সিসিটিভি ও মোবাইল ডেটার সূত্রে ২৪ ঘণ্টায় ফরাক্কা খুনের কিনারা, গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত
সফিকুল ইসলাম
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৮:২৯ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ রোববার | আপডেট: ০৮:২৯ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ রোববার
সফিকুল ইসলাম,ফরাক্কা: মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার আমতলায় যুবক খুনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম নাসিরুদ্দিন শেখ ওরফে ‘মিস্টার’ (৩৪)। তাঁর বাড়ি ফরাক্কার অর্জুনপুরের সাঁকোপাড়া এলাকায়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন ও মতবিরোধের জেরেই পরিকল্পনা করে খুন করা হয় ২০ বছরের যুবক মোবারক হোসেনকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার সকালে ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া ফরাক্কার আমতলায় একটি ধানক্ষেত থেকে মোবারক হোসেনের গলাকাটা ও রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার তদন্তে নামে ফরাক্কা থানার পুলিশ। তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন থানার আইসি অমিত মুখার্জি ও এসডিপিও দীপেন্দ্র তামাং। তদন্তে এনটিপিসি থানার পুলিশও সহযোগিতা করে।
ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি কয়েকটি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়। এরপর মৃতের মোবাইলের কল ডিটেলস এবং এলাকার একটি মদের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সন্দেহভাজন হিসেবে নাসিরুদ্দিনের সন্ধান পায় পুলিশ। শনিবার রাতে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। পুলিশের দাবি, জেরায় তিনি খুনের কথা স্বীকার করেছেন।
রবিবার ফরাক্কা থানায় সাংবাদিক সম্মেলনে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কান্তি বিশ্বাস জানান, ওড়িশায় একসঙ্গে কাজ করার সময় মোবারক ও বিবাহিত নাসিরুদ্দিনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীকালে সেই সম্পর্কে টানাপোড়েন ও মতবিরোধ দেখা দেয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের অভিযোগ, ঘটনার দিন মোবারককে মাঠে ডেকে নিয়ে গিয়ে মদ্যপান করানোর পর তাঁর হাত-পা বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে খুন করা হয়।
ধৃতকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কান্তি বিশ্বাস, ফরাক্কার এসডিপিও দীপেন্দ্র তামাং এবং থানার আইসি অমিত মুখার্জি।
