পুঁটিমারি ব্রিজ সংলগ্ন জাতীয় সড়কে ভয়াবহ ধস, রাস্তা জুড়ে মরণফাঁদ! চরম দুর্ভোগে ধুলিয়ান-ঝাড়খণ্ডগামী যাত্রীরা
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৯:৫৪ পিএম, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৯:৫৪ পিএম, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার
বামদিকে: চাঁদপুর অন্তরদীপা বাজারে জলমগ্ন রাস্তার নিজস্ব চিত্র। ডানদিকে: NH-133A ডাকবাংলো–পাকুড় রোডের ধসে যাওয়া অংশের চিত্র।
সফিকুল ইসলাম,সামশেরগঞ্জ: ধুলিয়ান থেকে পাকুড় হয়ে ১৩৩-এ ঝাড়খণ্ডগামী জাতীয় সড়কে দিনের পর দিন বাড়ছে দুর্ভোগ। দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুর বাজার সংলগ্ন জাতীয় সড়কের খানাখন্দে বেহাল পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে পুঁটিমারি ব্রিজের কাছে নতুন করে ধস নামায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে যান চলাচল। আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স, যাত্রীবাহী বাস, টোটো থেকে শুরু করে একাধিক পণ্যবাহী গাড়ি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, ধুলিয়ান থেকে চাঁদপুর বাজার সংলগ্ন জাতীয় সড়কের দীর্ঘ অংশে কয়েক বছর ধরে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে রয়েছে। নিয়মিত জল জমে থাকায় গর্তগুলির গভীরতা বোঝার উপায় থাকে না। ফলে টোটোচালক-সহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন।
এরই মধ্যে এদিন পুঁটিমারি ব্রিজে ওঠার আগেই রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে যাওয়ায় সকাল থেকেই যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এই বেহাল দশা সংস্কার না হওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই ‘মরণফাঁদ’ মেরামত না করায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে।
পুঁটিমারি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ধসের জেরে ঝাড়খণ্ডগামী জাতীয় সড়ক অচল হয়ে পড়ে। তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। বহু রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স আটকে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েন শয়ে শয়ে যাত্রী।
খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
স্থানীয় লরিচালক ইন্তাজ শেখ বলেন, “রাতে স্বাভাবিকভাবেই গাড়ি চালিয়ে গিয়েছিলাম। সকালে এসে দেখি রাস্তার একটা বড় অংশ ধসে গিয়েছে। এর ফলে কয়েক ঘণ্টা যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।” রাস্তার কাজের গুণমান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য এলাকায় একটি ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান ইন্তাজ।
অন্যদিকে, চাঁদপুর অন্তরদ্বীপা বাজারের পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে রাস্তার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
স্থানীয় টোটোচালক জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, রাস্তার পাশে নিকাশি ড্রেন থাকলেও সেটি কার্যত অকেজো। দীর্ঘক্ষণ জল জমে থাকার কারণে রাস্তায় দেড় থেকে দুই ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে প্রায়ই টোটো উল্টে যাচ্ছে, বাইক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এবং বিভিন্ন যানবাহনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে।
একই অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এজাহার আলীরও। তাঁর দাবি, রাস্তার বড় বড় গর্তের কারণে যে কোনও সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জল জমে থাকার কারণে দোকানে ক্রেতাদের যাতায়াতও কমেছে, ফলে ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে। দ্রুত নিকাশি ব্যবস্থা সচল করে রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।
সামশেরগঞ্জের বিডিও জানান, বিষয়টি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত কাজ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
