মঙ্গলবার   ১৬ জুন ২০২৬   আষাঢ় ৩ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

অভিষেকের পর কুণালও সিআইডির তলবে

পুষ্প প্রভাত ডেস্ক

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ০৯:২৯ এএম, ১৩ জুন ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ০৯:২৯ এএম, ১৩ জুন ২০২৬ শনিবার

অভিষেকের পর কুণালও সিআইডির তলবে

 

কলকাতা, ১৩ জুন: বিধানসভার সই-জালিয়াতি মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee-কে দ্বিতীয়বার তলব করার পর এবার বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক Kunal Ghosh-কেও ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দিল সিআইডি। রবিবার একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নেতাকে ডাকা হয়েছে, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

 

সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিষেককে রবিবার দুপুর ১২টায় এবং কুণালকে দুপুর আড়াইটায় ভবানী ভবনে হাজির হতে বলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে কুণাল জানান, তিনি নিজে নোটিস গ্রহণ করেছেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার সই-কাণ্ডে দীর্ঘ সময় ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। আদালতের নির্দেশে তিনি ভবানী ভবনে হাজির হন এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জেরা চলার পর বেরিয়ে আসেন। তদন্তকারীরা তাঁকে ফের রবিবার ডেকেছেন।

 

সূত্রের খবর, শুধু কুণাল ঘোষই নন, এই মামলায় আরও কয়েকজন বিধায়কের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে সিআইডি। ইতিমধ্যেই কুণালের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছিল। ফলে অভিষেক ও কুণালের বক্তব্যে কোনও অসঙ্গতি বা ফারাক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা।

 

উল্লেখ্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য স্পিকারের কাছে জমা পড়া একটি চিঠিকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত। ওই চিঠিতে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হলেও পরে কয়েকজন বিধায়ক অভিযোগ করেন, তাঁরা কোনও সই করেননি। এমনকি কয়েকটি নাম ব্লক লেটারে লেখা ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। ওই চিঠিতে তৎকালীন দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল।

 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্তভার সিআইডির হাতে যায়। তদন্তের অগ্রগতির মধ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বদলেছে। তৃণমূলের পরিষদীয় দল ভেঙে যাওয়ার পর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন Ritabrata Banerjee। এদিকে দলের অন্দরে ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীর উত্থান রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

এখন নজর রবিবারের জেরার দিকে। অভিষেক ও কুণালের বয়ান মিলিয়ে তদন্তে নতুন কোনও দিক উঠে আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।