ধ্বংসের মুখে কেন্দ্রীয় তারাপুর হাসপাতাল, পুনরায় চিকিৎসা চালুর দাবিতে গণস্বাক্ষর অভিযান”
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৭:০২ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার | আপডেট: ০৭:০২ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার
বাঁচাও তারাপুর হাসপাতাল: অবহেলার বিরুদ্ধে পথে শ্রমিক সমাজ সামশেরগঞ্জে
সফিকুল ইসলাম"সামশেরগঞ্জ: তারাপুর হাসপাতাল বাঁচাও কমিটির উত্থান সামশেরগঞ্জের রবিবার তারাপুর হাসপাতাল সংলগ্ন গণস্বাক্ষরের কর্মসূচি।পুনরায় চিকিৎসা চালুর দাবিতে গণস্বাক্ষর অভিযান। শামশেরগঞ্জের বৃহত্তম বিস্তীর্ণ এলাকা—প্রায় ২৩ একর জমির উপর ২০০০ সালে গড়ে উঠেছিল বিড়ি শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় তারাপুর সেন্ট্রাল হাসপাতাল। তৎকালীন শ্রমমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে এবং প্রাক্তন সাংসদ আবুল হাসনাত খান ও গনি খান চৌধুরী–সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল সামশেরগঞ্জ, ফরাক্কা ও সুতি-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বিড়ি শ্রমিকদের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান।
প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় হাসপাতালটি রোগীদের ভিড়ে সরগরম থাকলেও ২০১৩–১৪ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। অভিযোগ, নিয়মিত চিকিৎসক না থাকা, পর্যাপ্ত ওষুধের অভাব এবং সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার ফলে সাধারণ মানুষ হাসপাতালমুখী হওয়া কমিয়ে দেন। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ভবনের বিভিন্ন অংশে জঙ্গল-ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে চত্বর, বহু জায়গায় সিমেন্ট খসে পড়ে রড বেরিয়ে পড়েছে—যা নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
এই তারাপুর হাসপাতাল নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ডেপুটেশন দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যেহেতু হাসপাতালটি রাজ্যের নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ, তাই কেন্দ্রের উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু রোগীরা ইতি পুরো অভিযোগও করেছিলেন যে স্থানীয় নেতাদের অবহেলিত রয়েছে।
বিড়িশ্রমিকদের তারাপুর হসপিটাল বাচাও উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম।
তাঁদের বক্তব্য, এই অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করে কেন্দ্রীয় সরকার যা ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনরকম উন্নতি নেই ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের এই সম্পদ। বাড়ির গয়না গাটি জমি জায়গা বিক্রি করে বেসরকারি হসপিটালে যেতে হচ্ছে চিকিৎসার জন্য।তাই
এই পরিস্থিতিতে বিড়ি শ্রমিক দের হাসপাতালের পুনরুজ্জীবনের দাবিতে এগিয়ে এসেছেন এলাকার তরুণ শিক্ষক ও সমাজকর্মী শহিদুল ইসলাম। তাঁর উদ্যোগে গঠিত হয়েছে তারাপুর সেন্ট্রাল হাসপাতাল বাঁচাও কমিটি। রবিবার সকালে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রথম দিনের কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য—দ্রুত উন্নত মানের চিকিৎসা পরিষেবা পুনরায় চালু করা এবং হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করা।
কমিটির পক্ষ থেকে এক লক্ষ গণস্বাক্ষর সংগ্রহের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উদ্যোক্তাদের ঘোষণা, এক লক্ষ স্বাক্ষর পূর্ণ হলে সেই দাবিপত্র নিয়ে তাঁরা দিল্লিতে সংসদে গিয়ে বিষয়টি উত্থাপন করবেন। দাবি পূরণ না হলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য আনারুল হক (বিপ্লব), গাজিনগর মালঞ্চা পঞ্চায়েতের প্রধান মিশর আলী, সাবের আলী-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এলাকার বাসিন্দারা। কমিটির পক্ষ থেকে ইমাম পুরোহিত শিক্ষক সহ সকল স্তরের মানুষকে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারাপুর সেন্ট্রাল হসপিটাল বাঁচাও কমিটির আশা, দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে দ্রুত পুনরায় প্রাণ ফিরে পাবে তারাপুর সেন্ট্রাল হাসপাতাল, এবং বিড়ি শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ আবারও সুলভ ও মানসম্মত চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।
