বৃহস্পতিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২৬   আশ্বিন ২২ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

বোমা-গুলি নেই, চলছে নিঃশব্দ সন্ত্রাস’, রেজিনগরের ভোট নিয়ে তোপ অধীরের

সফিকুল ইসলাম

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ০৯:২৯ এএম, ৭ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ০৯:২৯ এএম, ৭ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার

সফিকুল ইসলাম,মুর্শিদাবাদ:বোমা-গুলি নেই, নেই রক্তপাতও। অথচ তাঁর অভিযোগ, রেজিনগরে চলছে ‘নিঃশব্দ সন্ত্রাস’। কোথাও ভোটারকে বুথমুখী হতে বাধা, কোথাও আগেই আঙুলে কালি লাগিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া—এমনই অভিযোগ তুলে রেজিনগর উপনির্বাচনকে ‘কাস্টমাইজড ভোটলুট’ বলে আক্রমণ করলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

মঙ্গলবার বহরমপুরে জেলাশাসকের দফতরের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে বসে বিজেপি, পুলিশ-প্রশাসন এবং রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করেন তিনি।

অধীরের কথায়, ‘‘রেজিনগরের উপনির্বাচনে বোমাবাজি, গুলি বা রক্তপাত নেই। তবে চলছে এক ভয়ঙ্কর নিঃশব্দ সন্ত্রাস। এটা কোনও পাইকারি বা হোলসেল রিগিং নয়। সম্পূর্ণ ‘কাস্টমাইজড’ ভোটলুট। যেখানে যেমন প্রয়োজন, সেখানে সেভাবেই ভোট পরিচালনা করা হচ্ছে।’’

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় পুলিশ সাধারণ ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন অধীর। তাঁর দাবি, কোথাও ভোটারদের আগেই আঙুলে কালি লাগিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

গনতান্ত্রিক তৃণমূলের একাংশের সঙ্গে বিজেপির আঁতাতের অভিযোগ তুলে তাঁর আরও দাবি, ‘‘তৃণমূলের আমলের যাবতীয় দুর্নীতিবাজ, অপরাধী ও সমাজবিরোধীরা আজ গেরুয়া পোশাক পরে বিজেপির শাখা নদী হয়ে মাঠে নেমেছে।’’ তাঁর অভিযোগ, ওই ব্যক্তিদের হাতে বিশেষ ‘স্টিকার’ রয়েছে। তা দেখেই পুলিশ বুঝে যাচ্ছে তাঁরা কার হয়ে কাজ করছেন। এই ‘নতুন কায়দায়’ ভোট রিগিং চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সরব হন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, ‘‘গোটা প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। আমাদের প্রার্থী আব্দুল্লাহিল কাফি প্রতিকার চাইতে গেলে পুলিশ তাঁকে ধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দিচ্ছে। পর্যবেক্ষক ফোন বন্ধ করে বসে আছেন, আর ডিএম পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।’’

রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে নিয়েও তীব্র আক্রমণ করেন অধীর। তাঁর দাবি, ‘‘হুমায়ুন কবীর বিজেপির গেস্ট আর্টিস্ট।’’ তাঁকে ইচ্ছাকৃত ভাবে গ্রেফতার করিয়ে ‘লড়াকু মুসলিম নেতা’ হিসেবে তুলে ধরার নাটক চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অধীরের দাবি, এর লক্ষ্য ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত হুমায়ুনের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখা এবং সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া।

রেজিনগরের ভোট নিয়ে আমরা ও দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের দলগুলি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বলে দাবি করেন অধীর। তাঁর কথায়, কংগ্রেস এই ‘প্রহসনের ভোট’ কোনও ভাবেই মেনে নেবে না