শুক্রবার   ১৭ এপ্রিল ২০২৬   বৈশাখ ৪ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

রক্তে রাঙানো একুশ—বাংলা আমার অহংকার, আমার অস্তিত্ব

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ১২:১৩ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ১২:১৩ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার

বাংলাদেশের পলাশবাড়ী তে তোলা। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা

বাংলাদেশের পলাশবাড়ী তে তোলা। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা

রক্তে রাঙানো একুশ—বাংলা আমার অহংকার, আমার অস্তিত্ব

পুষ্প প্রভাত ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সকল পাঠক-পাঠিকাকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা। একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির আত্মমর্যাদা, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের এক অমর ইতিহাস।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন তরুণ ছাত্ররা। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে শহিদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মত্যাগেই রচিত হয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, যার অনুপ্রেরণায় পরবর্তীতে স্বাধীনতার সংগ্রাম আরও বেগবান হয়।

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি”—এই অমর পঙ্‌ক্তির রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী। তাঁর কলমে ফুটে ওঠা বেদনা আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে শিহরণ জাগায়।

বাংলা ভাষার প্রতি এই আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসে যখন UNESCO ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নানা ভাষাভাষী মানুষ এই দিনটিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করেন।

একুশ আমাদের শেখায়—

ভাষা মানে শুধু উচ্চারণ নয়, ভাষা মানে সংস্কৃতি, শিকড়, পরিচয় ও চেতনা।

একুশ মানে মাথা নত না করা।

একুশ মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস।

এই দিনে ‘পুষ্প প্রভাত’-এর পক্ষ থেকে ভাষা শহিদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। বাংলা ভাষা হোক জ্ঞানের, মানবতার ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন। আমাদের লেখনী, আমাদের চর্চা, আমাদের প্রজন্ম—সবকিছুতেই বাংলা থাকুক গর্বের সঙ্গে।

রক্তে রাঙানো একুশের চেতনা আমাদের পথ দেখাক চিরকাল।