আক্রমণ থেকে প্রশংসা—শুভেন্দুর দীর্ঘায়ু কামনা করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শুভেচ্ছা হুমায়ুনের
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৮:১২ এএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ০৮:১২ এএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার
‘এক বছর অপেক্ষা করুন, বিজেপির কাছেই নাকছ্যাঁচড়া খাবেন’ বলে আক্রমণ শানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বিরুদ্ধে, পাশাপাশি উপরওয়ালার কাছে দোয়া করেছেন শাস্তির জন্য, তারপর এদিন বিকেল সুরবদল হুমায়ুনের: শুভেন্দুর দীর্ঘায়ু ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শুভেচ্ছা দেন নওদার বিধায়ক
রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের মুখে এর আগে বিজেপি ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে ছিলেন। তারপর সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এবার শুভেন্দুর দীর্ঘায়ু ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শুভেচ্ছা দেন নওদার বিধায়ক
উল্লেখ্য, কখনও পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণ ও দলীয় কর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানো, থানার সামনে ধর্না এবং নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার পর তাঁর আক্রমণের কেন্দ্রে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ তুলে ধরে হুমায়ুন দাবি করেন, দলটির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠরাই এখন সরকারের মূল চালিকাশক্তি। তাঁর কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন বলেই যা খুশি তা-ই করবেন, তা হবে না। মাত্র এক বছর অপেক্ষা করুন। নিজের দলের কাছেই কীভাবে নাকছ্যাঁচড়া খান এবং নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরায়, তা দেখা যাবে।’’
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির উদাহরণ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, বহু মুখ্যমন্ত্রীকেই পরবর্তীতে পদ খোয়াতে হয়েছে বা উপ-মুখ্যমন্ত্রী হয়ে থাকতে হয়েছে।
এছাড়া মমতা বন্ধ্যোপ্যাধায়কে যেমন দোয়া করে প্রাক্তন করেছেন তেমন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই শুক্রবার শুক্রবার উপরওয়ালার কাছে দোয়া করেছেন মিথ্যাচার ও বিরোধীদের হেনস্থার জন্য শাস্তি চেয়ে।
এবিষয়ে, নিজের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে নওদার বিধায়ক বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতাচ্যুতির দোয়া করেছিলেন এবং তা ফলেছে। এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধেও শুক্রবারের নামাজে তিনি তার শাস্তির জন্য প্রার্থনা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ ভাগে ব্যক্তিগত আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে তিনি ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী কিংবা মাধবরাও সিন্ধিয়ার মতো প্রয়াত জাতীয় নেতাদের মর্মান্তিক পরিণতির উদাহরণ টেনে আনেন। শুভেন্দুর ‘অহংকার’-এর পতন অনিবার্য দাবি করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, মিথ্যাচার ও বিরোধীদের হেনস্থার শাস্তি উপরওয়ালা ঠিকই দেবেন।
রবিবার বিকেলে আবারও হুমায়ুন তার নিজের বক্তব্য থেকে সরে এলেন, তিনি বলেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে এই পৃথিবীতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকুন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, পূর্ণ মেয়াদ ভালোভাবে পূরণ করুন। মানুষের কাছে সুনাম-সুখ্যাতি অর্জন করুন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ওনার স্বপ্ন ছিল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার, সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন থেকে উনি স্বপ্ন দেখুন মোদীজির পরে উনি যেন ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী হন। তাহলে আমরা খুব গর্ববোধ করব।
তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বপ্ন দেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার, তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়নি। আমাদের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর যেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রমোশন হয় এবং তিনি যাতে ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী হন, এটাই আমার শুভেচ্ছা থাকবে।
আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগরের উপনির্বাচনে হুমায়ুনের ছেলে লড়লেও, ভোটের লড়াই সংবাদ মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কখনও কটাক্ষ, আবার কখনও প্রশংসা করে রেজিনগরের উপনির্বাচনে হুমায়ুন প্রচারে ঠিকে থাকতে চাইছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
