Falakata: বালি বোঝাই ডাম্পারের চাপে ভাঙল জটেশ্বর সেতু
শোভন মজুমদার
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৮:১২ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ০৮:১২ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার
বালি বোঝাই ডাম্পারের চাপে ভেঙে পড়ল ‘বঙ্কিম সেতু’, তিন দিনে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করে নজির প্রশাসনের
জটেশ্বর, আলিপুরদুয়ার:
আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত ও জটেশ্বর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সংযোগকারী মুজনাই নদীর উপর অবস্থিত ‘বঙ্কিম সেতু’ গত রবিবার আচমকাই ভেঙে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বালি বোঝাই একটি ভারী ডাম্পার সেতুর উপর দিয়ে পারাপারের সময়ই বিপর্যয়টি ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে সেতুর মাঝের অংশ দু’ভাগে ভেঙে যায় এবং ডাম্পারটি ভাঙা দুই খণ্ডের মাঝখানে আটকে পড়ে।
সৌভাগ্যবশত, ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। তবে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও এলাকায় নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।
সেতু ভেঙে পড়ায় জটেশ্বর ও পাঁচমাইল এলাকার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর জেরে কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। নিত্যদিনের কর্মস্থলে যাতায়াত, বাজার-হাট, চিকিৎসা পরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই বিপর্যয় নেমে আসে। বিশেষ করে চলতি মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে গুরুতর অসুবিধা সৃষ্টি হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় WBSRDA-র আলিপুরদুয়ার ডিভিশন। প্রশাসনের তৎপরতায় দিনরাত এক করে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মাত্র তিন দিনের মধ্যেই বিকল্প সাঁকো নির্মাণ সম্পন্ন হয়, যা কার্যত ভেঙে পড়া সেতুর জায়গাতেই যোগাযোগের নতুন পথ খুলে দেয়।
বুধবার থেকে নবনির্মিত সাঁকো দিয়ে বাইক, টোটো-সহ সাধারণ মানুষ এবং বহু স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী পারাপার শুরু করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বিকল্প ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ায় এলাকার বাসিন্দারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। প্রশাসনের এই দ্রুত ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা।
তবে প্রশ্ন উঠছে—ভারী যান চলাচলের চাপেই কি সেতু ভেঙে পড়ল, নাকি দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই এর মূল কারণ? পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও উঠতে শুরু করেছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
