শনিবার   ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ভাদ্র ২০ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

পাহাড়ি ঢলে জলমগ্ন নিশিন্দ্রা কাটান, বন্ধ ফরাক্কা-ঝাড়খণ্ড সড়ক যোগাযোগ

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ০৮:৫৪ এএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ০৮:৫৪ এএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার

সফিকুল ইসলাম,ফরাক্কা: ঝাড়খণ্ডে টানা বৃষ্টির জেরে নেমেছে পাহাড়ি ঢল। তার জেরে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার নিশিন্দ্রা কাটান এলাকায় নদীর জল উপচে পড়ে রাস্তা জলমগ্ন হয়ে যায়। শুক্রবার সকাল থেকে প্রবল স্রোতে রাস্তার উপর দিয়ে জল বইতে থাকায় কার্যত বন্ধ হয়ে যায় ফরাক্কা-ঝাড়খণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ। নিরাপত্তার কারণে ওই পথে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় ট্র্যাফিক পুলিশ। ফলে রাস্তার দু’পাশে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে পণ্যবাহী লরি-সহ অসংখ্য যানবাহন।

নিশিন্দ্রা কাটানের এই রাস্তা ঝাড়খণ্ডের ৮০ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে ফরাক্কার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে রাজমহল ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকে মালদহ, বহরমপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করেন বহু মানুষ। পণ্যবাহী যান, অ্যাম্বুল্যান্স, নিত্যযাত্রী এবং স্কুল পড়ুয়াদের নিয়মিত যাতায়াতের পথটি জলমগ্ন হয়ে পড়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা এলেই নদীর জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছরই একই সমস্যার সৃষ্টি হয়। রাস্তার উপর জল উঠে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়। এতে অতিরিক্ত প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন স্কুল পড়ুয়া, রোগী ও জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন।

স্থানীয় বাসিন্দা স্বাধীন ঘোষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিশিন্দ্রা কাটানে স্থায়ী সেতুর দাবি জানানো হলেও এখনও সমস্যার সমাধান হয়নি। তাঁর দাবি, এই রাস্তা দিয়ে ঝাড়খণ্ড, রাজমহল থেকে মালদহ ও কলকাতার দিকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ হাইস্কুল থাকায় জলমগ্ন রাস্তার কারণে পড়ুয়াদেরও চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

জলস্রোতের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, অতীতেও রাস্তার উপর দিয়ে জল পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। ফলে দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, জলমগ্ন রাস্তার দু’পাশে দীর্ঘক্ষণ ধরে আটকে রয়েছে বহু পণ্যবাহী লরি। ভাগলপুরের লরিচালক প্রবীণ কুমার জানান, রাত থেকেই গাড়ি নিয়ে সেখানে আটকে রয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, রাস্তার উপর দিয়ে জল উপচে পড়ায় পুলিশ যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ঝুঁকি না নিয়ে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মালিকও। দীর্ঘক্ষণ গাড়ি আটকে থাকায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন চালকেরা।

স্থানীয়দের দাবি, নিশিন্দ্রা কাটানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে প্রতি বর্ষায় এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই মিলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচল করায় দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে দাবি এলাকাবাসীর। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবারই বর্ষায় একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ এখনও বাস্তবে দেখা যায়নি।