বুধবার   ০৭ অক্টোবর ২০২৬   আশ্বিন ২১ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

মানবিকতার নজির! সাগরদিঘি থেকে দুর্গাপুরে গিয়ে ৭ ইউনিট রক্তদান করলেন সাত যুবক।

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ১০:৫০ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ১০:৫০ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার

সীমানা বা দূরত্বের বাধা পেরিয়ে আবারও মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির একদল রক্তযোদ্ধা। এক মুমূর্ষু রোগীর হার্ট অপারেশনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৭ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন মেটাতে সাগরদিঘি থেকে সুদূর দুর্গাপুরে ছুটে গেলেন সাত জন যুবক। সফলভাবে রক্তদান সম্পন্ন করে তাঁরা বাঁচালেন রোগীর জীবন।​পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোমেনা বিবি নামের এক নারী। তাঁর জরুরি হার্ট অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকরা হঠাৎই ৭ ইউনিট রক্তের ব্যবস্থা করার কথা জানান। গরিব পরিবারের লোকজন এমন আকস্মিক পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েন। রক্তের এই সংকটময় মুহূর্তে তাঁরা যোগাযোগ করেন সমাজকর্মী সাবিরুল ইসলামের সঙ্গে।খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে উদ্যোগী হন সাগরদিঘির অন্যতম রক্তযোদ্ধা সঞ্জীব ও সামিরুল ইসলাম। তাঁদের বিশেষ সহযোগিতায় সাগরদিঘি থেকে দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন সাত রক্তযোদ্ধা— সাবিরুল ইসলাম, মাসাদুল হোদা, মেহেবুব আলম, বাদশা সেখ, কাজল সেখ, বাপ্পি সেখ এবং রাজিব সেখ।​নির্ধারিত সময়ে দুর্গাপুরের ওই নার্সিংহোমে পৌঁছে তাঁরা প্রত্যেকে একে একে রক্তদান করেন। এই সাত যুবকের সময়োচিত পদক্ষেপে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় রক্তের জোগান নিশ্চিত হয়।​দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসে রক্তদানের এই মহৎ উদ্যোগে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রোগীর পরিবার থেকে শুরু করে চিকিৎসকমহল ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। রক্তযোদ্ধাদের এই মানবিক মুখ আবারও প্রমাণ করল, মানুষের বিপদে মানুষই পাশে দাঁড়ায়।রক্তযোদ্ধা সঞ্জীব বলেন "​আজ আমাদের সাগরদিঘির সাতজন তরুণ বন্ধু এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন। শুধু নিজের এলাকায় নয়, সুদূর দুর্গাপুরে গিয়ে ৭ ইউনিট রক্তদান করে তাঁরা প্রমাণ করলেন যে—মানবিকতার কোনো ভৌগোলিক সীমানা হয় না। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর জন্য দূরত্ব কখনোই বাধা হতে পারে না।​রক্তদানের চেয়ে বড় কোনো দান হতে পারে না, কারণ এক ফোঁটা রক্তই পারে একটি নিভে যাওয়া প্রাণকে আবার ফিরিয়ে দিতে। আমাদের এই সাত জন রক্তযোদ্ধা আজ শুধু দুর্গাপুরের কোনো রোগীর জীবন বাঁচাননি, তাঁরা গোটা সমাজকে এক নতুন আশার আলো দেখিয়েছেন।আপনাদের এই নিঃস্বার্থ সাহসিকতা, উদ্যম এবং সেবার মানসিকতাকে আমি হৃদয় থেকে কুর্নিশ জানাই। আশা করি, আপনাদের এই মহান কাজ দেখে আগামী দিনে আরও অনেক তরুণ সমাজসেবায় এগিয়ে আসবে। আপনারা সুস্থ থাকুন, এভাবেই মানুষের পাশে থাকুন। অনেক ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন!"