ফরাক্কার ১০৯ গেট খোলা, বিপদসীমার ১.৫ মিটার ওপরে গঙ্গা: ভাঙন-আতঙ্কে গঙ্গাপাড়
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ১১:১৪ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ১১:১৪ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার
সফিকুল ইসলাম,ফরাক্কা: মুর্শিদাবাদে গঙ্গা নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার অনেকটা উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফরাক্কা ব্যারেজের মোট ১০৯টি গেটের সবকটিই খুলে দেওয়া হয়েছে।
ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আর ডি দেশপান্ডে জানান, ব্যারেজের আপস্ট্রিম থেকে ডাউনস্ট্রিমে গঙ্গার জল নামছে এবং প্রায় ১৬ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এর মধ্যে ফিডার ক্যানেল দিয়ে ছাড়া হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল।
সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফরাক্কায় ডাউনস্ট্রিমে গঙ্গার জলস্তর বর্তমানে প্রায় ২৩.৭৫ মিটারে পৌঁছেছে, যা ২২.২৫ মিটারের বিপদসীমা থেকে প্রায় ১.৫ মিটার উপরে। তবে আগামী দু’দিনের মধ্যে জলস্তর কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফরাক্কার স্থানীয় বাসিন্দা ছোটন ঘোষ বলেন, "বর্তমানে ভালোই জল বেড়েছে, জল বিপদসীমার উপর দিয়েই বইছে। এভাবে জল বাড়তে থাকলে ডাউনস্ট্রিমের বেনিয়াগ্রাম সহ একাধিক এলাকার ঘরবাড়ি প্লাবিত ও জলমগ্ন হতে পারে। ফরাক্কাবাসী হিসেবে আমরা আতঙ্কে আছি, তবে গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দাদের ভয় সবচেয়ে বেশি। প্রশাসনকে এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে দেখছি।"
অন্যদিকে, ২০১৯ সালের গঙ্গা ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে ফরাক্কার সরকারি খাস জমিতে আশ্রয় নেওয়া কার্তিক মণ্ডল নিজের দুর্ভোগ ও ভীতির কথা জানান। তিনি বলেন, "আগে আমরা ফরাক্কার হোসেনপুরে থাকতাম। ২০১৯ সালে গঙ্গায় সব ভেসে যাওয়ার পর কিছু তুলতে পারিনি, শেষমেশ ভেঙেচুরে ফরাক্কার এই ফাঁকা জায়গায় এসে আশ্রয় নিয়েছি। পুরোনো সেই ভীতি এখনো কুরে কুরে খাচ্ছে। বর্তমানে গঙ্গার জল বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারি জায়গা থেকেও তুলে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জল আর একটু বাড়লেই মেলার মাঠ ও আশেপাশের রাস্তায় জল উঠে গ্রামগুলি ডুবে যেতে পারে।"
পাশাপাশি, জলস্তর বৃদ্ধি হওয়ায় বুধবার সকাল থেকে তারানগর ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা ও রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার সীমান্তবর্তী তারানগর ও রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে বিগত দুই বছর ধরে লাগাতার ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি, জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। পুনরায় ভাঙন শুরু হওয়ায় সীমান্ত লাগোয়া এই গ্রামগুলিতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
