এমএ-বিএড-ডিএলএড ডিগ্রিধারীরাও লাইনে, ‘যুব সাথী’র ১৫০০ টাকায় ভরসা—শামশেরগঞ্জে বেকারত্বদের কর্মসংস্থানের দাবি
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ১১:১৮ এএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ১১:১৮ এএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার
চাকরির অপেক্ষায় শিক্ষিত তরুণরা, ‘যুব সাথী’র ১৫০০ টাকায় সাময়িক স্বস্তি
সফিকুল ইসলাম, সামশেরগঞ্জ: রাজ্য সরকারের ঘোষিত ‘যুব সাথী’ প্রকল্পে আবেদন ঘিরে মঙ্গলবার শামশেরগঞ্জের কর্মতীর্থ কার্যালয় প্রাঙ্গণে দেখা গেল দীর্ঘ লাইন। মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ও একুশোর্ধ্ব যুবক-যুবতীদের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত মাসে ১৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই আবেদনের শিবিরেই ভিড় জমালেন বহু শিক্ষিত তরুণ-তরুণী।
লাইনে দাঁড়ানোদের মধ্যে যেমন ছিলেন মাধ্যমিক পাস প্রার্থীরা, তেমনই ছিলেন এমএ, বিএড, ডিএলএড ডিগ্রিধারীরাও। অনেকেই একাধিক শিক্ষাগত সনদ নিয়ে উপস্থিত হন। প্রকল্পের আর্থিক সহায়তাকে স্বাগত জানালেও তাঁদের কথায় স্পষ্ট—এটি সাময়িক স্বস্তি, স্থায়ী সমাধান নয়।
একাধিক আবেদনকারী জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও চাকরি মেলেনি। কারও মতে, প্রতিবছর নিয়মিতভাবে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা হলে আজ হয়তো তাঁদের এই লাইনে দাঁড়াতে হতো না। ১৫০০ টাকার ভাতা কিছুটা সহায়ক হলেও তা কর্মসংস্থানের বিকল্প হতে পারে না বলেই মত অনেকের।
মাস্টার্স ও শিক্ষক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুব সাথী প্রকল্পের এক আবেদনকারী, বিমান ঘোষ বলেন, “বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়েছি। একবার এসএসসি-তেও উত্তীর্ণ হয়েছিলাম। ইন্টারভিউ এ গুছিলাম কিন্তু দ্বিচারিতার কারণে চাকরি আর হয় নি ।নিয়মিত পরীক্ষা হলে হয়তো আজ চাকরিতে থাকতাম। নিরুপায় হয়েই আজ এই ভাতার লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, কর্মসংস্থানের অভাব শিক্ষিত যুব সমাজকে হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তরুণদের মাথার মধ্যে একটা শব্দ উপর পা খাচ্ছে পড়ে চাকরিতে হয় না তবে পড়ে লাভ কি! পড়াশোনা করলে একটা চাকরি পাব বলে বা ভালো একটা ব্যবসা করবো বলে যে প্রতিযোগিতা ছিল তা কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষা ও যেকোনো কর্মসংস্থানের শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেনো হয়।
আরেক আবেদনকারী ইউসুফ শেখের বক্তব্য, শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, শিল্প ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। “১৫০০ টাকা সাময়িক সহায়তা, কিন্তু স্থায়ী কাজের বিকল্প নয়”—
এদিকে, শামশেরগঞ্জের তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি আসিফ ইকবাল জানান, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুব সমাজের কথা ভেবেই এই ঐতিহাসিক প্রকল্প চালু করেছেন। তাঁর দাবি, পড়াশোনা ও বিভিন্ন চাকরির ফর্ম ফিল-আপের খরচে এই অর্থ সহায়ক হবে বলে যা জানান।
তবে প্রশ্ন উঠছে, যারা মাধ্যমিক উত্তীর্ণ নন, তাঁদের জন্য এই বাজেটে আলাদা কোনও ব্যবস্থা নেই কেন? বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। এর প্রতি উত্তরে তিনি জানান, মানবিক মুখ্যমন্ত্রী হয়তো এর পরে তাদের জন্য কোন একটা ব্যবস্থা করবে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে সেগুলো সঙ্গে সবাই যুক্ত রয়েছে।
সব মিলিয়ে শামশেরগঞ্জের কর্মতীর্থ চত্বরে ‘যুব সাথী’ প্রকল্পে আবেদন করতে আসা শিক্ষিত যুব সমাজের ভিড় একদিকে যেমন আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে, অন্যদিকে তেমনি স্থায়ী কর্মসংস্থানের দাবিকেও সামনে এনে দিচ্ছে।
