আহমদপুরে এডিআরএম-কে স্মারকলিপি
সুবীর সেন
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০২:৫১ পিএম, ৭ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার | আপডেট: ০২:৫১ পিএম, ৭ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার
এডিআরএম-এর পরিদর্শনে একগুচ্ছ দাবি: নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেলওয়ে প্রকল্পের দাবিতে সরব স্থানীয়রা
নিজস্ব সংবাদদাতা, আহমদপুর, ৬ আগস্ট:
হাওড়া ডিভিশনের অতিরিক্ত ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (অপারেশন) শ্রী সচিন সুমনের আহমদপুর-কাটোয়া শাখা রেলপথ পরিদর্শনকে ঘিরে বৃহস্পতিবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরল এলাকার দুটি সংগঠন। দীর্ঘদিনের যাত্রী দুর্ভোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এদিন আহমদপুর-কাটোয়া রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন-এর পক্ষ থেকে রেলকর্তার হাতে স্মারকলিপি তুলে দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়। সংগঠনের দাবি, এলাকার নিত্যযাত্রী, রোগী, ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আহমদপুর-কাটোয়া হয়ে রামপুরহাট থেকে হাওড়াগামী ‘মা ফুল্লরা ফাস্ট প্যাসেঞ্জার/এক্সপ্রেস’ এবং দেওঘর থেকে শিয়ালদহগামী ‘শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এক্সপ্রেস’ দ্রুত চালু করা হোক।
এছাড়াও দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যার সমাধান হিসেবে আহমদপুর স্টেশনের মূল প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে কাটোয়া শাখার প্ল্যাটফর্ম সংযুক্ত করার দাবি জানানো হয়। সংগঠনের বক্তব্য, বর্তমানে আহমদপুরের মূল স্টেশনের ১, ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম এবং আহমদপুর-কাটোয়া শাখার ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মধ্যে প্রায় ৭০০ মিটার দূরত্ব রয়েছে। ফলে এক ট্রেন থেকে অন্য ট্রেনে উঠতে যাত্রীদের দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতে হয়। এতে বিশেষ করে প্রবীণ, শিশু, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীরা চরম সমস্যার মুখে পড়েন। তাই অবিলম্বে প্ল্যাটফর্মগুলিকে সংযুক্ত করা অথবা ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের পাশে নতুন প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, লাভপুর নাগরিক উন্নয়ন সমিতি এলাকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক প্রস্তাব রেল প্রশাসনের সামনে তুলে ধরে। সংগঠনের দাবি, লাভপুরে রেলের অব্যবহৃত জমিতে একটি ইএমইউ/মেমু (EMU/MEMU) কোচ মেইনটেন্যান্স ইয়ার্ড, ইলেকট্রিক লোকো শেড অথবা রেল কোচ ফ্যাক্টরি গড়ে তোলা হোক। পাশাপাশি ওই জমিতে এইমস (AIIMS)-এর ধাঁচে একটি আধুনিক হাসপাতাল অথবা রেলের একটি বৃহৎ মিউজিয়াম স্থাপনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংগঠনের মতে, এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পর্যটনেরও প্রসার ঘটবে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত আহমদপুর-কাটোয়া রেলপথে নতুন ট্রেন চালু, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ এবং বৃহৎ রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমান জেলার লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এখন রেল কর্তৃপক্ষ এই দাবিগুলির প্রতি কত দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
এদিন আহমদপুর-কাটোয়া রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সুবীর সেন, সাইফুল কাজী ইসলাম, জয়ন্ত মণ্ডল, সৌরভ দত্ত-সহ অন্যান্য সদস্যরা।
অন্যদিকে লাভপুর নাগরিক উন্নয়ন সমিতি-র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জয়ন্ত চন্দ্র, মানস দত্ত, গৌতম হাঁটি এবং সদানন্দ দত্ত।
