অনাস্থা ডেকেও টলল না চেয়ার, ফের বহাল শাহনাজ বিবি
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৮:১১ এএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ০৮:১১ এএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার
সফিকুল ইসলাম,সুতি: অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও শেষ পর্যন্ত সুতি-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদে ফের বহাল রইলেন বিধায়ক ঈমানী বিশ্বাসের সহধর্মিনী শাহনাজ বিবি।মঙ্গলবার সুতি-২ ব্লকে অনাস্থা ভোটের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ভোট প্রক্রিয়া চলে। তবে অনাস্থা প্রস্তাবকারী বিদ্রোহী সদস্যরা শেষ পর্যন্ত ভোটে অংশ নেননি। ফলে অনাস্থার পক্ষে কোনও ভোট পড়েনি। আবারও সভাপতি পদে বহাল থাকেন শাহনাজ বিবি।
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত সমিতি নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২৩টি আসন পায়। বিজেপি পায় ৪টি এবং কংগ্রেস পায় ৩টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তৃণমূল বোর্ড গঠন করে। সভাপতি নির্বাচিত হন তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক ঈমানী বিশ্বাসের সহধর্মিনী শাহনাজ বিবি।
তবে সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন তৃণমূলেরই একাংশের সদস্যরা। গত ২০ আগস্ট ১২ জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করে তা বিডিও ও মহকুমা শাসকের কাছে জমা দেন। বিদ্রোহী সদস্যদের দাবি ছিল, তাঁদের পক্ষে মোট ১৭ জন সদস্য ছিলেন।
এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূলের ২৩ জন সদস্য থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দলেরই একাংশ অনাস্থা প্রস্তাব আনার মতো এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন পেলেন? একইসঙ্গে তৃণমূলের অন্দরের এই ভাঙন আগামী দিনে কোন দিকে যায়, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।
অনাস্থা ভোটে অংশ না নেওয়ার কারণ হিসেবে বিদ্রোহী সদস্য ইউসুফ আলী অভিযোগ করেন, বিধায়ক ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রশাসনকে ব্যবহার করে সদস্যদের ভয় দেখিয়েছেন। এমনকী কয়েকজন সদস্যকে মারধর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে তাঁদের পক্ষে থাকা সদস্যসংখ্যা কমে যায় এবং তাঁরা ভোটে অংশ নেননি বলে দাবি ইউসুফের।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন বিধায়ক ঈমানী বিশ্বাস। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ ও প্রশাসন সঠিকভাবেই কাজ করেছে। তাঁর শিবিরের কয়েকজন সদস্য বিরোধীদের সঙ্গে গিয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে ঈমানী বলেন, কে কোথায় গিয়েছেন, সেটা দেখার বিষয় নয়। এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানুষ উন্নয়ন চায়। সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন বলেই অনাস্থা ভোটে উপস্থিত হননি।
শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী সদস্যরা ভোটে অংশ না নেওয়ায় অনাস্থার পক্ষে ভোট পড়ে শূন্য। ফলে ফের সুতি-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদে বহাল থাকলেন শাহনাজ বিবি। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
