বৃহস্পতিবার   ০৯ জুলাই ২০২৬   আষাঢ় ২৪ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

৪৪০ কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ়, তৃণমূলকে ঘিরে ইডির তদন্ত

Altamas Kabir

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ০৯:০৮ পিএম, ৮ জুলাই ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ০৯:০৮ পিএম, ৮ জুলাই ২০২৬ বুধবার

তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৪০.৪২ কোটি টাকা ফ্রিজ় করার নির্দেশ দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, দলীয় তহবিল থেকে একটি চার্টার বিমান সংস্থাকে বিপুল অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছিল বিমান ও হেলিকপ্টার কেনার জন্য। পরে সেই একই বিমান ও কপ্টার ভাড়ায় নিয়ে আবার অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এই আর্থিক লেনদেনের পিছনে তহবিল তছরুপের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইডি। যদিও তৃণমূল এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বেআইনি বলে দাবি করেছে।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ নামে একটি চার্টার বিমান সংস্থার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই অর্থের একটি অংশ দিয়ে একটি এমব্রায়ের লেগাসি জেট ৬০০ এবং একটি অগুস্তা ওয়েস্টল্যান্ড ১০৯এসপি হেলিকপ্টার কেনা হয়েছিল। পরে সেই বিমান ও হেলিকপ্টারই তৃণমূলের বিভিন্ন প্রয়োজনে ভাড়ায় ব্যবহার করা হয় এবং তার জন্য সংস্থাকে আলাদা করে অর্থও দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার কলকাতার পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। রাধাবাজারে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের দফতর, সল্টলেকে সংস্থার মালিকের বাড়ি, নিউ টাউনের একটি ঠিকানা, একটি ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের অফিস এবং মধ্য কলকাতার এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের দফতরে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে বেশ কিছু নথি ও বৈদ্যুতিন তথ্য সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। ইডির দাবি, ১৫০ কোটিরও বেশি সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের সূত্র মিলেছে, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইডির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের (পিএমএলএ) ১৭(১-এ) ধারায় তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৪০.৪২ কোটি টাকা ফ্রিজ় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা দাবি করছেন, এই লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সংস্থার এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দলের দাবি, আইনকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার চেষ্টা চলছে এবং তারা আইনি পথে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। তদন্ত এখনও চলমান, ফলে অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচার ও তদন্তের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে।