পাকুড়-বাংলা সীমান্তে ফের চালু টোটো স্ট্যান্ড, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় সীমান্তবাসী
সফিকুল ইসলাম
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ১২:২০ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ১২:২০ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার
সফিকুল ইসলাম: ঝাড়খণ্ডের পাকুড় ও বাংলার ধুলিয়ান ডাকবাংলার মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে টোটো পরিষেবা। তবে যানজট নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ঝাড়খণ্ডের পাকুড় প্রশাসন বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত সংলগ্ন অকেজো টোল ট্যাক্স চত্বরকে অটো ও টোটো স্ট্যান্ড হিসেবে নির্দিষ্ট করে। এর ফলে ডাকবাংলা থেকে পাকুড় কিংবা পাকুড় থেকে ডাকবাংলা যাওয়ার ক্ষেত্রে যাত্রীদের সীমান্ত সংলগ্ন ওই স্ট্যান্ডে নেমে অন্য টোটো বা অটোতে উঠতে হতো। এতে যাত্রীদের সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে ছিল। একই সঙ্গে একটানা যাতায়াতের অনুমতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন অনেক টোটো চালকরাও।।দীর্ঘদিন ধরে এই অস্থায়ী টুটেস্ট্যান্ড ব্যবস্থা চালু থাকলেও সম্প্রতি সীমান্ত সংলগ্ন টোটো স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে একটি অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে কয়েক দিন টোটো স্ট্যান্ড বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সমস্যায় পড়েন স্ট্যান্ডের টোটো চালকেরা অর্থাৎ ঝাড়খণ্ডের টোটো চালকরা। তাঁদের অভিযোগ, স্ট্যান্ড বন্ধ থাকায় জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এরপরই তাঁরা পাকুড় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। অবশেষে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে পুনরায় টোটো স্ট্যান্ড চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কিছু নিয়ম বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন।
প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, সকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ঝাড়খন্ড সীমান্ত সংলগ্ন ওই স্ট্যান্ড চালু থাকবে। রাত ১০টার পর স্ট্যান্ডের নির্দিষ্ট নিয়ম আর কার্যকর থাকবে না বলে জানানো হয়েছে। পাকুড় প্রশাসন ও টোটো চালকদের উদ্যোগে সোমবার আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে স্ট্যান্ডটি পুনরায় চালু রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
পাকুড়ের জেলা সড়ক নিরাপত্তা প্রবন্ধক রিতেশ কুমার সিং জানান, পাকুড় শহরে যানজট কমানো এবং অটো ও টোটো চালকদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টোটো অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রশাসন এই ব্যবস্থা চালু রেখেছে বলে তিনি জানান। তাঁর কথায়, কোনও যাত্রী বা চালকের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করা যাবে না। যাত্রীদের যাতে অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয় এবং তাঁদের সঙ্গে কোনও রকম দুর্ব্যবহার না করা হয়, সে দিকেও নজর রাখা হবে। তার জন্যই টোটো চালকদের মধ্যেই তাদেরকে পরিচালনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এটি সম্পূর্ণ আলোচনা সাপেক্ষে অস্থায়ী টোটো স্ট্যান্ড। কদিন আগে এক মহিলাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনাকে সাজানো এবং বেবুনিয়া ভিত্তিহীন বলে জানান। সেই মামলা সেই মহিলা তুলে নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এটি ঝাড়খণ্ড প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার কোন বিষয় আসে না।
অন্যদিকে, পাকুড় জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা পৃথিব নগরের,মুখিয়া সেলিম হোসেন জানান, পাকুড় একটি ছোট শহর হওয়ায় যানজট নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই অকেজো টোল ট্যাক্স চত্বরকে টোটো স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে মহিলাকে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনার যে অভিযোগ উঠেছে, তা তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার টোটো ঝাড়খণ্ডে এবং ঝাড়খণ্ডের টোটো বাংলায় চলাচল করবে না। তবে যাত্রীদের যাতে কোনও অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই স্ট্যান্ড পরিচালিত হবে বলেও তিনি জানান।
