শনিবার   ১০ অক্টোবর ২০২৬   আশ্বিন ২৪ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

ভাষাইপাইকড় পঞ্চায়েতে খারিজ স্টে অর্ডার, বহাল প্রধান-উপপ্রধান

সফিকুল ইসলাম

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ০৯:২৩ এএম, ৯ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার | আপডেট: ০৯:২৩ এএম, ৯ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার

সফিকুল ইসলাম: সামশেরগঞ্জের ভাষাইপাইকড় পঞ্চায়েতে নাটকীয় মোড়ের পর অবশেষে আইনি জটিলতার অবসান ঘটল আজ। নবনির্বাচিত প্রধান ও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে জারি হওয়া স্টে অর্ডার খারিজ করে দিল আদালত। ফলে বহাল থাকল প্রধান পদে আব্দুর রউফ ও উপপ্রধান পদে রোশনারা খাতুনের দায়িত্ব। আদালতের এই নির্দেশে পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক কাজকর্ম ফের স্বাভাবিক হওয়ার পথ খুলল বলে দাবি অনাস্থাকারী দলের।

শামসেরগঞ্জের ভাষাইপাইকড় গ্রাম পঞ্চায়েতকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই তৈরি হয়েছিল টানটান পরিস্থিতি। প্রধান নির্বাচন থেকে শুরু করে বোর্ড গঠন, তারপর আদালতের স্থগিতাদেশ—একাধিক নাটকীয় মোড়ের সাক্ষী ছিল এই পঞ্চায়েত। অবশেষে আদালতের নির্দেশেই সেই জটিলতার অবসান ঘটল। অনাস্থার পর

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভাষাইপাইকড় গ্রাম পঞ্চায়েতে নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন আব্দুর রউফ। পরদিন, ৩০ সেপ্টেম্বর উপপ্রধান নির্বাচিত হন রোশনারা খাতুন। এরপরই পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে শুরু হয় আইনি জটিলতা। অনাস্থার বিরুদ্ধে থাকা সদস্যদের একাংশ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করেন, বিধি মেনে পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন করা হয়নি। সেই মামলার ভিত্তিতে ১ অক্টোবর পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের উপর স্থগিত জারি করে আদালত। বেশ কয়েক দিন কেটে যাওয়ার পর

বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে স্টে অর্ডার খারিজ করে দেয় আদালত। ফলে বহাল থাকে নবনির্বাচিত প্রধান আব্দুর রউফ এবং উপপ্রধান রোশনারা খাতুন। আদালতের এই নির্দেশের পরই পঞ্চায়েত পরিচালনা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা অনেকটাই কাটল বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নূর আলম বলেন, ‘‘ভাষাইপাইকড় পঞ্চায়েতে মিথ্যা চক্রান্ত করে যে স্থগিতাদেশ আনা হয়েছিল, মহামান্য আদালত আজ তা খারিজ করে দিয়েছে। মিথ্যা মামলা করে সদস্যদের হেনস্থা করা হয়েছে। সর্বোপরি এই ধরনের চক্রান্তের কারণে সাধারণ মানুষ পঞ্চায়েতের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

নূর আলম আরও বলেন, সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডে SIR প্রক্রিয়া চলায় বিবাহ বা অন্যান্য কারণে সেখানে বসবাসকারী বহু মানুষ পঞ্চায়েতের বিভিন্ন পরিষেবার জন্য সমস্যায় পড়ছিলেন। পঞ্চায়েতে প্রধান না থাকায় তাঁদের প্রশাসনিক কাজেও জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। আদালতের নির্দেশে সেই জটিলতা কেটে যাওয়ায় এবার পঞ্চায়েতের পরিষেবা স্বাভাবিক হবে বলে দাবি তাঁর। আগামীকাল থেকেই নবনির্বাচিত প্রধান আব্দুর রউফ ও উপপ্রধান রোশনারা খাতুন দায়িত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেবেন বলেও জানান তিনি।

 

অন্যদিকে, নূর আলমের রাজনৈতিক প্রতিনিধি এমদাদুল হক বলেন, ‘‘যাঁদের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছিল, তাঁদের একাংশ ষড়যন্ত্র করে সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছিলেন। সাধারণ মানুষ যাতে পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন, সেই উদ্দেশ্যেই আইনি জটিলতা তৈরি করা হয়েছিল। আদালত বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের অভিযোগ খারিজ করেছে এবং প্রধান ও উপপ্রধানকে বহাল রেখেছে।’’

এই জটিলতার পিছনে প্রাক্তন বিধায়কের কোনও ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও এমদাদুল হকের দাবি, আগের প্রধান ও উপপ্রধানের তরফ থেকেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে দাবি।