শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ২২ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

বিয়ের প্রলোভন, তারপর লখনউ যাত্রা—CCTV ভেস্তে গেল পরিকল্পনা

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ১১:০৩ এএম, ৫ জুন ২০২৬ শুক্রবার | আপডেট: ১১:০৩ এএম, ৫ জুন ২০২৬ শুক্রবার

ফোনে প্রেম, বিয়ের প্রলোভন, তারপর লখনউ যাত্রা—নাবালিকাদের। সিসিটিভির সাহায্য নিয়ে রেল পুলিশ ভেস্তে দিল তাদের পরিকল্পনা

ফোনে প্রেম, বিয়ের প্রলোভন, তারপর লখনউ যাত্রা—নাবালিকাদের। সিসিটিভির সাহায্য নিয়ে রেল পুলিশ ভেস্তে দিল তাদের পরিকল্পনা

সফিকুল ইসলাম,ফরাক্কা: রেল পুলিশের তৎপরতায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেল malda—র দুই নাবালিকা। নিউ farakka station র সিসিটিভি ক্যামেরায় সন্দেহভাজনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে দুই নাবালিকা এবং এক কিশোরকে আটক করে রেলওয়ে প্রটেকশন ফোর্স (আরপিএফ) ও রেল পুলিশ। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

রেল পুলিশ (আরপিএফএর) অধিকারিক পিএস মিনা জানান, মালদা জেলার ইংলিশ বাজার এলাকার এক নাবালিকা, এক কিশোর ও মালদা জেলার হাবিবপুর এলাকার আর এক নাবালিকা মহিলা। ইংরেজ বাজারের নাবালিকার পরিবারের এক গৃহবধূর সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের এক যুবকের ফোনে পরিচয় হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই যুবকের সঙ্গে নাবালিকার ফোনে যোগাযোগ গড়ে ওঠে এবং তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। এছাড়া লখনউয়ের ওই যুবকের সঙ্গে তার এক বন্ধুর পরিচয় হয় হাবিবপুররে নাবালিকার সঙ্গে। প্রথম দিকে পরিচয় গোপন রাখতে ওই যুবকরা নিজেকে কখনো ঝাড়খণ্ড আবার কখনো লখনউয়ের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিত। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই দুই যুবক ভিন্ন সম্প্রদায়ের বলে জানাযায়। আসতে আসতে প্রেম গভীর হয়। ইংরেজ বাজারের নাবালিকা কাছে জানতে পারে তাদের গ্রামে এক কিশোরে বাবার মৃত্যুর পর মা দ্বিতীয় বিয়ে করে। আর এই কিশোরের করুন অবস্থা। সেই মতো কিশোরকেও তাদের সঙ্গে নিয়ে যেতে বলে। বৃহস্পতিবার ওই দুই নাবালিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে লখনউয়ে নিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিল দুই লখনউয়ের যুবকরা। সেইমতো লখনউয়ের ট্রেনের টিকিট কাটার উদ্দেশ্যে ওই দুই যুবকের নির্দেশেই দুই নাবালিকা কিশোরকে সঙ্গে নিয়ে মালদার বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস ধরে নিউ ফরাক্কা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছায়। সেখান থেকে ওই কিশোরও নাবালিকাদের সঙ্গে নিউ ফরাক্কা স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে এসে পৌঁছায়। স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরার দায়িত্বে থাকা আরপিএফ আধিকারিকদের নজরে আসে যে, টিকিট কাউন্টারের সামনে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক অত্যন্ত সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছে। কোনো রকম দেরি না করে আরপিএফ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। জিজ্ঞাসাবাদের পরেই ফোনের প্রেম এবং লখনউয়ে পালিয়ে যাওয়ার পুরো বিষয়টি খোলসা হয়।

আরপিএফ ও রেল পুলিশের এই অতন্দ্র নজরদারির ফলেই এক বড়সড় পাচার চক্র বা বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেল দুই নাবালিকা ও কিশোর। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে লখনউয়ে নিয়ে গিয়ে তাদের সাথে কী করা হতো, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন পরিবারের সদস্যরা।

রেলওয়ে আরপিএফ-এর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নাবালিকাদের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্কদের হোমা পাঠানো হয়েছে বলে জানাযায়।