অস্ট্রেলিয়ার সমাজমাধ্যম নীতি থেকে শিক্ষা নিচ্ছে ভারত: মোদী
Altamas Kabir
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৯:১৩ পিএম, ৯ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৯:১৩ পিএম, ৯ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার
অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধের নীতির ভূয়সী প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মেলবোর্নে ভারত-অস্ট্রেলিয়া বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগ গোটা বিশ্বের জন্য শিক্ষণীয়। এই ক্ষেত্র থেকে ভারতও অনেক কিছু শিখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের উপস্থিতিতে মোদী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও সমাজমাধ্যম সংক্রান্ত আইনে অস্ট্রেলিয়া যেভাবে পরিবর্তন এনে সমাজকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করছে, তা অন্যান্য দেশের কাছেও অনুপ্রেরণা। বিশেষ করে শিশুদের সমাজমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে ১৬ বছরের কম বয়সিদের গুরুত্বপূর্ণ সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলা আইনত নিষিদ্ধ। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর অনলাইনের নেতিবাচক প্রভাব কমানোই এই আইনের মূল লক্ষ্য। যদিও ভারতেও একই ধরনের নীতি গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি।
ভারতে শিশুদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি ইতিমধ্যেই জোরালো হয়েছে। কর্নাটকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারও একই পথে এগোনোর ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বক্তব্যে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মোদী। তিনি বলেন, দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁর কথায়, “একের সঙ্গে এক যোগ করলে দুই হয়, কিন্তু একের পাশে এক দাঁড়ালে হয় ১১।” এই উপমার মাধ্যমে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
মেলবোর্নে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেন মোদী। বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা, পরমাণু শক্তি এবং কৌশলগত সহযোগিতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি ভারতকে ইউরেনিয়াম সরবরাহে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহ ভারতের জ্বালানি কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
