সংলাপে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
জাগরণ রিপোর্ট
দৈনিক জাগরণ
প্রকাশিত : ১২:২২ পিএম, ২ নভেম্বর ২০১৮ শুক্রবার
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। প্রথম দিনেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপ ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় গণভবনে সংলাপ শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
এর আগে সন্ধ্যা ৭টায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ দলীয় জোটের ২২ নেতাদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসেন।
সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলেছেন। তিনি ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বলেছেন সময় মতো ও সংবিধান সম্মতভাবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো দলের সভা-সমাবেশ বন্ধ থাকবে না। গণগ্রেফতার বন্ধ হবে।
ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলোর উত্থাপিত ১ নম্বর দাবির মধ্যে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে এ বিষয়ে তালিকা চান। একই সঙ্গে তিনি এও বলেন, নতুন করে কারো বিরুদ্ধে কোনো মামলা হবে না। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বিঘ্নে সভা-সমাবেশ করতে পারবেন বলেও আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হবে। নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগে তিনি আশ্বাস দেন।
অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকার গঠনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের এমন আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো সংবিধানসম্মত নয়। আর খালেদা জিয়ার মুক্তি আদালতের ব্যাপার এবং ওই মামলা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের করা।
সংলাপে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনির্দিষ্টভাবে এ বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি। তিনি বলেছেন যে এ বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হতে পারে। আমি সংলাপে খুব সন্তুষ্ট নই।
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী সভা-সমাবেশের বিষয়ে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ঢাকাসহ সারা দেশে সভা-সমাবেশসহ রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর কোনো বাধা থাকবে না। রাজনৈতিক দলসমূহ যেখানে সভা করতে চাইবে সেখানে কোনো বাধা দেবে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তিনি ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন। রাজনৈতিক মামলার সম্পর্কে উনি বলেছেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মামলা ও গায়েবি মামলার তালিকা আপনারা দেন। আমি অবশ্যই বিবেচনা করব, যাতে হয়রানি না হয় তা বিবেচনা করব।’
সুব্রত চৌধুরী আরো বলেন, ‘উত্থাপিত দাবিদাওয়া নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘আমরা সাত দফা কর্মসূচি দিয়েছি। মানা না মানার দায়িত্ব সরকারের। আমাদের কর্মসূচি আমরা দিয়েছি, এ নিয়ে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, গণফোরামের জগলুল হায়দার আফ্রিকসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সাড়ে তিন ঘণ্টার ওপরে সংলাপ হয়। সংলাপে ড. কামাল হোসেন ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। যদিও গণভবনে পাঠানো তালিকায় নাম ছিল ২১ জনের। তবে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যাননি।
সংসদ ভেঙে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচনের দাবি তোলা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গত রোববার সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে চিঠি পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হলো।