বাংলাদেশকে ফের তাগিদ আদানি গোষ্ঠীর
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৬:৪২ পিএম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার | আপডেট: ০৬:৪২ পিএম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার
বিদ্যুতের বকেয়া মেটান! বাংলাদেশের আদালতে মামলা চলাকালীন ইউনূস সরকারকে ফের চিঠি আদানি গোষ্ঠীর
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া আদায় নিয়ে ফের চাপ বাড়াল আদানি গোষ্ঠী। আদালতে মামলা চলার মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনকে আবারও চিঠি পাঠাল গৌতম আদানির সংস্থা। বকেয়া দ্রুত না মেটালে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে—এই মর্মে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।
বাংলাদেশের প্রথম আলো পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৯ জানুয়ারি পিডিবি-কে চিঠি দেন আদানি পাওয়ার লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট অবিনাশ অনুরাগ। ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী আদানি পাওয়ারের পাওনা মোট প্রায় ৫৭ কোটি ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সংস্থার দাবি, এর মধ্যে প্রায় ৩০ কোটি ডলার বকেয়া নিয়ে পিডিবির সঙ্গে কোনও বিরোধ নেই।
আদানি গোষ্ঠীর দাবি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বাংলাদেশের বকেয়া এক সময় বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলারে—ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ছ’হাজার কোটি টাকা। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পরে কিছুটা বকেয়া পরিশোধ করা হয়। গত বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত বিদ্যুতের বিল মেটানো হয়েছিল বলে দাবি আদানির। পুরনো বকেয়ার একটি অংশও তখন শোধ হয়, ফলে মোট বকেয়ার অঙ্ক কিছুটা কমে।
কিন্তু পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে ওঠে গত দু’মাসে। আদানি গোষ্ঠীর অভিযোগ, এই সময়কালে পিডিবি বিল পরিশোধের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা আমদানিতেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে চিঠিতে।
সূত্রের খবর, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে ১১ কোটি ২৭ লক্ষ মার্কিন ডলার পরিশোধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে পিডিবি-কে। ভারতীয় মুদ্রায় এই অঙ্ক প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে পুরো বকেয়া কবে, কীভাবে শোধ করা হবে, তার একটি নির্দিষ্ট সময়সূচিও চাওয়া হয়েছে ইউনূস সরকারের কাছে। বকেয়ার কারণে মূল বিলের উপর অতিরিক্ত সারচার্জও যুক্ত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় আদানির বকেয়া শোধের অঙ্ক সাময়িক ভাবে কমানো হয়েছে। তবে মার্চ মাস থেকে পরিশোধের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আদানি পাওয়ারের চুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে আগামী ২৫ বছর ধরে ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ বাংলাদেশকে সরবরাহ করার কথা। চুক্তি অনুযায়ী, আদানি পাওয়ার ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউনূস সরকার সেই সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে আনে।
