১০১ বছরের বৃদ্ধাকেও ছাড়েনি নোটিশ, ভোটার শুনানিতে প্রশ্নের মুখে নির্বাচন ব্যবস্থা
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ১০:১৭ এএম, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ১০:১৭ এএম, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার
সফিকুল ইসলাম, মুর্শিদাবাদ: অন্যদিনের মতো আজও সামশেরগঞ্জ বিডিও অফিসে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত হিয়ারিং প্রক্রিয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হলেন সাধারণ মানুষ। ভোর ৫টা ৩০ মিনিট থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে ভোটারদের। টানা ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও শুনানি না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বহু মানুষ।
এই ভোগান্তির চিত্র আরও করুণ হয়ে ওঠে ১০১ বছরের এক বৃদ্ধার ঘটনায়। শমসেরগঞ্জের লস্করপুর এলাকার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধা, যিনি বৃটিশের শাসন আমলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় তিনি ছিলেন যুবতী। নির্বাচন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি ভোটেই অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। অথচ আজ সেই বৃদ্ধাকেও ছাড়েনি হিয়ারিংয়ের নোটিশ।
সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ায় তিনি চলাফেরা করতে পারেন না, শরীলে প্যারালাইসিস হওয়ায় একেবারেই অক্ষম। পরিবারকে গাড়ি করে তাঁকে বিডিও অফিসে নিয়ে আসতে হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, এই বয়সে এবং এই শারীরিক অবস্থায় শুনানিতে আসা হয়রানি নয় এটা নির্যাতন । তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন—যে মানুষটি আজীবন ভোট দিয়ে এসেছেন, যিনি স্বাধীনতা দেখেছেন ইংরেজের শাসনকালে ভরপুর যুবতী তাঁকে কেন আবার প্রমাণ দিতে হবে? যদি এতটাই যাচাই প্রয়োজন হয়, তবে নির্বাচন কমিশন কেন বাড়িতে গিয়ে এই ধরনের বয়স্ক ও অসুস্থদের শুনানির ব্যবস্থা করল না প্রশ্ন তুলেছেন? কোন ব্যবস্থাপনা নেই ভোট আসলে তো একাধিক ব্যবস্থাপনা থাকে বৃদ্ধদের জন্য এখন কেন নেই?
একই দিনে আরও একটি হৃদয়বিদারক চিত্র ধরা পড়ে আমাদের ক্যামেরায়। দুই ছেলের কাঁধে ভর করে বিডিও অফিসে নিয়ে আসা হয় মর্তুজা শেখকে। তার শরীর প্যারালাইসিস ও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত, অত্যন্ত আশঙ্কাজনক শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন। তাঁর ছেলে শরিফ রেজা জানান, এই বয়সে ও এই অসুস্থতায় বাবাকে নিয়ে হিয়ারিংয়ে আসা মানে অমানবিক হয়রানি। শুধু কাগজ জমা নেওয়ার জন্যই যদি ডাকা হয়, তবে নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা বাড়িতে গিয়ে সেই নথি সংগ্রহ করতে পারতেন বলে প্রশ্ন করেন? সামান্যতম ভুলের কারণে এরকম অসুস্থদেরকে নিয়ে আসতে হচ্ছে? চিত্র টা দেখলেই বুঝতে পারবেন। দুই ছেলের কাঁধে ভর করে রয়েছেন তার পিতা ।
আরো যে ব্লক চত্বরেও ছিল ভয়াবহ চিত্র। প্রচণ্ড ভিড়, ঠেলাঠেলিতে নাজেহাল মানুষ। দাবি করা হচ্ছে, একটি দপ্তরে একদিনে প্রায় ২১০০ জনের শুনানি রাখা হয়েছে। যদি এই প্রক্রিয়াটি ভাগ করে ধাপে ধাপে করা হতো, তবে হয়রানি অনেকটাই কমত বলে মত সাধারণ মানুষের।
যদিও সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর রয়েছে, তবুও অব্যবস্থার কারণে মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক কাটছে না বলেই জানিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা।
