বৃহস্পতিবার   ১৮ জুন ২০২৬   আষাঢ় ৪ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

পঞ্চায়েত ঘেরাও করে ১০ দফা দাবি পেশ, ভাসাইপাইকড়ে সিপিআইএমের

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ০৯:৩৭ এএম, ১৮ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৯:৩৭ এএম, ১৮ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ভাসাইপাইকড়ে সিপিআইএমের সভা ও ডেপুটেশন, যোগ দিলেন ৩০-৪০ জন কর্মী-সমর্থক

ভাসাইপাইকড়ে সিপিআইএমের সভা ও ডেপুটেশন, যোগ দিলেন ৩০-৪০ জন কর্মী-সমর্থক

সফিকুল ইসলাম,সামশেরগঞ্জ: রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের, অন্যদিকে সিপিআইএমের সংগঠন নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করছে বলেই মনে করছে বাম নেতৃত্ব ইকবাল শেখ এবং মুস্তাক আহমেদ। কয়েকদিন আগেই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পার্টি অফিস পুনরায় চালু হওয়ার পর কর্মী-সমর্থকদের ভিড় নজর কেড়েছিল ভাসাপাইকোর অঞ্চল। সেই আবহেই বুধবার ভাসাইপাইকড় গ্রাম পঞ্চায়েতে ১০ দফা দাবিকে সামনে রেখে সভা, বিক্ষোভ মিছিল ও ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করল সিপিআইএম।

বুধবার বিকেল প্রায় ৪টা নাগাদ তরুণ ও প্রবীণ কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণে একটি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে পঞ্চায়েত কার্যালয়ে গিয়ে প্রতিনিধিদল স্মারকলিপি জমা দেয়।

সিপিআইএমের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলির মধ্যে ছিল আবাস যোজনার প্রকৃত উপভোক্তাদের তালিকা প্রকাশ্যে টাঙানো, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধীদের ভাতার ব্যবস্থা, ‘আমার পাড়া আমার সমাধান’ প্রকল্পে প্রতিটি বুথে বরাদ্দ ১০ লক্ষ টাকার হিসাব প্রকাশ, জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি, ডিলিট হওয়া ভোটারদের ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত শুনানির ব্যবস্থা করতে পঞ্চায়েতের সক্রিয় ভূমিকা, প্রতিটি বাড়িতে আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জলের সংযোগ, ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প দ্রুত চালু করা এবং পঞ্চায়েতে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করা। মূলত এই সমস্ত দাবি-দাওয়া নিয়েই ডেপুটেশন দেওয়া হয়। যদিও পঞ্চায়েত প্রধান বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি সিপিআইএম নেতৃত্বের।

ডেপুটেশনের আগে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআইএমের ধুলিয়ান এরিয়া কমিটির সম্পাদক মোদ্দাসার হোসেন তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রাক্তন বিধায়কের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, পঞ্চায়েত ভোটে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কাটমানি দুর্নীতি, নিম্নমানের রাস্তা নির্মাণ, পানীয় জল ও স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল অবস্থা নিয়েও তিনি সরব হন। ধুলিয়ান পুরসভার কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেও তিনি বক্তব্য রাখেন। তৃণমূলের অতীত ‘জুলুম’ এবং বর্তমান শাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মোদ্দাসার হোসেন বলেন, “এ লড়াই সাধারণ মানুষের লড়াই। ১০ দফা দাবির মাধ্যমে এলাকার সার্বিক সমস্যাগুলি তুলে ধরা হয়েছে। তৃণমূলের অপশাসন এবং বর্তমানে হকার উচ্ছেদ-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। তারই প্রতিবাদে আমাদের এই ডেপুটেশন কর্মসূচি।”

ডিলিট হওয়া ভোটারদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনকল্যাণ শিবির খোলা হলেও সেখানে ডিলিট ভোটারদের সমস্যার সমাধানের কোনও ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তাই বৈধ ভোটারদের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে ব্লক স্তর থেকে মহকুমা ও জেলা স্তর পর্যন্ত আন্দোলন, ডেপুটেশন এবং গণতান্ত্রিক কর্মসূচি চলবে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।

সভায় বক্তব্য রাখেন ডিওয়াইএফআই নেতা ডালিম। তিনি ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কাটমানি ইস্যুতে শাসকদলের সমালোচনা করেন। সিআইটিইউ জেলা নেতা আজাদ শেখও একই সুরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হন।

সভাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সিপিআইএমের প্রতি যুব সম্প্রদায়ের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি করেছেন দলীয় নেতারা। এদিন ইকবাল শেখের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য আব্বাস মাস্টারের ভাই কাউসার-সহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন কর্মী-সমর্থক সিপিআইএমে যোগদান করেন। ইসলামপুর এলাকা থেকেও বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক দলের পতাকা হাতে নেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ধুলিয়ান এরিয়া কমিটির সম্পাদক মোদ্দাসার হোসেন, সিআইটিইউ জেলা নেতা আজাদ শেখ, প্রবীণ নেতা কসুমুউদ্দিন, মর্জেম আলি, গফুর শেখ, মোস্তাক আহমেদ, ইকবাল শেখ, মোরসালিম হক, ফেকারুল ইসলাম-সহ এলাকার একাধিক তরুণ ও প্রবীণ নেতা-কর্মী।