বুধবার   ১৫ জুলাই ২০২৬   আষাঢ় ৩০ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

মূল্যবৃদ্ধি থেকে ট্রাইবুনাল—৬ দফা দাবিতে মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের সমাবেশ

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ১১:২০ এএম, ১৪ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ১১:২০ এএম, ১৪ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার

সফিকুল ইসলাম, বহরমপুর:কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক জনস্বার্থ বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে এবং সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও দুর্নীতির প্রতিবাদে Murshidabdএ এক বিশাল জেলা সমাবেশের আয়োজন করল জেলা congres। সোমবারের এই সমাবেশ থেকে কংগ্রেসকে একমাত্র বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে মূল ৬টি দাবি পেশ করা হয়।

কংগ্রেসের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—প্রতিটি ব্লকে ট্রাইবুনাল গঠন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদনকারীদের সমস্যার সমাধান করা, অন্নপূর্ণা সহ সমস্ত সরকারি প্রকল্পের নিয়মকানুন সরল করা, উপযুক্ত পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং পেট্রোল-ডিজেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা। এছাড়াও নিট (NEET) পরীক্ষার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, মুর্শিদাবাদ জেলায় রেলের কোচ ফ্যাক্টরি গঠন এবং ভাতাদহ বিলের দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে।

এদিনের সমাবেশে রানীনগর ও ফরাক্কার বিধায়ক সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। Beharampur এর টেক্সটাইল কলেজ মোড়ে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক সমাবেশে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক যোগ দেন। সামনেই রেজিনগরের উপ-নির্বাচন এবং পৌরসভা নির্বাচন, তার আগে এই সমাবেশ শাসক দলকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষত, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল কর্মীরা কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় জেলায় হাত শিবির আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে Adhir Ranjan Choudhury বলেন, "আমাদের একটাই দাবি, প্রত্যেকটা ব্লকে একটা করে ট্রাইবুনাল খুলতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদনকারীদের সমস্যার সমাধান করতে হবে। সরকার পোর্টালের কথা বললেও সেখানে কোনো কাজ হচ্ছে না, পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর।" তিনি জানান, এদিন জেলাশাসককে ডেপুটেশন দেওয়ার পর আগামী দিনে কলকাতার রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালকে ডেপুটেশন দেওয়া হবে। প্রয়োজনে আদালতের অনুমতি নিয়ে রাজভবন অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "একদিকে কোর্টের বাইরে, অন্যদিকে কোর্টের ভেতরে—এই দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাধ্যমে মানুষের অধিকারের জন্য আমাদের লড়তে হবে।" জেলাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, বিগত দিনে যেমন মানুষের সঙ্গে ছিলেন, আগামী দিনেও তেমনই থাকবেন এবং অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন লাগাতার চলবে।