রোববার   ০২ আগস্ট ২০২৬   শ্রাবণ ১৭ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

বাড়েনি বেতন, স্থায়ীকরণ দাবিতে সরব KGBV কর্মীরা

পুষ্প প্রভাত ডেস্ক

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ০৯:২৮ পিএম, ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ০৯:২৮ পিএম, ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার

২০০৮ সালের পর আর বাড়েনি বেতন, স্থায়ীকরণ-সহ একাধিক দাবিতে সরব KGBV কর্মীরা

 

নিজস্ব সংবাদদাতা:

দীর্ঘদিন ধরে একই বেতনে কাজ, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক সুরক্ষার অভাব—এই অভিযোগ সামনে এনে রাজ্য সরকারের কাছে একাধিক দাবি জানালেন সর্বশিক্ষা মিশনের অধীনে পরিচালিত কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয় (KGBV)-এর চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও শিক্ষকরা। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ KGBV কর্মী ও শিক্ষকবৃন্দ রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী, পর্যটন ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী এবং সাংসদ মনোজ তিগ্গার কাছে পৃথক স্মারকলিপি ও আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।

 

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৬ সালে রাজ্যে চালু হওয়া ৯২টি কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ে কর্মরত বহু কর্মী ২০০৮ সালের পর থেকে কার্যত একই বেতনে কাজ করে চলেছেন। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে বর্তমান বেতন দিয়ে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি তাঁদের।

 

বর্তমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী, ওয়ার্ডেন মাসিক ৫,১০০ টাকা, সহকারী ওয়ার্ডেন ও হিসাবরক্ষক ৪,৫০০ টাকা, রাঁধুনি ৪,০৪০ টাকা, নাইট গার্ড ও পিয়ন ৩,৯৩০ টাকা, সুইপার ও সাফাইকর্মী ২,০৪০ টাকা এবং টিউটর ২,০০০ টাকা করে পারিশ্রমিক পান বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

কর্মীদের অভিযোগ, আবাসিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাবার ও সার্বিক দেখভালের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁরা ২৪ ঘণ্টা পালন করলেও তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা নেই। অর্জিত ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি কিংবা অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধার অভাবের পাশাপাশি এখনও ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ নীতি কার্যকর রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

 

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের অন্যান্য বহু রাজ্যে KGBV কর্মীদের বেতন ও পরিষেবা-সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় অনেক বেশি। তাই পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের মানবিক ও ন্যায্য ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

 

কর্মীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—দীর্ঘদিনের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণ, বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্মানজনক বেতন নির্ধারণ, অবসরকালীন আর্থিক সুরক্ষা ও পেনশনের ব্যবস্থা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।

 

কর্মী সংগঠনের এক প্রতিনিধি বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত কম বেতনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও যদি ভবিষ্যতের কোনো নিরাপত্তা না থাকে, তবে তা অত্যন্ত হতাশাজনক। রাজ্য সরকার আমাদের দাবিগুলি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করছি।"

 

এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।