১৯৪৬, পাঁঠাবাদ, লাহিড়ীবাদ, মনুষ্যবাদ ও আমরা
খগেন্দ্রনাথ অধিকারী
প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬ ১৮ ০৬ ২৫ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১৮ ০৬ ২৫
১৯৪৬,পাঁঠাবাদ, লাহিড়ীবাদ, মনুষ্যবাদ ও আমরা
খগেন্দ্রনাথ অধিকারী
_____________________
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ আমাদের দেশের বুকে তার শাসন দীর্ঘায়িত করার জন্য নানাভাবে বরাবর চেষ্টা করেছে।মুখে না বললেও, মনের গভীর হতে ,১৭৫৭ সালের ২৩শে জুনের পলাশীর প্রান্তর থেকে মীরজাফর,ইয়ার লতিফ,রাজা রায় দুর্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখ চক্রান্তকারীদের সঙ্গে প্রাক-পলাশী -যুদ্ধ পর্বে যড়যন্ত্রের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তারা ভেবেছিল যে এই দেশের মানুষরা মানেই
সবাই হোল বেইমান, বিশ্বাস ঘাতক, কুলাঙ্গার। কিন্তু সবাই তা যে নয়, এদেশেও দেশপ্রেমিক মানুষদের অস্তিত্ব আছে, অসাম্প্রদায়িক মানুষদের অস্তিত্ব আছে, সেটা তারা বুঝে ছিল পলাশীর মাটিকে রক্তে ভিজতে দেখতে। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে তারা
দেখে ছিল যে একজন মুসলিম শাসক নবাব, সিরাজউদ্দৌলার ,প্রধান সেনাপতি মীরজাফর মুসলিম হয়েও যেখানে কাঠের পুতুল হয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে ক্লাইভ বাহিনীর সশস্ত্র আক্রমনের মুখে, সেখানে তখন নিশ্চিত
মৃত্যু জেনেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মীর মদন, মোহনলালের মত গুটিকয়েক বীর সৈনিক অকুতোভয়ে লড়ে গেছে ও শহীদের মৃত্যু বরণ করেছে
নবাবের হয়ে ঐ আম্র কুঞ্জে।
সেদিন ই তারা বুঝেছিল যে এই "বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি"এবং এই মাটির সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শক্তির উৎস হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকল মানুষের ভ্রাতৃত্ববোধ।
তাই তারা গোড়া থেকেই হিন্দু মুসলিম ঐক্য সম্পর্কে খুব সতর্ক ছিল। তবুও হাজার হোক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তো ছিল একটা বেনিয়াদের আখড়া।তারা তো এদেশকে শাসন করবে বলে এখানে আসতে চায়নি,আসতে চেয়েছিল ব্যবসা করতে। কিন্তু পরিস্থিতির চক্রে "বণিকের মানদণ্ড দেখা দিল
রাজদণ্ড"রূপে।চলল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন একশ বছর ধরে,১৭৫৭-১৮৫৭সাল অবধি। এই সময় কালে এদেশে বড়ো বড়ো ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ঢেউ উত্তাল হয়ে উঠেছে।যথা ফারাজী আন্দোলন,ওয়াহাবী আন্দোলন, ইত্যাদি। এইসব আন্দোলনের মূল শক্তি ছিল হিন্দু মুসলিম ঐক্য। হিন্দু মৌলবাদী ঐতিহাসিকরা তাদের গৈরিক দৃষ্টিকোণে এইসব আন্দোলনকে মুসলিম পুনর্জীবন বাদী আন্দোলন বলে তাচ্ছিল্য করেছেন। অন্যদিকে মুসলিম মৌলবাদীরা এইসব আন্দোলনকে "কাফেরদের দেশে শরিয়ত সুরক্ষা"করার প্রয়াস বলে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। তাঁরা তিতুমীরকে এদেশের মাটিতে
একজন শরিয়ত সুরক্ষার সেনাপতি হিসাবে অভিহিত করেছেন।
কিন্তু অধ্যাপক বীরেন মুখার্জী, সুপ্রকাশ রায়, নরহরি কবিরাজ প্রমুখ ঐতিহাসিকরা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের আলোকে দেখিয়েছেন যে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার অনিবার্য কারণে এই সব আন্দোলন সঙ্গে ধর্মীয় প্রশ্ন জড়িয়ে গেছে বটে, কিন্তু সেগুলি গৌণ প্রসঙ্গ।মুখ্য বিষয় হলো যে এই সব সংগ্রামের মুল সুর ছিল সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জিহাদ। তিতুমীর ঘটনাচক্রে মুসলিম ছিলেন,আর অত্যাচারী জমিদার কৃষ্ণ দেবরায় হিন্দু ছিলেন। কিন্তু অত্যাচারিত
কৃষকরা হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সবাই তিতুমীরের আহ্বানে ঐ জমিদারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সৈনিক ছিলেন। বাঁশেরকেল্লা করে বীরের মতো তিতুমীর ও তাঁর সহযোগীরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী ও জমিদারদের যৌথ বাহিনীর অভিযানের বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে শহীদ হয়েছিলেন। একাধিক কৃষককে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে ঐ যৌথ বর্বর বাহিনী প্রকাশ্যে গাছের ডালে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে ছিল। সুতরাং তিতুমীর যে বীর স্বাধীনতা যোদ্ধা ছিলেন এবং এইসব আন্দোলনের মূল সুর যে ছিল একাধারে সামন্ততন্ত্র ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতা, তাতে কোন সন্দেহই নেই।
কিন্তু শাসক বণিক গোষ্ঠীর
অর্থাৎ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এতে কানে কোন জল ঢোকেনি। বেনিয়া দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের লক্ষ্য ছিল বাংলা সহ গোটা ভারতকে তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থে কাঁচা মাল সরবরাহের কেন্দ্র হিসাবে ও পাকা মাল বিক্রি করার বাজার হিসাবে ব্যবহার করা। তারা কমদামে এদেশের থেকে কাঁচামাল আমদানি করত,আর বেশী দামে তাদের তৈরি শিল্পজাত পণ্য এদেশের মানুষের কাছে বিক্রি করত। অর্থাৎ দুই দিক দিয়েই এদেশের মানুষ শোষিত হতো তাদের হাতে।
এই শোষণের বিরুদ্ধে মহাবিস্ফোরণ হোল১৮৫৭সালে যাকে কার্ল মার্কস ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলে অভিহিত করেছেন। এই স্বাধীনতা যুদ্ধ সসাগরা ভারতবর্ষের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত্তিকে টলিয়ে দেয়।এর আগে ইংরেজ শাসনের একশ বছরে ছোট বড়ো অনেক অনেক লড়াই হয়েছে মুক্তির জন্য। আত্মত্যাগের মহিমায় তারা ছিল সন্দেহাতীতভাবে উদ্ভাসিত। তবু তাদের কোন সর্বভারতীয় চেহারা ছিল না। তারা ছিল স্বরূপতঃ আঞ্চলিক সংগ্রাম।১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে ভারতের সব অংশের মানুষ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে অংশগ্রহণ করে এবং অভূতপূর্ব ভাবে হিন্দু মুসলিম ঐক্য আত্মপ্রকাশ করে।মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে নেতা হিসাবে
মেনে ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মীবাঈ, তাঁতিয়া তোপী প্রমুখ হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সবাই ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ময়দানে নামেন।এই বাংলার ব্যারাকপুরের মাটিতে মঙ্গল পাণ্ডে হন প্রথম শহীদ।
এই মহাবিদ্রোহের রুদ্র মূর্তি দেখে তথা এর মধ্যে প্রতিফলিত হিন্দু মুসলিম ঐক্য দেখে, ইংরেজদের টনক নড়ে। বেনিয়াদেরকে দিয়ে অর্থাৎ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দিয়ে আর যে ভারতকে শাসন করা যাবে না, শাসন করলে ভারত অচিরেই লন্ডনের হাত ছাড়া হয়ে যাবে, এই বোধোদয় তাদের হয়।
ফলে ১৮৫৮সালে ইংরেজরা ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের শাসন চালু করে। এই পর্বে ব্রিটিশ শাসকদের ভারত শাসনের মূল মন্ত্র হয়ে দাঁড়ায় "divide and rule". অর্থাৎ ভারতীয় জনতার প্রধান যে দুই গোষ্ঠী হোল হিন্দু ও মুসলিম এবং যাদের মধ্যে অশোক আকবর দারাশিকো থেকে শুরু করে বিবেকানন্দ রবীন্দ্রনাথ নজরুল গান্ধীজী প্রমুখদের আমল পর্যন্ত সম্প্রীতির ফল্গধারা প্রবাহমান, সেই ধারার গতিপথকে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির মরুভূমির মাধ্যমে রুদ্ধ করে দেওয়া। এই লক্ষ্যে তারা সুকৌশলে আলাদা আলাদা ভাবে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের "এলিট"বা অভিজাত গোষ্ঠীর
মানুষদের মগজ ধোলাই শুরু করে। মুসলিমদের কে তারা বোঝায় যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এদেশে সংখ্যা গরিষ্ঠ। কাজেই ভারত ছেড়ে তারা অর্থাৎ ইংরেজরা চলে গেলে, মুসলিমরা হিন্দুদের পদানত থাকতে বাধ্য হবে। সুতরাং সম্মান নিয়ে মুসলিমদের বাঁচতে হলে তাদেরকে ভারত ভাগ করে পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনা করতে হবে।এই মগজধোলাই এর ফসল হিসেবে জিন্না, ইকবালদের আবির্ভাব। উল্লেখ্য যে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, সীমান্ত গান্ধী খান আব্দুল গফুর খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বারে বারে বলেছেন যে হিন্দু -মুসলীম সম্প্রীতি ভারত ইতিহাসের আত্মা। ইংরেজদের মদতে একথা প্রচার করা হয় যে এই কথা নিছক ধাপ্পাবাজি। এদেশের মাটিতে কোন দিন ও হিন্দু মুসলিম ঐক্য ছিল না। আশ্চর্যের কথা যে বাবা সাহেব আম্বেদকর ও এই সুরে সুর মিলিয়ে বলেন যে ভারতের ইতিহাসে হিন্দু মুসলিম ঐক্যের তত্ত্ব সোনার পাথর বাটির মতোই অবাস্তব।
অন্যদিকে ইংরেজরা হিন্দুদেরকে এই বলে মগজধোলাই করে যে তারা এদেশের মানুষের সিংহভাগ হয়েও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তারা সংখ্যালঘু মুসলিমদের পদানত থাকতে বাধ্য হয়েছে, ইংরেজদের শাসনকালেই তারা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। কিন্তু তারা অর্থাৎ ইংরেজরা এদেশ ছেড়ে চলে গেলে তো আবার তারা সেই সংখ্যা লঘু মুসলিমদের পদানত থাকতে বাধ্য হবে। সুতরাং তাদেরকে ভেবে দেখতে হবে।
এই মগজধোলাই এর ফসল হলো হিন্দু মৌলবাদীরা।
যাই হোক, ইংরেজদের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পরিণতিতে ১৯০৬সালে ঢাকা শহরে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯২৫ সালে নাগপুরে আর এস এস প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দুই সংগঠনের মাধ্যমে ইংরেজরা অবিভক্ত বাংলা তথা ভারতের চারিদিকে হিন্দু মুসলিম বিভাজনের বিষ ছড়িয়ে দিতে থাকে। কিন্তু জাতীয় কংগ্রেসের তথা কমিউনিস্টদের আপোষহীন প্রচার,লীগ -আর এস এস-হিন্দু্ মহাসভার ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতিকেই শুধু নয়, জ্যোতি রাও ফুলে -সাবিত্রী ভাই ফুলে-ফতেমা শেখ দের মানবতাবাদী অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে বাবা সাহেব আম্বেদকর যে জাতিপাতবাদী রাজনীতির খেলা শুরু করে ছিলেন, তাতেও জল ঢেলে যায়।সবকিছুই যখন ভেস্তে যেতে বসেছে, তখন মরীয়া হয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর ছক কষলো উপায়হীন ভাবে। হাতে তাদের সময় নেই বেশি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসানে আমেরিকা পশ্চিমী দুনিয়ার নেতা হয়েছে, সোভিয়েত ইউনিয়ন হয়েছে সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ার নেতা। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ফ্যাসিস্ট ও নাৎসীদের পরাজয়ে সোভিয়েত লাল ফৌজ তথা কমরেড স্টালিনের অবদানের জন্য সদ্য প্রতিষ্ঠিত সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ভিতরে ও বাইরে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব দারুন বেড়ে যায়। সোভিয়েত প্রধান কমরেড যোসেফ স্টালিন প্রস্তাব করেন যে পরাধীন থাকলেও ভারতকে জাতি পুঞ্জের সভ্য করা হোক।মন থেকে সায় না থাকলেও , আমেরিকা, ব্রিটেন,ফ্রান্স সহ পশ্চিমী দুনিয়ার সাহস ছিল না এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করার।১৯৪৫সালেই,এর ফলে, ভারত জাতিপূঞ্জের সভ্য হয়ে যায়।
এরপর ধারাবাহিক ভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দেশও ব্রিটেনের উপর চাপ বাড়াতে থাকে ভারতকে অবিলম্বে স্বাধীনতা দেবার জন্য।অন্যদিকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির বোঝায় ব্রিটেনের মেরুদন্ডটি ভেঙ্গে যায়। তার পক্ষেও আর সম্ভবপর হচ্ছিলো না ভারত শাসন করা। সসম্মানে যতখানি সম্ভব নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থকে রক্ষা করে,শান্তিপুর্ন অবস্থায় ব্রিটেন দ্রুত ভারত ছেড়ে চলে আসতে চাইছিল।তাই মরীয়া হয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ এদেশে মরণকামড় হিসাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর ছক তৈরি করে গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিলকে দিয়ে যার সভ্য (শ্রমমন্ত্রী) ছিলেন বি আর আম্বেদকর।আর এই ছক রূপায়ণ করার দায়িত্ব অবিভক্ত বাংলায় পড়ে তার প্রধানমন্ত্রী হুসেন সুরাবর্দির উপর।১৯৪৬এরGreat Calcutta Killing সেই ঘৃণ্য সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের পরিণাম। অসংখ্য সাধারণ মানুষ হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে খুন হয়েছেন এই দাঙ্গায়।সবার উপরে ছিল গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিল যার মধ্যে ছিলেন আম্বেদকর। মাঝখানে ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হুসেন সুরাবর্দি।সবার নীচে দাঙ্গাবাজ মৌলবাদী রাজনীতির হিন্দু মুসলিম খুনীরা। রক্তের বন্যায় ভেসে গেছে কোলকাতার রাজপথ। কাউন্সিল সদস্য আম্বেদকর নীরব। মনে পড়ে যায় যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ জালিয়ানাওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নাইট
উপাধি ত্যাগ করেছিলেন। আম্বেদকর এই পরিকল্পিত দাঙ্গার প্রতিবাদে কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ তো দূরের কথা, টু শব্দটি করননি।আর বাংলার প্রধানমন্ত্রী হুসেন সুরাবর্দি তো কসাইখানা বানিয়ে ফেলেছিলেন কোলকাতার রাজপথকে যেখানে অসহায় মানুষেরা হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের লোক জবাই/বলি হচ্ছিলেন অগুনতি হারে। জনৈক গোপাল পাঁঠা (ওরফে মুখার্জি)এই দাঙ্গায় হিন্দু দের রক্ষার নামে নির্বিচারে মুসলিম হত্যায় মেতে ওঠে।আর কমিউনিস্ট নেতা কমরেড সোমনাথ লাহিড়ী ও কমরেড আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে কোলকাতা শহরের ট্রাম শ্রমিকরা গোটা শহরে
দাঙ্গা রুখতে রাজপথে নেমে আসেন এবং হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষদের জীবন রক্ষায় অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন।১৯৪৬এর দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে যদি কোলকাতার কোন সুসন্তানের নামে কোলকাতার কোন রাজপথে র নাম রাখতে হয়, তাহলে সেটা করতে হবে যিনি বা যাঁরা মানুষকে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে বাঁচিয়েছেন বা বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, তাঁর বা তাঁদের কারও নামে। এই দাঙ্গায় যারা মানুষকে খুন করেছে, তাদের কারোর নামে রাস্তার নামকরণ করা কুরুচিকর। উল্লিখিত গোপাল পাঁঠা ওরফে মুখার্জির নামে বর্তমান সরকার একটি রাস্তার নামকরণের সুপারিশ করেছেন কোলকাতা পৌরসভার কাছে।১৯৪৬এর দাঙ্গায় অগণিত নিরপরাধ হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষকে ঠাণ্ডা মাথায়খুন করিয়ে ছিলেন নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হূসেন সুরাবর্দি।আর পাঁঠার মাংস বিক্রি করা কসাই গোপাল পাঁঠা কসাই এর আর এক ভূমিকায় নেমে নিজে ও তার দলবল অজস্র মুসলিমকে নারী শিশু যুবক যুবতী নির্বিশেষে টুকরো টুকরো করে বউবাজার সহ কোলকাতার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিয়েছে। এই বর্বরতাকে মহিমান্বিত করে গেরুয়া শিবির তথা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্তাব্যক্তিরা সাফাই গাইছেন যে গোপাল পাঁঠা সেদিন এই ভাবে বহু হিন্দু মানুষের রক্ষাকর্তা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল।তাই তার স্বীকৃতি হিসাবে তার নামে এতবছর বাদে কোল কাতার একটি রাস্তা উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এবারে বলি, মানুষ মানুষই। হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান পরিচয় তার গৌণ। তাকে তার জাতি ধর্ম লিঙ্গ গায়ের
রঙ, জন্ম স্থান না দেখে যে ব্যক্তি বা যারা বাঁচাতে এগিয়ে আসে সে বা তারাই প্রণম্য।আর যে বা যারা জাতি ধর্ম বর্ণ দেখে একজন বা একদল মানুষের রক্তে পাঞ্জা ভিজিয়ে আর একজন
বা আর একদল মানুষকে রক্ষা করে সে আদৌ প্রণম্য নয়,সে অতীব ঘৃণ্য।গোপাল পাঁঠা ওরফে গোপাল মুখার্জি
এই দ্বিতীয় পর্যায়ে পড়ে।
যাঁরা মানবতার প্রতীক, তাঁরা বিপন্ন মানুষকে বাঁচাতে এসে তার জাত ধর্ম, লিঙ্গ, গায়ের রং, জন্মস্থান, এসব বিচার করেন না। তাকে বাঁচিয়ে তোলাই তাঁর বা তাঁদের মূল উদ্দেশ্য থাকে। কোলকাতা শহরের অকুতোভয় বীর হিন্দু -মুসলিম ট্রাম শ্রমিকরা তাঁদের প্রিয় নেতা কমরেড সোমনাথ লাহিড়ী ও কমরেড আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে প্রতিটি ট্রাম ডিপো থেকে দলবেঁধে এলাকায় এলাকায় টহল দিয়েছেন দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে।না হলে ঐ সাংবিধানিক জহ্লাদ প্রধানমন্ত্রী সুরাবর্দি ও বউবাজারের পাঁঠা কাটা কসাই গোপাল পাঁঠার অঙ্গুলি হেলনে আরও বহু নিরপরাধ হিন্দু মুসলিম ভাই বোনদের লাশে কলকাতার রাজপথ ভরে যেত।
তাই ঐ সর্বনাশা দাঙ্গার সূত্র ধরে যদি কেউ কোন নামকরণ কোন রাস্তার বা এলাকার বা ভবনের করতে চান তাহলে কমরেড সোমনাথ লাহিড়ী ও কমরেড আব্দুল হালিমের নামে করুন,আর একটি স্মৃতিস্তম্ভ ট্রাম শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তৈরী করুন। তাহলে ইতিহাসের প্রতি সুবিচার হবে। এই সুবিচারের স্বার্থে গণহত্যার সাংবিধানিক খলনায়ক হুসেন সুরাবর্দির নামে যেমন সঠিকভাবেই কোলকাতায় কোনো স্মৃতিচিহ্ন নেই, তেমনি সংবিধান বহির্ভূত গণহত্যার এক খলনায়ক চরিত্র গোপাল পাঁঠার নামেও কোন স্মৃতিচিহ্ন বিবেকানন্দ -রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থান ও মৌলানা আবুল কালাম আজাদের শৈশব বিজড়িত কোলকাতার বুকে থাকতে পারে না।এটা আমাদের লজ্জা, আমাদের কলঙ্ক।এর
হাত থেকে আমাদের মুক্তি পেতেই হবে। সেই সঙ্গে বলি, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে আরও
দায়িত্বশীল হতে হবে। কোন্ হবু চন্দ্র তাঁকে বুঝিয়েছে যে হাসান সুরাবর্দি ছিলেন ১৯৪৬ সালের ঐ দাঙ্গার নায়ক? উনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তাঁর নামে উৎসর্গীকৃত রাস্তার নাম পাল্টে দিয়ে ঐ গণহত্যার সংবিধান বহির্ভূত
খলনায়ক গোপাল পাঁঠার নামে করলেন? মূখ্যমন্ত্রী পদের মর্যাদার সঙ্গে এটা বেমানান। এই ভুল শুধরে গোপাল পাঁঠার নামে কোন স্মৃতিচিহ্ন না করে শিক্ষাবিদ হাসান সূরাবর্দির নামেই পূর্বতন রাস্তাটির নাম বহাল রাখুন। এতে পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণ হবে, দেশবাসীর কাছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের কাছে একটা সুন্দর বার্তা যাবে। সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ ও শান্তিকামী সাধারণ মানুষেরা এটাই প্রত্যাশা করে। হাসান ও হুসেনের প্রভেদটা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বুঝুন এবং উল্লিখিত গোপাল পাঁঠা ও হুসেন সুরাবর্দি সম্পর্কে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে একাসনে বসানোর সিদ্ধান্ত নিন ও অবিভক্ত বাংলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হাসান সূরাবর্দির মর্যাদা রক্ষা করুন, এটাই সময়ের দাবি।
- ১৯৪৬, পাঁঠাবাদ, লাহিড়ীবাদ, মনুষ্যবাদ ও আমরা
- কবিতা - জীবনরাগ
- মদন বাউরি
- কালিয়াচক কলেজে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস
- কালিয়াচক কলেজে পালিত হলো পশ্চিমবঙ্গ দিবস
- কবিতা - শান্ত নদীর জল
- পশ্চিমবঙ্গ দিবস, গৌরব, গ্লানি ও আমরা
- পঞ্চায়েত ঘেরাও করে ১০ দফা দাবি পেশ, ভাসাইপাইকড়ে সিপিআইএমের
- বহিষ্কৃত ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করা নিয়ে হাই কোর্টের প্রশ্ন, রায় বৃহস্পতিবার
- জনকল্যাণ শিবিরে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া, পরিদর্শনে ফরাক্কার পরিচিত মুখ তথা বিজেপি নেতা সুনীল চৌধুরী।।
- অভিষেকের পর কুণালও সিআইডির তলবে
- জঙ্গিপুর থেকে মমতা প্রার্থী হলে ইস্তফা দেব: খলিলুর রহমান
- অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি, ঘটনাস্থলে মমতা
- হাফপ্যান্টে জাহাঙ্গির, ফলতায় ঘোরাল পুলিশ
- বাইকে সমস্যা, পেট্রোলে জল মেশানোর অভিযোগ! সামশেরগঞ্জে চাঞ্চল্য
- সঞ্জীবের জন্মদিনে প্রতিকৃতি এঁকে নজির গড়ল নদিয়ার ক্ষুদে শিল্পী অঙ্কুশী
- কবিতা - গুমোট আবহাওয়া
- শিশুদের কেন্দ্রেই সংসার! ১২ বছর পর পুলিশের অভিযানে খালি হল অঙ্গনওয়াড়ি
- রঘুনাথগঞ্জে অবৈধ নির্মাণে বুলডোজার,
- বিয়ের প্রলোভন, তারপর লখনউ যাত্রা—CCTV ভেস্তে গেল পরিকল্পনা
- ভুয়ো পরিচয়পত্রে ভারতীয় সেজে বসবাস! শামশেরগঞ্জে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি
- কবিতা - উনুনে জ্বাল দিচ্ছে গ্রীষ্মের সূর্য
- কবিতা - ছন্দ
- কবিতা - মুগ্ধময় বসন্ত
- কবিতা - মুগ্ধময় বর্ষা
- প্রবল ঝড়ে লণ্ডভণ্ড জনজীবন, ধুলিয়ান-পাকুর রোডে গাছ ভেঙে যান চলাচলে বাধা
- সুতির বহিতালীতে পুলিশের হানা, উদ্ধার ৯০০ গ্রাম সোনা ও ১১ লক্ষ টাকা; গ্রেফতার এক
- ঋতব্রতকে চেয়ে চিঠি
- নবান্নে একমঞ্চে তৃণমূল
- অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম নিয়ে প্রশ্নের ঝড়, আবেদনপত্র সংগ্রহে আগ্রহ কম গ্রামবাসীদের
- বহিষ্কৃত ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করা নিয়ে হাই কোর্টের প্রশ্ন, রায় বৃহস্পতিবার
- পঞ্চায়েত ঘেরাও করে ১০ দফা দাবি পেশ, ভাসাইপাইকড়ে সিপিআইএমের
- কালিয়াচক কলেজে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস
- কবিতা - শান্ত নদীর জল
- পশ্চিমবঙ্গ দিবস, গৌরব, গ্লানি ও আমরা
- কালিয়াচক কলেজে পালিত হলো পশ্চিমবঙ্গ দিবস
- কবিতা - জীবনরাগ
- মদন বাউরি
- ১৯৪৬, পাঁঠাবাদ, লাহিড়ীবাদ, মনুষ্যবাদ ও আমরা
- স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা
- হাইলাকান্দিতে অজ্ঞাত মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার
- বিজেপি কর্মীদের ওপর নৃশংস গণহত্যার প্রতিবাদে মৌন মিছিল
- রাজ্যে নতুন মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়ার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল
- প্রশাসক পদ থেকে তরুন নেতার অপসারণ,ক্ষুদ্ধ তরুণ প্রজন্ম
- যদুপুরে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি
- কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আক্রান্ত গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন
- চাঁচলে নিখোঁজ গৃহবধু, দুশ্চিন্তায় স্বামী
- পিঠার পসরা নিয়ে হাজির খাবারের দোকানে
- প্রিয়রঞ্জন দশমুন্সির ক্যারিশমা লোকসভা নির্বাচনে ব্রাত্য?
- মেয়েটির কান্নার আওয়াজ শুনে পাশে কে দাঁড়াবে
- ইউপিএসসিতে চমক মুর্শিদাবাদের সানা আজমির
- উচ্চমাধ্যমিকে অষ্টম কালিয়াগঞ্জের মধুরিমা
- সাবিরের ডাক্তার হয়ে গরিবের সেবা করাই বাধা অর্থসঙ্কট
- উত্তর মালদার সিপিএম প্রার্থী বিশ্বনাথের ভোট প্রচারে বিমান বসু
