মহারাষ্ট্রে ফের পরিযায়ী খুন
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ০৩:১৫ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৩:১৫ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
মহারাষ্ট্রের পুণেতে পশ্চিমবঙ্গের এক পরিযায়ী শ্রমিককে খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত সুখেন মাহাতো (নাম প্রকাশিত), বাড়ি পুরুলিয়ার বান্দোয়ান এলাকায়। কর্মসূত্রে তিনি কয়েক বছর ধরে পুণেতে থাকতেন। অভিযোগ, বাংলায় কথা বলাকে কেন্দ্র করেই তাঁকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। যদিও পুলিশি তদন্তে এখনও পর্যন্ত খুনের নির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুখেন প্রায় সাত বছর আগে দুই ভাইয়ের সঙ্গে কাজের সন্ধানে পুণেতে যান। একটি সংস্থায় শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। গত সোমবার প্রতিদিনের মতোই কাজে বেরিয়েছিলেন। নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তাঁর ভাইরা। পরদিন উদ্ধার হয় তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ। অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুখে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপানো হয়েছিল।
ঘটনার খবর বুধবার ফোনে পৌঁছয় পুরুলিয়ার বাড়িতে। পরিবার সূত্রে দাবি, সুখেনই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার। নিহতের বাবা ধীরেন মাহাতোর অভিযোগ, যে এলাকায় তাঁরা কাজ করতেন সেখানে অধিকাংশ মানুষ মরাঠি ও হিন্দিতে কথা বলতেন। তাঁর দাবি, বাংলায় কথা বলার কারণেই ছেলেকে টার্গেট করা হয়েছে। একই অভিযোগ তুলেছেন মৃতের কাকা দীনেশচন্দ্র মাহাতোও। পরিবারের তরফে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, এই বর্বরোচিত ঘটনায় তিনি মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মহারাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। গত মাসেও মহারাষ্ট্রে কর্মরত এক বাঙালি শ্রমিক খুনের ঘটনায় ভাষাগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছিল। ফের একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে।
বর্তমানে পুণে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কারা বা কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর পরিবার ও প্রশাসনের।
