বহিষ্কৃত ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করা নিয়ে হাই কোর্টের প্রশ্ন, রায় বৃহস্পতিবার
পুষ্প প্রভাত ডেস্ক
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৮:৪০ এএম, ১৮ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৮:৪০ এএম, ১৮ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার
বহিষ্কৃত ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করা নিয়ে হাই কোর্টের প্রশ্ন, রায় বৃহস্পতিবার
পুষ্প প্রভাত টিম, কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হল, তা নিয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। এ বিষয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে বুধবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানতে চান, বহিষ্কারের চিঠি পাওয়ার পরও কীভাবে স্পিকার ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে গ্রহণ করলেন।
বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয়ী হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পায়। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম মনোনীত করে ৯ মে স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠান। অভিযোগ, সেই চিঠির ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। পরে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে।
এরপর ১ জুন দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু ৩ জুন তৃণমূলের একাংশের বিধায়কদের সমর্থনপত্রের ভিত্তিতে স্পিকার ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হন শোভনদেব।
শুনানিতে বিচারপতি রাও প্রশ্ন তোলেন, প্রথম চিঠির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে বাধা কোথায় ছিল এবং সই জালিয়াতির অভিযোগ উঠলে কেন দুই পক্ষকে ডেকে শুনানি করা হয়নি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। পাশাপাশি তিনি জানতে চান, বহিষ্কারের চিঠি পাওয়ার পরও কীভাবে একজন বহিষ্কৃত ব্যক্তিকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হল।
স্পিকারের পক্ষে আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য দাবি করেন, প্রথম চিঠির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল এবং পরে ৫৮ জন বিধায়ক সশরীরে উপস্থিত হয়ে ঋতব্রতের প্রতি সমর্থন জানান। সেই কারণেই সংখ্যাগরিষ্ঠের মতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ঋতব্রতের পক্ষে আইনজীবী জয়দীপ কর বলেন, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনই প্রধান বিষয়। তাঁর দাবি, ঋতব্রতের পক্ষে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে এবং দলত্যাগবিরোধী আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ হয়নি।
শোভনদেবের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্তি দেন, বিরোধী দলনেতা মনোনয়নের অধিকার রাজনৈতিক দলের, বিধায়ক দলের নয়। দলীয় নেতৃত্ব শোভনদেবকে মনোনীত করেছিল, তাই স্পিকারের উচিত ছিল সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা। বহিষ্কৃত কাউকে বিরোধী দলনেতা করা আইনসঙ্গত নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত রায়দান স্থগিত রেখেছে। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও বৃহস্পতিবার সকালে এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন।
