রুশ তেল নিয়ে বিতর্ক
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৩:০৪ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৩:০৪ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
রাশিয়ার কাছ থেকে খনিজ তেল কেনা বন্ধ করেছে ভারত— এমন দাবি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, এই কারণেই ভারতের উপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। যদিও ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও ঘোষণা করেনি।
এই পরিস্থিতিতে ভিন্ন সুর শোনা গেল রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বক্তব্যে। রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমায় তিনি বলেন, ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করেছে— এমন কথা তিনি একমাত্র ট্রাম্পের মুখেই শুনেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা অন্য কোনও ভারতীয় নেতার মুখে এ ধরনের মন্তব্য শোনেননি বলে জানান লাভরভ।
এর আগে রাশিয়ার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, আমেরিকা শুল্ক ও বিভিন্ন বিধিনিষেধের ভয় দেখিয়ে ভারত-সহ একাধিক দেশকে রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে চাপ দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে লাভরভের মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
চলতি বছর ভারতে ব্রিক্স সম্মেলন হওয়ার কথা। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেই সম্মেলনে যোগ দিতে আবার ভারতে আসতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন লাভরভ। গত ডিসেম্বরেও পুতিন ভারত সফর করেন। সেই সফরে ভারত–রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে বলে দাবি মস্কোর।
এদিকে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী জানিয়েছেন, দেশের বাণিজ্যনীতি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থনির্ভর। তেল আমদানির ক্ষেত্রে একাধিক উৎস বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করবে নয়াদিল্লি। কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশের উপর নির্ভরশীল হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
ফলে রুশ তেল ইস্যুতে ভারত, আমেরিকা ও রাশিয়ার অবস্থান ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত থাকছে।
