ফেসবুকে আর্তনাদ, পুলিশের তৎপরতায় ভুটান থেকে ঘরে ফিরলেন পাঁচ শ্রমিক
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৯:২৬ এএম, ৩০ আগস্ট ২০২৫ শনিবার | আপডেট: ০৯:২৬ এএম, ৩০ আগস্ট ২০২৫ শনিবার
সফিকুল ইসলাম,রানীনগর,মুর্শিদাবাদ: পেটের তাগিদে জীবিকার সন্ধানে ভুটানে গিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের পাঁচ যুবক। সেখানে টাইলস মিস্ত্রির কাজে যোগ দিলেও প্রতারণার ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। ঠিকাদারের ষড়যন্ত্রে আটকে গিয়ে দেশে ফেরার সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে যায়। অসহায় পরিস্থিতিতে ফেসবুকে পোস্ট করে বাড়ি ফেরার আর্তনাদ জানান শ্রমিকরা। সেই আর্তি পৌঁছায় মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের কাছে। অবশেষে পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) তাঁরা নিরাপদে ঘরে ফিরলেন। রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বিদ্যুৎ সরকার ফেসবুকে ওই শ্রমিকদের পোস্ট দেখেই উদ্যোগ নেন। প্রথমে শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। এরপর মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ ভুটান পুলিশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে। দুই দেশের পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত মুক্তি মেলে শ্রমিকদের। পুলিশ সূত্রে জানা যায় পরিচয় শ্রমিকদের নাম, আনোয়ার হোসেন (পিতা অনারুল মণ্ডল), গ্রাম কাটলামারি পরানপুর রুবেল শেখ (পিতা হাবিব শেখ), গ্রাম কাটলামারি পরানপুর। সাইনুল মোল্লা (পিতা সামসের মোল্লা), গ্রাম মহঙ্গঞ্জ গুরিপাড়া। (এঁরা তিনজন রানীনগর থানার বাসিন্দা)
ইসরাইল শেখ (পিতা আব্দুর রাজ্জাক), গ্রাম হেরমপুর নতুনপাড়া । রাকেশ শেখ (পিতা মন্টু শেখ), গ্রাম হেরমপুর রেজালিপাড়া(এই দুইজন ইসলামপুর থানার বাসিন্দা)। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতের এক ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের জটিলতাকে কেন্দ্র করে ভুটানের স্থানীয় ঠিকাদার তাঁদের আটকে রাখে। প্রতিশ্রুতি মতো মজুরি দেওয়া তো দূরের কথা, বরং বারবার বিভ্রান্ত করে দেশে ফেরার পথও রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে শ্রমিকরা বিপদের কথা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করলে তা নজরে আসে পুলিশের। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের তৎপরতায় অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোরে শ্রমিকরা নিরাপদে দেশে ফেরেন। রাণীনগর থানায় পৌঁছতেই তাঁদের ফুল ও মিষ্টি দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় পুলিশ। দীর্ঘ প্রতারণা ও দুশ্চিন্তার পর অবশেষে বাড়ি ফিরতে পেরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন শ্রমিকরা। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চোখে-মুখে তখন শুধু আনন্দ আর অশ্রুজল। শ্রমিকরা জানান, জেলা পুলিশের উদ্যোগ ছাড়া তাঁদের নিরাপদে ফেরা সম্ভব হতো না। এজন্য তাঁরা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীরাও পুলিশের এই ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।জেলা পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শুধু শ্রমিকদের উদ্ধার করাই নয়, ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন তার জন্য সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
