গরুপাচার মামলায় বিএসএফ জওয়ানের বরখাস্ত বহাল
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০১:১৩ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ০১:১৩ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গরুপাচারে মদত দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক বিএসএফ সাব-ইনস্পেক্টরের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বহাল রাখল Supreme Court of India। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও গাফিলতি হালকাভাবে দেখা যায় না।
অভিযুক্ত ভগীরথ চৌধুরী ৩৬ বছর ধরে Border Security Force-এ কর্মরত ছিলেন এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ১৬ নম্বর গেটে পোস্ট কমান্ডার হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি গরুপাচারে সহায়তার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু প্রমাণ মেলে এবং এক জন অভিযুক্ত দোষ স্বীকারও করেন। যদিও পাচার হওয়া গরু উদ্ধার হয়নি এবং কোনও প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেন না।
প্রাথমিক তদন্তের পর মামলা ওঠে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে। ১৯৬৮ সালের বিএসএফ আইনের ৪০ নম্বর ধারায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ছ’মাসের কারাদণ্ড ও চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন জানালেও তা খারিজ হয়।
এর পর শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ভগীরথ। তাঁর দাবি ছিল, প্রমাণ বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং স্বীকারোক্তি জোর করে আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ ৩৬ বছরের চাকরির পর পেনশন থেকে বঞ্চিত করাও অন্যায্য। বিএসএফের তরফে আদালতে জানানো হয়, জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
রায় ঘোষণায় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষায় একাধিক শাস্তির বিধান রয়েছে, যার মধ্যে বরখাস্তও অন্তর্ভুক্ত। আদালত আরও উল্লেখ করে, ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে চার বার শাস্তি পেয়েছিলেন ওই জওয়ান। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের কারণ নেই।
তবে ৩৬ বছরের চাকরির কথা বিবেচনা করে পেনশনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ‘রিপ্রেজেন্টেশন’ জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। পেনশন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনও নির্দেশ দেয়নি শীর্ষ আদালত।
