সোমবার   ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ভাদ্র ২২ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

নারী সুরক্ষা বাল্যবিবাহ, সাইবার সচেতনতায় জঙ্গিপুর জেলা পুলিশের বিশেষ শিবির

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ১১:৩৮ এএম, ২০ জুলাই ২০২৫ রোববার | আপডেট: ১১:৩৮ এএম, ২০ জুলাই ২০২৫ রোববার

ফারাক্কা, মুর্শিদাবাদ : সামাজিক নিরাপত্তা ও সচেতনতা সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। সেই বার্তা তুলে ধরতেই শনিবার ফরাক্কার উত্তর মহাদেবনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বিশেষ সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করল জঙ্গিপুর জেলা পুলিশ।এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে বিশেষ করে নারী ও কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন সামাজিক ও সাইবার সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতন করে তোলা এবং আইনি সহায়তা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেওয়া।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,জঙ্গিপুর জেলা পুলিশ সুপার (SP) অমিত কুমার সাউ,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ASP) সৌমজিৎ বড়ুয়া,ফরাক্কা এসডিপিও শেখ শামসুদ্দিন,ফরাক্কা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (IC) নিলোৎপল মিশ্র,এবং অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীবৃন্দ।বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় যেমন,নারী সুরক্ষা ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় কি।উন্নত প্রযুক্তির (বিশেষত স্মার্টফোনের) সঠিক ও নিরাপদ ব্যবহার।বাল্যবিবাহের কুফল এবং তা প্রতিরোধে প্রশাসনিক ও সামাজিক দিক । সাইবার প্রতারণা ও অনলাইন ধোঁকাবাজির ফাঁদ থেকে বাঁচার উপায়।বিপদে পড়লে পুলিশের সহায়তা কীভাবে পাওয়া যায়, সেই প্রক্রিয়া ও হেল্পলাইন সম্পর্কিত সচেতনতা করেন পুলিশ কর্মীরা।পুলিশ আধিকারিকরা বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিভিন্ন বাস্তব উদাহরণ ও সাধারণ মানুষের ভাষায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তাঁরা বোঝান, কিশোর-কিশোরীরা কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ব্যবহারে বিপথে যেতে পারে, এবং অভিভাবকদের কীভাবে সচেতন থাকতে হবে।SP অমিত কুমার সাউ বলেন,সাইবার অপরাধ আজকের দিনে এক নীরব শত্রু। একমাত্র সচেতনতাই এই অপরাধ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে পারে। আমাদের এই শিবিরের মূল লক্ষ্য— সাধারণ মানুষকে সহজ ভাষায় সেই সতর্কতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া।এই শিবিরে এলাকার মহিলাদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁরা মনোযোগ সহকারে বক্তৃতা শোনেন, প্রশ্ন করেন এবং নিজেদের মতামত ভাগ করে নেন। প্রশাসনের এমন নাগরিকমুখী ভূমিকা তাঁদের মধ্যে একধরনের আস্থা সৃষ্টি করে।স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, “এই ধরনের শিবির আরও ঘনঘন হওয়া উচিত। অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়, যেটা সাধারণ মানুষ সচরাচর জানতে পারেন না।”প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি জনমুখী ও সমাজপোযোগী পদক্ষেপ। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মানুষকে সচেতন করে গড়ে তুলতে পুলিশের এমন ভূমিকা ভবিষ্যতে আরও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেই মত এলাকার সচেতন মহলের।