শামসেরগঞ্জে চমক: যোগদান করেই তৃণমূল প্রার্থী নুর আলম, ফারাক্কায় মনিরুলকে সরিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ১০:৪৯ এএম, ১৮ মার্চ ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ১০:৪৯ এএম, ১৮ মার্চ ২০২৬ বুধবার
শামসেরগঞ্জে যোগদান থেকে প্রার্থী নুর আলম, ফারাক্কায় বড় রদবদল শাসক শিবিরে
সফিকুল ইসলাম,জঙ্গিপুর:মুর্শিদাবাদের শামসেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে হঠাৎ করেই বদলে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ। ক্রিকেট জগতে শচীন‘মাস্টার ব্লাস্টার’ নামে পরিচিত,আর রাজনৈতীক জগতে মাস্টার ব্লাস্টার হয়ে উঠলেন নুর আলম।সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হলেন। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতেই এলাকাজুড়ে শুরু হয় জোর চর্চা।
মঙ্গলবার বেলা প্রায় বারোটা নাগাদ তৃণমূলের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন নুর আলম। আর বিকেল গড়াতেই প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ—সেখানে শামসেরগঞ্জ কেন্দ্র থেকে উঠে আসে তাঁর নাম। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রার্থী হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে জল্পনা ও বিস্ময়। কে এই নুর আলাম সামশেরগঞ্জের টিকিট পেলো,আবার সামশেরগঞ্জের বিধায়ক আমিরুল এবার লড়াই করবে ফারাক্কা থেকে। কর্মী থেকে সাধার মানুষের মধ্যে জর চর্চা।
উল্লেখ্য গত কয়েক মাস ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নুর আলমকে নিয়ে আলোচনা চলছিল। যদিও তিনি এতদিন সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পেশায় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী শিক্ষিত ব্যক্তি ও সমাজসেবী হিসেবেও পরিচিত নূর আলম। গঙ্গাভাঙন কবলিত এলাকা সহ দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে একাধিক কাজ করলেও প্রচারের আলো থেকে দূরেই ছিলেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে তাঁর আকস্মিক রাজনৈতিক অভিষেক এবং সঙ্গে সঙ্গেই প্রার্থী হওয়া অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মুখকে সামনে এনে তৃণমূল এই কেন্দ্রে ভিন্ন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, শামসেরগঞ্জ কেন্দ্রে গত এক দশক ধরে বিধায়ক ছিলেন আমীরুল ইসলাম।এবারের প্রার্থী তালিকায় তাঁকে সরিয়ে ফারাক্কা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ফলে শামসেরগঞ্জে সম্পূর্ণ নতুন মুখ হিসেবে নুর আলমকে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রার্থী ঘোষণার পরই ধুলিয়ান শহরে সমর্থকদের নিয়ে পদযাত্রা করেন নুর আলম। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নও উঠছে—স্বল্প সময়ে তিনি কতটা সংগঠনকে গুছিয়ে নিতে পারবেন।
এদিকে ফারাক্কা কেন্দ্রে টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মনিরুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, মুসলিমদের হয়ে সরব হওয়ার কারণেই তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ করা হয়েছে। তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণাও করেছেন।
সব মিলিয়ে শামসেরগঞ্জ ও ফারাক্কা—দুই কেন্দ্রেই নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ায়f রাজনৈতিক লড়াই ক্রমেই তীব্র পারদ চড়ছে। ভোটের ময়দানে নেমেছে সিপিআই(এম), কংগ্রেস, বিজেপি সহ অন্যান্য দলও। ফলে আসন্ন নির্বাচনে কার দখলে যাবে এই কেন্দ্রগুলি, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর। সামসেরগঞ্জ ফারাক্কায় শাসক শিবির নতুন মুখ দিয়ে আদো কি বাজি মাত মারতে পারবে?
