বুধবার   ২৭ মে ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

ডলার বৃদ্ধি, গ্যাসের দাম ও SIR— ইস্যুতে কেন্দ্রকে তোপ জাকির হোসেনের

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ১২:২৯ পিএম, ১১ মার্চ ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ১২:২৯ পিএম, ১১ মার্চ ২০২৬ বুধবার

বিভেদের রাজনীতি বন্ধ না হলে দেশ এগোবে না: গ্যাস মূল্যবৃদ্ধি নিয়েসরব জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন

বিভেদের রাজনীতি বন্ধ না হলে দেশ এগোবে না: গ্যাস মূল্যবৃদ্ধি নিয়েসরব জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন

সফিকুল ইসলাম: জঙ্গিপুর একদিকে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগে বঙ্গবাসী, অন্যদিকে জ্বালানি গ্যাসের সংকট ও এক ধাপে প্রায় ৬০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি—এই দুই পরিস্থিতিকে ঘিরে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন জঙ্গিপুর বিধানসভার বিধায়ক জাকির হোসেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক চাপের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে SIR এ প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের চূড়ান্ত তালিকা হাইকোর্টে বিচারাধীন অবস্থায় ঝুলে রয়েছে। এর মধ্যেই জ্বালানি গ্যাসের সংকট সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও চাপে ফেলেছে।

দেশের বাণিজ্যিক শহর হিসেবে পরিচিত মুম্বাই সেখানেও এর প্রভাব পড়েছে। বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহে টান পড়ায় ইতিমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সেখানকার হোটেল ও রেস্তোরাঁ সংগঠন। মঙ্গলবার ওই সংগঠনের তরফে জানানো হয়, যদি বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তবে আগামী দু’দিনের মধ্যেই শহরের প্রায় ৫০ শতাংশ হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু মুম্বাই নয়, দেশের একাধিক শহরেই বাণিজ্যিক গ্যাসের যোগান ব্যাহত হওয়ায় হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় গুরুতর প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আরও বহু রেস্তোরাঁয় তালা ঝুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম বেড়ে প্রায় ৯২ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে ৮৮ টাকা থেকে ৯১ টাকা এবং কয়েক মাসের মধ্যেই আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এই প্রসঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন বলেন, “হোটেলগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের আগে বাণিজ্যিক গ্যাস না দেওয়ার সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়ছেন। অন্যদিকে কমার্শিয়াল গ্যাস যদি ২৫ দিনের আগে না পাওয়া যায়, সাধারণ মানুষসহ হোটেল মালিকরা কীভাবে ব্যবসা চালাবেন?”

তিনি আরও বলেন, একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে তিনি চান দেশকে শিক্ষায় এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে,এবং শিল্প গড়ে তোলার ব্যবস্থা করে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হোক।তাঁর মতে, মানুষকে ব্যবসা-বাণিজ্যের দিকে উৎসাহিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার সময় বছরে ২ কোটি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু বর্তমানে পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ সালের তুলনায় প্রায় ৩৬ লক্ষ চাকরি কমে গেছে। “তাহলে সেই প্রতিশ্রুতির কী হল?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব দেশের বাজারে পড়ে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যও বেড়ে যায়। এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের কিছু উগ্রপন্থী হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী বিভেদের রাজনীতি করছে। কখনও মুসলিমদের রোহিঙ্গা, কখনও বাংলাদেশি বলে আখ্যা দিয়ে দেশে অশান্তি ও বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের রাজনীতি চলতে থাকলে দেশ কখনওই অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে এগোতে পারবে না।

তিনি বলেন, “ভারতবর্ষ একটি বহু ধর্ম ও বহু জাতির দেশ। এখানে হিন্দু, মুসলিম, আদিবাসীসহ নানা সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। সকলকে সঙ্গে নিয়ে সম্প্রীতি বজায় রেখেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ভারসাম্য বজায় রাখার দায়িত্ব কেন্দ্র সরকারের , যাতে ছোট-বড় সব ব্যবসায়ী স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করতে পারেন এবং ন্যায্য নিয়ম মেনে কর আদায় হয়। চড়াও হারে কর আদায়ের ফলে ব্যবসায়ীতে ব্যবসার উপরে প্রভাব পড়ছে। কর আদায় করা হোক কিন্তু ভারসাম্য বজায় রেখে।

প্রধানমন্ত্রী যদি দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলে তাহলে আমি তাকে মাথার উপরে রাখবো এগুলো তিনি মন্তব্য করেন।

আমেরিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ভারত একটি মহান দেশ। তাহলে কেন আমেরিকার দাদাগিরি মেনে চলতে হবে? কেন তাদের কথামতোই অন্য দেশ থেকে তেল কিনতে হবে?”

তিনি আরও দাবি করেন, উন্নয়নই তাঁদের মূল লক্ষ্য। জঙ্গিপুর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষই উপকৃত হচ্ছেন।

এসআইআর প্রসঙ্গেও সরব হয়ে বিধায়ক জাকির হোসেন বলেন, মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলার বহু মানুষকে টার্গেট করা হয়েছে। তাঁর মতে, প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ কেন বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় ঝুলে থাকবেন—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।মুর্শিদাবাদ মালদা আর্থিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষ তাই বলে কি তারা ভোটার নয়? তিনি দাবি করেন, যাঁদের ২০০২ সাল থেকেই ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে এবং যারা বৈধ ভোটার, তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে সব বৈধ ভোটারকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়ে তারপরেই নির্বাচনের ঘোষণা করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।