অরঙ্গাবাদ ইলেকট্রিক অফিসে দুর্নীতির ঝড়: লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগ,পাল্টা ভিক্তিহিন দাবি SM এর
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৮:৪৬ এএম, ২৮ নভেম্বর ২০২৫ শুক্রবার | আপডেট: ০৮:৪৬ এএম, ২৮ নভেম্বর ২০২৫ শুক্রবার
মুর্শিদাবাদ : মুর্শিদাবাদের সুতি থানার অরঙ্গাবাদ বিদ্যুৎ অফিসের এসএম-এর বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া ও মোটা টাকা নিয়ে অবৈধভাবে পুনরায় সংযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বানি ইসরাইল অভিযোগ করেছেন, বিদ্যুৎ চুরি-সহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তাদের গ্রামের পাঁচটি পরিবারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ দপ্তর। সেই পাঁচজনের মধ্যে তিনিও একজন।
বানি ইসরাইলের দাবি, সংযোগ পুনরুদ্ধারের জন্য বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার বিরুদ্ধে উল্টো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আরও অভিযোগ, বাকি চারজন টাকা দিয়ে বিষয়টি রফাদফা করে নিলেও তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে টার্গেট করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি টাকা দিইনি বলেই আমার নামে এফআইআর হয়েছে।” এই ঘটনার পর তিনি রঘুনাথগঞ্জ ডিভিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ আরও বিস্তৃত আকারে সামনে এনেছেন সুতি পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি মইদুল। তাঁর দাবি, সুতি এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে এই এসএম-এর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসএম নাকি পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়ে পরে মোটা টাকার বিনিময়ে পুনরায় সংযোগ করে দেন। অবৈধ লেনদেনে তাঁর ড্রাইভার ও কয়েকজন স্টাফও জড়িত বলে বিস্ফোরক দাবি তাঁর। এমনকি তিনি আরও বলেন, ওই এসএম নাকি নিজেকে প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে বলেন— “আমার কিছুই হবে না, আমি এমপি খলিলুর রহমানের জামাই।” শুধু সুতি পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি সভাপতি মইদুল ইসলাম নয় এই ধরনের অভিযোগ অরঙ্গাবাদ বিদ্যুৎ অফিসের একাধিক গ্রাহকরা করছেন।
অন্যদিকে, সমগ্র অভিযোগ অস্বীকার করে অরঙ্গাবাদ বিদ্যুৎ অফিসের এসএম দাবি করেছেন, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন। তাঁর কথায়, “আমাকে ফাঁসানোর জন্য কিছু অসাধু ব্যক্তি চক্রান্ত করছে। আমি মানুষকে নিয়ে সৎভাবে কাজ করছি, তাই আমাকে লক্ষ্য করে এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”
ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের তরফে তদন্তের দাবি উঠেছে।
