মঙ্গলবার   ২১ জুলাই ২০২৬   শ্রাবণ ৬ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

ফরাক্কায় অপহরণের চেষ্টা,উপস্থিত বুদ্ধিতে রক্ষা স্কুলছাত্রী

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ১১:৪৫ এএম, ২০ জুলাই ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ১১:৪৫ এএম, ২০ জুলাই ২০২৬ সোমবার

সফিকুল ইসলাম,ফরাক্কা:মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা থানার মহেশপুর এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘটনার দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

অভিযোগ, শনিবার সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ মহেশপুরের আবুল মোড় এলাকায় টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক একটি ম্যাজিক গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরিবারের দাবি, উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ছাত্রীটি অভিযুক্তদের কবল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ফারাক্কার আমতলা এলাকায় গাড়ি থেকে নেমে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয় সে। সেখান থেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।

এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে নির্যাতিত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মহেশপুর পঞ্চায়েত প্রধানের প্রতিনিধি আব্দুল বারিক, পঞ্চায়েত সদস্য অসীম (মিঠু) এবং স্থানীয় শিক্ষক মেহেবুব হোসেন রুবেল। তাঁরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

অপহরণের শিকার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আসমা খাতুন জানান, শনিবার সকালে টিউশন পড়তে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর হঠাৎ একটি চার চাকার ম্যাজিক গাড়ি তার সামনে এসে দাঁড়ায়। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা তাকে বলেন, “তোমার স্যারের কাছে পৌঁছে দেব, গাড়িতে ওঠো।” এতে তার সন্দেহ হলে সে স্যারের নাম ও পরিচয় জানতে চায়। সেই নিয়ে কথাকাটাকাটি শুরু হতেই অভিযোগ, তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।

আসমার দাবি, গাড়িটির চারদিকে কাঁচ লাগানো থাকায় বাইরে থেকে কেউ কিছু বুঝতে পারেননি। তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি করলেও কোনো সাহায্য পাননি। অভিযোগ, তার বই-খাতা জলে ফেলে দিয়ে গাড়িটি ফারাক্কার আমতলা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গাড়িচালক পানি আনতে গাড়ি থেকে নামলে উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে আসমা পালিয়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকেই পরিবারের সদস্যদের ফোন করে বিষয়টি জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন।

এরপর ফারাক্কা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।