ময়নায় বিজেপিতে ভাঙন
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৮:৪৯ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার | আপডেট: ০৮:৪৯ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় বিজেপিতে বড়সড় ভাঙন দেখা দিল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা থেকেই পদ্ম ছেড়ে জোড়া ফুলে যোগ দিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা চন্দন মণ্ডল। শুক্রবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ-এর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি।
দলবদলের কারণ হিসেবে চন্দনের অভিযোগ, ময়নার বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার অশোক দিন্ডা এলাকায় প্রত্যাশিত উন্নয়ন করতে ব্যর্থ। ময়নার অর্থনীতি মূলত মাছচাষ নির্ভর হলেও সেই খাতে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দাবি তাঁর। পাশাপাশি, ‘আদি বিজেপি’ নেতাদের ক্রমশ কোণঠাসা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। উন্নয়নের স্বার্থেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে কথা বলে দলবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান চন্দন।
চন্দনের দাবি, গত ছ’মাস ধরে ময়নার কিছু এলাকায় লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প বন্ধ ছিল। বিষয়টি তৃণমূল নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে এবং প্রকল্প পুনরায় চালুর আশ্বাস মিলেছে।
উল্লেখযোগ্য, একসময় বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা চন্দন পরে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ময়না কেন্দ্র থেকে টিকিট প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। তবে সেই সময় বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থী হন অশোক দিন্ডা। দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত, আসন্ন নির্বাচনেও অশোককেই প্রার্থী করা হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে টিকিট না পাওয়ার সম্ভাবনা আঁচ করেই চন্দনের দলত্যাগ—এমনই দাবি তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি প্রলয় পালের।
প্রলয়ের অভিযোগ, তৃণমূলের তরফে প্রার্থী হওয়া ও আর্থিক প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। তবে বিজেপির দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থে কেউ দলত্যাগ করলে সংগঠনের ক্ষতি হবে না এবং ময়নায় বিজেপি প্রার্থীই জয়ী হবেন।
