সোমবার   ২০ এপ্রিল ২০২৬   বৈশাখ ৭ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

গরমে পান্তার বিকল্প, দক্ষিণের ৩ ঠান্ডা খাবার

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ০৮:৪৩ এএম, ২০ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ০৮:৪৩ এএম, ২০ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে পান্তার বিকল্প, দক্ষিণ ভারতের তিন জনপ্রিয় খাবার

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে শরীর ঠান্ডা রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলায় যেমন পান্তা ভাত, টকের ডাল বা পাতলা শুক্তো গরমে আরাম দেয়, তেমনই দেশের অন্য প্রান্তেও রয়েছে নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে, যেখানে সারা বছরই তুলনামূলক বেশি গরম থাকে, সেখানে খাদ্যতালিকায় টক ও হালকা পদ বেশি গুরুত্ব পায়। তেঁতুল, টক দই এবং প্রোবায়োটিক উপাদানসমৃদ্ধ খাবার শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

এমন পরিস্থিতিতে ভিন্ন স্বাদ খুঁজতে চাইলে দক্ষিণ ভারতের তিনটি জনপ্রিয় পদ সহজেই জায়গা করে নিতে পারে আপনার রোজের পাতে।

প্রথমেই রয়েছে ‘পাচি পলুসু’। এটি এক ধরনের পাতলা, তেঁতুল-ভিত্তিক ঝোল, যা ভাতের সঙ্গে খাওয়া হয়। তেঁতুলের ক্বাথের সঙ্গে পোড়া কাঁচালঙ্কা, কুচোনো পেঁয়াজ ও ধনেপাতা মিশিয়ে তৈরি হয় এই পদ। স্বাদ বাড়াতে যোগ করা হয় সামান্য গুড় এবং ফোড়নে জিরে, শুকনো লঙ্কা ও কারিপাতা। গরমের দিনে এই হালকা, টক-ঝাল স্বাদের খাবার শরীরকে ঠান্ডা রাখতে কার্যকর।

দ্বিতীয় পদ ‘সাউথেকাই মোসারু পাল্যা’, কর্নাটকের একটি জনপ্রিয় দই-ভিত্তিক রেসিপি। শসা, পেঁয়াজ, টম্যাটো ও ধনেপাতা দিয়ে হালকা ভাজা করে তাতে মেশানো হয় ফেটানো টক দই। সর্ষে, কারিপাতা ও শুকনো লঙ্কার ফোড়ন এই পদে আলাদা স্বাদ এনে দেয়। দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান হজমে সাহায্য করে এবং শরীরকে শীতল রাখে। ভাত বা রুটির সঙ্গে এটি সমানভাবে উপভোগ্য।

তৃতীয় পদ ‘ছাল্লা পলুসু’, যা তেলঙ্গানায় গরমের দিনে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। টক দইকে জল মিশিয়ে ছাসের মতো পাতলা করে নিয়ে, তাতে ফোড়ন দেওয়া বিউলির ডাল, কারিপাতা, আদা ও পেঁয়াজ মিশিয়ে অল্প আঁচে রান্না করা হয়। হালকা মশলায় তৈরি এই পদটি ভাতের সঙ্গে খেলে যেমন স্বাদ মেলে, তেমনই শরীরকে ঠান্ডা রাখতেও সাহায্য করে।

সার্বিকভাবে, গরমে শরীরকে আরাম দিতে খাদ্যতালিকায় হালকা, টক ও প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার রাখাই শ্রেয়। পান্তা ভাতের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের এই পদগুলিও গ্রীষ্মের দিনে হতে পারে কার্যকর ও সুস্বাদু বিকল্প।