দুর্নীতির অভিযোগে ১৭ ভোটে অপসারিত প্রধান, ভাষাইপাইকড় পঞ্চায়েতে ভাঙল বোর্ড!
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৯:৫১ এএম, ২৮ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার | আপডেট: ০৯:৫১ এএম, ২৮ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার
।বাম দিকে অপসারিত প্রধান ডানদিকে তার বিরুদ্ধে ১৭ ভোট পড়ার কর্মীরা
সফিকুল ইসলাম,সামসেরগঞ্জ: দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামশেরগঞ্জের ভাষাইপাইকর গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা ভোটে অপসারিত হলেন প্রধান আনিকুল আলম। বৃহস্পতিবার পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল ১১টা নাগাদ প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩০ জন সদস্যের মধ্যে ২৯ জন ভোট দেন। প্রধানের পক্ষে ১২টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়ে ১৭টি ভোট। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধানের পদ থেকে অপসারিত হন আনিকুল আলম।
প্রধানের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েতের একাংশের সদস্য ও পঞ্চায়েত সদস্য মেম্বার দের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছিল না। পাশাপাশি পঞ্চায়েতের বিভিন্ন কাজে দুর্নীতি ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এর জেরে উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হচ্ছিল বলে দাবি সদস্যদের। যদিও এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অপসারিত প্রধান।
ভোটের পর থেকেই সামশেরগঞ্জের একাধিক পঞ্চায়েতে অনাস্থা ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিধায়ক নূর আলম ভোটে জয়ী হওয়ার পর থেকেই দুর্নীতিমুক্ত পঞ্চায়েত ও পৌর প্রশাসনের কথা বলে আসছেন। তাঁর সেই অবস্থানের পরেই একের পর এক পঞ্চায়েতে অনাস্থা ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। তবে ভাষাইপাইকর পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রে এই অনাস্থা সত্যিই বিধায়কের ‘দুর্নীতিমুক্ত’ উদ্যোগের ধারাবাহিকতা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে—তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য আশরাফুল হক বলেন, বিধায়ক নূর আলম প্রথম থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব। তাঁর পথ অনুসরণ করেই পঞ্চায়েতের সদস্যরা প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর দাবি, প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের কারণে উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যাচ্ছিল। ভোটে ১৭ জন সদস্য বিরোধিতা করায় বোর্ড ভেঙে যায়। আগামী ৩১ তারিখ উপপ্রধানের বিরুদ্ধেও অনাস্থা ভোট রয়েছে। এরপর দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন প্রধান নির্বাচিত করা হবে বলে জানান তিনি।
পঞ্চায়েত সমিতির আর এক সদস্য আতাউর রহমানের অভিযোগ, প্রধানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি, কাটমানি নেওয়া এবং নিয়ম না মেনে কাজ করার অভিযোগ ছিল। তাঁর দাবি, প্রাক্তন বিধায়ক ও কয়েকজন সদস্যকে নিয়েই পঞ্চায়েত পরিচালনা করা হতো। ফলে এলাকার উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছিল। অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জেলা পরিষদের সদস্যর প্রতিনিধিত্ব মোসলে উদ্দিন বলেন, পঞ্চায়েতে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছিল বলে তাঁদের অভিযোগ। বিধায়ক নূর আলমের উদ্যোগে সদস্যরা একজোট হয়ে অনাস্থা ভোটে অংশ নেন। তাঁর দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধেই এই পদক্ষেপ। প্রধানের বিপক্ষে ১৭টি ভোট পড়েছে। আগামী দিনে পঞ্চায়েতে স্বচ্ছ প্রশাসন এবং উন্নয়নমূলক কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তৃণমূল কর্মী মঈন আলী বলেন, সিন্ডিকেট, তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে পঞ্চায়েতকে মুক্ত করতেই এই অনাস্থা ভোট। তাঁর দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজকের ভোটে জয় হয়েছে। আগামী দিনে বিধায়ক নূর আলমের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দুর্নীতিমুক্ত পঞ্চায়েত গড়ে তোলা হবে।
তবে সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন অপসারিত প্রধান আনিকুল আলম। তাঁর দাবি, এটি রাজনৈতিক চক্রান্ত। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, এতদিন সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করেছেন। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হওয়া অনাস্থা ভোটের ফল তিনি মেনে নিয়েছেন। তবে আগামী দিনে ভাষাইপাইকর এলাকায় উন্নয়নের কাজ আরও ভালোভাবে হোক, সেটাই তাঁর প্রত্যাশা।
এখন নজর আগামী ৩১ তারিখের উপপ্রধানের অনাস্থা ভোটের দিকে। এরপর দল কাকে নতুন প্রধান হিসেবে বেছে নেয়, তার উপরেই নির্ভর করছে ভাষাইপাইকর পঞ্চায়েতের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ।
