১৭–০ ভোটে অপসারিত প্রাক্তন বিধায়ক আমিরুল ইসলামের স্ত্রী আনোয়ারা
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ১১:১৭ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ১১:১৭ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার
সফিকুল ইসলাম,সামশেরগঞ্জ: দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে পদ খোয়ালেন শামসেরগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি আনোয়ারা বেগম। বুধবার অনাস্থা ভোটে তাঁর বিরুদ্ধে ১৭টি ভোট পড়ে। বিপক্ষে কোনও ভোট না পড়ায় ১৭-০ ব্যবধানে তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
অনাস্থা ভোটকে ঘিরে এদিন পঞ্চায়েত সমিতিতে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। সহ-সভাপতির পক্ষে থাকা কয়েকজন সদস্য ভোটে অংশ না নিয়ে সভা থেকে বেরিয়ে যান। তাঁদের অভিযোগ, গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধির কারণে ভাষাইপাইকর পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হলে পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে অনাস্থা কেন নেওয়া হচ্ছে?
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে দুই শিবিরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই একের পর এক অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত সমিতিতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। যদিও অনাস্থার পক্ষে থাকা সদস্যদের দাবি, দুর্নীতি বন্ধ করে স্বচ্ছভাবে পঞ্চায়েত সমিতি পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের সুযোগ দিতেই এই উদ্যোগ। পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়েঅনাস্থা সফল হয়।
অনাস্থার পর আনারুল হক বিপ্লব বলেন, “বিধায়ক নুর আলমের নেতৃত্বেই আজকের অনাস্থা সফল হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে অনাস্থা এনে সহ-সভাপতিকে অপসারণ করা হয়েছে। আগামী দিনে স্বচ্ছভাবে পঞ্চায়েত সমিতি পরিচালনা করা হবে এবং সাধারণ মানুষ পরিষেবা ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হবেন না।” তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের কাজের হিসাব দিতে হবে।
পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য আশরাফুল হক বলেন, “দুর্নীতি দমন করতে হলে সহ-সভাপতিকে অপসারণ করা জরুরি ছিল। দুর্নীতির অভিযোগ এবং স্বচ্ছভাবে পঞ্চায়েত সমিতি পরিচালনার লক্ষ্যেই অনাস্থা আনা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে শামসেরগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতিতে বোর্ড গঠন করে। সেই বোর্ডেরই সহ-সভাপতি আনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে অনাস্থা ঘিরে এবার তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নতুন করে সামনে এসেছে। প্রাক্তন বিধায়কের সহধর্মিনী আনোয়ারা বেগমের অপসারণের পর এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
