কালিয়াচক তিন নম্বর ব্লকে নতুন নেতৃত্ব, আসন্ন ভোটে নতুন সমীকরণ
মহসিন আলি
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ১০:৩৬ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার | আপডেট: ১০:৩৬ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার
কালিয়াচক তিন নম্বর ব্লকে নতুন নেতৃত্ব, আসন্ন ভোটে নতুন সমীকরণ
সংবাদদাতা, কালিয়াচক:
রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে চলেছে সংগঠনের রদবদল। বিধানসভা ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, দল ততই নতুন নেতৃত্বকে সামনে এনে সংগঠনকে ঝালিয়ে নিচ্ছে। মালদহ জেলার বিভিন্ন ব্লকে নতুন সভাপতি ও যুব সভাপতির নাম ঘোষণা হয়েছে। সেই তালিকাতেই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কালিয়াচক-৩ নম্বর ব্লক, যেখানে সভাপতি পদে আনা হয়েছে কৃষ্ণপুর অঞ্চলের অভিজ্ঞ সংগঠক মাসিদুর রহমানকে। পাশাপাশি মহিলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঝুমা মণ্ডল।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতার হাত ধরে নতুন দায়িত্ব
২০১৩ সাল থেকে কৃষ্ণপুর অঞ্চলের সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন মাসিদুর রহমান। টানা এক দশকের বেশি সময় ধরে সক্রিয়ভাবে দলীয় সংগঠন চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অভিজ্ঞতার কারণেই তাঁকে ব্লক সভাপতির আসনে বসানো হয়েছে। ব্লকে তৃণমূলের শক্তি আরও সুসংহত করার দায়িত্ব এবার তাঁর কাঁধেই।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও বার্তা
মঙ্গলবার বৈষ্ণবনগরের প্রমোদ ভবনে নবনিযুক্ত সভাপতি মাসিদুর রহমান ও মহিলা সভাপতি ঝুমা মণ্ডলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিধায়ক চন্দনা সরকার তাঁদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন। ব্লক ও অঞ্চল নেতৃত্বও পুষ্পস্তবক দিয়ে তাঁদের অভ্যর্থনা জানায়।
অনুষ্ঠানে বিধায়ক চন্দনা সরকার বলেন, “আগামী বিধানসভা নির্বাচন আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লড়াইয়ের প্রস্তুতির জন্যই মাসুদুর বাবুকে সভাপতি করা হয়েছে। তাঁর মতো অভিজ্ঞ নেতা সংগঠনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন বলেই আশা করছি।”
নবনিযুক্ত সভাপতি মাসিদুর রহমান বলেন, “দল আমাকে যে আস্থা ও দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করার জন্য আমি সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব। আমাদের লক্ষ্য একটাই—আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে সেরা ফলাফল এনে দেওয়া।”
রাজনৈতিক সমীকরণে বদল
কালিয়াচক-৩ নম্বর ব্লক বহুদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে একদিকে তৃণমূল, অন্যদিকে কংগ্রেস ও বিজেপির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। তৃণমূলের অভ্যন্তরে গত কয়েক বছর ধরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও চোখে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রদবদলের মাধ্যমে দল গোষ্ঠীসংঘাত মেটানোর পাশাপাশি এক অভিজ্ঞ মুখকে সামনে এনে সংগঠনকে সুসংহত করার চেষ্টা করছে।
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
যদিও বিরোধীদের দাবি, “শুধু মুখ পাল্টালে সংগঠনের দুর্বলতা কাটবে না। মানুষের সমস্যা সমাধান না হলে ভোটের সময় ফলও মিলবে না।” কংগ্রেস ও বিজেপি—উভয় পক্ষই বলছে, তৃণমূলের এই রদবদল আসলে ভোটমুখী কৌশল, তাতে মানুষের আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়।
সামনে বড় পরীক্ষা
সব মিলিয়ে, মাসিদুর রহমান ও ঝুমা মণ্ডলের নেতৃত্বে কালিয়াচক-৩ নম্বরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন কতটা শক্তিশালী হয়, তার পরীক্ষাই হবে আগামী বিধানসভা ভোটে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের সামনে যেমন সুযোগ রয়েছে নিজেদের প্রমাণ করার, তেমনই রয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জও।
