ণ রায়।আর হিন্দু মহাসভার মাত্র একজন বিধায়ক। তিনি ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। শ্যামাপ্রসাদের লক্ষ্য ছিল বাংলা ভাগ হোক। তাঁর কাছে বড়ো ছিল মানবতা অপেক্ষাHindu Elite দের স্বার্থের প্রশ্ন, কারণ তিনি ছিলেন এই গোষ্ঠীর ই একজন। তিনি মুন্সী প্রেম চাঁদের দুঃখী, কিম্বা বঙ্কিমচন্দ্রের রামধন পোদ,রামাকৈবর্ত্য, অথবা তারাশঙ্করের অগ্রদানী পূণ্য চক্রবর্তী দের মতো হিন্দুদের প্রতিনিধি ছিলেন না।আর বঙ্কিমচন্দ্রের হাসিম শেখ, কিম্বা শরৎ চন্দ্রের গফুর মিঞা,আমিনাদের প্রতিনিধি তো নন ই।
কাজেই অবিভক্ত বাংলার হিন্দু এলিটদের স্বার্থে তিনি তো বাংলা বিভাগ চাইবেন ই। কারণ পশ্চিমবঙ্গ তৈরী হলে সেখানে Muslim Elite দের প্রতিযোগিতা থাকবে না। সাধারণ গরীব হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান নির্বিশেষে খেটে খাওয়া মানুষদের উপায় কি হবে,সে নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন তিনি অনূভব করেননি।
অন্যদিকে অবিভক্ত বাংলার মুসলিম এলিটরাও চাইছিলেন বাংলা ভাগ, কারণ তাহলে হিন্দু এলিটদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার ঝক্কি পোহাতে হয় না।
আর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ তো চাইছিলোই বঙ্গবিভাগ তথা ভারত বিভাগ। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই সুযোগটাই নিয়ে ছিলেন হিন্দু সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণে। তাঁর সঙ্গী ছিলেন হিন্দু মহাসভার আর এক সর্বভারতীয় স্তরের
বাঙালি নেতা নির্মল চন্দ্র চ্যাটার্জি (ভারতের লোকসভার প্রাক্তন স্পীকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এর বাবা)। তবে সেই সময় ১৯৪৬ সালে হিন্দু মহাসভার একমাত্র বিধায়ক ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ এবং সেই সুবাদে সেই পদটিকে ব্যবহার করে হিন্দু মৌলবাদী দৃষ্টিকোণে তিনি বঙ্গবিভাজন ও ভারত বিভাজনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। একদিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের আশীর্বাদ ছিল ই তাঁর মাথার উপরে, অন্যদিকে জাতীয় কংগ্রেসের অনেক বিধায়ককে তিনি মুসলিম মৌলবাদীদের কার্যক্রমের রসায়নে প্রভাবিত করেছিলেন বঙ্গবিভাজন প্রস্তাব পাশের ক্ষেত্রে।
এই বিভাজনের ফলে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কোন উপকার ই হয়নি। সর্বনাশ হয়েছে তাদের। উপকার হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এলিট হিন্দুদের (কারণ মুসলিম এলিটরা দেশভাগের জন্য সংখ্যায় কমে যাওয়ায় তাদের প্রতিযোগীর সংখ্যা কমেছে)। ঠিক একই ভাবে ও একই কারণে পূর্ব বাংলার(অধুনা বাংলাদেশের) মুসলিম এলিটরা উপকৃত হয়েছে ও হচ্ছে।কি পশ্চিমবঙ্গের কি অধুনা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের,কি হিন্দু,কি মুসলিমের, কারোর কোন উপকার হয়নি।তাই তথাকথিত পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের কর্মসূচিকে ঘিরে তাদের কোন উল্লাস নেই, আছে বাস্তহারা হওয়ার গ্লানি ও যন্ত্রণা।
এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি আমাদের পেতেই হবে।১৯৪৭সালে যখন ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি হয়, তখন সীমান্ত গান্ধী খান আব্দুল গফুর খান ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান কমরেড যোসেফ স্টালিন বলেছিলেন যে এশিয়ার এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য উক্ত দেশ দুটিকে নিয়ে একটি Confederation বা ঢিলেঢালা আধা যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হোক।আজ এই উপমহাদেশে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ,এই তিনটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র রয়েছে। সবাইকে নিয়ে, সবার সার্বভৌম সত্তাকে সম্মান জানিয়ে একটি Confederation গঠনের আন্দোলনের প্রস্তুতি ও প্রয়াস হোক,এই উপমহাদেশের মানুষদের আর্থ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কল্যাণের জন্য এই টাই সময়ের দাবি।
*লেখকের নিজস্ব মতামত*
০৭:২২ এএম, ২১ জুন ২০২৬ রোববার
অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচন: সম্ভাব্য ফলাফল
অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচন: সম্ভাব্য ফলাফল
মজিবুর রহমান
অনেক সময় একই ব্যক্তির হস্তরেখা বিচার করে তিনজন গণৎকারকে তিন রকম ভবিষ্যতবাণী করতে দেখা যায়। কোনো একজনের কথা মিলে যেতে পারে আবার কারোর কথাই হয়তো মিললো না, এমনও হতে পারে। নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়েও একই কথা প্রযোজ্য। ওপিনিয়ন অথবা এক্সিট পোলের হিসাব মিলা-না মিলার অনেক উদাহরণ রয়েছে। আবার সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে প্রায় সকলেই সহমত হলেও গণনায় সম্পূর্ণ উল্টো ফল ফলতে দেখা গেছে। যেমন, ২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে পুরো হাওয়া ছিল বিজেপির অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের পক্ষে। কিন্তু ওই নির্বাচনে এনডিএ হেরে যায় এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ সরকার গঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হন ডঃ মনমোহন সিং। ২০২১ সালে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রচারণা দেখে অনেকেরই মনে হয়েছিল, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করতে চলেছে। বাস্তবে তৃণমূলই আসন বাড়িয়ে তৃতীয় বারের মতো সরকার গঠন করে। বিজেপির আসন সংখ্যা ৩ থেকে ৭৭ হয়। মাঝখান থেকে বিস্ময়করভাবে বাম-কংগ্ৰেস শূন্য হয়ে যায়। কাজেই একটা সাধারণ নির্বাচনের ফল কখন কী হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা খুব মুশকিল। তবু কিছু সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা যেতেই পারে।
তৃণমূল হারছে ও বিজেপি জিতছে, এরূপ ধারণার বশবর্তী হয়ে ২০২১ সালে নির্বাচনের আগে টিএমসি ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক পড়েছিল। এবার সেটা নেই। এর ফলে টিএমসি-কে ঘর সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে না। বরং বাম-কংগ্ৰেসের অনেক নেতাকে টিএমসি-তে যোগদান করতে দেখা যাচ্ছে। এতে শাসকদলের শক্তি বাড়ছে। বিভিন্ন দলীয় ও সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে জনসংযোগ রক্ষার ব্যাপারে টিএমসি-র নেতাকর্মীরা ভালো জায়গায় আছেন। যুবসাথীর মতো অনুদানমূলক নতুন প্রকল্প প্রণয়ন এবং লক্ষ্মী ভাণ্ডারের মতো পুরনো প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ভোট সর্বস্ব রাজনীতিতে টিএমসি-কে অবশ্যই মাইলেজ দেবে। এবার টিএমসি'র বিরুদ্ধে যাবে এমন কয়েকটি পয়েন্টের প্রতি দৃষ্টিপাত করা যাক। প্রথমত, কিছুটা হলেও নিয়োগ দুর্নীতির প্রভাব পড়বে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির যে ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে তাঁরা কেউ অন্তত এই নির্বাচনে টিএমসি-কে ভোট দেবেন না। তবে আরজিকর কাণ্ডের প্রভাব পড়বে বলে মনে হচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, ২০২১ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন বিজেপি-কে রুখতে যেভাবে টিএমসি'র পাশে দাঁড়িয়েছিল এবার তেমনটা ঘটবে না। বরং এরাজ্যে ওয়াকফ আন্দোলনের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মনোভাব মুসলিম সম্প্রদায়কে অসন্তুষ্ট করেছে। ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকায় মুসলিম সমাজ হতাশ। ৩রা এপ্রিলের মোথাবাড়ি-সুজাপুর কাণ্ডে আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে সিআইডি দিয়ে গ্ৰেপ্তার করানো এবং তাঁকে 'মেইন কালপ্রিট' বলে নির্বাচনী জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে মুসলিম সমাজের অনেকেই মেনে নিতে পারেনি। মুসলিমপন্থী রাজনৈতিক দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো মমতা ব্যানার্জির 'দ্বিচারিতা'র বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। এসআইআর-এ ১৭ লাখ বৈধ মুসলিম ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সবমিলিয়ে ২০২১ সালের তুলনায় টিএমসি'র মুসলিম ভোট প্রাপ্তি কয়েক শতাংশ কমবে বলে মনে হয়। এহেন পরিস্থিতিতে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বেশ কয়েকটি আসন টিএমসি'র হাতছাড়া হতে পারে।
বিভিন্ন রাজ্যে প্রধান প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিজেপি ইডি-সিবিআই-এনআইএ প্রভৃতি কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোকে ব্যবহার করে। কিন্তু এরাজ্যে এসব করে তারা টিএমসি'র মনোবল ভাঙতে পারেনি। এবার নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে খেলতে নেমেছে। কিন্তু খেলতে গিয়ে 'সেম সাইড' করে ফেলেছে। ১৭ লাখ মুসলমানের পাশাপাশি ১০ লাখ হিন্দুর নামও বাদ পড়েছে যাদের একটি বড় অংশ বিজেপির ভোটার বলে মনে করার যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। এর ফলে মতুয়া সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকায় কয়েকটি আসন তাদের হাতছাড়া হতে পারে। তবে অন্যত্র বিজেপি'র পক্ষে হিন্দু ভোটের একত্রীকরণ (কনসোলিডেশন) বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০১৯ সাল থেকে এরাজ্যে বিজেপি হিন্দু ভোটের ৫৫-৬০ শতাংশ পাচ্ছিল। এবার সেটা ৬০-৬৫ শতাংশ হতে পারে। এতে মুসলিম প্রধান এলাকার কিছু আসনে চতুর্মুখী লড়াইয়ে বিজেপির প্রার্থীরা বেরিয়ে যেতে পারেন। তবে ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোট পুরোপুরি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ৭০ শতাংশ হিন্দু ভোটের সিংহভাগ পেয়ে বাংলায় বিজেপির মসনদ দখল করা এবারেও সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি যত বেড়েছে ততই কমেছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের শক্তি। সাংগঠনিক দিক থেকে জাতীয় কংগ্রেস এখন সবচেয়ে দুর্বল দল। নেতৃত্বেও সংকট রয়েছে। এজন্য তারা সময়োপযোগী কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারে না। বিগত কয়েক বছরের বাম-কংগ্ৰেস জোটের ব্যর্থতায় বীতশ্রদ্ধ হয়ে জাতীয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এবারের নির্বাচনে একলা লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেক দিন পর তারা ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। তবে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে প্রার্থীপদ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে বিধান ভবনে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটেছে। প্রার্থীপদ না পেয়ে কয়েকজন পুরানো কংগ্রেস নেতা দলত্যাগ করেছেন। দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা থাকা সত্ত্বেও এবারের নির্বাচনে টিএমসি-র যে মুসলিম ভোটটা কমবে তার একটা অংশ কংগ্রেস পাবে। এর ফলে ২০২১-এর থেকে কংগ্রেসের ভোট বাড়বে এবং তাদের প্রার্থীরা কয়েকটি আসনে জয়লাভ করবেন বলে মনে হচ্ছে।
কংগ্রেস জোটের মধ্যে না থাকলেও বামেরা একাধিক মুসলিম পন্থী দলকে সঙ্গে নিয়ে এই নির্বাচনে লড়ছে। নীতি নৈতিকতার সূক্ষ্ম প্রশ্নে বামেদের অস্বস্তি অবশ্য কাটছে না। বিজেপি'র বিরুদ্ধে বামফ্রন্ট যথেষ্ট সরব নয়, এই অভিযোগে এতদিন মুসলমানরা বামেদের ওপর অসন্তুষ্ট ছিল। এবারের নির্বাচনে ব্যাপারটা উল্টো হচ্ছে। বামফ্রন্টের হিন্দু সমর্থকরা অনেকেই এখন মনে করছে যে, সিপিআই(এম) সংখ্যালঘুপ্রেমী হয়ে গেছে। বেলডাঙ্গায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবীরের 'মন বুঝতে' নিউ টাউনের একটি পাঁচ তারা হোটেলে মহঃ সেলিমের গোপন গমন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এসডিপিআই-এর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা সিপিআই(এম)-কে বাংলার বুকে আরও ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে পারে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সখ্যতা বৃদ্ধি করে সিপিআই(এম) নিজের অসাম্প্রদায়িক তথা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির আদর্শিক ভিতে আঘাত হানছে। চাকরিচ্যুত ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য-ফিরদৌস শামীমদের ওপর ক্ষেপে রয়েছেন। এর একটি নেতিবাচক প্রভাব বামফ্রন্টের ভোট বাক্সে পড়বে। তবে এই নির্বাচনে তৃণমূলের যে মুসলিম ভোটটা কমবে তার একটা অংশ কংগ্রেসের মতো বামফ্রন্টও পাবে। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও জোটের প্রার্থী হওয়ার সুবাদে কয়েকজন বাম প্রার্থী জিতে গেলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। অনেকেই মনে করেন শূন্যের শ্লেষ থেকে বামেদের মুক্তি পাওয়া উচিত।
নওসাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আইএসএফ-এর আসন ও ভোট সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নবগঠিত আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) সর্বময় কর্তা হুমায়ুন কবীর অনেক প্রচার পাচ্ছেন। জেলা ভিত্তিক দল গঠন করলেও হেলিকপ্টার চড়ছেন। তাঁর বিতর্কিত ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর অবশ্য অনেকেই তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। তৎসত্ত্বেও তিনি নিজে একটি আসনে জিততে পারেন এবং কয়েকটি আসনে টিএমসি-র আশাভঙ্গের কারণ হতে পারেন।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিনকে দিন খারাপ হচ্ছে। রাজনীতির কারবারিদের মান(স্ট্যান্ডার্ড) নেমে যাচ্ছে। প্রথাগত ও রাজনৈতিক শিক্ষা ছাড়াই বাহুবল ও অর্থবলের সাহায্যে অনেকেই জনপ্রতিনিধি হচ্ছেন। আইনসভায় ব্যবসায়ী ও বাহুবলীদের সংখ্যা বৃদ্ধি সংসদীয় শাসনব্যবস্থা ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে। নির্বাচন শেষে সরকার গঠিত হবে। কিন্তু অপশাসন অথবা আগ্ৰাসন থেকে মুক্তি মিলবে বলে মনে হয় না। রাজ্যের টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনাও
খুব কম।
১২:৩৪ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ রোববার
প্রয়াত হলেন কবি ও লেখক ডা. এস. এম. মইনুল হক
প্রয়াত হলেন কবি ও লেখক ডা. এস. এম. মইনুল হক
মোঃ ইজাজ আহামেদ
মুর্শিদাবাদ: ১৭ এপ্রিল রাত ১১.৩০ মিনিটে নিজ বাড়িতে ইহজগতের মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন মুর্শিদাবাদের বিশিষ্ট কবি ও লেখক ডা এস. এম. মইনুল হক। তিনি স্বপ্নের ভেলা সাহিত্য পত্রিকা সহ দিনদর্পন, পুবের কলম, বাংলাদেশের সাময়িকী ইত্যাদি পত্রিকায় গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ প্রায় নিয়মিত লিখতেন। খুব ছোট থেকে লেখালেখির জন্য হাতে কলম খাতা তুলে নেন। ২০০৪ সালে কলকাতা বইমেলায় তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস "মণিবাগিচা" প্রকাশীত হয়। মুর্শিদাবাদ জেলার ফুলসহরী গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা গোলাম আম্বিয়া ১৯৯৪ সালের ৮ই ডিসেম্বর পরলোক গমন করেন। মাতা নুরজাহান বেবি একজন ধার্মিক ও দানশীলা মহিলা। একমাত্র মেয়ে শবণম সালমা জাহান হক, বড় ছেলে মোমাইজুল হক ও ছোট ছেলে সানিউল হক, স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন।
০৭:২৬ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার
সুতির কারবোলায় ভোট ডিলিটের দরুন ব্যাপক চাঞ্চল্য
সুতির কারবোলায় ভোট ডিলিটের দরুন ব্যাপক চাঞ্চল্য
মোঃ ইজাজ আহামেদ
অরঙ্গাবাদ: মুর্শিদাবাদ জেলার ৫৭ সুতি বিধানসভার ১৩০ নম্বর অংশের সম্পূরক তালিকা প্রকাশিত হয় গতকাল ৬ এপ্রিল। উক্ত অংশের ৫৫৮ জন বিচারাধীনের মধ্যে মাত্র ১৫২ জনের নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে, পুরুষ ৯৩ জন ও মহিলা ৫৯ জন। ৪০৬ জন ভোটারের নাম বর্জন অর্থাৎ ডিলিট করা হয়েছে, পুরুষ ২১৪ জন ও মহিলা ১৯২ জন। উক্ত অংশের ডিলিটেড ভোটারদের মধ্যে চাঞ্চল্য, আতঙ্ক ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তারা জানিয়েছেন যে তারা বৈধ ভোটার এবং ডকুমেন্ট থাকা সত্ত্বেও ভোট ডিলিট করা হয়েছে। উল্লেখ্য ডিলিটেড ভোটারদের লিস্ট প্রকাশের দিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ট্রাইবুনালে আবেদন করতে হবে। ইতিমধ্যে ট্রাইবুনালে আবেদন করে দিয়েছেন বলে অনেকে জানিয়েছেন।
০৯:০৬ পিএম, ৭ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার
উদ্বোধন হল জঙ্গিপুর বইমেলার
উদ্বোধন হল জঙ্গিপুর বইমেলার
মোঃ ইজাজ আহামেদ
জঙ্গিপুর: ১০ মার্চ উদ্বোধন হল জঙ্গিপুর বইমেলার, চলবে ১৭ তারিখ পর্যন্ত। এদিন দাদাঠাকুর মঞ্চ থেকে র্যালি বের হয়। উক্ত পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করে এলাকার বেশ কয়েকটি স্কুল যেমন ডঃ কালাম মডেল মিশন, গাইডেন্স একাডেমী, গাইডেন্স ফাউন্ডেশন, কিশলয় শিশু শিক্ষা কেন্দ্র, ওয়েজ ফ্যামিলি স্কুল, রঘুনাথগঞ্জ হাই স্কুল, রাণী ভবানী বিদ্যানিকেতন, সাইদপুর ইউ. এন.উচ্চ বিদ্যালয়।
বইমেলার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট নাট্যকার ও চলচিত্র অভিনেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান, সন্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ ও সমাজসেবী মহঃ সোহরাব, বিশিষ্ট কবি অশোক দাস, বিশিষ্ট লেখক আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক নূরুল মোর্তজা, আহবায়ক মোহাঃ হাসানুজ্জামান (লিটন), কবি আবদুস সালাম, স্মরণিকা উপসমিতির আহবায়ক রীনা কংশবনিক প্রমুখ। এদিন বইমেলার স্মরণিকা প্রকাশ হয় এবং কয়েকটি বইও প্রকাশ হয়। উল্লেখ্য, এই বইমেলাকে ভারতবর্ষের প্রথম বইমেলা হিসেবে দাবি করা হয়।
১০:২৪ এএম, ১১ মার্চ ২০২৬ বুধবার
ইউপিএসসিতে চমক মুর্শিদাবাদের সানা আজমির
ইউপিএসসিতে চমক মুর্শিদাবাদের সানা আজমির
মোঃ ইজাজ আহামেদ
ইউপিএসসিতে চমক মুর্শিদাবাদের সাগরদীঘি ব্লকের কাবিলপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম পাকালপাড়ার মাইজুদ্দীন নামে এক কৃষকের মেয়ে সানা আজমির। ২০২৫ সালের UPSC পরীক্ষার ফলাফলে সারা ভারতবর্ষে ৭৬৪ তম স্থান অধিকার করে এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুসলিম কন্যা হিসেবে চমক দিলেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় খুশির জোয়ার বইছে। তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কাবিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। তারপর আল আমীন মিশনের শাখা শামসেরগঞ্জের রহমানিয়া অ্যাকাডেমি থেকে মাধ্যমিক দেন এবং উচ্চমাধ্যমিকও দেন আল আমীন মিশন থেকে। তারপর দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি ইউপিএসসির জন্য প্রস্তুতি নেন। প্রথমবার বসেই তিনি এই সাফল্য লাভ করেন।
০১:১৩ পিএম, ৮ মার্চ ২০২৬ রোববার
অনুষ্ঠিত হল "নিখিলবঙ্গ মেধা উৎকর্ষ অভিযান-২০২৫"
অনুষ্ঠিত হল "নিখিলবঙ্গ মেধা উৎকর্ষ অভিযান-২০২৫"
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, অরঙ্গাবাদ : আজ রবিবার সকাল ১০টায় নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (ABPTA), মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত সুতী চক্রের উদ্যোগে অরঙ্গাবাদ বয়েজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে "নিখিলবঙ্গ মেধা উৎকর্ষ অভিযান-২০২৫" অনুষ্ঠিত হল। এদিন দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত চারটি শ্রেণির ৪৯জন কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় একাডেমিক সাবকমিটির আহ্বায়ক মাহামুদাল হাসান। অনুষ্ঠানে প্রারম্ভে বক্তব্য পেশ করেন সমিতির চক্র সম্পাদক সুদেব হালদার। এরপর প্রধান অতিথির ভাষন দেন সমিতির মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সম্পাদক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চক্র সভাপতি সামিউল সেখ, ডিএনসি কলেজের বাংলা বিভাগের স্যাক্ট টিচার একলাচ মন্ডল, বিশিষ্ট শিক্ষক ও কবি মোঃ ইজাজ আহমেদ, শিক্ষক আবদুস শুকুর, শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম ও অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ ও অভিভাবকগণ।
০৬:৪৭ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার
আন্তর্জাতিক স্বপ্নের ভেলা সাহিত্য পত্রিকার উন্মোচন
অনুষ্ঠিত হলো আন্তর্জাতিক 'স্বপ্নের ভেলা সাহিত্য পত্রিকা'র মোড়ক উন্মোচন ও সাহিত্যচর্চার আসর
অরঙ্গাবাদ, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ : আজ বুধবার ২ ঘটিকায় অরঙ্গাবাদের একান্ত আপন লজে স্বপ্নের ভেলা সাহিত্য পত্রিকার ষষ্ঠ বর্ষের প্রথম সংখ্যার আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন ও সাহিত্যচর্চার আসর অনুষ্ঠিত হলো। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুর রৌফ, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সবুজ সরকার, অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম, অধ্যাপক বিশ্বনাথ সাহা, মুর্শিদাবাদ জেলার প্রাক্তন সহ- সভাধিপতি নেজামুদ্দিন আহমেদ, অমুহা কদমতলা হাই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও সহিত্যিক আনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী। উপস্থিত ছিলেন পত্রিকার সম্পাদক মোঃ ইজাজ আহামেদ, সভাপতি আব্দুস সালাম, সহ - সম্পাদক আব্দুল মালেক, সহ সম্পাদক আজাদ রহমান, কবি স্বাগতা সান্যাল, হাউসনগর প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক মোঃ সাব্বির আলি ও সভাপতি মোঃ তৌসিক আহমেদ, সমাজসেবী গুলজার হোসেন, ভারতীয় বংশোদ্ভুত আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কবি সুলতানা বেগম, রিনা কংশবণিক, কবি ও বাচিক শিল্পী অন্যন্যা লাহিড়ী, কবি ইমতিয়াজ কবির, কবি মোঃ রেজাউল করিম, জালালউদ্দিন রেজা, সোমনাথ কর, কবি কালাম হাবিব, কবি আব্দুর রউফ, কবি মইদুল ইসলাম, কবি হিমেন্দু দাস, কবি রুবিনা আক্তার, কবি তাহাসিনুল ইশা, কবি শামীম শেখ, কবি উদয় মন্ডল, কবি তাসলিম আরিফ, কবি সুস্মিতা সরকার, গল্পকার জাবির হোসেন, সাংবাদিক মহম্মদ হোসেন ও হাবিবুর রহমান, শিক্ষক বাসির মোমিন ও ওবাইদুর রহমান প্রমুখ। অতিথিগণ সাহিত্যের উপর বক্তব্য রাখেন। কবিগণ কবিতা পাঠ করেন। এছাড়া তিনজন শিশু - অনেষ্ণা সরকার, তাসনিয়া আহমেদ, আতিকা আহমেদ ছড়া পাঠ করে। উপস্থিত সকল কবিদের হাতে বরণ করা হয় ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়। আর্ন্তজাতিক স্বপ্নের ভেলা সাহিত্য পত্রিকার এই দ্বিভাষিক সংখ্যায় ৬০ টি দেশের ২৮৩ জন কবি- লেখকগণ কলম ধরেছেন। আগামীতে আরও বেশি দেশের কবি - লেখকগণ অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন সম্পাদক।
০৮:৪৪ পিএম, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার
সুতির ওবাইদুর রহমানের সাফল্য WBCS -Aতে
সুতির ওবাইদুর রহমানের সাফল্য WBCS -Aতে
মোঃ ইজাজ আহামেদ
সুতি: সুতি থানার প্রত্যন্ত গ্রাম মহেশাইলের যদুপাড়ার ওবাইদুর রহমান এলাকা তথা মুর্শিদাবাদ জেলার নাম উজ্জ্বল করলেন WBCS পরীক্ষায় Group A তে সফলতা পেয়ে। West Bengal food and Supply Services পদে 13 Rank করেছেন। তিনি জঙ্গিপুরের Institution for WBCS কোচিং সেন্টারে কোচিং নিয়েছিলেন। তার এই সাফল্যের পেছনে ছিল কঠোর পরিশ্রম, অধ্যাবসায় ও জেদ। তিনি গণিতে অনার্স সম্পূর্ণ করার পর কয়েকটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতাও করেছেন। তার এই সাফল্যে এলাকায় খুশির জোয়ার বইছে।
১০:৫৮ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
মালদায় মোদির রেল উপহার
০৮:৩৬ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার
সুতি ২ ব্লকের বিএলওগণের গণ-ইস্তফা
সুতি ২ ব্লকের বিএলওগণের গণ-ইস্তফা
মোঃ ইজাজ আহামেদ
অরঙ্গাবাদ: এসআইআর মানুষের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। ভোটাররা অজানা আতঙ্ক ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। অনেক ভোটার ভিন রাজ্যে কাজ ফেলে এসেছে এসআইআরের ডকুমেন্ট জমা দিতে। ভোটারের ডকুমেন্ট ও বিএলও ডিক্লারেশন আপলোড দেওয়ার পরও হিয়ারিং এসেছে যা নিয়ে হৈচৈ পড়ে গিয়েছে জনমানুষের মধ্যে। বারংবার বিএলও অ্যাপে কমিশনের নতুন নতুন সমস্যার আপডেট ও অবশেষে হিয়ারিং নোটিশ ভোটার ও বিএলওগণদের হয়রানির শিকার করছে। উল্লেখ্য কমিশন জানিয়েছিল যে কোনো ডকুমেন্ট লাগবে না কিন্তু ডকুমেন্ট চাওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ব্লকে বিএলওগণ ইস্তফা দিয়েছেন। হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গতকাল শুক্রবার সুতি ২ ব্লকের বিএলওগণ গণ-ইস্তফা দিলেন। তারা গত বুধবার বিডিওর সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন এই ইস্তফার কথা।
০৯:০৭ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার
সুতি ২ বিডিও অফিসে সিপিআইএম-এর বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন
সুতি ২ বিডিও অফিসে সিপিআইএম-এর বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন
মোঃ ইজাজ আহামেদ
অরঙ্গাবাদ, ১৫ জানুয়ারি: এসআইআর -এর বেশ কিছু সমস্যা মানুষজনকে ভয় ও হয়রানির শিকার করে ফেলেছে। বিএলওদের মাধ্যমে ডকুমেন্ট আপলোড করার পরেও হিয়ারিং আসছে। ভোটাররা কাজ ও সময় নষ্ট করে বিএলওদের ডকুমেন্টস প্রদান করেছে তবুও তাদের হিয়ারিং আসছে। যার ফলে তারা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। উল্লেখ্য নির্বাচন কমিশন প্রথমে জানিয়েছিল কোনো ডকুমেন্ট লাগবে না কিন্তু তা কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। একের পর এক বি এলও অ্যাপে আপডেট আসতেই আছে যা নিয়ে বিএলওগণ অতিষ্ঠ - প্রথমে ম্যাপিং, তারপর নামের ডিসক্রিপেন্সি, তারপর ছয়জন প্রোজেনির সমস্যা। এমনকি ছয়জন প্রোজেনি না হওয়া সত্ত্বেও অনেকের এই সমস্যা দেখাচ্ছে। ম্যাপিং করার সময়ও অনেকের নো রেকর্ড ফাউন্ড দেখাচ্ছিল। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ব্লকে বিএলওগণ ইস্তফা দিয়েছেন। গতকাল সুতি ২ ব্লকের বিএলওগণ বিডিওর সঙ্গে আলোচনার পর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে তারা আগামীকাল শুক্রবার গণ ইস্তফা দেবেন যা নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে এলাকায়। এমত অবস্থায় আজ সিপিআইএম অরঙ্গাবাদ এরিয়া কমিটির ডাকে সুতি ২ বিডিও অফিসে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন অনুষ্ঠিত হল। এদিন উক্ত কমিটির দাবিসমূহ ছিল নিমরূপ -
1.SIR নিয়ে প্রকৃত ভোটারদের হেনস্থা ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
2. Logical Discrepancy এর নামে প্রকৃত ভোটারদের SIR এর মূল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া
যাবে না।
3. SIR এর শুনানি (HEARING) প্রত্যেক বুথে বুথে করতে হবে।
4. SIR এর শুনানির সময় ভোটারদের রিসিভ কপি দিতে হবে।
5. Mapping হওয়া ভোটারদের শুনানির নোটিশ ধরানো যাবে না।
উপস্থিত ছিলেন অরঙ্গাবাদ এরিয়া কমিটির সম্পাদক সামিউল সেখ। এরিয়া কমিটির সদস্য তোফিজুল ইসলাম, অমল চৌধুরী, রোকিব সেখ, প্রনব রায়, জুলফিকার আলী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ
০৫:১৬ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
নববর্ষে প্রেমের বিরুষ্কা
০২:৪৫ পিএম, ১ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
উন্মোচিত হল `আন্তর্জাতিক দ্বিভাষিক কাব্য`
উন্মোচিত হল 'আন্তর্জাতিক দ্বিভাষিক কাব্য'
নিজস্ব প্রতিবেদক
ধুলিয়ান: আজকে মোঃ ইজাজ আহামেদ অনুবাদিত ও সম্পাদিত 'আন্তর্জাতিক দ্বিভাষিক কাব্য' (International Bilingual Poetry) বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হল মাননীয় সাংসদ খলিলুর রহমান মহাশয়ের হাত দিয়ে। উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সাংসদ খলিলুর রহমান মহাশয়, অমুহা কদমতলা হাই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও সাহিত্যিক মাননীয় আনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী মহাশয়, হাউসনগর প্রতিবন্ধী মঞ্চের সভাপতি তৌসিক আহমেদ মহাশয়, সমাজসেবী আনোয়ার হোসেন (অপু) মহাশয়, মোঃ ইজাজ আহামেদ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।
এই বইটিতে ৬২ টি দেশের ১৪৭ জন আন্তর্জাতিক কবি রয়েছেন। তার মধ্যে ৫ জন নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। বইটি শীঘ্রই অ্যামাজনে পাওয়া যাবে বলে জানান অনুবাদক ও সম্পাদক - মোঃ ইজাজ আহামেদ।
১২:০৭ পিএম, ২ নভেম্বর ২০২৫ রোববার
অরঙ্গাবাদে মসজিদের অভিনব উদ্যোগ
অরঙ্গাবাদে মসজিদের অভিনব উদ্যোগ
মোঃ ইজাজ আহামেদ
সুতি, ১৭ আগস্ট ২০২৫: আজ রবিবার মুর্শিদাবাদ জেলার অরঙ্গাবাদের ডিহিগ্রাম পূর্ব - দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদের উদ্যোগে এবং জনসেবা জবেদানেশা ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পরিচালনায় ও মানবতা ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের সহযোগিতায় ডিহিগ্রামে অনুষ্ঠিত হল 'স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির '। উপস্থিত ছিলেন সুতি ২ নং ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সম্মানীয় হুমায়ুন চৌধুরী, পঞ্চগ্রাম আই.এস.এ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. মহঃ মেহেবুব ঈশা, নিমতিতা জি.ডি ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক সহিদুল আলম, বিশিষ্ট শিক্ষক আব্দুল রাশিদ এবং মাওলানা মহঃ গিয়াসউদ্দিন সাহেব প্রমুখ। তাঁরা বক্তব্য রাখেন 'ইসলামে রক্তদানের গুরুত্ব' বিষয়ের উপর। প্রধান শিক্ষক ড. মহঃ মেহেবুব ঈশা বলেন, " প্রত্যেক ভালো কাজই ইবাদতের অংশ"। শিক্ষক আব্দুল রাশিদের বক্তব্যের নির্যাস হল যে ভালো কাজে মানুষকে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা করতে হবে। মাওলানা মহঃ গিয়াসউদ্দিন সাহেব কুরআনের উদ্ধৃতি তুলে ধরেন - " যে একজন ব্যক্তির জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানব জাতির জীবন রক্ষা করল"। এদিন সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সালার মুজফফর আহমদ মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আসলিম সেখ। সহযোগী হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক তথা জনসেবা জবেদানেশা ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের সম্পাদক আব্দুল জাব্বার হক । মসজিদের এই অভিনব উদ্যোগকে উপস্থিত ব্যক্তিগণ কুর্নিশ জানান। মোট আটষট্টি জন রক্তদাতা ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বৃষ্টির মাঝেও তাঁরা এই শিবিরে যোগদান করে রক্তদান করেছেন। রক্ত সংগ্রাহক টিমের অন্যতম সদস্য মোহাঃ মাসুদ জানান, "এইরকম সুশৃঙ্খল এবং গ্রামীণ এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান খুবই প্রশংসনীয় আর মসজিদ-এর উদ্যোগে জঙ্গিপুর মহকুমায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন এক বিরল দৃষ্টান্ত।"
১০:০৭ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২৫ রোববার
জঙ্গীপুরে অনুষ্ঠিত হল ওম টিভি লাইভ চ্যানেলের গ্র্যান্ড ওপেনিং
ওম টিভি লাইভ চ্যানেলের গ্র্যান্ড ওপেনিং
মোঃ ইজাজ আহামেদ
জঙ্গীপুর: ১৬ই আগস্ট শনিবার জঙ্গীপুরে ওম টিভি লাইভ (OM TV live) চ্যানেলের গ্র্যান্ড ওপেনিং অনুষ্ঠিত হল। এদিন অনুষ্ঠান উপলক্ষে রক্তদান শিবির, দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, গুনীজন ও সাংবাদিকদের সংবর্ধণার আয়োজন করা হয়। ৩০ জন রক্তদাতা রক্ত দান করেন। উপস্থিত ছিলেন- জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন, রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক তথা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান, জঙ্গিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম ও ভাইস চেয়ারম্যান সন্তোষ, জরুল পঞ্চায়েতের প্রধান ইয়াকুব আলী, চৌধুরী, জঙ্গিপুর টাউন কংগ্রেস সভাপতি মোহন মাহাতো, বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা গিনি হাউসের কর্ণধার রেজাউল করিম, সমাজসেবী তথা বিজয় হার্ডওয়্যার-এর কর্মধার বিজয় জৈন, কবি-সংবাদিক তথা স্বপ্নের ভেলা সাহিত্য পত্রিকা'র সম্পাদক মোঃ ইজাজ আহামেদ, সাংবাদিক সবুজ বিশ্বাস,রাজেশ শেখ, মাসুদুল শেখ, শফিউল ইসলাম, আলমগীর, তরিকুল শেখ, চন্দন সরকার, সারোয়ার আলম, রনি শেখ, সুজয় ঘোষ, রিমেল সাবাব, শুভম বড়াল, মহম্মদ হোসেন ও ওম ওম টিভি লাইভ চ্যানেলের কর্ণধার রাজু শেখ প্রমুখ। উপস্থিত ব্যক্তিগণ সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়ার গুরুত্বের উপর বক্তব্য রাখেন।
০৭:৪৯ এএম, ১৭ আগস্ট ২০২৫ রোববার
অলিম্পিয়াডে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্ক ৭ এবং পশ্চিমবঙ্গ জোন-২- এ ৪ নওরীন হাসানের
অলিম্পিয়াডে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্ক ৭ এবং পশ্চিমবঙ্গ জোন-২- এ ৪ নওরীন হাসানের
মোঃ ইজাজ আহামেদ
অরঙ্গাবাদ: মুর্শিদাবাদ জেলার অরঙ্গাবাদের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী নওরীন হাসান ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে অনুষ্ঠিত সায়েন্স অলিম্পিয়াড ফাউন্ডেশন আয়োজিত এসওএফ-আন্তর্জাতিক কম্পিউটার বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্ক ৭ এবং পশ্চিমবঙ্গ জোন-২-এ ৪ র্যাঙ্ক অর্জন করেছে। ৭২টি দেশের ৯৬৪৯৯টিরও বেশি স্কুল বিশ্বের বৃহত্তম অলিম্পিয়াডে নিবন্ধিত হয়েছিল এবং কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থী এসএফও দ্বারা পরিচালিত আটটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এই কৃতিত্ব অর্জন করায় নওরীনকে রৌপ্য পদক, নগদ ৬২৫/- টাকা ও শংসাপত্র দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। তার বাবা শিমুল হাসান এলাকার একজন স্বনামধন্য অ্যাডভোকেট ও মা নাসরীন পারভীন একজন এএনএম স্বাস্থ্যকর্মী।
০৮:৪৯ এএম, ১৬ আগস্ট ২০২৫ শনিবার
চলে গেলেন না ফেরার দেশে কবি ও কথা সহিত্যিক এস এম নিজাম উদ্দিন
চলে গেলেন না ফেরার দেশে কবি ও কথা সহিত্যিক এস এম নিজাম উদ্দিন
মোঃ ইজাজ আহামেদ
জঙ্গিপুর, ৯ জুলাই ২০২৫: আজ ৯ জুলাই চলে গেলেন না ফেরার দেশে মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুরের গোফুরপুর বরজের বিশিষ্ট কবি ও কথাসাহিত্যিক এসএম নিজামউদ্দিন। গত পরশু থেকে অসুস্থতায় ভুগতে থাকেন। আজ বিকেল ৪.২৫ নাগাদ তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর জন্ম ১লা জানুয়ারি ১৯৪৭ সালে। দারিদ্র্যতাকে হার মানিয়ে জীবনযুদ্ধে বিজয়ী একজন সৈনিক ও শিক্ষাদরদী একজন মানুষ ছিলেন এই কবি ও লেখক। শিক্ষা প্রসারের জন্য নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন গুলবার্গ অ্যাকাডেমি। অ্যাকাডেমি পরিচালনার পাশাপাশি নিরলসভাবে সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যান। তাঁর লেখনীর মূল উপজীব্য বিষয় ছিল মেহনতী ও অবহেলিত মানুষের আলেখ্য তুলে ধরা। তাঁর কয়েকটি প্রকাশিত গ্রন্থ জীবনের রঙ বদল, আলোকবর্তিকা, শিকড়ের খোঁজে, ফেরারি আসামি'র দিনলিপি ইত্যাদি।
১০:০৮ পিএম, ৯ জুলাই ২০২৫ বুধবার
আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় মুর্শিদাবাদ সেন্টারে চালু হল বিবিএ
আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মুর্শিদাবাদ সেন্টারে চালু হল বিবিএ কোর্স
মোঃ ইজাজ আহামেদ
৬ জুলাই, জঙ্গিপুর: আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মুর্শিদাবাদ ও কেরালার মালাপ্পুরম সেন্টারে চালু হল বিবিএ কোর্স। উল্লেখ্য মুর্শিদাবাদ সেন্টারে বিএ এলএলবি, বিএড ও এমবিএ চালু রয়েছে। বিবিএ কোর্সে ভর্তির জন্য ৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নোটিস প্রকাশিত হয়েছে। উভয় সেন্টারে ৬০টি করে আসন রয়েছে। ৪ জুলাই অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে এই জুলাই মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত আর লেট ফী দিয়ে ৩১ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। লেট ফী ছাড়া আবেদনের জন্য ৮৫০ টাকা আর লেট ফীর জন্য আরও অতিরিক্ত ৩০০ টাকা লাগবে। সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অর্থাৎ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অন্তত ৫০% মার্কস থাকতে হবে। ভর্তির জন্য পরীক্ষা হবে ১০০ মার্কসের, প্রশ্ন থাকবে অবজেক্টিভ টাইপের এই চারটি বিষয়ে - ভাষা দক্ষতা (২৫), সংখ্যাগত ক্ষমতা (২০), রিজনিং (৩০), সাধারণ সচেতনতা (২৫)। পরীক্ষা হবে ২০ আগষ্ট সকাল ১০ টায়। ভর্তির পর সেমিস্টার প্রতি ২০০০০ টাকা এবং ট্রেনিং বা শিক্ষামূলক ভ্রমণের জন্য প্রতি সেমিস্টার প্রতি ৫০০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে ।মুর্শিদাবাদ সেন্টারে আরও একটি কোর্স চালু হওয়ায় এলাকাবাসীদের মনে খুশির হাওয়া বইছে তবে বিএ, বিএসসি, বিকম, এমএ, এমএসসি, এমকম চালু হলে এলাকাবাসীরা আরও খুশি হবেন বলে জানান স্থানীয়রা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সাচার কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর ২০১০ সালে সুতির আহিরণে মুর্শিদাবাদ সেন্টারের শিলান্যাস হয় এবং ২০১১ সালে মঙ্গলজনে কেটলি বাড়ি নামে পরিচিত একটি ভাড়া বাড়িতে পঠন-পাঠন শুরু হয়
।
০৪:০৫ পিএম, ৬ জুলাই ২০২৫ রোববার
- ঘৃণার আগুন নিভিয়ে দাও মৈত্রীর প্রদীপ জ্বেলে দাও
- ভেজাল হলুদ কাণ্ডে ধৃতকে আদালতে পাঠাল সামসেরগঞ্জ থানার পুলিশ
- এনটিপিসি ফরাক্কার প্রশিক্ষণে ৩০ জনেরই চাকরি বৈষ্ণবন
- সামশেরগঞ্জে ভেজাল হলুদ তৈরির কারখানায় পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার এক
- রঘুনাথগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার, গ্রেফতার চার
- পাকুড়-বাংলা সীমান্তে ফের চালু টোটো স্ট্যান্ড, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় সীমান্তবাসী
- অনুষ্ঠিত হলো নিখিলবঙ্গ মেধা অন্বেষণ উৎকর্ষ অভিযান ২০২৬
- আয়না
- রাজ্য স্কুল অ্যাথলেটিক্সে মালদার সাফল্য: ঝুলিতে ৬ সোনাসহ ১২ পদক
- সবজির ব্যাগে কোটি টাকার হেরোইন! সামশেরগঞ্জে পুলিশের জালে ১৮ বছরের যুবক
- ভাষাইপাইকড় পঞ্চায়েতে খারিজ স্টে অর্ডার, বহাল প্রধান-উপপ্রধান
- খড়দহে বিজেপির দলীয় কর্মসূচিতে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ও বোমাবাজির অভিযোগ, আহত ৪; আটক ৬
- SIR আবাস ও অন্নপূর্ণা—৮ দফা দাবিতে ফরাক্কা BDO-কে কংগ্রেসের ডেপুটেশন
- বোমা-গুলি নেই, চলছে নিঃশব্দ সন্ত্রাস’, রেজিনগরের ভোট নিয়ে তোপ অধীরের
- দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে হুমায়ুনকে ‘আটক’, রেজিনগর উপনির্বাচনে উত্তেজনা
- মানবিকতার নজির! সাগরদিঘি থেকে দুর্গাপুরে গিয়ে ৭ ইউনিট রক্তদান করলেন সাত যুবক।
- আড়াই মাস পর রাজস্থান থেকে নিখোঁজ নাবালিকাকে উদ্ধার সামশেরগঞ্জ পুলিশের
- বিপদের সময় কী করণীয়? সামশেরগঞ্জে NDRF-এর প্র্যাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ
- মালদা জেলা কবিতা কার্নিভাল
- গঙ্গায় স্নান করতে গিয়ে তলিয়ে গেল উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়া।
- ভাঙড় হাইস্কুলের আদর্শ শিক্ষক গিয়াসউদ্দিন হালদারকে সংবর্ধনা
- অনুষ্ঠিত হল আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি মুর্শিদাবাদ সেন্টারে বিবিএ-তে ভর্তি সংক্রান্ত আলোচনাসভা
- পুরনো প্রধান অপসারণের পর ভাসাইপাইকড়ে নতুন প্রধান আব্দুল রউফ, নেপথ্যে নুর আলমের নেতৃত্ব
- ডিলিট ভোটার ইস্যুতে সরব নুর আলম, সামশেরগঞ্জে বিশাল মিছিল-ডেপুটেশন
- আক্রমণ থেকে প্রশংসা—শুভেন্দুর দীর্ঘায়ু কামনা করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শুভেচ্ছা হুমায়ুনের
- ২৯৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার, সুতি পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার যুবক
- পালিত হল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম জয়ন্তী
- বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তীতে মানিকচক এন বি হাই মাদ্রাসায় শ্রদ্ধাঞ্জলি
- অবৈধ গম পাচারের চেষ্টা ভেস্তে দিল পুলিশ, ৯ টন গম-সহ গ্রেফতার ১
- নিমতিতা জমিদারবাড়িতে ‘সেবার ২৫ বছর’, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও কেক কেটে মোদীর জন্মদিন পালন
- রাজ্য স্কুল অ্যাথলেটিক্সে মালদার সাফল্য: ঝুলিতে ৬ সোনাসহ ১২ পদক
- খড়দহে বিজেপির দলীয় কর্মসূচিতে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ও বোমাবাজির অভিযোগ, আহত ৪; আটক ৬
- অনুষ্ঠিত হলো নিখিলবঙ্গ মেধা অন্বেষণ উৎকর্ষ অভিযান ২০২৬
- আয়না
- ভেজাল হলুদ কাণ্ডে ধৃতকে আদালতে পাঠাল সামসেরগঞ্জ থানার পুলিশ
- ভাষাইপাইকড় পঞ্চায়েতে খারিজ স্টে অর্ডার, বহাল প্রধান-উপপ্রধান
- SIR আবাস ও অন্নপূর্ণা—৮ দফা দাবিতে ফরাক্কা BDO-কে কংগ্রেসের ডেপুটেশন
- সবজির ব্যাগে কোটি টাকার হেরোইন! সামশেরগঞ্জে পুলিশের জালে ১৮ বছরের যুবক
- দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে হুমায়ুনকে ‘আটক’, রেজিনগর উপনির্বাচনে উত্তেজনা
- বোমা-গুলি নেই, চলছে নিঃশব্দ সন্ত্রাস’, রেজিনগরের ভোট নিয়ে তোপ অধীরের
- এনটিপিসি ফরাক্কার প্রশিক্ষণে ৩০ জনেরই চাকরি বৈষ্ণবন
- সামশেরগঞ্জে ভেজাল হলুদ তৈরির কারখানায় পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার এক
- পাকুড়-বাংলা সীমান্তে ফের চালু টোটো স্ট্যান্ড, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় সীমান্তবাসী
- রঘুনাথগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার, গ্রেফতার চার
- ঘৃণার আগুন নিভিয়ে দাও মৈত্রীর প্রদীপ জ্বেলে দাও






























