বিজেপিতে সুখেন্দু-সুস্মিতা-প্রকাশ, ‘দুর্নীতিমুক্তদের স্বাগত’
Altamas Kabir
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৯:১৫ পিএম, ৯ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৯:১৫ পিএম, ৯ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার
প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন। বৃহস্পতিবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে তাঁরা দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন। যোগদানের পর শমীক জানান, এই ঘটনা ব্যতিক্রমী হলেও তৃণমূলের দুর্নীতিমুক্ত নেতা-কর্মীদের দলে স্বাগত জানানোর বিষয়ে বিজেপির অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
রাজ্যসভার তিনটি আসনের নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারির পরদিনই এই যোগদান রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেরই ধারণা, পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার আসনে এই তিন নেতাকে প্রার্থী করতে পারে বিজেপি। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, “চর্চা চলুক।”
শমীক বলেন, তৃণমূলের যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন, মানুষের উপর অত্যাচার করেননি কিংবা সরকারি চাকরি বিক্রির মতো অভিযোগে জড়াননি, তাঁদের অনেক আগেই বিজেপির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, বর্তমান যোগদান সেই নীতিরই প্রতিফলন, কোনও ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নয়।
দলে যোগ দিয়ে সুস্মিতা দেব বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবেন না। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলে থাকাকালীন তিনি কাছ থেকে ব্যাপক দুর্নীতির চিত্র দেখেছেন, তবে নিজে কখনও তার অংশ ছিলেন না। সুখেন্দুশেখর রায়ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন। এর পর শমীক স্পষ্ট করে জানান, অতীত যাই থাকুক, এখন তাঁদের একমাত্র পরিচয় তাঁরা বিজেপির কর্মী।
সুখেন্দুশেখর রায় ইতিমধ্যেই তৃণমূল ও রাজ্যসভার সদস্যপদ ছেড়েছিলেন। অন্যদিকে, সুস্মিতা দেব জানান, তিনি চাইলে অনলাইনেই বিজেপির সদস্যপদ নিতে পারতেন। কিন্তু দলের নির্দেশেই কলকাতায় এসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। তিনি আরও বলেন, বাংলার মানুষ তাঁকে দু’বার রাজ্যসভায় পাঠিয়েছেন, তাই এই রাজ্যের প্রতি তাঁর বিশেষ দায়বদ্ধতা রয়েছে। শমীক জানান, সুস্মিতা শুধু বাংলাতেই নয়, সারা দেশেই বিজেপির হয়ে কাজ করবেন।
প্রকাশচিক বরাইকও এদিন বিজেপিতে যোগ দেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যসভার আসন্ন নির্বাচনে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইককে প্রার্থী করতে পারে বিজেপি। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
