রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২৬   শ্রাবণ ২৫ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

মহাদেবনগর পঞ্চায়েতে দুর্নীতির অভিযোগ, পাল্টা হুঁশিয়ারি প্রধানের

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ১০:৫৯ এএম, ৯ আগস্ট ২০২৬ রোববার | আপডেট: ১০:৫৯ এএম, ৯ আগস্ট ২০২৬ রোববার

ফরাক্কার মহাদেবনগর পঞ্চায়েতে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, পাল্টা মানহানি মামলার হুঁশিয়ারি প্রধানের

 

সফিকুল ইসলাম,ফরাক্কা:মহাদেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে কোটি কোটি টাকা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে কংগ্রেস। এর পাল্টা জবাব দিতে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন মহাদেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রেকসোনা বিবি এবং তাঁর প্রতিনিধি আব্দুল বারিক শেখ। কংগ্রেসের সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে, অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট কংগ্রেস সদস্য ও নেতাদের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।

শনিবার মহাদেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান পক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানের সমর্থনে থাকা মোট ১৬ জন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য। তাঁদের দাবি, অনাস্থা প্রস্তাব আনার মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই পঞ্চায়েতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে মহাদেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য ও নেতৃবৃন্দ। তাঁদের অভিযোগ, ড্রেন নির্মাণ, গার্ডওয়াল তৈরি, নলকূপ বসানো, রাস্তা নির্মাণ-সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ভুয়ো বিল দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, দুর্নীতির পরিমাণ ৭ কোটি টাকারও বেশি। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে ব্লক ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের।

যদিও কংগ্রেসের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করেছে প্রধান পক্ষ। সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁদের দাবি, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মহাদেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে বিভিন্ন খাতে মোট ২ কোটি ৭৫ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪২৩ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চায়েতের উদ্বোধনী স্থিতি হিসেবে ছিল ৭১ লক্ষ ২৯ হাজার ৮৭১ টাকা। এছাড়াও অন্য একটি তহবিলে প্রায় ১ কোটি টাকা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৩ সাল থেকে পঞ্চায়েতের হাতে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার মতো অর্থ এসেছে বলে জানিয়েছে প্রধান পক্ষ।

প্রধান পক্ষের প্রশ্ন, পঞ্চায়েতের হাতে মোট অর্থের পরিমাণই যেখানে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা, সেখানে কীভাবে ৭ কোটি টাকারও বেশি দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে? তাঁদের দাবি, কংগ্রেসের আনা অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের কোনও সামঞ্জস্য নেই এবং অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

মহাদেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট সদস্য সংখ্যা ২৬ জন। প্রধান পক্ষের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে ১০ জন তৃণমূল কংগ্রেস এবং ৬ জন কংগ্রেস সদস্য প্রধানের পক্ষে রয়েছেন। বাকি ১০ জন সদস্যের অবস্থান ঘিরেই পঞ্চায়েতে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন।

প্রধান রেকসোনা বিবি ও তাঁর প্রতিনিধি আব্দুল বারিক শেখের বক্তব্য, দুর্নীতির অভিযোগ করা হলে তা প্রমাণ করতে হবে। যথাযথ প্রমাণ ছাড়া মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে পঞ্চায়েত এবং জনপ্রতিনিধিদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হলে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট কংগ্রেস সদস্য ও নেতাদের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহাদেবনগর পঞ্চায়েত এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মাঝে প্রশাসনিক তদন্তে প্রকৃত তথ্য কীভাবে সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।