কবিতা - আপেলমুখ
আপেলমুখ
নিলয় রফিক
বাঁকখালী-দেহরূপ প্রেমের মুগ্ধতা ইতি-টেনে
গ্রামীণ সড়কে পাশে,বৃক্ষছায়া যুগল আয়েশ
পায়রা-ঘুঘুর গানে,ঘুমঘোরে ফুলের সকাল
রোদের ডানায় স্বপ্ন চাষে পার কৌশল-মহলে।
সন্ধ্যায় নদীর ঘাটে,ক্লান্তিদাগ জলের শিরায়
একাকিত্ব প্রকৃতির শব্দঘরে চোখের কুহক
আড়ালে আপেলমুখ,আড্ডার নাহারে দেখা হবে
শূন্যতা টেবিল ফাঁকা,স্মৃতির সৌরভ গন্ধ ডাকে।
আলোর আঁধারে বাঁকে
পোড়াবিলে নির্জনে আলয়
অদূরে কবিতাবাড়ি,পরিচর্যা চিন্তায় মগ্নতা
কুনজরে লাঠিবাহু নামজারি ভূমির দপ্তরে
সীমানা দেয়াল-রেখা, বীজতলা অমৃতি সুরভি।
নিলয় রফিক
মহেশখালী,কক্সবাজার,বাংলাদেশ
কবি নিলয় রফিকের জন্ম ৬ আগস্ট ১৯৮৩ সালে। স্কুল জীবন থেকেই স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য পাতায় লেখালেখি শুরু। পরর্বতীতে বিভিন্ন লিটলম্যাগসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্রিকায় কবিতা প্রকাশিত হয়। এ পযর্ন্ত বিশটির ও বেশি বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে তার উল্লেখযোগ্য কবিতা। ইতিমধ্যে ল্যাটিন আমেরিকার 'অ্যাামাজন' থেকে প্রকাশিত হয়েছে ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ 'সান লীফ'। বাংলা ভাষায় তার লেখা কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ছয়টি যথাক্রমে ১.বিশুদ্ধ বিষাদে ভাসি আমি রাজহাঁস ২.পিপাসার পরমায়ু ৩.নোনামানুষের মুখ ৪,অজ্ঞাত আগুন ৫ আঁখিআঁকা আদিনাথ ৬.মোমের প্রার্থনায় নত মাটির শরীর। তার কবিতায় রয়েছে ভাবের মায়াজাল, ঘোরলাগা অনুভব। শব্দ ও ছন্দের অসামান্য বুনুনে কবি নিলয় রফিক যেন মায়াবী জাদুকর।
০২:৫৮ পিএম, ৬ জুলাই ২০২৪ শনিবার
Poem - The Cliff of Life
THE CLIFF OF LIFE
Cvija Peranovic Kojic
BiH/Austria
We parted on the cliff of life,
in the full brightness of the moon's flame.
You are leaving, the rivers are carrying you away
the rivers that connected the two young lives.
Our tears greeted the whisper of dawn,
and the truth is spreading its sadness...
Until yesterday we were counting the mornings,
and today you are not around anymore.
In the abyss of thoughts and feelings
we gave birth to winter in our chest.
We are no longer what we used to be,
but the memory still hides its charms.
Biography:
Cvija Peranovic Kojic was born 1968 in Brčko, BiH, Austria. After finishing high school, in her hometown, she continued to live and study in Austria, at the Higher School of Economics, studying German at the same time, and later she studied psychology at the Pedagogical Academy in Brčko. Today, he lives in Austria with his family and is actively engaged in literary and scientific work. She is the author of six independent books, four for adults: Where Love Connects, We Build Bridges of Happiness, The Other Side of Life, Alchemy of Mind and Soul and two books for children: Let's Play and Playful World of a Little Schoolboy. It is represented in dozens of anthologies in BiH and the region, but also around the world. She is a member and ambassador of many regional and international literary associations and academies and a participant in several international poetry festivals. She is the winner of numerous awards and recognitions, and her work has been translated into several foreign languages.
০২:৫৬ পিএম, ৬ জুলাই ২০২৪ শনিবার
Poem - Love Unstable
০২:৫০ পিএম, ৬ জুলাই ২০২৪ শনিবার
Poem - A Good Morning Call (A Decent Love Poem)
A Good Morning Call (A Decent Love Poem) Santosh Kumar Pokharel
My love does sleep infinite
I try to catch her sight
She goes missing all the way
For all the day and night.
She descends from high abode
As if she took some flight
Came to me to take my woes
And soothe me with her light.
Hopes she comes to my life
I will not hope for more
She may turn that kind to me
I will her all adore.
© Santosh Kumar Pokharel
March 04, 2024. Bhaktapur, Nepal.
Biography:
Santosh Kumar Pokharel is the global poet of our time. He is a multilingual poet, essayist, and translator from Nepal. He writes in six languages and has thousands of poems in Nepali, English, Hindi, Russian, Maithili, and Tharu. He has published nine books and written thousands of his poems which have been translated into thirty nine languages of the peoples of the world so far.
The winner of the title World Poet from Russia, the Best International Poet from China, and The World's Golden Writer from ten countries of the world, poet Pokharel is the pride of whole Asia.
Poet Pokharel is the inventor of Pokhrelian Stanzas the #pokhreliknots on the poetry world which is now practiced by poets globally.
We are publishing here his two decent and lyrical love poems for you. Here the poet is excitingly romantic.
০২:৪৯ পিএম, ৬ জুলাই ২০২৪ শনিবার
Poem - Woman, Yesterday, Today, Tomorrow,
WOMAN, YESTERDAY,TODAY , TOMORROW
Prasanna Bhatta
Wo: man, you are nothing without woman
Woman, you are nothing without, wo: man
Reverent woman and reverential man are complementary
Eachone is the part &parcel to make family satisfactory .
Love and affection were her worthy treasure
Rearing and caring family was her decency to measure.
Loyalty, devotion & charity beautified her character and behaviour
Beautification of family sharing her love and affection was her pleasure
Killing traditional belief, woman willing to be strong and stout
Competing with man centred society with her bent and talent
Changed herself self conscious,self confident and self centred
Selfish and self hood tosses her to create a nuclear family centred .
Decorated with power,position and property,she losses her balance
Undoubtedly, Women (oomin) empowerment has touched at the apex of success
Leaving beauty and loyalty of family and old parent's service
Time awaits to see children's care under maid servant and old parent at sweet home
Future needs a balance between woman's supplement and empowerment without boredom.
©️®️@Prasanna Bhatta, India
Biography:
Prasanna kumar Bhatta, M.A, M.Ed, retired principal of GVJC COLLEGE and lecturer in English revived his passion of writing (from APRIL 2021) poetry , belongs to Odishs, India.
০২:৪৭ পিএম, ৬ জুলাই ২০২৪ শনিবার
Article - TO THE PARENTS
Article - TO THE PARENTS
Doctor Prince Herman López
Colombia
The welfare of the parents is the duty of the children, because they cared and gave them their sacrifices. As a gift of love, they neglected themselves to give us the best of what they did not have.
Working from sun to sun to bring sustenance, bread to the table and the dress of the premiere. Moments of afflictions they endured with fortitude when, due to our rebellion, we broke the rules.
We thought we were the center and we did not always obey, without realizing that with their services we supported ourselves, that is why when they are not there we value their efforts and we thank God and pray for those who do not have.
That is why my advice is that regardless of their defects, we owe them a large part of what we are and have, to correspond with love to their work and efforts, and to make sure that in their old age they lack absolutely nothing.
©Doctor Prince Herman López
Biography:
Doctor Prince Herman Iván López Torres is
a Colombian International Literary Artist
Writer and Poet, Royal Ambassador of Peace, Ambassador of Humanity, Goodwill Ambassador, Bachelor's degree in Human Development, Professional Training Consultant, Diploma in Culture and Literature, Diploma in Poetry and Literature,
Master of Arabik and Literature, Doctor of Humanities, Professional Doctorate in Human Development, Research Doctorate,
Executive Research Doctorate, Founder of the Royal House of Saint Matthew, Lórres and Wolfwers, an Aristocrat and International Personality.
০৭:০২ পিএম, ৫ জুলাই ২০২৪ শুক্রবার
মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন
মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন
হামিমা রুমা (বাংলাদেশ)
একটা বয়সের পর প্রত্যেকটা মানুষের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়,, নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়া,,শুধুমাত্র নিজের ভালোর জন্য!!ঠিক সময়ে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে না শিখলে ওটাই একদিন বড় শারীরিক অসুস্থতায় রূপ নেয়।। মানসিকভাবে যে যতবেশি যত্নশীল শারীরিকভাবে সে ততবেশি ফুরফুরে থাকে।।এখন মানসিকভাবে শক্ত থাকা যায় কিভাবে???? মানসিক যত্ন নিতে হয় কিভাবে?? এই প্রশ্ন মনে ঘুরপাক খাচ্ছে তাইনা???? একদম সহজ!!!
...যে মানুষগুলো মুখে জিততে চায় তাদের জিতিয়ে দিয়ে নিজেকে রিল্যাক্স রাখার প্র্যাকটিস করা,,,
.....যে মানুষগুলো সামনের জনকে বুঝাতে চায় আমিই সেরা,,তাদের আরো কিছু মশলামাখা মিষ্টি কথা দিয়ে সত্যি সে সেরা উপলব্ধি করিয়ে দিয়ে, সেখান থেকে হাসিমুখে নিরবে নিজেকে আড়াল করে ফেলার প্র্যাকটিস করা,,,
.....যে মানুষগুলোর সাথে থাকলে মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায় তাদের সান্নিধ্যে থাকার প্র্যাকটিস করা,,,,
.....যে মানুষগুলো সামনের জনের নম্রতা আর ভালো মানুষীকে দুর্বলতা ভাবে,,তাকে ওটাই ভাবতে দেয়া উচিত এতে নিজের উপকার,, মন আঘাতকে নির্মমভাবে হারিয়ে দিয়ে খুশি খুঁজে নিতে শিখে যায়,,,
....তর্ককে আজীবনের জন্য স্কিপ করার প্র্যাকটিস করা,,,,
.....সবাইকে সম্মান দিয়ে ভালো আচরণ দিয়ে আগলে রাখার প্র্যাকটিস করা,,,
...…নিজের মনকে কন্ট্রোল করে সকল ভালো খারাপ পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার প্র্যাকটিস করা,,,
......নিজেকে যেভাবে ভালো রাখা যায় সেভাবে নিজের পছন্দ অপছন্দের বিষয়ে মনোযোগের প্র্যাকটিস করা,,,,
.......বিবেকের ভাষা বুঝে সে হিসেবে কাজের নিয়ত করে এগুলে কাজটা ত্যাগটা খুব সহজ হয়ে যায়,, এটা মনকে বুঝানোর প্র্যাকটিস করা,,,,,
.......খারাপ সময়কে ভালোবাসার প্র্যাকটিস করা,,এর মধ্যেই ভালোর অবস্থান লুকিয়ে আছে মনকে বিশ্বাস করানো,,,,
.........কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মন-মানসিকতা তৈরি করা,,,,ক্ষমা করার মন-মানসিকতা তৈরি করা,,,
.......নিজেকে বিশ্বাস করা ভালোবাসা,, নিজেকে নিজেই সকল পরিস্থিতিতে আগলে রাখার প্র্যাকটিস করা,,,,
......পরিবারকে সময় দিয়ে আন্তরিকতা দিয়ে সম্পর্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখার প্র্যাকটিস করা,,,,
...…আজীবনের জন্য কারো উপর কোনো আশা না করা এক আল্লাহ ছাড়া,,,
....…সাধ্যমতো মানুষের উপকার করার চেষ্টা করা,,এটা মনকে খুব শান্তি অনুভব করায়,,,,
.... সামনের জনের শত খারাপ ব্যবহারে নিজেকে শান্ত রেখে মাটির দিকে তাকিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলার প্র্যাকটিস করা,,,জবাবের জন্য উপরে আল্লাহ আছেন,,,
........নিজেকে সবসময়ই খুশি অনুভব করানো আলহামদুলিল্লাহ বলে,,,
.........একাকিত্বকে উপভোগ করতে শিখে নেয়া জরুরি,,, যতক্ষণ মানুষ এটা শিখবেনা ততক্ষণ তার সৃজনশীলতার আবিস্কার হবেনা,,,
......... জীবনটা খুব বেশি সুন্দর!!!! চারপাশের অসুস্থ মন-মানসিকতার পরিবেশের খারাপ প্রভাব ফেলতে দিয়ে তিলতিল ধ্বংসের জন্য জীবন নয়!!!
.......জীবনকে উপভোগ করতে জানতে হয় সব পরিস্থিতিতে জীবনের উপর সন্তুষ্ট থেকে,,নিজেকে প্যারামুক্ত রাখা জরুরি।।
সুন্দর ভাবনা সুন্দর মন-মানসিকতা জীবনকে সুন্দর করার জন্য যথেষ্ট!!!!মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে সবাইকে,, তার জন্য সবসময়ই হাসিখুশি থাকতে হবে,,,হাঁসতে থাকুন খুশি থাকুন,,খারাপ পরিবেশ নিজ দাঁয়িত্বে গায়েব হয়ে যাবে।।
পরিচিতি : হামিমা জামিল রুমা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ কমপ্লিট করেছেন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার বরকল গ্রামে। জীবনের হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে যা শিখেন তাই নিয়ে শখ করে একটু আধটু লেখালেখি করেন মানুষকে সামনে এগিয়ে চলার পথ তৈরি করার উদ্দেশ্যে।
০৬:১৬ পিএম, ৫ জুলাই ২০২৪ শুক্রবার
ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একাধিক অসুখে ভুগছে
ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একাধিক অসুখে ভুগছে
মজিবুর রহমান, প্রধানশিক্ষক, কাবিলপুর হাইস্কুল
সাম্প্রতিক নিট (NEET-ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট) কেলেঙ্কারি ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার অবস্থা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ করে দিয়েছে। নিট-ইউজি (আন্ডার গ্ৰ্যাজুয়েট) পরীক্ষার দুর্নীতি প্রকাশ হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় নিট-পিজি (পোস্ট গ্ৰ্যাজুয়েট) পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নিয়োগের পরীক্ষা ইউজিসি-নেট (ইউনিভার্সিটি গ্ৰ্যান্টস কমিশন-ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট)।মানবদেহের চিকিৎসা যেভাবে পরিষেবা থেকে পণ্য হয়ে উঠছে তাতে ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। জনস্বাস্থ্যকে কেন্দ্র করে যেভাবে ব্যবসার বৃহৎ ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে তা সত্যিই বিস্ময়কর। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুরবস্থা দূরীকরণে সকলের সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসকরা হলেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই চিকিৎসক তৈরি করার পদ্ধতির মধ্যেই গুরুতর গলদ রয়েছে। এই পদ্ধতি যেমন মেধার সাথে আপস করছে তেমনি দুর্নীতির প্লাবন দ্বার খুলে দিচ্ছে। উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞানের সিলেবাস ও নিট-এর সিলেবাসের মধ্যে বেশ কিছুটা বৈসাদৃশ্য রয়েছে।আর, এই দুটো পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্যাটার্ন অনেকটাই আলাদা।এজন্য নিট-এর প্রস্তুতির সঙ্গে স্কুলের পঠনপাঠনের খুব একটা সম্পর্ক নেই। যারা চিকিৎসক হওয়ার পরিকল্পনা করে তারা উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয় না। এজন্য তারা থিয়োরির ক্লাস নয়, শুধুমাত্র প্র্যাকটিক্যাল ও প্রজেক্টের জন্য স্কুল যাওয়াকেই যথেষ্ট মনে করে। অর্থাৎ চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের কাছে স্কুলের তেমন গুরুত্ব থাকে না। মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের বিদ্যালয়বিমুখতাকে শিক্ষা ব্যবস্থার একটি নেতিবাচক দিক হিসেবেই দেখা দরকার।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বকে অস্বীকার করে প্রথাবদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারে না।নিট ও উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞানের বিষয় অর্থাৎ জীববিদ্যা, পদার্থবিদ্যা ও রসায়নবিদ্যার পাঠক্রমের মধ্যে প্রভেদ না রেখে নিটের সিলেবাসে কিছু বাড়তি অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এতে মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের পক্ষে দুটি পরীক্ষাতেই ভালো ফল করার সম্ভাবনা বাড়বে। এখন যে পড়ুয়া উচ্চমাধ্যমিকে জোর দেয় সে নিটে ভালো করে না আর যে নিটে জোর দেয় সে উচ্চমাধ্যমিকে ভালো করে না। একজন পড়ুয়ার খুব কাছাকাছি সময়ে দেওয়া দুটো পরীক্ষায় দুরকম ফল হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।
ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা সর্বভারতীয় না হয়ে রাজ্য ভিত্তিক হওয়া উচিৎ। ২০১৭ সালে জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট চালু হওয়ার আগে সেটাই ছিল।যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বিকেন্দ্রীকরণের বদলে সবকিছু কেন্দ্রীকরণের প্রচেষ্টা কেন? পশ্চিমবঙ্গের নিরিখে বলতে পারি, কয়েক বছর পূর্ব পর্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী পড়ুয়ারা দু'একজন প্রাইভেট টিউটর অথবা জেলার অভ্যন্তরে কোনো কোচিং সেন্টারের সাথে সংযুক্ত থেকে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় (JEE) সফল হয়ে ডাক্তারি পড়েছে। আর, এখন নিটের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ভালো কোচিং সেন্টারের সন্ধানে অনেককেই রাজ্যের বাইরে চলে যেতে দেখা যাচ্ছে।প্রচুর টাকা পয়সা খরচ হচ্ছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেয়ে অথবা পড়াশোনার চাপ সহ্য করতে না পেরে কেউ কেউ আত্মহত্যা করে বসছে। কয়েক বারের চেষ্টায় অসফল হয়ে অনেকের ছাত্রজীবনে ও কর্মজীবনে অন্ধকার নেমে আসছে। তারা ডাক্তার হতে গিয়ে জীবনযুদ্ধে চিররোগী হয়ে পড়ছে।কিন্তু কোচিং সেন্টারগুলোর রমরমা ব্যবসায় কোনো ব্যত্যয় ঘটছে না।
মেডিক্যাল কলেজ ও এমবিবিএস (ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি) কোর্সের আসন সংখ্যা প্রায় প্রতি বছরই বৃদ্ধি পায়। সেটাই স্বাভাবিক। এন এম সি (ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে দেশে মেডিক্যাল কলেজ ও এমবিবিএস-এর আসন সংখ্যা যথাক্রমে ৭০৬ ও ১০৯১৪৫। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি কলেজের সংখ্যা যথাক্রমে ৩৮৬ ও ৩২০ আর তাদের আসন সংখ্যা যথাক্রমে ৫৫৮৮০ ও ৫৩২৬৫। অর্থাৎ, চিকিৎসক তৈরির সরকারি আয়োজনকে প্রায় ধরে ফেলেছে বেসরকারি উদ্যোগ এবং অদূর ভবিষ্যতে হয়তো অতিক্রম করে যাবে। ২০২৪ সালে নিট-ইউজি'র পরীক্ষার্থী ছিল ২৩ লক্ষ ৩৩ হাজার। সর্বমোট ৭২০ নম্বরের পরীক্ষায় পাস নম্বর নির্ধারিত হয় ১৩৮। অর্থাৎ, ২০ শতাংশের কম নম্বর পেয়েও একজন পরীক্ষার্থী ডাক্তারি পড়ার যোগ্যতা অর্জন করছে। এত কম নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাও পাস করা যায় না। স্কুল শিক্ষক নিয়োগের টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এর থেকে অনেক বেশি পার্সেন্টেজ পেতে হয়। অতি সাধারণ বা নিম্ন মেধার পড়ুয়ারা ডাক্তার হলে তো খুব মুশকিল! নেট-ইউজি'র পুরো প্রশ্নপত্রটাই এমসিকিউ (মাল্টিপ্ল চয়েস কোশ্চেন) দিয়ে তৈরি। অর্থাৎ কিছু লেখার দরকার নেই। চারটি বিকল্প থাকে। সেখান থেকে সঠিকটা চিহ্নিত করতে হয়। এরূপ একমাত্রিক পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে পড়ুয়াদের জ্ঞান, বোধ, বুদ্ধি, উদ্ভাবনী শক্তি ও স্মরণ শক্তি তথা সামগ্ৰিকভাবে মেধা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায় না।মানুষের জীবন মরণের প্রশ্ন জড়িত রয়েছে যে পেশাজীবীদের সঙ্গে সেই চিকিৎসকদের মেধার সাথে কখনও আপস করা উচিৎ নয়। সত্যিকারের মেধাবী ও পরিশ্রমী পড়ুয়ারাই যাতে ডাক্তার হয় তা নিশ্চিত করা দরকার।এজন্য বর্তমানে মেডিক্যালের যে পরীক্ষা পদ্ধতি রয়েছে তা পাল্টানো এবং পাস নম্বর বাড়ানো জরুরি।
এমবিবিএস কোর্স করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ সরকারি কলেজ। এর একটা বড় কারণ সরকারি কলেজে পড়াশোনা করার খরচ বেসরকারি কলেজের তুলনায় অনেকটাই কম। পাঁচ বছরের এমবিবিএস কোর্স সরকারি কলেজে সাকুল্যে ২-৩ লাখ টাকায় হয়ে যায়। এর ফলে মধ্যবিত্ত তো বটেই এমনকি নিম্নবিত্ত পরিবারের পড়ুয়াকেও আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় না।কিন্তু বেসরকারি কলেজে পড়ার খরচ ৭০ লাখের উপরে শুরু হয় এবং তা ১ কোটি থেকে ১.৫ কোটিতে পৌঁছায় যা কেবলমাত্র উচ্চবিত্তদের পক্ষেই অ্যাফোর্ড করা সম্ভব।সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কোর্স ফি-এর মধ্যে এমন বিশাল ব্যবধান আমাদের 'সমাজতান্ত্রিক' দেশে কতটা যুক্তিযুক্ত ভেবে দেখা দরকার। বেসরকারি কলেজের ফি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত হওয়া উচিত।
নিট-ইউজি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে যে মেধা তালিকা তৈরি হয় তার প্রথম দিককার স্থানাধিকারীরা সরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়।কে কোন কলেজে ভর্তি হতে পারবে সেটাও নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঠিক করে দেয়। ২০২৪ সালে ২৩ লাখ ৩৩ হাজার পরীক্ষার্থী ছিল। উত্তীর্ণ হয়েছে ১৩ লক্ষ। প্রথমদিককার ৫৬ হাজার প্রার্থী সরকারি কলেজে ভর্তি হবে। বাকি ৫৩ হাজার আসনে বেসরকারি কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য ১২ লক্ষ ৪৪ হাজার প্রার্থীর মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে।বেসরকারি কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে মেধা তালিকার ক্রমিক নম্বরের কোনো গুরুত্ব নেই। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বেসরকারিতে ৫৫০ নম্বর পাওয়া পড়ুয়ার যতটুকু অধিকার ১৫০ নম্বর পাওয়া প্রার্থীরও ততটুকু অধিকার। মেধার কোনো মূল্য নেই। আসলে এখানে পুরোটাই টাকার খেলা। যার টাকা আছে সে ন্যূনতম কোয়ালিফাইং নম্বর পেয়েই ডাক্তারি পড়ার ছাড়পত্র পেয়ে যাবে আর, যার টাকা নেই সে দুই-চার নম্বর কম পাওয়ার কারণে সরকারি কলেজে ভর্তি হতে পারেনি বলেই তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কখনও পূরণ হবে না।নিটে ৭৫ শতাংশ নম্বর পাওয়া দরিদ্র পরিবারের ছেলেটি বা মেয়েটি ডাক্তার হতে পারবে না কিন্তু ২০ শতাংশ নম্বর পাওয়া ধনী পিতামাতার সন্তানের গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলবে।এই ব্যবস্থা নিশ্চিতভাবেই ভালো মানের চিকিৎসক তৈরির পরিপন্থী।
ভারতে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করার অত্যধিক খরচের জন্য প্রতি বছর লক্ষাধিক নেট উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রী বাংলাদেশ, ইউক্রেন, চীন প্রভৃতি দেশে পাড়ি দেয়। বাংলাদেশে ৩০-৪০ লাখে ও ইউক্রেনে ২০-২৫ লাখে ডাক্তারি পড়া যায়। চীনে আরও কম টাকায় ডাক্তারি পড়ানো হয়। তাহলে ভারতে প্রাইভেট কলেজে এমবিবিএস কোর্সে কোটি টাকার গল্প কেন? আসলে আমাদের দেশের সরকার স্বাস্থ্য ব্যবসায়ীদের মুনাফা বৃদ্ধি আর কোটিপতি বাবামায়ের সন্তানের চিকিৎসক হওয়ার পথ প্রশস্ত করতেই নিটের নিয়মাবলি রচনা করেছে।
নিট পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতির পেছনেও একটি বড় কারণ প্রাইভেট কলেজের ফি। যাদের ৮০-১০০% নম্বর পাওয়ার মতো মেধা নেই বা বলা যায় যাদের সরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই তাদের একাংশ প্রশ্নপত্র কেনার চেষ্টা করে। ৩০-৪০ লাখ টাকা দিয়ে প্রশ্নপত্র কিনে ভালো ফল করে সরকারি কলেজে ভর্তি হতে পারলে বেসরকারি কলেজে পড়ার খরচ ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। দুর্নীতির মধ্যেও অঙ্ক রয়েছে! সুতরাং, দুর্নীতি বন্ধ করার একটা উপায় হিসেবেও প্রাইভেট কলেজের ফি কমানো দরকার।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচুর টাকা খরচ করে যারা ডাক্তার হয় তাদের অনেকেই চেষ্টা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেই টাকা তুলে নেওয়া যায়। ডাক্তার হয়ে 'মানবসেবা'র কথা বিস্মৃত হয়ে তারা অর্থ উপার্জনে মনোনিবেশ করে। সরকারি বেতনে তাদের পোষায় না। তারা সরকারি চাকরির পরওয়া করে না। সরকারি চাকরি পেলে ভালো, না পেলেও ক্ষতি নেই। প্রাইভেট চেম্বার ও প্রাইভেট হাসপাতাল তথা নার্সিংহোমই যথেষ্ট।যত রকম ভাবে সম্ভব পেশেন্ট পার্টির পকেট কাটার ব্যবস্থা করা হবে। প্রথমত, চার-পাঁচ মিনিটে রোগী দেখে একটা প্রেসক্রিপশন লিখে চার-পাঁচশো টাকা 'ভিজিট' নেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজন না থাকলেও প্রেসক্রিপশনে এক বা একাধিক টেস্ট লিখে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে 'কমিশন' খেতে হবে। টেস্ট যত দামী হবে কমিশন তত বেশি হবে। তৃতীয়ত, ওষুধ ব্যবসায়ীদের এজেন্ট তথা মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভের কথা মতো কাজ করে 'গিফট' নিতে হবে। এভাবেই অনৈতিক উপায়ে দৈনিক হাজার হাজার অথবা লক্ষাধিক টাকা উপার্জন নিশ্চিত করা হবে। টাকার জোরে বেসরকারি কলেজ থেকে ডাক্তার হয়ে যখন অনেকেই এত উপার্জন করে তখন যারা মেধার জোরে সরকারি কলেজ থেকে ডাক্তার হয়েছে তারা প্রথমজনদের থেকে কম উপার্জনকে মেনে নিতে পারে না। তখন তারাও প্রথমজনদের পথ অবলম্বন করে। দুটি ক্ষেত্রেই কিছু ব্যতিক্রম আছে। কিন্তু সাধারণ প্রবণতা হল আজকাল অর্থের জন্য চিকিৎসকদের 'ভগবান' থেকে 'কসাই' হতে আপত্তি নেই। চিকিৎসকদের এই অসুস্থ মানসিকতা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পক্ষে বিপজ্জনক।
ওষুধ ব্যবসা সাংঘাতিক মুনাফার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।ওষুধ কোম্পানি ও চিকিৎসকদের একাংশের যোগসাজশে অত্যন্ত চড়া দামে বাজারে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। একজন বিশিষ্ট চিকিৎসকের লেখা থেকে জানা যাচ্ছে, হার্ট অ্যাটাকে ব্যবহৃত স্ট্রেপ্টোকাইনেজ ইনজেকশন পেশেন্ট পার্টিকে কিনতে হয় ৯ হাজার টাকা দিয়ে, অথচ ইনজেকশনটির প্রকৃত মূল্য ৭০০-৯০০ টাকা। টাইফয়েডে ব্যবহৃত মনোসেফ ট্যাবলেটের পাইকারি মূল্য ২৫ টাকা, কিন্তু ফার্মেসি থেকে দ্বিগুণ অর্থ দিয়ে কিনতে হয়। ডায়ালাইসিসের একটি ৫০০ টাকার ইনজেকশন পেশেন্ট পার্টিকে কিনতে হয় ১৮০০ টাকা দিয়ে। সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৫০ টাকার অ্যান্টিবায়োটিকের বদলে ডাক্তার হয়তো প্রেসক্রাইব করছেন ৫৪০ টাকা মূল্যের কোনো অ্যান্টিবায়োটিক। বাজারে একটি আল্ট্রাসাউন্ড টেস্ট করলে দিতে হয় ৭৫০ টাকা, রেডিওলজিস্ট পায় ২৪০ টাকা, বাকিটা ডাক্তারের কমিশন।এম আর আই করতে ডাক্তারের কমিশন ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল বদল দরকার। কিন্তু বেসরকারিকরণ ও বিশ্বায়নের যুগে তার খুব একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। সরকার শিক্ষা-স্বাস্থ্য থেকে ক্রমাগত হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। সরকারের নিয়ন্ত্রণ যত কমবে অনিয়ম, দুর্নীতি ও শোষণ তত বাড়বে। মূল্যবোধ ও মানবিকতার অবক্ষয় আরও ত্বরান্বিত হবে। জনসচেতনতা ও গণপ্রতিরোধ ছাড়া অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব নয়।
০৪:৩৮ পিএম, ৫ জুলাই ২০২৪ শুক্রবার
Poem - Divine Love
Divine love
Maja Milojković
Serbia
Divine love, eternal and holy,
In the heart of man a flame shines,
It descends from Heaven, like a soft river,
And our soul is gently embraced by all.
She is the light that breaks the darkness,
In her is strength, every hope,
With her, the heart beats, it rests peacefully,
And the soul dances, free, easy.
In her lap, salvation lies,
Immortality offers, eternal joy,
Through suffering he leads, and through hopelessness he gives strength,
In divine love, you find youth.
Oh divine love, eternal source,
With you, our life is bright and we are happy.
Biography:
Maja Milojković was born in 1975 in Zaječar, Serbia.
She is a person who has Leonardo da Vinci's statement running through her blood: "Painting is poetry that can be seen, and poetry is painting that can be heard."
That's why from then on she picked up a pen and a brush and began to discover the world and herself with them.
As a poet, she is represented in numerous domestic and foreign literary newspapers, anthologies and electronic media, and some of her songs are also available as videos on YouTube.
Many of her poems have been translated into English, Hungarian, Albanian, Bengali and Bulgarian due to the needs of foreign readers. He is the recipient of many international diplomas.
He is the author of two books "Circle of the Moon" published in 2019. and "Wishing Trees" in 2023.He is a member of the International Society of Writers and Artists "Gorski Vidici" in Montenegro and a member of the Poetry Club "A
rea Felix" in Serbia.
০২:৫৮ পিএম, ৫ জুলাই ২০২৪ শুক্রবার
Poem - Yesterday`s Encounter
Yesterday's Encounter
Hassane Yarti
Yesterday's encounter...
Its lifespan was kisses, and the words were whispers,
It did not conclude until the sun rose.
Can yesterday return to me?
Yesterday's encounter...
All five senses took part,
It was all joy, like a wedding day.
Can I sell my tomorrow for yesterday?
Yesterday's encounter...
Merged water and embers in the same glass,
It melted souls, my spirit made its offering.
Can today become yesterday?
An encounter whose light was a candle,
Like a festive gathering,
An encounter of love,
An encounter of touch.
Can I die, and let yesterday live?
Biography:
Hassane Yarti is a Moroccan writer based in Barcelona, Spain.
Member: Arab Writers Union, Arab Elite Poetry and Literature Union.
President of Al-Nibras Culture and Art Association and founder of "Barcelona Literary Magazine".
Has Publications in various Magazines in: USA, London, Belgium, Kosovo, Albania, Spain, Mexico, Italy, Morocco, Egypt, Iraq, etc.
Hassane has published several books.
Some of his works have been translated into English, French, Italian, Spanish, Korean, Chines
, Bangali, Albanian and Turkish.
০৯:০৩ এএম, ৩ জুলাই ২০২৪ বুধবার
Poem - My Expatriation
My Expatriation
Hassane Yarti
Oh, My jasmine flower,
O fragrance of love and youth,
I have resolved to depart
to the corridors of absence...
From an Expatriation,
Where clothes have tattered
At its paths.
From a a grief in my chest,
Awaiting the dawn.
From the darkness of the night,
Shrouded in fog.
And the water of a river,
Unwilling to accept the bitterness of reproach.
From a moaning of a boy
seeking the embrace of return.
From a silly laughter,
that hides the scars of estrangement’s gloom.
From verses of longing that with their lines,
snatched the coldness of the speech.
And from endurance,
Hours are etched forever
In torment.
And from hopes lost,
In the paths of hope and reproach.
And from the ruins we approach,
To grasp the truth: an illusion in a mirage.
So how can my Expatriation help me,
With verses of guidance and correctness?
To smell your fragrance, oh My jasmine flower,
For we were born from the womb of sorrows,
And the door has not yet been closed on us.
I long to a different form of time,
With you, companion of my path,
Tenderness, tranquility, and the hymns of a poet,
And a breathtaking scene.
--------
Biography:
Hassane Yarti is a Moroccan writer based in Barcelona, Spain.
Member: Arab Writers Union, Arab Elite Poetry and Literature Union.
President of Al-Nibras Culture and Art Association and founder of "Barcelona Literary Magazine".
Has Publications in various Magazines in: USA, London, Belgium, Kosovo, Albania, Spain, Mexico, Italy, Morocco, Egypt, Iraq, etc.
Hassane has published several books.
Some of his works have been translated into English, French, Italian, Spanish, Korean, Chines, Bangali, Albanian and Turkish.
০৮:৩৫ এএম, ৩ জুলাই ২০২৪ বুধবার
অনুষ্ঠিত হলো শিক্ষক ও দ্বিভাষিক কবি আশিফ মাসুদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান
অনুষ্ঠিত হলো শিক্ষক ও দ্বিভাষিক কবি আশিফ মাসুদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান
মোঃ ইজাজ আহামেদ
মুর্শিদাবাদ, ১লা জুলাই, ২০২৪: সোমবার মুর্শিদাবাদ জেলার মধুরকুল হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত হল ইংরেজি ভাষার শিক্ষক তথা দ্বিভাষিক কবি আশিফ মাসুদ-এর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এলাকায় জীবন্ত অক্সফোর্ড ডিকশনারি নামে পরিচিত ছিলেন। খ্যাতিমান এই শিক্ষক ও কবি দীর্ঘ ৩৫ বছর সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন।তিনি ছাত্রছাত্রী ও সহকর্মীদের নয়নের মণি ছিলেন। আজ তাঁর চাকুরী জীবনের শেষ দিনে স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী এবং সহকর্মীরা চোখের জল নিয়ে বিদায় সংবর্ধনা জানালেন তাঁকে। স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক শিক্ষিকা ও এলাকার গুণীজনদের কবিতা আবৃত্তি, বক্তৃতা, সংগীত ও বিভিন্ন প্রীতি উপহারের মাধ্যমে তাঁকে সংবর্ধিত করা হয়। উপস্থিত ছিলেন স্কুলের দুজন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শরৎ কুমার দাস ও আমিনুল হক বিশ্বাস, প্রাক্তন সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল হাসান বিশ্বাস, সহকারী শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম, মনজুর হোসেন, দ্বিভাষিক কবি ও শিক্ষক ইমদাদুল ইসলাম, কবি ও শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, ফটোগ্রাফার বদরোদ্দোজা আনসারী, আমিনাবাদ হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিনজারুল হক ও প্রাক্তন শিক্ষক তরুণ কুমার ঘোষ, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ছাত্র ফারুক আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অমিতাভ কর্মকার, সহকারী শিক্ষক ইনজামাম উল ইসলাম, স্বরূপ কুমার সরকার, জিয়ারুল ইসলাম, সোহরাব হোসেন ও পঙ্কজ কুমার মল্লিক প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্কুলের শিক্ষক আব্দুল্লাহিল কাবি।
০৬:২২ পিএম, ২ জুলাই ২০২৪ মঙ্গলবার
কবিতা - হুল বিদ্রোহ
হুল বিদ্রোহ
সঞ্জয় বাস্কে, পুরুলিয়া
সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব এগিয়ে ছিল
সাঁওতাল জাতি সাথে ছিল।
সবার থেকে আগে
হুল হুল বলে চিৎকার করেছিল।
ব্রিটিশ রাজের নির্যাতন, অবাঞ্চনার থেকে
ন্যায্য অধিকার পাওয়ার জন্য
জোটবদ্ধ ভাবে এগিয়ে গিয়েছিল।
তীর ধনুক ধরে, ইংরেজ সাহেবদের গুলি বারুদের আগে দাঁড়িয়েছিল।
ভাগনাডিতে জড়ো হয়ে, সাহেবদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।
শরীর থেকে রক্ত বয়ে গিয়েছিল
হুল বলে চিৎকার করেছিল।
গোটা ভারতবর্ষের মধ্যে
সাঁওতাল জাতি এগিয়ে ছিল।
আগের মতই জোটবদ্ধ হবো
শিক্ষাতেও এগিয়ে যাবো।
নিজেদের অস্তিত্ব অধিকারের জন্য
হুলের মতোই চিৎকার করবো।
১০:২২ পিএম, ৩০ জুন ২০২৪ রোববার
কবিতা - হুল বিদ্রোহ
হুল বিদ্রোহ
সঞ্জয় বাস্কে, পুরুলিয়া
সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব এগিয়ে ছিল
সাঁওতাল জাতি সাথে ছিল।
সবার থেকে আগে
হুল হুল বলে চিৎকার করেছিল।
ব্রিটিশ রাজের নির্যাতন, অবাঞ্চনার থেকে
ন্যায্য অধিকার পাওয়ার জন্য
জোটবদ্ধ ভাবে এগিয়ে গিয়েছিল।
তীর ধনুক ধরে, ইংরেজ সাহেবদের গুলি বারুদের আগে দাঁড়িয়েছিল।
ভাগনাডিতে জড়ো হয়ে, সাহেবদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।
শরীর থেকে রক্ত বয়ে গিয়েছিল
হুল বলে চিৎকার করেছিল।
গোটা ভারতবর্ষের মধ্যে
সাঁওতাল জাতি এগিয়ে ছিল।
আগের মতই জোটবদ্ধ হবো
শিক্ষাতেও এগিয়ে যাবো।
নিজেদের অস্তিত্ব অধিকারের জন্য
হুলের মতোই চিৎকার করবো।
১০:২২ পিএম, ৩০ জুন ২০২৪ রোববার
ভারতের মূল সুর বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য আজ প্রশ্নের মুখে
ভারতের মূল সুর বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য আজ প্রশ্নের মুখে
মনিরুজ্জামান (শিক্ষক জঙ্গিপুর হাই স্কুল)
ভারতীয় জীবন ও সংস্কৃতির মূল মন্ত্র হলো বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য । সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করছি এই মূলমন্ত্র কিছু উগ্র সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রনায়কদের দ্বারা লঙ্ঘিত হচ্ছে । কবির ভাষায় ভারতের অন্তরের মূল সুর ধ্বনিত হয়েছে "--নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান" । ভারত নামক তীর্থক্ষেত্রে শক, হুন, পাঠান, মোগল এক দেহে লীন হয়ে গিয়েছে । বিভিন্ন জনগোষ্ঠী তাদের স্বতন্ত্র কৃষ্টি-কালচার নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছে। আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা ভারতীয় । বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমাদের গর্ব ও কম নয় ।
কিন্তু সমস্যা তখন দেখা যায় যখন গণতন্ত্রের চাবি উগ্র সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রনায়কদের হাতে চলে যায় । গোটা বিশ্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এর সত্যতার সহজে উন্মোচিত হয় । যেমনি হিটলার, মুসোলিনি, গ্যারিবল্ডি, এরা মানবতার চরম অবক্ষয় ঘটেয়েছে । গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে ,ভারতের সংবিধান স্বীকৃত মিলন মেলার মিষ্টি সুর , কোথাও যেন অন্তর্হিত হচ্ছে । রাষ্ট্র যদি জাতীয়তা বোধ জাগ্রত করার পরিবর্তে মানুষে মানুষ বিদ্বেষ ছড়ায় তাহলেই মানবিক অবমূল্যায়ন শুরু হয় । দেশের অগ্রগতি ও পশ্চাৎপদতা নির্ভর করছে রাষ্ট্রের উপর । তবে অগ্রগতির স্বরূপটা এক এক জনের কাছে একেক রকম । পৃথিবী যখন এগিয়ে চলেছে তখন কেউ যদি প্রাচীন সংস্কৃতি নিয়ে এগোতে চায় তবে সেটা হবে মুর্খামি । বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে অগ্রগতি কোনোভাবেই সম্ভব নয় । কোন রাষ্ট্রপ্রধান যদি একটি মন্দির, একটি স্ট্যাচু ও গরুর গোবর ও মূত্র নিয়ে গবেষণা করে ভাবে বিরাট কাজ করেছি তবে সে মূর্খের স্বর্গে বসবাস করছে ।
মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের পিছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে । তন্মধ্যে সবচেয়ে বড় কারন হলো ধর্মীয় সংকীর্ণতা । নিজের ধর্মের প্রতি অনুরাগ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু তার পরিণতিতে পরও ধর্মের প্রতি বিদ্বেষের ফল হয় মারাত্মক । আমাদের দেশে এরকম ঘটনা বেশি ঘটে । দায়িত্বজ্ঞানহীন ও প্রকৃত ধর্মীয় বোধহীন কিছু ধর্মীয় নেতা সাধারণ মানুষের মধ্যে সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িকতা জাগিয়ে তোলে । ওইসব নেতা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এই ধরনের কাজ করে থাকে । তার ফল হয় মারাত্মক । মনে রাখতে হবে ধর্মীয় ভাইরাস কোভিড ১৯ এর চেয়েও ভয়ানক । ফলস্বরূপ গুজরাট দাঙ্গার বীভৎস রূপ আমাদের কাছে উন্মোচিত হয়েছে । সম্প্রতি দিল্লি দাঙ্গা বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দিয়েছে । এছাড়া ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের প্রায়ই ছোটখাটো দাঙ্গার খবর পাওয়া যাচ্ছে । নিজের ধর্ম অপরে উপরে চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে । কে কি খাবে ,কোন পোশাক পরিধান করবে ,কোন ভাষায় কথা বলবে ,কাকে বিয়ে করবে --এগুলো একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার ।রাষ্ট্রের এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা সমীচীন নয় ।ধর্মের ষাঁড়েরা সাধারণ মানুষকে যেখানে-সেখানে পিটিয়ে মারছে । এক্ষেত্রে বেশিরভাগ ষাঁড়দের শিকার হচ্ছে মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষজন । উত্তর প্রদেশ বিহার মধ্যপ্রদেশ রাজস্থান এমনকি কর্নাটকে এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে । সরকারের প্রচ্ছন্ন মদত না থাকলে এতগুলো মানুষ মারা যেত না । মানুষকে পিটিয়ে মেরে, তার ভিডিও করে নেট দুনিয়ায় ছেড়ে দিচ্ছে তবুও তারা উপযুক্ত শাস্তি পাচ্ছে না । নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার পরেও পুলিশের ভূমিকা আমাদের আহত করেছে । গরু কে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে । গরুকে কেউ পূজো করতেই পারে, তাকে মা বলতেও পারে,Q1 তাতে কারো কোনো আপত্তি থাকার কথা নয় । কিন্তু গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে যে ধরনের ঘটনা ঘটছে তা কোনভাবেই অভিপ্রেত নয়। ফ্রিজে মাংস থাকলে বা কারো ব্যাগে মাংস থাকলে তাকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে, এটা কোন সভ্য সমাজে চলতে পারে না।
রাষ্ট্রের কাজ প্রতিটি নাগরিককে সুরক্ষা দেওয়া । সরকার কি পেরেছে সুরক্ষা দিতে ? বিজেপি শাসিত মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকশো মানুষ মারা গিয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গৃহ ছাড়া ।ভারতের প্রধানমন্ত্রী সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি।উত্তরপ্রদেশ যেন প্রাচীন যুগে ফিরে গেছে । দলিতদের প্রতি অমানবিক অত্যাচার চরম হারে বেড়ে গিয়েছে । কাউকে ধর্ষন করে পুড়িয়ে দিচ্ছে, কাউকে পিটিয়ে হত্যা করছে ,রীতিমতো জঙ্গল রাজ চলছে । অপরদিকে আসামে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষ এনআরসির নামে অসহ্য কষ্টের মধ্যে দিন পার করছে । সরকার ইউএপিএ নামক একটি আইন তৈরি করেছে । হাজার হাজার কাশ্মীরি কে এই আইনে জেলে পুরেছে; এগুলো কি অমানবিক নয় ? যারা কৃষি বিল নিয়ে আন্দোলন করছে তাদের কেউওএই আইনে গ্রেফতার করা হচ্ছে । যে সমস্ত শিল্পী,সাহিত্যিক, সমাজকর্মী ,সাংবাদিক ,সরকারের অমানবিক কর্মসূচির সমালোচনা করছে তাদের কেউও এই আইনে গ্রেফতার করা হচ্ছে । ভারতবর্ষের বুদ্ধিজীবীদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে । সরকার সিবিআই , ইডি , এনআইএ , এর মত সংস্থাগুলোকে নিজের মতো করে কাজে লাগাচ্ছে । সিবিআই সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি লোধা মন্তব্য করেছিলেন "সিবিআই খাঁচায় বন্দী তোতা পাখি" । মানুষ সঠিক বিচার পাচ্ছে না । ভীম করে গাও ;গুজরাট, দিল্লির গণহত্যার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার কদর্য রূপ আমরা দেখেছি । ইসরাত জাহান এর বিচার প্রক্রিয়া ও আমরা দেখেছি । ইউএপিএ ধারায় যে সমস্ত মানুষগুলোকে গ্রেপ্তার করছে তার বেশিরভাগই নির্দোষ । ১০০০০ জনকে গ্রেপ্তার করলে দোষ প্রমাণিত হয় মাত্র ২০০ জনের । অর্থাৎ 2%। । জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কেউও সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে । সরকারের সম্পদ কয়েকটি কর্পোরেট সংস্থার হাতে তুলে দিয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরী করা হয়েছে । সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া । ৩৫ টাকা লিটারের পেট্রোল ১০০ টাকার দামের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে । কয়েক জন মানুষ ব্যাংকের সমস্ত টাকা লুট করে বিদেশে পালিয়ে গেছে । তার ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে আপামর সাধারণ মানুষকে । ইজরাইল থেকে পেগাসাস এর সাহায্যে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের ফোন হ্যাক করা হচ্ছে । সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আজকে তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে । মানুষ যাবে কোথায় ? ইতিমধ্যে বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড অর্থাৎ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাভ করা হয়েছে ।ভারতের মতো দেশে এই ধরনের আইন কোনোভাবে প্রযোজ্য নয়। এক্ষেত্রে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল ।পারস্পারিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে মূল সুর তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দিতে চাইছে । আমাদের উদ্দেশ্য হবে unity in diversity অর্থাৎ বৈচিত্রের মধ্যে ভারত আত্মার অন্তরের যে ঐক্য ও সমন্বয়ের সুর নিহিত আছে তাকে ধারণ করায় হলো আমাদের মূল লক্ষ্য ।
০৮:৩৪ এএম, ৩০ জুন ২০২৪ রোববার
Poem - Stay Together
Stay Together
Elisa Mascia
Events often drag you not to forgive
feels compelling need not to stay
like butterfly to catharsis want higher fly
unaware that the then will no longer be quiet to live.
An angel stands between the two of love or friendship
bound and free already know that it is a delight
that by pure force of cosmic energy the attraction
feed that spark of passion fire.
Staying together in the embrace of the stars
each giver of a wish
love against all reasonable criteria
deposit one by one over velvety skin
and only in that feeling find refreshment
tacit acceptance that nothing between them is harmful.
- Climb without fear.
You cannot rise in normal life
climbing is the right reaction
driven by the fiery spiritual fire
without fear volcano in eruption
inhabitants in the cosmos in the space age
take out the nails and the projection
of himself as a special essence
fight to spread the reason
that others, provoking, want to deny you
and so you grow up to heaven to excess
that no one would ever have imagined
with respect without having to trample
the dignity of others and of nothing not to be afraid
remains the example that you gave to the world.
©®Elisa Mascia
Elissa Macchia from Italy
০৭:১৫ এএম, ৩০ জুন ২০২৪ রোববার
Poems
Dr. Maheswar Das is a bilingual poet, translator, editor, and story writer. He writes in English and Odia language.
He has been pursuing his creative writing for the last twenty years and has authored more than one thousand English poems. All of his poetical exposition centres around Nature, God, love, and relationships. Some of his poems have been translated into international languages. He has co-authored three English anthologies of poems with his two friends. Besides he is the co-author of more than fifty English anthologies of poems of many literary groups.
He holds the degree of M.A. in both Economics and History. He has accomplished a Ph.D. degree in sociology from Utkal University. He also holds a law degree fromhumming M.S. Law College, Cuttack. He hails from Mallipur in the district of Cuttack, Odisha, India.
His English poems have been published in several national and international journals and Anthologies and have gained worldwide appreciation. He has received so many accolades from various national and international literary groups. He is a recipient of the Gold Medal award from the World Union of Poets, Rome.
THE WORLD BETWEEN US
In this world of love, songs, and lore.
As I watch you at a distance, my dear.
My heart thrills with joy and pleasure.
I always aspire to the blissful days at the core.
In this world of the sun and moon.
With the grandeur of Autumn and Spring.
We will have a nice time in nature soon.
And make this life
full of felicity in a magical Spring.
This world is full of forces of good and evil.
We must always cherish a positive will.
And drive out the forces of destruction and the devil.
To make this life full of bliss and goodwill.
Oh dear, let us spread our love to all the creation.
For, the world is suffering, it needs so much love.
Let us love the creation and save it all from destruction.
To all creation let us extend, our ardent love and aspiration.
SPRING
Oh, Spring
With an intermittent symphony
As the sweet spell of cuckoo comes
From the dense trees
I remember you.
At dawn, when the soft sunshine touches the earth with beauty so bare
I remember you.
When birds-flock fly in the sky with so much glee
Leaving the foot print of their chorus in the wide sky
I remember you.
Often seeing the bees and butterflies
in the lush green bush at my
barn, I know, you have arrived with all your splendour and beauty.
I remember you.
When I see the vernal beauty
With so many flower- bunch hanging in the creepers and trees
And there is festival of flowers and hues.
I remember you
My heart thrills with joy in your presence,
I remember the Almighty for this beautiful arrangement for his creation.
Dr Maheswar Das
India , Copyright@
ENDLESS LOVE
You are altogether a wonderful damsel
Like a shed of flowers over me
So much soothing and ecstatic
Like a rain of moonshine splendour.
So much full of lovely-look like butterflies.
Ever charming like the songs of a cuckoo
Endless love and timeless beauty have embraced you.
Your sweet embrace is life-giving
And voice is like a boisterous brook.
That flows dancing and jumping on solid rock.
Life has become a miraculous beauty for you.
Your endless love has surround me from all sides.
It has glorified my mind
And filled me with unforgettable memories.
Dr.Maheswar Das
India, Copyright@
OPEN THE DOORS OF CONSCIOUSNESS
Why are you closing your doors?
Wake up, open the doors and see.
How Nature is adorned with beautiful things.
See, how Nature has appeared before us
With so much beauty and blessings.
Everywhere in the world, there is song and rejoicing.
There's celebration and celebration.
There is the fragrance of beautiful flowers all over.
There is the chirping of birds and the buzz of bees and butterflies all over.
Woke up.
Celestial beauty is everywhere to give its touch
Why are we closing the doors of our senses?
Wake up and see how Nature is decorated in infinite ways.
Who has painted so much in Nature?
Let us see Nature and feel the presence of the divine.
Cosmic forces and positive vibes are always open for us.
They will all help us to raise our consciousness.
Dr Maheswar Das
India, Coppyright@
১১:২০ এএম, ২৮ জুন ২০২৪ শুক্রবার
Poem - Woman Virtue
Woman Virtue
Til Kumari Sharma
The woman is virtue of the society.
She is ruler of home to nation.
She is the teacher of the moral.
She is the symbol of the earth.
Woman is originator.
She is a winner in the battlefield.
She fights to get humanity.
She is healer of the disease.
She nourishes all.
She has kind heart.
She is virtue of the soil.
She is the goddess of the universe.
She is wisdom maker.
She is birth giver.
The woman with wisdom is symbol of peace and prosperity.
© Til Kumari Sharma
Paiyun 7- Hile
Parbat, Nepal
Ms. Til Kumari Sharma as Multi Award Winner in writing from international literary branch is from Bhorle- Hile, Paiyun 7, Parbat, Gandaki, West Nepal. Her parents are Mr. Hari Prasad Basel / Bashyal Sharma ( Mayor of Village Assembly) and Mrs. Lila Devi Bhusal/Bashyal. Til is known as Pushpa too. She has published many thousands of poems, some essays, and stories and other literary writings in International magazines, groups and anthologies from ( amazon) Russia, America, England, France, Germany, Iran, Japan, Kosovo, Algeria, Korea, Argentina, Lebanon, Hong Kong, Greece, Philippines, Hungary, Brazil, Chile, Scotland, Indonesia, Egypt, Serbia, Tajikistan, Bangladesh, South Africa, Kenya, Nigeria, North Africa, Trinidad and Tobago, Spain, Sweden, India, Nepal and many other countries. She is featured-poet and best-selling co-author too. She is world-renowned poet now. She is poet of World Record Book named HYPERPOEM. She is an international peace ambassador of Bangladesh and ambassador of Moncheri Escapes of India too. Her real painting is made by Ukeme Udo from Nigeria. Her World Personality is published in Multi art 8 & 12 magazine from Argentina and Mexico. She is feminist poet too.
০৯:৫৬ এএম, ২৭ জুন ২০২৪ বৃহস্পতিবার
Poems
MUSE IN THE DARKNESS !
The morning star you are in my life
Beaming brightly in the darkest world
You often arouse the bizarre stir in me
Of flustered fog in the face of rising sun
You venture out with your daring glint
Like a musky muse in face of darkness
As if mystifying mind of a blushing lotus
Set a swarm of bees ablaze in horizon
With your effervescent amorous prayer
Your radiance melts away all afflictions
With the glistening glow amid dimness
You do shower light into my empty eyes.
©®Dr Prasana Kumar Dalai@India.
DON'T EVER LOOK BACK !
Me trying to find someone for my road
To keep memory in your heart forever
I earnestly wish to have you by my side
Glide ahead in joyous stream of this life
Keep chanting & smiling like a free bird
Never let any grim thought tickle you
The road ahead is calling you aloud
Don't ever look back and let's proceed
This sombre night 'll pass as time ticks
Don't let your hand slip away from mine
Call me back if you feel like losing again .
©®Dr Prasana Kumar Dalai@India.
UNTOLD TALE OF MY HEART !
You do know the untold tale of my heart
At bottom linger all the unspoken words
I could barely whisper them in my heart
I stay awake all night along with the stars
I gaze at the sky in utter lonesomeness
My heart and soul resonate with solitude
For it's impossible for me to forget you
I 've already left the whole world for you.
©®Dr Prasana Kumar Dalai @ India.
INK OF GRIEF !
After separating me from my dreams
I scarcely know where God hid Himself
How to live as I'm missing from myself
Even my dear soul is separated from me
Search me on paths without destination
Heart & heartbeats 're at various places
Breathing though,my fate slips like sand
Can't make a new tale sans ink of grief
Drops of my tear keep flowing nonestop
The verdict of God can't be challenged .
©®Dr Prasana Kumar Dalai@India.
Biography of the Author.
DrPrasana Kumar Dalai
(DOB 07/06/1973) is a passionate Indian Author-cum- bilingual poet while a tremendous lecturer of English by profession in the Ganjam district of Odisha.He is an accomplished source of inspiration for young generation of India .His free verse on Romantic and melancholic poems appreciated by everyone. He belongs to a small typical village Nandiagada of Ganjam District,the state of Odisha.After schooling he studied intermediate and Graduated In Kabisurjya Baladev vigyan Mahavidyalaya then M A in English from Berhampur University PhD in language and literature and D.litt from Colombian poetic house from South America.He promotes his specific writings around the world literature and trades with multiple stems that are related to current issues based on his observation and experiences that needs urgent attention.He is an award winning writer who has achieved various laurels from the circle of writing worldwide.His free verse poems not only inspires young readers but also the ready of current time.His poetic symbol is right now inspiring others, some of which are appreciated by laurels of India and across the world. Many of his poems been translated in different Indian languages and got global appreciation. Lots of well wishes for his upcoming writtings and success in future.He is an award winning poet author of many best seller books.Recently he is awarded Rabindra nath Tagore and Gujarat Sahitya Academy for the year 2022 from Motivational Strips . A gold medal from world union of poets France & winner Of Rahim Karims world literary prize 2023.The government of Odisha Higher Education Department appointed him
as a president to Governing body of Padmashree Dr Ghanashyam Mishra Sanskrit Degree College, Kabisurjyanagar.Winner of " HYPERPOEM " GUNIESS WORLD RECORD 2023.Recently he was awarded from SABDA literary Festival at Assam.Highest literary honour from Peru contributing world literature 2024.Prestigious Cesar Vellejo award 2024
Completed 200 Epistolary poetry with Kristy Raines U SA.
Books.
1.Psalm of the Soul.
2.Rise of New Dawn.
3.secret Of Torment.
4.Everything I never told you.
5.Vision Of Life National Library Kolkata.
6.100 Shadows of Dream.
7.Timeless Anguish.
8.Voice of Silence.
9.I cross my heart from east to west . Epistolary poetry with Kristy Raines
০৭:০৪ এএম, ২৭ জুন ২০২৪ বৃহস্পতিবার
কবিতা - চলে যাবো
চলে যাবো
হামিদুল ইসলাম
নিজেকে ছুড়ে দিলাম সেখানেই
যেখানে তোমার রাগ ক্ষোভ ঘৃণা অভিমান
জমে জমে পাহাড় হয়ে আছে
জানি আমাকে তুমি পছন্দ করো না এখন
বারবার আমাকে এড়িয়ে যাও
দূরে ছুড়ে ফেলে দাও
ঘৃণায় মুখ ঘুরিয়ে নাও ঠিক অত্রির মতো
আমি দিব্যি টের পাচ্ছি সব
আমার বুকে ছুরিকাঘাত। রক্তাক্ত আমি
হাঁ এটাই আমি চাই
মৃত্যু চাই। মৃত্যু কুরে কুরে খেয়ে নিক আমায়
কারণ এভাবে বেঁচে থেকে কী লাভ বলো
তুমি দূরে সরে যাচ্ছো
যাও। সরে যাও
চিরতরে সরে যাও। আমার বুকে ফিরে আসুক মৃত্যুর শূন্যতা
যেতে হবে
তাই চলে যাবো
কবরে পচে পচে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবো
আমার জন্যে মন টাটালেও আমাকে ভুলে যেয়ো আজন্মের মতো
পরিচিতি:
কবির জন্ম পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি সময়ে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের অন্তর্গত ভোঁওর গ্রামে। চরম দারিদ্রের মধ্যে তাঁর বেড়ে ওঠা। ছাত্রাবস্থায় বহু নিরন্ন দিন কাটিয়ে আসার সাক্ষী তিনি। দশমের ছাত্র থাকাকালীন স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। এরপর বহু পত্র পত্রিকার সংগে তাঁর যোগযোগ। সে সব পত্রিকায় তাঁর বহু বিভিন্ন স্বাদের লেখা প্রকাশিত হয়। এখনো সমান গতিতে তাঁর কলম চলছে। তাঁর লেখা কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৩ টি। ১০০টির উপর যৌথ কাব্য সংকলন। ই-কাব্য সংখ্যা ৪টি। আছে নাটক ও অপ্রকাশিত উপন্যাস।
লেখালেখি চলছে। চলবে আমৃত্যু।
০৯:১১ এএম, ২৬ জুন ২০২৪ বুধবার
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র ও পরিবারহীনতা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র ও পরিবারহীনতা
মজিবুর রহমান, প্রধানশিক্ষক, কাবিলপুর হাইস্কুল
বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজতন্ত্র ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনের সূচনার মধ্য দিয়ে ভারতে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। তবে স্বাধীন ভারতে কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের উত্থান ঘটতে দেখা যায়। বিগত সাড়ে সাত দশকে পরিবারতন্ত্র বেড়েছে বৈ কমেনি।যা একসময় ছিল একান্তই কংগ্রেসী ব্যাপার তা এখন বহু সংখ্যক দলের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি রাজ্যে পরিবারতন্ত্র রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করছে। পরিবারতন্ত্রের পাশাপাশি পরিবারকে পরিহার করে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্তরেই রাজনীতিকে সীমাবদ্ধ রাখার একটা উল্লেখযোগ্য দিকও রয়েছে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক ব্যক্তিটির রাজনীতির সঙ্গে তাঁর বৌ-বাচ্চাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে পরিবারকে একদমই না জড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলেন কমিউনিস্ট নেতা জ্যোতি বসু (১৯১৪-২০১০)। জ্যোতি বসুর পিতা চাননি তাঁর ব্যারিস্টার পুত্র আইনজীবী না হয়ে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হোন। চল্লিশের দশকে অবিভক্ত বাংলা তথা ভারতে বামপন্থী রাজনীতির কোনো ভবিষ্যৎ ছিল না। কিন্তু মার্ক্সবাদী ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্যক্তিগত সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের কথা চিন্তা না করে জ্যোতি বসু কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীকালে সাড়ে তেইশ বছর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের একজন অগ্ৰগণ্য কমিউনিস্ট নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের সাথে তাঁর সন্তানের কোনো সম্পর্ক থাকতে দেখা যায়নি। 'সর্বহারার নেতা' জ্যোতি বসুর পুত্র চন্দন বসু (১৯৫২-) শিল্পপতি হয়েছেন। পিতা 'নাস্তিক' হলেও পুত্র ভীষণ ঈশ্বর বিশ্বাসী, কালী ভক্ত।তাই তিনি আড়াই কেজি ওজনের সোনার খাঁড়া প্রণামী দেন। আরেক কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (১৯৪৪-) সন্তানকেও কোনদিন রাজনৈতিক মঞ্চে অবস্থান করতে দেখা যায়নি। অনিল বিশ্বাস একজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন। সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক ও মুখপত্র গণশক্তির সম্পাদক হিসেবে অনিল বিশ্বাসের (১৯৪৪-২০০৬) অবদানের কথা আজও পার্টির অভ্যন্তরে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তাঁকে মাঝেমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি সম্পর্কে অত্যন্ত কড়া মন্তব্য করতে শোনা গেছে। কিন্তু অনিল-তনয়া অধ্যাপক অজন্তা বিশ্বাস তৃণমূলের মুখপত্রে মমতা ব্যানার্জির প্রশংসা লিখতে দ্বিধাবোধ করেননি। অবশ্য এর পরিণতিতে তাঁর সঙ্গে সিপিএমের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে।
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের উদ্ভব হয়েছে নেহরু-গান্ধী পরিবার থেকে। এলাহাবাদের প্রখ্যাত আইনজীবী মতিলাল নেহরু (১৮৬১-১৯৩১) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন বিশিষ্ট নেতা ছিলেন। তিনি ১৯১৯ ও ১৯২৮ সালে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। পুত্র জওহরলাল (১৮৮৯-১৯৬৪) ও কন্যা বিজয়লক্ষ্মী (১৯০০-১৯৯০) প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ করে রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯২৯ সালে কংগ্রেস সভাপতির পদে জওহরলাল মতিলালের স্থলাভিসিক্ত হন। পরে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং আমৃত্যু ওই পদে বহাল থাকেন। বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত গণপরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড ও স্পেনে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ও লোকসভার সদস্য ছিলেন। জওহরলাল নেহরুর পত্নী কমলা নেহরুও (১৮৯৯-১৯৩৬) স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে কারাবাস ভোগ করেন। জওহরলাল ও কমলার কন্যা ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী (১৯১৭-১৯৮৪) ১৯৪২ সালে ফিরোজ গান্ধীর (১৯১২-১৯৬০) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্বামীর পদবী গ্ৰহণ করেন। ফিরোজ গান্ধীও রাজনীতি করতেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে কারাবাস ভোগ করেন এবং ১৯৫২ ও '৫৭ সালে লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হন। এই রকম একটা গৃহ পরিবেশের মধ্যে বেড়ে ওঠা ইন্দিরা অন্য কোনো পেশায় নিয়োজিত না হয়ে রাজনীতিতে চলে আসেন। ১৯৫৯ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভানেত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে জওহরলাল নেহরুর জীবনাবসানের অব্যবহিত পরেই তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ পদ প্রদান করা হয় এবং তিনি লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মন্ত্রিসভায় তথ্য ও সম্প্রচার দপ্তরের মন্ত্রী নিযুক্ত হন। পরে পনের বছর (২৪.১.৬৬-২৪.৩.৭৭ ও ৯.৩.৮০-৩১.১০.৮৪) প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন। ফিরোজ-ইন্দিরার দুই পুত্র রাজীব (১৯৪৪-১৯৯১) ও সঞ্জয়ও (১৯৪৬-১৯৮০) পারিবারিক ঐতিহ্য বজায় রেখে রাজনীতিতে যোগ দেন। প্রথমে আসেন সঞ্জয় গান্ধী। তিনি ১৯৮০ সালের লোকসভা নির্বাচনে আমেথি কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন।ওই বছর ২৩শে জুন কপ্টার দুর্ঘটনায় সঞ্জয়ের মৃত্যু হলে ইন্দিরা গান্ধী তাঁর রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে রাজীব গান্ধীকে নিয়ে আসেন। রাজনীতিতে যোগদানের আগে তিনি ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানচালক ছিলেন। ১৯৮১ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে আমেথি কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে জয়লাভ করে সাংসদ হন। ১৯৮৪ সালের ৩১শে অক্টোবর ইন্দিরা গান্ধী নিহত হলে রাজীব গান্ধী ৪০ বছর বয়সে ৩ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যভার গ্রহণ করেন। ওই বছরই ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেস রেকর্ড সংখ্যক ৪১১টি আসনে জয়লাভ করে এবং প্রত্যাশিতভাবেই প্রধানমন্ত্রীর পদে তিনি পুনর্নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁর দল সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয় এবং ১৯৯১ সালের ২১শে মে লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন তামিলনাড়ুর শ্রীপেরামবুদুরে বোমা বিস্ফোরণে তিনি নিহত হন। রাজীব গান্ধীর নিহত হবার পর কিছুদিনের জন্য ভারতীয় রাজনীতিতে নেহরু-গান্ধী পরিবারের কোনো প্রতিনিধি ছিল না। ১৯৯৮ সালে রাজীবের ইতালীয় পত্নী সোনিয়া গান্ধী (১৯৪৬-) কংগ্রেসের সভানেত্রী রূপে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে সাংসদ রয়েছেন।রাজীব-সোনিয়ার পুত্র রাহুল গান্ধীও (১৯৭০-) কংগ্রেসের একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তিনি ২০০৪ সাল থেকে লোকসভার সাংসদ আছেন। তাঁর বোন প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও (১৯৭২-) এখন লোকসভার সদস্য হওয়ার পথে। সঞ্জয় গান্ধীর স্ত্রী মানেকা গান্ধী (১৯৫৬-) একাধিকবার সাংসদ ও মন্ত্রী হয়েছেন। পুত্র বরুণ গান্ধী (১৯৮০-) ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত লোকসভার সাংসদ ছিলেন। তাঁরা মা-ছেলে অবশ্য কংগ্রেস নয়, বিজেপি করেন। কংগ্রেস কোনদিনই নেহরু-গান্ধী পরিবারের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেনি। দু'একজন নেতা চেষ্টা করলেও সফল হননি, হয়তো দল ছেড়ে চলে গেছেন অথবা আলাদা দল গঠন করেছেন। কিন্তু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস জওহরলাল নেহরুর উত্তর পুরুষদের নিয়ন্ত্রণেই থেকেছে।
১৯৪৯ সালে স্থাপিত দ্রাবিড় মুনেত্র কাজগম (ডিএমকে)-এর ১৯৬৯ সাল থেকে আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন এম করুণানিধি (১৯২৪-২০১৮)। করুণানিধি পাঁচ দফায় কুড়ি বছর তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পুত্র এম কে স্ট্যালিন (১৯৫৩-) ও কন্যা কানিমোঝি (১৯৬৮-) পিতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন।কানিমোঝি দুবার করে রাজ্যসভা ও লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। ১৮তম লোকসভায় তিনি ডিএমকে-র দলনেত্রী।করুণানিধির জীবনাবসানের পর দলের সভাপতি হন স্ট্যালিন। চেন্নাইয়ের মেয়র, বাবার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর ২০২১-এর মে মাস থেকে মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। তাঁর পুত্র উদয়নিধি স্ট্যালিন (১৯৭৭-) চলচ্চিত্রের জগৎ ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন এবং ২০২২-এর ডিসেম্বরে থেকে পিতার মন্ত্রিসভায় যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছেন।
বালাসাহেব ঠাকরে (১৯২৬-২০১২) ১৯৬৬ সালে মহারাষ্ট্রকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল শিবসেনা গঠন করেন। তিনি অবশ্য কখনও বিধায়ক অথবা সাংসদ হননি। তিনি 'কিং মেকার' হিসেবে 'রিমোট কন্ট্রোল' চালাতে পছন্দ করতেন। তাঁর ছেলে উদ্ধব ঠাকরে (১৯৬০-) ২০১৯-এর নভেম্বর থেকে ২০২২-এর জুন পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। সেই মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন তাঁর পুত্র আদিত্য ঠাকরে (১৯৯০-)।
জনতা দলের নেতা মুলায়ম সিং যাদব (১৯৩৯-২০২২) ১৯৯২ সালে সমাজবাদী পার্টি গঠন করেন। তিনি তিন দফায় সাত বছর উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও দুই দফায় দুই বছর দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ২০০০ সালে লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর পুত্র অখিলেশ যাদবের (১৯৭৩-) রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়। তিনি ২০১২-'১৭ উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে সমাজবাদী পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি। অখিলেশের স্ত্রী ডিম্পল যাদব (১৯৭৮-) একাধিকবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন।
জনতা দলের নেতা লালু প্রসাদ যাদব (১৯৪৮-) ১৯৯৭ সালে রাষ্ট্রীয় জনতা দল গঠন করেন। ওই সময়ে আইনি জটিলতার কারণে লালু প্রসাদকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার ছাড়তে হয়। তখন তিনি তাঁর ৯ সন্তানের জননী রাবড়ি দেবীকে (১৯৫৫-) ওই পদে বসিয়ে দেন। রাবড়ি দেবী ২০০৫ সাল পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। এখন তাঁদের পুত্র তেজস্বী যাদব (১৯৮৯-) আরজেডি-র সভাপতি ও বিধায়ক। ২০২২-এর আগস্ট থেকে ২০২৪-এর জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি উপ-মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
মমতা ব্যানার্জি (১৯৫৫) ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের টিকিটে সাংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন। ২০১১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। তাঁর ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জি (১৯৮৭-) ২০১৪ সাল থেকে লোকসভার সাংসদ রয়েছেন। ২০২১ সাল থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তৃণমূল কংগ্রেস পিসির 'নেতৃত্বে' ও ভাইপোর 'সেনাপতিত্বে' এগিয়ে চলেছে।
রাজনীতি একটি বহুমাত্রিক বৃহৎ বিষয়। এখানে বিভিন্ন ধরনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সাধন করার সুযোগ থাকে। রাজনীতি 'দেশোদ্ধার' করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। নেতাকর্মীরা 'ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান।' কিছু পেতে নয়, বরং কিছু দিতেই রাজনীতিতে আসার কথা। সম্প্রতি এই ভাবনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। রাজনীতি জনসেবা করার নেশা থেকে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার পেশা হয়ে উঠছে। এখন রাজনীতিতে অর্থ, ক্ষমতা, প্রচার সবকিছুই প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। রাজনীতি সকল চাকরির সেরা চাকরিতে অথবা সকল ব্যবসার সেরা ব্যবসাতে পরিণত হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতির মোহ কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র জাঁকিয়ে বসতে দেখা যাচ্ছে।
১১:৩৫ এএম, ২৫ জুন ২০২৪ মঙ্গলবার
শাসকের সঙ্গে সংঘাত ও বিচারালয়ের বাড়াবাড়ি
শাসকের সঙ্গে সংঘাত ও বিচারালয়ের বাড়াবাড়ি
মজিবুর রহমান
পশ্চিমবঙ্গে শাসকের সঙ্গে আদালতের সংঘাত লেগেছে। অন্তত তিন বছর ধরে এই লড়াই জোরকদমে চলছে। প্রশাসনিক হেডকোয়ার্টার নবান্ন আর কলকাতা হাইকোর্টের কাজিয়া সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে জমা পড়ছে। দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনার শিকার হচ্ছে রাজ্যের লাখ লাখ সাধারণ মানুষ। সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।সাংঘাতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার মতো খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। এই পরিস্থিতির জন্য সরকার ও আদালত উভয়েরই দায় রয়েছে। কেউই সমস্যার সমাধানে আন্তরিক নয়। বরং সমস্যাকে জটিল থেকে জটিলতর ও দীর্ঘমেয়াদি করা হয়। এখানে তিনটি বিচারবিভাগীয় নির্দেশ ও সেগুলোর অভিঘাত নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।
বিগত কয়েক বছরে রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানান ধরনের নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞতাবশত বা অনিচ্ছাকৃত ভুল নয় , বেশ পরিকল্পনা করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে বিভ্রাট ঘটানো হয়েছে। স্বজন পোষণ ও বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে।পুরো ঘটনাটা একটা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সাংসদ, বিধায়ক, মন্ত্রী, সরকারি আধিকারিক ও শাসক দলের নেতাকর্মীরা। গত দুই বছরে ২৫-৩০ জনকে ধরা হয়েছে। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্যানেলে উত্তরপত্র তথা অপটিক্যাল মার্ক রেকগনিশন (ও এম আর) শীট বিকৃতি, সিরিয়াল ব্রেক, প্যানেলের বাইরে থেকে নিয়োগ, সুপার নিউমেরিক পোস্ট সৃষ্টি সহ বেশ কয়েক রকমের অনিয়মের সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই প্যানেল থেকে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিযুক্ত হন। তদন্তের স্বার্থে সকলের নথিপত্রের হার্ডকপি জেলায় জেলায় ডিআই অফিসে অথবা কলকাতায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অফিসে জমা করা হয়। ফোনের মাধ্যমেও তথ্য প্রদান করা হয়। সবকিছু যাচাই করে দেখা যায়, নিয়ম ভঙ্গ করে নিয়োগপত্র পাওয়া শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা আট হাজারের কম আর নিয়ম মেনে নিযুক্ত হয়েছেন আঠারো হাজারের বেশি। অর্থাৎ বৈধ শিক্ষকের সংখ্যা অবৈধ শিক্ষকের থেকে অনেকটাই বেশি। কাঁকড় বেছে ফেলার পর খাদ্য শস্য ভক্ষণ করাই সাধারণ নিয়ম। জমি থেকে আগাছা পরিষ্কার করে আমরা সবাই ফসল রক্ষা করি। আগাছার সাথে ফসল কেটে ফেলি না। কিন্তু কলকাতা উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ নিয়োগ মামলার রায় দিতে গিয়ে আগাছার সাথে ফসলও কেটে ফেলার নিদান দিয়েছে।কাঁকড় না বেছে সমস্ত শস্য কণা ডাস্টবিনে ফেলার ফতোয়া জারি করেছে। ২০১৬ সালের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সব প্যানেল বাতিল। 'ঢাকি সমেত বিসর্জন'।সকলের চাকরি ক্যানসেলড। এটা কোনো বিচার হল? ন্যায়বিচারের কোনো উপাদান কি এই রায়ের মধ্যে রয়েছে? বৈধ ও অবৈধ ভাবে নিযুক্ত উভয়েরই এক পরিণতি! মুড়ি-মিছরির এক দর! ডিভিশন বেঞ্চ সাফাই দিয়েছ, বারবার বলা সত্ত্বেও নাকি নিয়োগ প্রক্রিয়ার দুই প্রধান সংস্থা স্কুল সার্ভিস কমিশন ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আদালতের কাছে বৈধ ও অবৈধ কর্মপ্রার্থীদের তালিকা জমা দেয়নি।তাই আসল ও নকলকে আলাদা করা যায়নি।কিন্তু প্রশ্ন হল, কমিশন ও পর্ষদ ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেনি বলে বৈধ চাকরিজীবীরা বরখাস্ত হয়ে যাবেন? যারা আদালতের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি আদালত তাদের শাস্তি দিক। তাদের বাধ্য করুক প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে। কমিশন ও পর্ষদের দু'চারজন আধিকারিককে বাগে আনতে না পেরে হাজার হাজার চাকরিজীবীকে ব্যতিব্যস্ত করার কোনো মানে হয়? আজকের দিনে একটা সরকারি চাকরি পাওয়া 'ভগবানের সাক্ষাৎ' পাওয়ার সমান! অথচ বৈধভাবে অর্জন করা চাকরিকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালের প্যানেলে এমন অনেকেই আছেন যাঁরা ২০১১ সালের প্যানেলের চাকরি ছেড়ে এসেছেন। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের প্যানেল থেকে পাওয়া চাকরি ছেড়ে এসেছেন।অন্য কোনো পেশার চাকরি ছেড়ে এসেছেন। অর্থাৎ এঁরা একাধিকবার সফলভাবে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চাকরি করছিলেন।আদালত কোনো বাছবিচার না করে সকলকেই বাতিল করে দিল। ভেবে দেখা হল না, একটি চাকরি একটি নিম্নবিত্ত অথবা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ! চাকরি করার সুবাদে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে বহুজন গাড়ি বাড়ি করেছেন। বেতন থেকে ঋণের কিস্তি মেটানো হয়। হঠাৎ বেতন বন্ধ হলে তাঁরা কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন? সুদ সহ বেতন ফেরতের নির্দেশ আরও মারাত্মক।ক'জন এই নির্দেশ পালন করতে পারবেন, সন্দেহ আছে। অনেকেই ভিটেমাটি ছেড়ে পালাবেন। আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন। একসঙ্গে এতজন শিক্ষক চাকরিচ্যুত হলে স্কুলগুলোর অবস্থা কী হবে কেউ কি ভেবে দেখেছে? এখন রাজ্যের অধিকাংশ স্কুলে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা অনেক কম। স্কুল ফান্ড থেকে যৎসামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করে জোড়াতালি দিয়ে চলছে। এই মুহূর্তে অনেক স্কুলে ২০১৬ সালের প্যানেলের শিক্ষকই বেশি। একসঙ্গে অর্ধেক শিক্ষক বিদায় নিলে স্কুলগুলো চলবে কী করে! নতুন নিয়োগের ব্যাপারে কোর্টের কোনো কড়া নির্দেশনা নেই, শুধু বাতিলের বেলায় বড় বড় বক্তব্য! সরকারি স্কুল ছেড়ে মেধাবী ও আর্থিক সঙ্গতি সম্পন্ন পরিবারের ছেলেমেয়েরা সব প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছে। শিক্ষার বেসরকারিকরণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই কি কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র চলছে?
মুর্শিদাবাদ জেলার একটি হাইস্কুলের একজন প্রধানশিক্ষক স্কুল সার্ভিস কমিশনের সুপারিশ পত্র ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নিয়োগপত্র জাল করে তাঁর ছেলেকে নিজের স্কুলেই চাকরিতে ঢোকান। কোর্টের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত করে। অভিযুক্ত পিতা-পুত্র ও দুজন শিক্ষা আধিকারিক কারাবাস ভোগ করেন। এসব ২০২২-২৩ সালের ঘটনা।এই নিয়োগ কেলেঙ্কারির প্রেক্ষাপটে এবছর মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে রাজ্যের সমস্ত হাইস্কুলের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকার নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য পোর্টালে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হার্ডকপি ডিআই অফিসে জমা করতে বলা হয়। নথিপত্রে শিক্ষকদের সেল্ফ অ্যাটেসটেড করতে বলা হয়।এই কাজ করার জন্য স্কুলগুলো এক সপ্তাহের মতো সময় পায়। তখন রাজ্যে গরমের ছুটি ও লোকসভা নির্বাচন চলছিল।গ্ৰীষ্মাবকাশে অনেকেই চিকিৎসা করাতে অথবা ঘুরতে ভিন রাজ্যে বা বিদেশে যান।একটা পুরনো ঘটনায় দীর্ঘাবকাশের মধ্যে এমন জরুরি ভিত্তিতে নথিপত্র চাওয়ার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। এই ধরনের আকস্মিক নির্দেশে অফিস আদালতের স্বেচ্ছাচারী মানসিকতাই প্রকাশ পায়।পশ্চিমবঙ্গে এখন দশ হাজার হাইস্কুলে দেড় লাখ শিক্ষক আছেন। মাত্র একজন শিক্ষকের নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।কারা এর সঙ্গে জড়িত তাও জানা গেছে।আইন অনুযায়ী তাদের যত কড়া শাস্তি দেওয়া যায় দেওয়া হোক। কিন্তু একটা স্কুলের একজন শিক্ষকের অপরাধের জন্য রাজ্যের হাজার হাজার স্কুলের লক্ষাধিক শিক্ষককে তদন্তের আওতায় টেনে আনার কোনো মানে হয়? একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য এখন সবাইকেই সন্দেহ করতে হবে? বিড়ম্বনায় ফেলতে হবে? বিশ-ত্রিশ বছর চাকরি করার পর আবার নথিপত্র দেখাতে হবে? মশা মারতে কামান দাগা হচ্ছে!
গত ২২শে মে কলকাতা হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের পর থেকে রাজ্য সরকারের প্রদান করা সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল বলে রায় দিয়েছে। ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে প্রায় পাঁচ লক্ষ ওবিসি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। হাইকোর্ট এগুলোকে বাতিল ঘোষণা করেছে। ইতিমধ্যে এই সার্টিফিকেট ব্যবহার করে যে সুবিধা ভোগ করা হয়েছে তার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়লেও পরবর্তীতে অনুরূপ ছাড় আর পাওয়া যাবে না। রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সালের অনগ্ৰসর শ্রেণী কমিশন আইন অনুযায়ী ওবিসি'র তালিকা তৈরি করতে হবে। ঘটনা হল, ১৯৯৩ সালের আইন অনুযায়ী ২০০৯ সালে কিছু জনগোষ্ঠীকে ওবিসি হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং তাদের জন্য শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণ চালু করা হয়।এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই ছিল মুসলমান। ২০১২ সালে আরেকটি আইন তৈরি করে অন্যান্য অনগ্ৰসর শ্রেণীর তালিকায় আরও কিছু জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।এদেরও অধিকাংশই মুসলমান। ওবিসি'র তালিকায় ধাপে ধাপে জনগোষ্ঠী সংযোজন একটি স্বাভাবিক ঘটনা।ওবিসি'র তালিকায় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও ওবিসি'র জন্য সংরক্ষণ কিন্তু বাড়েনি। সংরক্ষণের হার বাড়েনি বলে ওবিসি'র সুবিধাভোগীদের মধ্যে শুধুমাত্র প্রতিযোগিতা তীব্রতর হয়েছে।বিষয়টি এভাবে দেখা যেতে পারে: একটি ওবিসি সংরক্ষিত পদের জন্য ২০১২ সালের আগে হয়ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেত পাঁচটি জনগোষ্ঠী, এখন পায় সাতটি। এছাড়া এর আর কোনো তাৎপর্য নেই। আদালত ২০১০ সালের পরের সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করলেও ২০১২ সালের যে আইনের ভিত্তিতে শংসাপত্রগুলো প্রদান করা হয়েছিল সেই আইনকে কিন্তু বাতিল করা হয়নি। ২০১২ সালের আইন যদি অসাংবিধানিক না হয় তবে সেই আইন অনুযায়ী ইস্যু করা সার্টিফিকেট কেন বাতিল হবে? ২০১২ সালের আইন যদি বেআইনি না হয় তবে ১৯৯৩ সালের আইনকে কেন ভিত্তিভূমি ধরতে হবে? একই বিষয়ে যদি একাধিক আইন থাকে তবে তো সর্বশেষ আইনকেই অগ্ৰাধিকার দেওয়ার কথা।এক খোঁচাতেই পাঁচ লাখ মানুষের সার্টিফিকেট ক্যানসেল করে দেওয়া হল। কিন্তু ভেবে দেখা হল কি ওই সার্টিফিকেট পেতে কী পরিমাণ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে? কত সাপোর্টিং ডকুমেন্ট সংগ্ৰহ করতে হয়েছে? হঠাৎ করে এত সংখ্যক সার্টিফিকেট বাতিল হওয়ার ফলে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। চাকরিতে যে 'হান্ড্রেড পয়েন্ট রোস্টার' অনুসরণ করা হয় তাতে ওবিসি'র জন্য সতের শতাংশ সংরক্ষণ থাকে।বিগত বারো-চোদ্দো বছরের সমস্ত সার্টিফিকেট বাতিল হবার ফলে সংরক্ষিত আসনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মপ্রার্থী পাওয়া কঠিন হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওবিসি শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসন কোনভাবেই পূরণ হবে না। ওবিসি'দের জন্য যে ছাত্র বৃত্তি রয়েছে তাতে কেউ আবেদনকারী হতে পারবে না। তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির সঙ্গে অন্যান্য অনগ্ৰসর শ্রেণীর আর্থ-সামাজিক পশ্চাৎপদতার দিক থেকে বিশেষ পার্থক্য নেই। ফারাক যেটুকু আছে তা ধর্মীয় পরিচয়ে। এস সি-এস টি'রা অধিকাংশই হিন্দু আর ওবিসি'রা অধিকাংশই মুসলমান।দুর্ভাগ্যবশত, স্বাধীনতার সাড়ে সাত দশক পরে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গে মানুষের ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করছে বিচারালয়। বিচারের বাণী কি বৈষম্যমূলক হয়ে যাচ্ছে না? আদালত সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা।সেই জায়গা থেকেই বারবার ধাক্কা খেয়ে মানুষ আজ বিভ্রান্ত, বিপন্ন।
১১:৩৩ এএম, ২৫ জুন ২০২৪ মঙ্গলবার
Poem - I Miss You My Love
I Miss You My Love
Mohamed Rahal ( Algeria)
All the longing and you're far away
Is it enough to improve me?
My tears are shedding longing to see you
I sleep with a ghost next to me
it does not let me
How do I feel when you are so far from me?
Baby my eyes never sleep
Strange and what good is my longing?
I would love to see you, but how???
Why I loved you unforgettable love
I hear every whisper of you
love and touch
but how .
Why did you agree to stay away from me?
Is this my reward for falling in love with you?
My love comes back that I can't
I held on to your love, like a baby, come back
১১:১৪ এএম, ২৫ জুন ২০২৪ মঙ্গলবার
ভারতীয় সংবিধানের ৩০ নং ধারা ও ধর্মনিরপেক্ষ আমরা
ভারতীয় সংবিধানের ৩০ নং ধারা ও ধর্মনিরপেক্ষ আমরা
খগেন্দ্রনাথ অধিকারী
আজ থেকে পৌনে একশ বছর আগে ১৯৩৩ সালের জার্মান সংসদের নির্বাচনে এদেশের নরেন্দ্র মোদীর বি. জে. পি পার্টির মত হিটলারের নাৎসী পার্টি নিরুঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও একক গরিষ্ঠতা পান এবং তার ভিত্তিতে, জোর জবরদস্তি করে ও ভয় ভীতি দেখিয়ে ১৯৩৫ সালে ১৫ই সেপ্টেম্বর ন্যুরেমবার্গ আইন পাশ করেন। এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল উগ্র ইহুদি বিদ্বেষ ছড়িয়ে ইহুদিদেরকে জার্মানী থেকে নিশ্চিহ্ন করা এবং আর্য রক্তের বিশুদ্ধতার নামে উগ্র জার্মান আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠা করা। ঠিক একই কায়দায় নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতাহীন বি. জে. পি পার্টি ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের পরে উগ্র হিন্দু মৌলবাদের ধ্বজা উড়িয়ে অশোক--আকবর--দারাশিকো--বিবেকানন্দ--রবীন্দ্রনাথের দেশে বহুত্ববাদী সংস্কৃতির আদর্শকে পদদলিত করে মুসলিম--খৃশ্চান--বৌদ্ধ--জৈন নির্বিশেষে সংখ্যালঘু মানুষদেরকে নিশ্চিহ্ন করার তথা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্তে লিপ্ত আছে। এঁদের আওয়াজ হোল হিন্দী--হিন্দু--হিন্দুস্থান। অর্থাৎ এদেশের রাষ্ট্রভাষা হবে হিন্দি, এদেশের জাতি হবে হিন্দু, এদেশের নাম হবে হিন্দুস্থান।
এই লক্ষ্যকে মাথায় রেখে দেশজুড়ে বি. জে. পি উল্লিখিত ৩০ নং ধারাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। উল্লেখ্য যে ১৯৭৬ সালে ৪২ তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভারতবর্ষকে সংবিধানের প্রস্তাবনায় একটি ধর্মনিরপেক্ষ বা "Secular" দেশ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই সংবিধান সংশোধনের বহু আগে থেকেই, অর্থাৎ ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারী সংবিধান চালুর মুহূর্ত থেকেই ভারতবর্ষ হোল একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। প্রকাশ থাকে যে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রদূত ছিলেন ডঃ রাধাকৃষ্ণান, যিনি ছিলেন কমরেড যোসেফ স্ট্যালিনের খুবই গুণগ্রাহী। তিনি দেখেছিলেন যে সাম্রাজ্যবাদী দুনিয়া যতই কুৎসা করুক যে কমিউনিস্টরা ধর্ম মানে না, বাস্তবে ১৯৩৬ সালের স্ট্যালিন সংবিধানে সকল মানুষের ধর্মাচরণের অধিকারকে স্বীকৃতি জানানো হয়েছিল। বিশেষ কোন ধর্মকে আলাদা ধর্ম হিসাবে স্বীকার করা হয়নি। তবে ধর্মাচরণের অধিকারের পাশাপাশি সেখানে ধর্মের বিরুদ্ধে প্রচারের অধিকারও স্বীকৃত হয়। এই সংবিধানের ১২৪ নং ধারার ভাষায় "In order to ensure to citizens freedom of conscince, the church in the u.s.s.r is separated from the state, and the school from the church. Freedom of riligious worship and freedom of antireligious propaganda is recognized for all the citizens."
আমাদের দেশের সংবিধানে ধর্মাচরণের বিরুদ্ধে প্রচারের অধিকার স্বীকৃত হয়নি। তার মূল কারণ হোল আমাদের দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির সুর হোল অধ্যাত্মবাদ, ভোগবাদ বা বস্তুতান্ত্রিকতাবাদ নয়। চার্বাকের মত ভোগবাদী দার্শনিক যার মূল কথা ছিল "যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ, ঋনং কৃত্বা ঘৃতম পিবেৎ," -- জন্মালেও, এটা ছিল আমাদের সংস্কৃতির মূল সুরের একটি ব্যতিক্রম মাত্র: আসল সুর হোল আধ্যাত্মবাদ। এই সুরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আমাদের সংবিধানের মধ্যে ২৫, ২৬ ও ৩০ নং ধারায় ধর্মাচরণের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। প্রকাশ থাকে যে দেশ যখন সাভারকার--শ্যামাপ্রসাদের মত হিন্দু মৌলবাদীদের ও মহম্মদ আলি জিন্না--ইকবাল প্রমুখ মুসলিম মৌলবাদীদের বিষাক্ত ভাবনা ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্তের ককটেলে বিভক্ত হোল, তখন হিন্দু মৌলবাদীরা দাবী তোলেন যে ভারতকে বিভক্ত করে মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্থান হয়েছে, অতএব অবশিষ্ট ভারত হবে হিন্দুস্থান। কিন্তু মহাত্মা গান্ধীসহ খণ্ডিত ভারতের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষরা ও জাতীয় কংগ্রেস এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিসহ সকল বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক দলগুলি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যকে বজায় রাখার উপর জোর দেন। ফলে এই ঐতিহ্যের আদর্শকে প্রতিধ্বনিত করে আমাদের সংবিধানের উল্লিখিত ধারাগুলির মধ্যে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের ধর্মচরণের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। ২৫ নং ধারায় বলা হয়েছে-- " . . . all persons are equally entitled to freedom of conscience and the right freely to profess, practise, and propagate religion." ২৬ নং ধারায় বলা হয়েছে-- " . . . every religious denomination or any section therof shall have the right.
(a) to establish and maintain institutions for religious and chartable purposes;
(b) to manage its own affairs in matters of religion.
অর্থাৎ প্রত্যেক ধর্মীয় গোষ্ঠীর লোকরা ধর্মীয় ও দাতব্যগত কারণে তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালন করতে পারবে। এই বিষয়ে সবার সমান অধিকার। এখানে কোন বৈষম্যের অবকাশ নেই।
মনে রাখা দরকার যে একটি ধর্মীয় রাষ্ট্র যেমন সাবেক হিন্দুরাষ্ট্র নেপালে, কিংবা বর্তমান ইসলামী রাষ্ট্র ইরাণ, ইরাক কিংবা আফগানিস্থানে, বা বৌদ্ধ ধর্মীয় রাষ্ট্র মায়ানমারে, অন্য ধর্মের লোকরা নির্ম্মমভাবে নির্যাতিত হয়। হিন্দু ধর্মের পবিত্রতা রক্ষার নামে কাঠমাণ্ডুতে নেপালী রাজতন্ত্রের আমলে সংখ্যালঘুদের উপর যে বর্বরতা হয়েছে, কিংবা আফগানিস্থানে শরিয়তী শাসনের নামে তালিবান আমলে সংখ্যালঘু হিন্দু--বৌদ্ধ--খৃশ্চানদের উপর যে পাশবিকতা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে, সেখানকার বামিয়ানে হিন্দু ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির নিদর্শনগুলিকে যেভাবে ধূলিস্যাৎ করা হয়েছে, তা সভ্যতার লজ্জা। একইভাবে ইরাণে শিয়া মৌলবাদ ও ইরাকে সুন্নী মৌলবাদ ইসলামের নামে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপর যে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে তা অকল্পনীয়। অহিংসার বাণীর প্রচারক বুদ্ধদেবের নাম ভাঙিয়ে সুচির সরকারের মদতে মানায়মারে বৌদ্ধ মৌলবাদীরা কেবল মুসলিম হবার অপরাধে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদেরকে নারী--শিশু--যুবা--বৃদ্ধ--বৃদ্ধা নির্বিশেষে, যেভাবে রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে, সে নৃশংসতার বর্ণনা রক্ত--মাংস--হাড়কে হিম করে। বস্তুতঃপক্ষে, এইসব কারণেই প্যালেস্টাইন মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, PLO প্রধান ইয়াসের আরাফৎ বলেছিলেন তাঁর মৃত্যুর কিছু আগে, "শরিয়তের নামেই হোক, আর বাইবেলের নামেই হোক, ধর্মীয় রাষ্ট্র মানেই হোল শয়তানদের দোজোক।" আরাফতের মূল্যায়ন সর্বাংশে সত্য। কোন ধর্মীয় রাষ্ট্রে ধর্ম বা ঈশ্বরের কোন ঠাঁই নেই। সেখানে আছে বা থাকে শুধু পাশবিকতা, নৃশংসতা, অকল্পনীয় বর্বরতা। ধর্মনিরপেক্ষ তথা বহুত্ববাদী সংস্কৃতির দেশেই কেবলমাত্র সকল মানুষ মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে সকল মানুষ নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে।
তাই ইতিহাস প্রমাণ করে যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবতাবাদী রাষ্ট্র নায়করা দেশের সংবিধানের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধোত্তর পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি সুকর্ণো, ঘানার নত্রুমা, শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েক, কঙ্গোর লুমুম্বা, চিলির রাষ্ট্রপতি সালভাদোর আলেন্দে, আফগানিস্থানে বারবাক কারমাল ও ডঃ নজিবুল্লাহ, মিশরের রাষ্ট্রপতি আব্দেল নাসের, সবাই সংবিধানের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে স্থান দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে "Muslim Brotherhood" বলে একটি উগ্র মুসলিম মৌলবাদী সংগঠন, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নাসেরের জাতশত্রু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মদতে গুলি করে আলেকজান্দ্রিয়ায় এক সভায় নাসেরকে হত্যা করার অপচেষ্টা করে। গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় অল্পের জন্য নাসের বেঁচে যান। অতি সাম্প্রতিক কালে দক্ষিণ আফ্রিকার সংবিধানে রাষ্ট্র নায়ক নেলসন ম্যাণ্ডেলা ধর্ম নিরপেক্ষতার আদর্শকে স্বীকৃতি দেন।
আমাদের দেশ ভারতবর্ষের সংবিধানের মধ্যেও উল্লিখিত ধারাগুলির মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ স্বীকৃত হয়েছে। শুধু তাই নয়। ধর্মগত, ভাষাগত, জনগোষ্ঠীগত সংখ্যালঘুরা যাতে সংখ্যাগুরুদের চাপে, আত্মবিকাশে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের দেশের সংবিধানের ৩০ নং ধারায় বলা হয়েছে-- "All minorities, whether based on religion or language, shall have the right to establish and administer educational institutions of their choice." অর্থাৎ ধর্ম ভিত্তিক বা ভাষা ভিত্তিক সংখ্যালঘুরা তাদের অভিরুচি অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে।
উগ্র হিন্দু মৌলবাদীরা এই ৩০নং ধারাটির বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে বলছে যে এই ধারার অস্তিত্ব হিন্দুদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল। তারা এই ধারার অপলোপ চায়। তাদের যুক্তি যে এই ধারা বলে মুসলিম, খৃশ্চান, বৌদ্ধ, জৈন প্রমুখ সংখ্যালঘুরা তাদের পছন্দমত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করে তাদের ধর্মীয় শিক্ষা সেখানে দিতে পারে। কিন্তু হিন্দুদের সেই সুযোগ নেই। এই বৈষম্য কেন থাকবে? এর অবলুপ্তি দরকার। এই বিকৃত প্রচারের দ্বারা তারা সাধারণ হিন্দু--ভাই বোনদেরকে বিভ্রান্ত করছে। সংবিধানের মধ্যে পূর্বোক্ত ২৫ ও ২৬ নং ধারার তো যথাক্রমে প্রত্যেকের স্বাধীনভাবে ধর্মাচরণের অধিকার ও প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পছন্দমত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান খোলার অধিকার দেওয়া আছে। কাজেই অকারণে ৩০ নং ধারা নিয়ে অপপ্রচার করে সংখ্যাগুরু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ জনের সাথে, সংখ্যালঘু মুসলিম, খৃশ্চান প্রমুখ সম্প্রদায়ের মানুষদের এক মানসিক দূরত্ব তৈরী করা হচ্ছে। এর পরিণাম হবে ভয়ংকর। গোটা দেশটা তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়বে। এটা আমরা, এদেশের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষরা কিছুতেই হতে দিতে পারি না। এই অপচেষ্টাকে আমরা রুখবোই রুখবো--এ আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।
আসলে ইংরাজীতে "Preotective Discrimination" বা সুরক্ষা মূলক বৈষম্য বলে একটি কথা আছে। সমাজের দুর্বল অংশের মানুষদের জন্য এই পদক্ষেপ নিতে হয়। বিশ্বের বহুদেশে এর নজির আছে। ১৯৩৬ সালের সোভিয়েত সংবিধানে অর্থাৎ স্টালিন সংবিধানে কিংবা ১৯৭৭ সালের ব্রেজনেড সংবিধানে এটা ছিল, সুইজারল্যাণ্ডে বিভিন্ন ক্যান্টনে এই ব্যবস্থা আছে, নাসেরের আমলে মিশরের রাষ্ট্রবাবস্থায় খৃশ্চান, ইহুদি ও অন্যান্য সংখ্যা লঘুদের জন্য এই সুরক্ষামূলক বৈষম্যের ব্যবস্থা ছিল। যে শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে লেনসন ম্যাণ্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ বর্ণ বৈষম্যবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন, সেই দক্ষিণ আফ্রিকায় যাতে সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গরা সংখ্যাগুরু কৃষ্ণাঙ্গদের শাসনে কোন বৈষম্যের শিকার না হন, তার জন্য সংখ্যালঘু শ্বেততাকারদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ম্যাণ্ডেলা প্রশাসন গ্রহণ করেন। দাসত্ব প্রথা অবলোপের পর মার্কিন রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিঙ্কন উদ্যোগ নিয়েছিলেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বর্ণগত সংখ্যালঘুদের স্বার্থে সুরক্ষামূলক বৈষম্যবাদী পদক্ষেপ চালু করতে। কিন্তু, তার আগে তিনি খুন হন দাসপ্রভুদের চক্রান্তে।
বিগত শতাব্দীর ত্রিশের দশকে বিশ্বব্যাপী মন্দার প্রেক্ষাপটে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট "New Deal" কর্মসূচীর মাধ্যমে সমাজের দূর্বল অংশের মানুষকে কিছু বিশেষ সুরক্ষা দিতে চেয়েছিলেন। এর জন্য তাঁকে মার্কিন সুপ্রীমকোর্টের সঙ্গে অনেক লড়তে হয়েছিল। আমাদের দেশে ১৯৩২ সালে, আইন অমান্য আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লণ্ডনে গোল টেবিল বৈঠকে মহাত্মা গান্ধী ভারতের জন্য পূর্ণ স্বাধীনতার দাবী তুলতে গিয়ে জিন্না ও আম্বেদকরের কাছে সমর্থন চেয়ে এ ব্যাপারে আবেদন করেন। কিন্তু জিন্না শর্ত দেন যে গান্ধীজী মুসলিমদের জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধার দাবী মানলে তবে তিনি এই প্রস্তাবকে সমর্থন করবেন; আম্বেদকর একই সুরে শর্ত দেন অনুন্নত জাতিগুলির জন্য বিশেষ সুবিধার দাবী গান্ধীজী মানলে তবে তাঁকে সমর্থন। জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ থেকে শুরু করে ডঃ রাধাকৃষ্ণান কেউই এক দাবীকে মানার পক্ষে ছিলেন না। তাঁদের সবার মত ছিল জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবার কল্যাণ। গান্ধীজীরও অভিমত ছিল তাই। তিনি বলেন "সর্বোদয়" অর্থাৎ সবার মঙ্গল সাধনই তাঁর লক্ষ্য -- কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের নয়। ফলে গোলটেবিল বৈঠক ভেস্তে গেল।
গণপরিষদে যখন আমাদের সংবিধান রচিত হচ্ছিল, তখন এই "Preotective Discrimination"-এর প্রসঙ্গটি ওঠে। গণপরিষদের একমাত্র কমিউনিস্ট সভ্য কমরেড সোমনাথ লাহিড়ী খুব জোরের সঙ্গে ৩০ নং ধারার সংযোজনকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির উপর জোর দেন সমস্ত ধর্মগত ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের স্বার্থে। সেই সঙ্গে শিক্ষা--চাকুরি ইত্যাদি ক্ষেত্রে সংরক্ষণের প্রশ্নে আম্বেদকর নির্দেশিত জাতপাত ভিত্তিক ব্যবস্থা (Caste based reservation) র পরিবর্তে অর্থনৈতিক ভিত্তিক সংরক্ষণের কথা বলেন। তাঁর এই দ্বিতীয় প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অর্থনৈতিক ভিত্তিক সংরক্ষণের জন্য লড়ছেন। সে লড়াই যে অচিরেই জয়যুক্ত হবে, এ আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আর উল্লিখিত ৩০ নং ধারাকে সংবিধান থেকে খারিজ করে দিয়ে আমাদের দেশের ধর্ম-নিরপেক্ষতার ঐতিহ্যকে বিপন্ন করার যে ধূর্ত গৈরিকী অপপ্রয়াস, তাকে ব্যর্থ করে দিয়ে অশোক--আকবর--দারাশিকো--বিবেকানন্দ--রবীন্দ্রনাথের-নজরুলের উত্তরসূরীরা যে আমাদের দেশের বহুত্ববাদী পরম্পরাকে রক্ষা করবেনই করবেন, সে বিষয়ে আমরা নিযুত নিশ্চয়।
লেখক পরিচিতি
অধ্যাপক খগেন্দ্রনাথ অধিকারী রাষ্ট্রীয় বিদ্যাসরস্বতী পুরস্কার ও এশিয়া প্যাসিফিক পুরস্কার সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহু পুরস্কার প্রাপ্ত একজন খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ। ইনি কোলকাতার সাউথ সিটি (দিবা) কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ।
ঠিকানা-শরনিয়ার বাগান
পোষ্ট-টাকী, পিন-৭৪৩৪২৯
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
১১:১০ এএম, ২৫ জুন ২০২৪ মঙ্গলবার
- পায়েলের জন্মদিনে মানবিক উদ্যোগ
- শিক্ষক দিবসে অভিনব উদ্যোগ
- ফরাক্কায় রেললাইন ধস, মেরামত চলছে জোরকদমে
- পাহাড়ি ঢলে জলমগ্ন নিশিন্দ্রা কাটান, বন্ধ ফরাক্কা-ঝাড়খণ্ড সড়ক যোগাযোগ
- পুলিশের গাড়ি থেকে দুই বাংলাদেশি বন্দি উধাও! ধাওয়া করে ধৃত এক, পলাতক অন্যজন
- নিউ ফরাক্কায় রেললাইনে ধস, আপ-ডাউন দুই লাইনেই ব্যাহত ট্রেন চলাচল
- পুঁটিমারি ব্রিজ সংলগ্ন জাতীয় সড়কে ভয়াবহ ধস, রাস্তা জুড়ে মরণফাঁদ! চরম দুর্ভোগে ধুলিয়ান-ঝাড়খণ্ডগামী যাত্রীরা
- ১৫–০ ভোটে ধুলিয়ান পৌরসভার চেয়ারম্যান অপসারিত
- দুর্নীতির অভিযোগে ১৭ ভোটে অপসারিত প্রধান, ভাষাইপাইকড় পঞ্চায়েতে ভাঙল বোর্ড!
- মালদায় সমাজসেবায় দৃষ্টান্ত রোটারি ক্লাব অব সিল্ক সিটি
- হারানো ফোনের সন্ধানে পুলিশের সাফল্য, একসঙ্গে ৩০টি মোবাইল উদ্ধার
- সুতিতে টোটো থামাতেই চক্ষু চড়কগাছ! উদ্ধার ৭১২ বোতল ফেনসিডিল
- ধুলিয়ান পৌরসভায় বড় রাজনৈতিক পালাবদল
- ডাঙায় উঠলেই অসহ্য জ্বালা, ৪ বছর ধরে পানিতেই ১৭ বছরের ইকবাল
- তিরঙ্গা যাত্রায় সামনের সারিতে হাঁটা নিয়ে বচসা, হাতাহাতি! আহত বিজেপি কর্মী
- নেতাজিকে নিয়ে মন্তব্যের জের, অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রত্যাহার
- স্ত্রীর ভালবাসায় আস্ত ‘তাজমহল’ বানালেন প্রৌঢ়, খরচ আড়াই কোটি!
- এনআরএসে কর্তব্যরত নার্সের রহস্যমৃত্যু, তদন্ত শুরু স্বাস্থ্য দফতরের
- আবাস যোজনায় ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ
- সাংবাদিক বাবুল হকের জীবনপঞ্জি:
মফস্বল সাংবাদিকতা থেকে সংবাদ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার - মহাদেবনগর পঞ্চায়েতে দুর্নীতির অভিযোগ, পাল্টা হুঁশিয়ারি প্রধানের
- মহাদেবনগর পঞ্চায়েতে দুর্নীতির অভিযোগ, পাল্টা হুঁশিয়ারি প্রধানের
- সুতিতে আগ্নেয়াস্ত্র-বোমা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
- আহমদপুরে এডিআরএম-কে স্মারকলিপি
- ধুলিয়ান পৌরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা
- বাড়েনি বেতন, স্থায়ীকরণ দাবিতে সরব KGBV কর্মীরা
- কাদুয়া বিট হাউস পুলিশের অভিযানে ৪০টি চোরাই মোবাইল উদ্ধার, ধৃত এক যুবক
- এক ব্যাগ রক্তে বাঁচল জীবন, সাগরদিঘীতে প্রশংসায় সিভিক কর্মী উদায়ুল ইসলাম
- ‘সাগরদিঘি সুপার কাপ’ ফুটবলের উন্মাদনা
- ‘সাগরদিঘি সুপার কাপ’ ফুটবলের উন্মাদনা
- ১৫–০ ভোটে ধুলিয়ান পৌরসভার চেয়ারম্যান অপসারিত
- নিউ ফরাক্কায় রেললাইনে ধস, আপ-ডাউন দুই লাইনেই ব্যাহত ট্রেন চলাচল
- ফরাক্কায় রেললাইন ধস, মেরামত চলছে জোরকদমে
- পাহাড়ি ঢলে জলমগ্ন নিশিন্দ্রা কাটান, বন্ধ ফরাক্কা-ঝাড়খণ্ড সড়ক যোগাযোগ
- পুঁটিমারি ব্রিজ সংলগ্ন জাতীয় সড়কে ভয়াবহ ধস, রাস্তা জুড়ে মরণফাঁদ! চরম দুর্ভোগে ধুলিয়ান-ঝাড়খণ্ডগামী যাত্রীরা
- পুলিশের গাড়ি থেকে দুই বাংলাদেশি বন্দি উধাও! ধাওয়া করে ধৃত এক, পলাতক অন্যজন
- শিক্ষক দিবসে অভিনব উদ্যোগ
- পায়েলের জন্মদিনে মানবিক উদ্যোগ























