৯ বছর পর ২৫ জনের সাজা
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৬:৫৭ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার | আপডেট: ০৬:৫৭ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার
হুগলির বলাগড়ে ছেলেধরা সন্দেহে মা-মেয়ে ও তাঁদের গাড়িচালককে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার ঘটনায় ৯ বছর পর রায় দিল চুঁচুড়া ফাস্ট ট্র্যাক আদালত। আদালত ২৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে দু’জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ২৩ জনের সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে।
২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি বলাগড়র আসানপুর গ্রামে গুজব ছড়ায়, একটি গাড়িতে ছেলেধরা চক্র ঘুরছে। সেই সন্দেহে মা-মেয়ে এবং তাঁদের গাড়িচালককে ঘিরে ধরে বিক্ষুব্ধ জনতা। অভিযোগ, তাঁদের মারধর করা হয় এবং গাড়িতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। মুহূর্তে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গেলে তাঁদের উপরও হামলা হয়। এক সিভিক ভলান্টিয়ার তিরবিদ্ধ হন। জখম হন মোট ১১ জন পুলিশকর্মী। পরে বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং আক্রান্তদের উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। সরকারি পক্ষ মোট ২৭ জন সাক্ষী পেশ করে। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর শুক্রবার চুঁচুড়া আদালতের বিচারক পীযূষকান্তি রায় রায় ঘোষণা করেন। আদালত গোপাল রায় ও পূর্ণিমা মালিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। বাকি ২৩ জনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মুখ্য সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, একটি মামলায় একসঙ্গে ২৫ জনের সাজা ঘোষণার নজির বিরল। তদন্তকারী অফিসার ছিলেন অলোক চট্টোপাধ্যায়। বিবাদীপক্ষের হয়ে সাত জন আইনজীবী সওয়াল করেন।
গুজবকে কেন্দ্র করে গণহিংসার ঘটনায় এই রায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। দীর্ঘ ৯ বছরের আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে শাস্তি ঘোষণা করল হুগলির আদালত।
